ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৩ আগস্ট ২০২১, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিইআরসি চেয়ারম্যানের কর্মকান্ড: বিরোধ নিস্পত্তি কার্যক্রম অকার্যকর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২১ বুধবার, ০৮:০৬ পিএম
বিইআরসি চেয়ারম্যানের কর্মকান্ড: বিরোধ নিস্পত্তি কার্যক্রম অকার্যকর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা লংঘন করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (বিইআরসি) জ্বালানী খাতের বিরোধ নিস্পত্তি কার্যক্রম অকার্যকর করে দিচ্ছে।  এর ফলে একদিকে যেমন রাষ্ট্রের প্রধান নিবাহী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অমান্য করার ফলে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮(৩) লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত তাঁর সরকারের একটি সাফল্যকে ভণ্ডুল করে দিয়ে সরকারকে মিথ্যাবাদী বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যা ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হতে পারে। অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো কয়েকশ মামলা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে বিইআরসি আইনের আওতায় প্রণীত বিরোধ নিষ্পত্তি প্রবিধানমালার অধীনে নিস্পত্তি করা হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু বিরোধ (মামলা) আরবিট্রেশনের মাধ্যমে নিস্পত্তির পর রীট মামলার প্রেক্ষিতে হাই কোর্ট বিভাগ ও আপীল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে । আরবিট্রেশন শেষ হওয়ার পর এই রকম  কয়েকশ মামলা উচ্চতর আদালত থেকে নিস্পত্তি করা হয়। বিইআরসি`র সাম্প্রতিক উদ্যোগের ফলে ২০১৪ সাল থেকে নিস্পত্তিকৃত সকল আরবিট্রেশন মামলা নিয়ে আইনি জটিলতার সৃষ্টি হবে। এর মধ্যে অসংখ্য মামলা রয়েছে যেগুলোর  রায়ের ফলে সরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ বিভিন্ন বেসরকারী কোম্পানি অথবা ভোক্তাদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আদায় করেছে। আবার এই প্রবিধানমালার আওতায় আরবিট্রেশনের মাধ্যমে অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিরোধ নিস্পত্তি করা হয়েছে। বিদ্যমান প্রবিধানমালাটি বাতিল হলে অনেকেই মামলা করবে তাদের উপর আরোপিত অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য। কারণ বিইআরসি একদিকে বর্তমান প্রবিধানমালাটি বাতিল ও হেফাজত না করেই নিজেদের মতো করে একটি প্রবিধানমালা জারী করতে যাচ্ছে, অন্যদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে প্রবিধানমালাটিকে এবং তার অধীনে প্রণীত কার্যক্রমকে সরকারের সাফল্য হিসেবে দেখছেন, বিইআরসি সাম্প্রতিক কয়েকটি আদেশে ২০১৪ সালে প্রণীত উক্ত প্রবিধানমালাকে অবৈধ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে । অথচ ২০১৬ সালে প্রবিধানমালাটির প্রথম সংশোধনের সময় আইন মন্ত্রণালয় প্রবিধানমালাটির উপর বিশদ মতামত দেয় । আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতেই প্রবিধানমালাটি সংশোধিত হয় । ২০১৪ সাল থেকে এই প্রবিধানমালার আওতায়ই আরবিট্রেশনের মাধ্যমে নিস্পত্তির জন্য অসংখ্য মামলা সুপ্রিম কোর্ট বিইআরসি তে প্রেরণ করেছে। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল যে কার্যক্রমকে তার সরকারের সাফল্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন, সেটিই বিইআরসি`র চেয়ারম্যান গত বছরের মে/জুন মাসে লক ডাউনের মধ্যে গোপনে প্রাক প্রকাশনা করে বাতিল করতে চাচ্ছে। এটি বর্তমানে বিজি প্রেসে আছে গেজেট নোটিফিকেশনের জন্য । বিইআরসি চেয়ারম্যান সহ কয়েকজন ব্যক্তি সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার জন্য এটি তড়িঘড়ি করে গেজেট করতে চাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় স্বার্থে এটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই । 

