ঢাকা, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ৪ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কত ভয়ঙ্কর হতে পারে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৯:৫৯ পিএম
কত ভয়ঙ্কর হতে পারে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি

গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। আজও বাংলাদেশে করোনা শনাক্তের হার ১৩ শতাংশের উপরে। একটি দেশের করোনা পরিস্থিতি কতটা ভালো কিংবা খারাপ তা নির্ভর করে দেশটিতে কতজনের মৃত্যু হলো বা কতজন শনাক্ত হলো সেটির উপর নয়, বরং নির্ভর করে শনাক্তের শতকরা হার কত সেটির উপর। অন্যান্য দেশগুলো থেকে বাংলাদেশে পরীক্ষার হার অনেক কম। সীমিত পরীক্ষার কারণে আমাদের করোনার প্রকৃত অবস্থা বোঝাটাও খুব কঠিন। এজন্যই আমাদের শতকরা হারের উপর নির্ভর করতে হয়। বাংলাদেশের করোনা পরীক্ষা সহ অন্যান্য বিষয়গুলো পুরোটাই রাজধানী এবং মহানগরী এলাকা, শহরগুলোর ওপর নির্ভরশীল। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) পরীক্ষার জন্য ল্যাব স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। যার ফলে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ এবং জটিল হচ্ছে এটা বোঝা অনেকটাই কঠিন।

দেশে করোনার প্রথম ঢেউ ছিল মোটামুটি রাজধানী ঢাকা কেন্দ্রিক। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেখা যাচ্ছে যে সীমান্তবর্তী এলাকা যেমন: চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষিরা, নাটোর, নওগাঁ সহ বিভিন্ন অঞ্চলে করোনা সংক্রমিত হচ্ছে। এখানে হু হু করে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কোন কোন সীমান্ত অঞ্চলে যে পরিমাণ করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করা হচ্ছে তার বিপরীতে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ আক্রান্তের সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে। এরকম বাস্তবতায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, বাংলাদেশে বোধহয় করোনা পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হতে পারে। প্রথম ঢেউয়ে যে করোনা পরিস্থিতি হয়েছিল তার থেকে এবারের করোনার গতি-প্রকৃতি এবং মাত্রা অনেক বেশি। গত বছর জুনের ১ম সপ্তাহে প্রথম ঢেউয়ে যে পরিস্থিতি ছিল তার থেকে এবার দ্বিতীয় ঢেউয়ে করোনায় মৃত্যু এবং আক্রান্তের হার দুটোই বেশি। কিন্তু তারপরও দেখা যাচ্ছে যে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি কখনো ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, ইতালির মত হচ্ছে না। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠেছে এবারও বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি এরকম সীমিত থাকবে নাকি করোনা পরিস্থিতি অনেক খারাপ হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নানা রকম বাস্তবতার কারণে আমাদের দেশে করোনা পরিস্থিতি হয়তো ভারত এবং অন্যান্য দেশগুলোর মত নাও হতে পারে। এটির প্রথম কারণ মনে করা হচ্ছে যে, আমাদের স্বাভাবিক রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো। দ্বিতীয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে যে যারা বিসিজি টিকা দিয়েছে তাদের সংক্রমণের হার কম। তৃতীয়, বাংলাদেশের সামাজিক আচার-আচরণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার প্রবণতা রয়েছে। যেমন: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে আমাদের হাত-মুখ পরিষ্কার করতে হয়, উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে আমদের নিয়মিত গোসল করতে হয় ইত্যাদি। এই যে আমরা কতগুলো স্বাভাবিক নিয়মকানুন মেনে চলি এটি করোনার পরিস্থিতি অবনতির পথে একটি বাধা সৃষ্টি করে। আর সবচেয়ে বড় কারণ হলো, বাংলাদেশ একটি তরুণ অধ্যুষিত দেশ। আমাদের দেশের জনগোষ্ঠীর ৩২ শতাংশের বয়স ৪০ বছরের নিছে। এখন পর্যন্ত, বিশ্ব পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, করোনায় সবচেয় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রথমত ষাটোর্ধ মানুষ এবং দ্বিতীয়ত শিশুরা। আমাদের দেশটি তরুণ অধ্যুষিত দেশ বলে আমাদের দেশের করোনা পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে। তবুও করোনাকে হালকা ভাবে নেয়া যাবে না। ভারত প্রথমে করোনাকে পাত্তা দেয়নি বলেই এখন ভারতে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যারাই করোনাকে হালকা ভাবে নিয়েছে তারাই সংকটে পড়েছে। তাই করোনা পরিস্থিতি যেন ভয়াবহ আকার ধারণ না করে সেই জন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং সরকারের দেয়া বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। অন্যথায় ভয়ঙ্কর হতে পারে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি।