ইনসাইড বাংলাদেশ

ভাষা সৈনিক গাজীউল হকের ১২ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮:০৫ এএম, ১৭ জুন, ২০২১


Thumbnail

আজ ১৭ জুন, ভাষা সৈনিক গাজীউল হকের ১২ তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৯ সালের এই দিনে রাজধানী ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

‘ভুলব না ভুলব না ভুলব না এই একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলব না’ গেয়ে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত ভাষা দিবসের প্রভাতফেরি করা হতো। এই গানটির রচয়িতা মহান ভাষা সৈনিক আ ন ম গাজীউল হক। 

গাজীউল হক ১৯২৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া থানার নিচিন্তা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গাজীউল হক পড়াশুনা শুরু করেন মক্তবে। পরে কাশিপুর স্কুলে ভর্তি হন। এই স্কুল থেকে তিনি উচ্চ প্রাইমারি বৃত্তি লাভ করেন। ১৯৪১ সালে বগুড়া জেলা স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন। এই স্কুলে পড়ার সময়েই তিনি শিক্ষক সুরেন বাবুর সান্নিধ্যে এসে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হন।

গাজীউল হক ১৯৪৬ সালে এই স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। এরপর বগুড়া আজিজুল হক কলেজে আইএ ভর্তি হন। এই কলেজ থেকে আইএ পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিষয়ে অনার্সে ভর্তি হন তিনি। তিনি সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে থাকতেন। ১৯৫১ সালে বিএ অনার্স পাস করে এমএ ভর্তি হন। ১৯৫২ সালে তিনি এমএ পাস করেন।

ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ তার এমএ ডিগ্রি কেড়ে নেয়। পরবর্তীতে ছাত্রনেতা ইশতিয়াক, মোহাম্মদ সুলতান, জিল্লুর রহমান প্রমুখের আন্দোলনের চাপে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমএ ডিগ্রি ফেরত দিতে বাধ্য হয় এই মহান সৈনিককে। ১৯৫৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শাস্ত্রে ভর্তি হন।

তিনি যখন আজিজুল হক কলেজে ভর্তি হন তখন অধ্যক্ষ ভাষা বিজ্ঞানী মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সংস্পর্শে আসেন। এই সময় তিনি বাম রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৪৪ সালেই তিনি বঙ্গীয় মুসলিম ছাত্রলীগ বগুড়া জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক হন। একই বছর তিনি কুষ্টিয়ার নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের কনফারেন্সে যোগ দেন।

গাজীউল হক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, কাজী মোতাহার হোসেনের মত বিখ্যাত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসে ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেন। আপোষহীন এই ভাষাযোদ্ধা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে জীবদ্দশায় বহুবার কারাবরণ করেন। ভাষা সৈনিক ছাড়াও গাজীউল হক সাহিত্যিক ও গীতিকার হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

১৯৪৯ সালের দুর্ভিক্ষ মোকাবেলায় তিনি কাজ করেন। সেই সময় মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে যে ভুখা মিছিলটি বের হয়েছিল তাতে গাজীউল হকও শরিক হন।

১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হলে আব্দুল মতিন এই কমিটির আহ্বায়ক হন। বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা কমিটি ১৯৫০ সালের ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা দিবস ঘোষণা করে। ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি পল্টনের জনসভায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা দেন ‘উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। এর প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ছাত্র হলে ছাত্রসভা অনুষ্ঠিত হয় এবং ৩০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ধর্মঘট ঘোষণা করা হয়। ঘোষণানুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলার  ছাত্রসভায়  গাজীউল হক সভাপতিত্ব করেন এবং সভা শেষে ছাত্ররা মিছিল নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্য মন্ত্রী নূরুল আমীনের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকা ছিল উত্তাল। এ আন্দোলন ছড়িয়ে গিয়েছিল সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, অফিস আদালতে রাজপথে সবখানে। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিমনেসিয়াম মাঠের পাশে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের (তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত) গেটের পাশে ছাত্র-ছাত্রীদের জমায়েত শুরু হতে থাকে। বেলা ১১ টায় কাজী গোলাম মাহবুব, অলি আহাদ, আব্দুল মতিন, গাজীউল হক প্রমুখের উপস্থিতিতে ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশ শুরু হয়।