বিইআরসি যে অজুহাত দেখিয়ে বিদ্যমান প্রবিধানমালাটি বাতিল করতে চাচ্ছে, সেটি অযৌক্তিক ও বেআইনী। বিইআরসি বলছে, প্রবিধানমালাটি আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ বিভাগের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত করা হয়নি। প্রবিধানমালাটি আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত করা হয়েছিল । আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ তাদের ২৪/১/২০১৬ তারিখের  ১০۔০০۔০০০০۔১২৯۔০৪۔৫৫৫۔১৫۔ -৪৯৪ নং পত্রের মাধ্যমে এবং পরবর্তীকালে ২৫/৪/২০১৭ তারিখের ১০۔০০۔০০০০۔১২৯۔০৪۔৩২۔১৭ নং পত্রের মাধ্যমে রুলস অফ বিজনেস ১৯৯৬ এর সংশ্লিষ্ট বিধানের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায় যে, প্রবিধানমালাটি চূড়ান্তকরণের ক্ষেত্রে তাদের (আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ) মতামত নেয়ার আইনগত বাধ্যবাদকতা রয়েছে । প্রবিধানমালাটি সে মোতাবেক আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের মতামত নিয়েই চূড়ান্ত করা হয়েছিল। উপরন্তু, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই প্রবিধানমালা এবং এর অধীনে গৃহীত কার্যক্রমকে সরকারের সাফল্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে যারা নস্যাৎ করতে চায়, তাদের এই কর্মকান্ডকে `ঔদ্ধত্যপূর্ণ` হিসেবে মন্তব্য করেছেন একজন জ্বালানি  বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, যারা এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ কাজের সাথে যুক্ত, তারা নিঃসন্দেহে প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের ভেতরে ভাপটি মেরে থাকা অশুভ চক্র এবং তাদের চিহ্নিত করতে হবে। তারা সরকারের সাফল্যকে ম্লান করতে চায়। এই সরকারের শুরু থেকে অর্থাৎ ২০০৯ সাল এই প্রবিধানমালা প্রণয়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল । জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আইন বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিয়ে পাঁচ বছরের মাথায় প্রবিধানমালাটি প্রণয়ন করা হয় । তারপর দীর্ঘ সাত বছর এর আওতায় সফলভাবে বিরোধ নিস্পত্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিলো। অধিকাংশ ক্ষেত্রে উচ্চতর আদালত প্রবিধানমালার সংশ্লিষ্ট ক্লজ উদ্ধৃত করে মামলা গুলো আরবিট্রেশনের মাধ্যমে বিরোধ নিস্পত্তির জন্য কমিশনে প্রেরণ করেছে। এই চক্রটি সরকারের ১২ বছরের একটি সাফল্যকে বাতিল করে দিয়ে সেটি আবার ভিন্ন নামে ২০২১ সাল থেকে শুরু করতে চায়। আর যেটি করতে চাচ্ছে, সেটি বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর সকল দেশে প্রচলিত আরবিট্রেশন ব্যবস্থার পরিপন্থী এবং ২০১৬ সালে আইন মন্ত্রণালয় আরবিট্রেশন সম্পর্কিত যে শর্ত বিইআরসি কে দিয়েছিলো, তার সম্পূর্ণ লংঘন। পৃথিবীর কোথাও আইনজ্ঞ ছাড়া আরবিট্রেশন কার্যক্রম পরিচালিত হয় না । বর্তমানে বিইআরসি`র চেয়ারম্যান কোন আইনজ্ঞ ছাড়াই শুধুমাত্র বিইআরসি`র চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে আরবিট্রেশন কার্যক্রম পরিচালনা করতে চায় ।

