ঢাকা, রোববার, ২০ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

হারিয়ে যাওয়া ক্ষমতাবান আমলারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২১ শুক্রবার, ০৯:০০ পিএম
হারিয়ে যাওয়া ক্ষমতাবান আমলারা

বাংলাদেশে বর্তমানে আমলাদেরকে অনেক ক্ষমতাবান মনে করা হয়। দেশ পরিচালনায় তারাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে প্রতিদিনই কেউ না কেউ অভিযোগ করে থাকেন। কিন্তু একটু গভীরে গিয়ে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে, আমলাদের ক্ষমতা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ। নির্দিষ্ট সময়ের পর আমলারা যখন অবসরে চলে যান তখন তারা ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে যে, অবসরের পরেও অনেক আমলা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন সাংবিধানিক এবং অন্যান্য কমিশনে চেয়ারম্যান পদ পাচ্ছেন, কেউ কেউ ব্যাংকের চেয়ারম্যান হচ্ছেন। অর্থাৎ অবসরের পরও ক্ষমতা বলয়ের মধ্যে তারা ঘোরাফেরা করছেন। তবে এর মধ্যে কিছু কিছু আমলা আছেন যারা দুর্দান্ত ক্ষমতাবান ছিলেন। কিন্তু নানা বাস্তবতায় এখন ক্ষমতা বলয়ে নেই, তারা কোনো পদ-পদবিতেও এখন আর থাকছেন না। এই সমস্ত কয়েকজন আমলাকে নিয়েই আমাদের এই প্রতিবেদন।

মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান: মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান প্রধানমন্ত্রীর সচিব ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সচিব হিসেবে তাকে ৩ বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। একসময় প্রচণ্ড ক্ষমতাবান এই সরকারি কর্মকর্তা এখন কোথাও নেই। তিনি তার নিজ এলাকায় মাঝেমধ্যে যান, রাজনৈতিক কিছু তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করেন কিন্তু ক্ষমতা কেন্দ্র থেকে তিনি অনেক দূরে চলে গেছেন বলে জানা গেছে।

আবুল কালাম আজাদ: আওয়ামী লীগের এই ১২ বছরের শাসনামলে সবচেয়ে ক্ষমতাবান আমলা মনে করা হতো আবুল কালাম আজাদকে। তিনি প্রধানমন্ত্রী আস্থাভাজন এবং ঘনিষ্ঠ হিসেবে ছিলেন। বিদ্যুৎ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, ইআরডি সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব হিসেবে। তারপর তিনি প্রধানমন্ত্রীর এসডিজির সমন্বয়কারী হিসেবে তিন বছর দায়িত্ব পালন করেন। একটা সময় মনে করা হতো যে, প্রধানমন্ত্রী পরেই হয়তো ক্ষমতাবান আবুল কালাম আজাদ। কিন্তু সেই ক্ষমতা এখন আর তার নেই। তিনি এখন কোথাও নেই। বিশেষ করে গত বছরের শাহেদ কেলেঙ্কারির পর ক্ষমতা কেন্দ্র থেকে আরো দূরে চলে গেছেন আবুল কালাম আজাদ।

ড. এন আই খান: ড. এন আই খান প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব ছিলেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী যখন বিরোধী দলের নেতা ছিলেন তখনো তিনি তাঁর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি শিক্ষাসচিব হন এবং সেখানেই তিনি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। তিনি এখন আর ক্ষমতার কেন্দ্রে নাই। যদিও তাকে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু যে প্রভাব প্রতিপত্তি ছিল তার ছিটেফোঁটাও এখন তিনি আর ভোগ করেন না।

নজিবুর রহমান: নজিবুর রহমানের ক্ষমতা কেন্দ্রে আসা ছিল বিস্ময়কর। তিনি এনবিআরের চেয়ারম্যান ছিলেন। সেখান থেকে তাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব করা হয়। কিন্তু নজিবুর রহমানই একমাত্র ক্ষমতাবান আমলা যিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাননি। এখন তিনি কোথাও নেই। ক্ষমতা কেন্দ্রের চারপাশে তার কথা উচ্চারিত হয় না।

আবু আলম শহিদ খান: আবু আলম শহিদ খান ১৯৯৬ সাল থেকেই আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ আমলা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি প্রশাসন ক্যাডারে কর্মকর্তা হয়ে ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হয়েছিলেন। পরবর্তীতে একটি দুর্নীতির মামলা তদন্তের জন্য তিনি সাসপেন্ড হন। বিএনপি-জামাত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে তার পদোন্নতি রহিত করে দেয়। আদালতের আশ্রয় নিয়ে তিনি পদোন্নতি পান এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হওয়ার পর দ্রুত পদোন্নতির ধারায় তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। সেসময় তিনি প্রচণ্ড প্রভাবশালী এবং ক্ষমতাবান আমলা ছিলেন। কিন্তু স্থানীয় সরকার সচিব থাকার শেষদিকে সরকারের সঙ্গে তার সম্পর্কে অস্থিরতা তৈরি হয়। তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাননি। এখন তিনি একজন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারের সমালোচক বটে।

বিষয়: আমলা , সচিব