এর আগে ২০ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকার ভাষা আন্দোলনের প্রস্তুতিকে তছনছ করে দেওয়ার জন্য ঢাকাতে সমাবেশ, মিছিল-মিটিংযের ওপর ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু ২১ শে ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সময় ধরে উপস্থিত ছাত্রনেতাদের মধ্যে আব্দুল মতিন এবং গাজীউল হক ১৪৪ ধারা ভংগের পক্ষে মত দিলেও সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ এ ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিতে ব্যর্থ হন। এ অবস্থায় বাংলার দামাল ছেলেরা দমনমূলক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। উপস্থিত সাধারণ ছাত্ররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ১৪৪ ধারা ভংগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং মিছিল নিয়ে পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের অন্তর্গত) দিকে যাবার উদ্যোগ নেয়। অধিকার আদায়ের দাবিতে শত শত বিদ্রোহী কন্ঠে  ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ এই দাবিতে আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। পুলিশের সঙ্গে ছাত্র জনতার সংঘর্ষ হয়। শ্লোগানে শ্লোগানে কেঁপে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বুলেট আর লড়াই শুরু হয়। পুলিশ লাঠিপেটা ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। গুলিতে ঘটনাস্থলেই আবুল বরকত (ঢাবি এর রাষ্ট্রবিজ্ঞান এর মাস্টার্সের ছাত্র), রফিকউদ্দিন আহমদ ও আব্দুল জব্বার নামের তিন তরুণ মারা যায়। রফিক, জাব্বার, বরকত, শফিকসহ নাম না জানা আরও অনেকের সঙ্গে সালামও সেদিন গুলিবিদ্ধ হন।২৩ ফেব্রুয়ারি গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল যে গাজীউল হক পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন। বগুড়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানকার আলতাফুন্নেছা মাঠে তার গায়েবানা জানাজাও পড়ানো হয়েছিল। ২১ ফেব্রুয়ারি ঘটনার আগেই এই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি অংশ নিয়ে বগুড়ার মুসলিম লীগকে শক্তিশালী ঘাঁটিতে পরিণত করেন। আর কাগমারী সম্মেলনে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠনে আওয়ামী লীগের সর্বাঙ্গীন প্রতিকূলতা প্রতিরোধে মাওলানা ভাসানীর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে কাজ করেন। ওই বছর ২১ ফেব্রুয়ারি পালন বন্ধের জন্য সরকার ধরপাকড় শুরু করে। ১৯ ফেব্রুয়ারি গাজীউল হকসহ কয়েকজন নেতা-কমীকে বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবার প্রায় ২৯মাস কারাগারে তাকে থাকতে হয় ।

বগুড়ায় ১৯৬৯ সালের ১১ দফা আন্দোলনের মূল চাবিকাঠি ছিল বিড়ি শ্রমিক ও মজদুরগণ। গাজীউল হকও ১১ দফা আন্দোলনে অংশ নেন।

কেবল ভাষা আন্দোলনই নয়, পরবর্তীতে সকল অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্দোলন, সাংস্কৃতিক ও জাতীয় সংগ্রামে গাজীউল হক অংশ নিয়েছেন। ১৯৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৪-র সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণআন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে প্রথমে স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠক হিসেবে ও পরে জাতীয় পর্যায়ের লেখক এবং সংগঠকের ভূমিকায় তাকে পাওয়া গেছে। তাকে পাওয়া গেছে ১৯৮০-র দশক জুড়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতেই গাজীউল হক মাত্র ২৭জন যুবকসহ পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্ত মোতাবেক গাজীউল হক, ডা. জাহিদুর রহমান অন্যান্য যুবকদের নিয়ে বগুড়া থানার আঙ্গিনায় জড়ো হন। থানার পুলিশ এবং ৩৯জন ইপিআর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দেন৷ এ সময় আওয়ামী লীগ, ন্যাপ ভাসানী ও কমিউনিস্ট নেতৃবৃন্দদের নিয়ে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি হাইকমান্ড গঠন করা হয়। এই হাইকমান্ডের সদস্য ছিলেন গাজীউল হক।