বিইআরসি আইন ২০০৩ এর ধারা ৪০ অনুযায়ী জ্বালানী খাতে লাইসেন্সিদের মধ্যে অথবা লাইসেন্সি এবং ভোক্তাদের মধ্যে কোন বিরোধ হলে সেই বিরোধ কোন আদালতে যাবে না। এই ধরণের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিইআরসি তে প্রেরণ করতে হবে। বিইআরসি এই বিরোধ নিস্পত্তির জন্য আরবিট্রেটর বা সালিসকারী নিযুক্ত করতে পারবে অথবা নিজেই আরবিট্রেটর হিসেবে এই বিরোধ নিস্পত্তি করতে পারবে। এই ধারায় বলা আছে, এই বিরোধ নিস্পত্তির নিয়ম ও পদ্ধতি প্রবিধানমালার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। ৪০ ধারায় আরও বলা আছে, আরবিট্রেটর কর্তৃক প্রদত্ত রোয়েদাদ কমিশন (বিইআরসি) বরাবর উপস্থাপন করা হবে এবং কমিশন এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিবে । আরও বলা আছে, এই বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে । আইন মন্ত্রণালয় (আইন ও বিচার বিভাগ) ২৪/১/২০১৬ তারিখের  ১০۔০০۔০০০০۔১২৯۔০৪۔৫৫৫۔১৫۔ -৪৯৪ নং পত্রের মাধ্যমে মতামত দেয় যে, যেহেতু এই আইনের আওতায় কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ নেই, ফলে ভুক্তভোগী, বিচারপ্রার্থীগণের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে । সেজন্য আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ মতামত দেয় যে, প্রথম পর্যায়ে আইন ও কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে আরবিট্রেশনের মাধ্যমে বিরোধ নিস্পত্তি করা হবে। তারপর দ্বিতীয় পর্যায় অর্থাৎ চূড়ান্ত পর্যায়ে কমিশন সিদ্ধান্ত দিবে এবং এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। আইন মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তকে অমান্য  করে মূলত বিইআরসি`র চেয়ারম্যান এই বিরোধ নিস্পত্তি প্রক্রিয়া শুধু মাত্র বিইআরসি পর্যায়ে রাখতে চায় l এর ফলে বিইআরসি`র সিদ্ধান্ত সংশোধনের জন্য উর্ধতন কোন ফোরাম থাকছে না যেটি যেকোনো বিচারিক পদ্ধতিতে অত্যন্ত জরুরী, অন্যদিকে বিইআরসি`র চেয়ারম্যান এবং সদস্যগণের মধ্যে কোন আইন বিশেষজ্ঞ না থাকায় তাদের মাধ্যমে কোন কার্যকরী আরবিট্রেশন সম্পন্ন সম্ভব নয় ।কারণ আরবিট্রেশন কার্যক্রম একটি উচ্চমানের বিশেষায়িত কার্যক্রম। আইনজীবী হওয়া ছাড়াও আরবিট্রেশনের বিচারককে আরবিট্রেশন বিষয়ক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থাকতে হয় । বিইআরসি`র চেয়ারম্যান সহ প্রতিষ্ঠানটির কোন সদস্যই আইনজ্ঞ নন । তাই শুধু মাত্র বিইআরসি`র মাধ্যমে আরবিট্রেশন সম্পন্ন হলে সেটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। সেটি ২০১৬ সালে প্রদত্ত আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত অনুযায়ী ন্যায় বিচারের প্রশ্নে ঝুঁকি পূর্ণ হবে ।

২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল লিগ্যাল এইড দিবস উপলক্ষে আইন মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গৃহীত আইন সংক্রান্ত বিভিন্ন সাফল্যজনক কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জ্বালানী সেক্টরে তাঁর সরকারের সময় গৃহীত বিরোধ নিস্পত্তি কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি তাঁর লিখিত বক্তৃতায় বলেন, " যেমন আমাদের জ্বালানী সেক্টরে একজন জেলা জজ সহ সাত সদস্যের ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে। জ্বালানী সেক্টরের সকল বিরোধ প্রচলিত আদালতের পরিবর্তে এই ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিস্পত্তি করা হচ্ছে। মামলার জট নিরসনের জন্য এবং সময় বাঁচানোর জন্য আমরা বিকল্প পদ্ধতির ব্যবস্থা নিয়েছি ।"  

বিইআরসি`র  কর্মকান্ডকে দুরভিসন্দিমূলক মনে হয়। এই বিষয়ে বিইআরসি`র বর্তমান চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্য সফল হলে সাত বছরের বেশী সময় ধরে চলমান বর্তমান সরকারের একটি সাফল্যজনক কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়বে।

একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময় বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ হয়েছে। প্রতিটি বিনিয়োগ চুক্তিতে বিরোধ নিস্পত্তির ক্লজ রয়েছে যাতে বলা আছে, আরবিট্রেশনের মাধ্যমে বিরোধ নিস্পত্তি করা হবে l কিন্তু বিইআরসি আইন ২০০৩ এর ধারা ৪০ এর বিধানের কারণে এই সকল বিরোধ কেবলমাত্র বিইআরসি`র আওতায় আরবিট্রেশনের মাধ্যমে নিস্পত্তি করতে হবে । কিন্তু বিইআরসি পেশাদার আরবিট্রেটর ছাড়া অর্থাৎ কোন আইনজ্ঞ ছাড়া শুধুমাত্র বিআরসি`র  চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দিয়ে আরবিট্রেশন কার্যক্রম পরিচালনা করলে বিনিয়োগকারীরা একটা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে । এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের বিরোধ নিস্পত্তির বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিনিয়োগ সূচকে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে ।

বিইআরসি`র চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আরও কিছু গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিইআরসি আইন ২০০৩ এর  ৭ ধারা অনুযায়ী এই কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিধান রয়েছে । এই ধারায় যে কয়েকটি বিষয়ে ডিগ্রী থাকার বাধ্যবাদকতা রয়েছে, তার মধ্যে অর্থনীতিও রয়েছে ।  আইনের ধারা ৭(১ক) এ বলা আছে, "খনি ও খনিজ সম্পদ, কেমিক্যাল, মেকানিক্যাল অথবা পেট্রোলিয়াম বিষয় হইতে একজন এবং বিদ্যুৎ বিষয় হইতে একজন সদস্য নিয়োগ করিতে হইবে এবং অবশিষ্ট তিনজন সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর দফা (খ) তে উল্লিখিত বিষয়সমূহের যে কোনটি হইতে একজন করিয়া সদস্য নিয়োগ করিতে হইবে।" অর্থাৎ চেয়ারম্যান ও সদস্য সহ পাঁচ জনের মধ্যে একই বিষয়ে ডিগ্রী প্রাপ্ত একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারবে না । কমিশনের একজন সদস্য আবু ফারুক অর্থনীতি বিষয়ে ডিগ্রীধারী। কমিশনের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল মিয়াও অর্থনীতি বিষয়ে ডিগ্রীধারী। আইন অনুযায়ী অর্থনীতিতে ডিগ্রীধারী একজন নিয়োগ পাওয়ার বিধান রয়েছে । জানা যায়, আবদুল জলিল মিয়া এই তথ্য গোপন রেখে মন্ত্রণালয়ে নিজের জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েছিলেন । বিইআরসি আইন ২০০৩ এর ধারা ৭ (১ক) অনুযায়ী তাঁর এই নিয়োগ বেআইনি ও অবৈধ। আদালত কর্তৃক এই নিয়োগ বাতিল হওয়ার আগেই মহামান্য রাষ্ট্রপতির এই নিয়োগ বাতিল করা সমীচীন হবে।

জানা যায়, আবদুল জলিল মিয়া বিইআরসি আইন ২০০৩ এর ১০ ধারা লঙ্ঘন  করে এবং সরকারের নির্দেশ অমান্য করে নিজেই নিজের জন্য বিভিন্ন নামে ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাদি নিচ্ছেন। ধারা ১০ এ বলা আছে,  "চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের বেতন, ভাতা, পদমর্যাদা, জ্যেষ্ঠতা ও চাকুরীর অন্যান্য শর্তাদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, বিধি প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের বেতন, ভাতা ও চাকুরীর অন্যান্য শর্তাদি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে ।"  এই আইনের ধারা ১০ এর বিধান অনুযায়ী এ যাবৎ কোন বিধিমালা প্রণীত হয়নি। তাই সরকারের সিদ্ধান্ত ছাড়া বিইআরসি নিজেই আদেশ দ্বারা এই ধরণের কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। অথচ চেয়ারম্যান আবদুল জলিল মিয়া সরকারের সিদ্ধান্ত ছাড়া আইন লংঘন করে নিজেই বিভিন্ন নামে ভাতা নিচ্ছেন । 

জানা যায়, বিইআরসি`র কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের এলপিজি খাত ঝুকির মধ্যে পড়েছে।  এলপিজি খাতের শত শত কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুকির মধ্যে রয়েছে। এলপিজি`র মূল্য নির্ধারণ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে মামলায়ও বিইআরসি`র কারও কারও নেতিবাচক ভুমিকা ছিল।