২৭ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল ৬০ জন পুলিশের একটি দল পাকসেনাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে। ১ এপ্রিল গাজীউল হকের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা আড়িয়া ক্যান্টনমেন্টে আক্রমণ চালিয়ে ৬৯ জন পাক সেনাকে বন্দি করেন। মুক্তিযোদ্ধারা এই ক্যান্টনমেন্ট থেকে ৫৮ ট্রাক গোলাবারুদ উদ্ধার করেন।

১৬ এপ্রিল গাজীউল হক অস্ত্র সংগ্রহ এবং অস্থায়ী সরকারের সঙ্গে উত্তরাঞ্চল যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে ভারত যান। হিলিতে পাকসেনাদের বিরুদ্ধে একটি খণ্ড যুদ্ধে অংশগ্রহণের পর কলকাতায় ফিরে গিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধের মুখপাত্র ‘জয়বাংলা’ পত্রিকার বিক্রয় বিভাগের দায়িত্বসহ আকাশবাণী ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে রণাঙ্গনের সংবাদ প্রচারের দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে গাজীউল হক তার সৃজনশীলতারও পরিচয় দিয়েছেন। তার রচিত গ্রন্থের সংখ্যা ৯টি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ওপর প্রথম বই লিখেন গাজীউল হক। তার বইয়ের নাম ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। এ ছাড়া উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষা প্রচলনের জন্য গাজীউল হক ছিলেন আপোষহীন। এই নিয়ে তিনি তার সংগ্রামের কথা বলেছেন ‘উচ্চ আদালতে বাংলা প্রচলন’ বইটিতে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪তম সমাবর্তনে গাজীউল হক-সহ আরেক ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিনকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লজ ডিগ্রি দেওয়া হয়। ২০০০ সালে  তিনি একুশে পদক পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০০১ সালে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির পক্ষ থেকে `জাহানারা ইমাম পদক` পান তিনি। ২০০৪ সালে পান `শের-ই-বাংলা জাতীয় পুরস্কার`। ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যও। এ ছাড়া গাজীউল হক প্রেস ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) এর চেয়ারম্যান ছিলেন।

মহান এই ভাষা সৈনিক ২০০৯ সালের ১৭ জুন বিকেলে রাজধানী ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

 



মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

‘আইন লঙ্ঘনকারী পুলিশের সদস্যরাও কারাগারে আছেন’

প্রকাশ: ০৩:৫৭ পিএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail আইন লঙ্ঘনকারী পুলিশের সদস্যরাও কারাগারে আছেন

র‍্যাব ও পুলিশের কেউ অপরাধে জড়ালে  ছাড় পাচ্ছেন না বলে উল্ল্যেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, ‘র‍্যাব-পুলিশ যেই হোক, শাস্তিযোগ্য অপরাধ করলে তারা কিন্তু শাস্তির বাইরে যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘জেলে গিয়ে দেখুন অনেক পুলিশ ও র‍্যাব সদস্য জেল খাটছে। আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। যুক্তরাষ্ট্র যে সংস্কারের কথা বলছে আমরা সবসময় সেটা করছি। আমরা র‍্যাব  আধুনিকায়ন করছি, যেটা প্রয়োজন সেটাই করছি।’

রোববার (২ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসেফিক সোনারগাঁও-এ মানবপাচার নিয়ে এক গবেষণা প্রতিবেদন উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, র‍্যাব  সংস্কারের মধ্যেই আছে। র‍্যাবের  কেউ অপরাধে যুক্ত হলে তার ক্ষেত্রেও আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, র‍্যাব এলিট ফোর্স, আমরা বিভিন্ন সময়ে র‍্যাবকে  বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে থাকি। তারা তাদের নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করে থাকে। আমাদের কাছে যে রিপোর্টটা এসেছে, আমরা তা স্টাডি করছি, যদি কারও ব্যক্তিগত ইনভলভমেন্ট থাকে সেগুলো আমরা দেখছি। আমরা চেক করে দেখছি, ভুলভ্রান্তি থাকলে আমরা দেখছি।

র‍্যাবের কার্যক্রমের  বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘র‍্যাব যখন তৈরি হয় তাদের ট্রেনিং দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।’

গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। জবাবদিহি ও সংস্কার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানান তিনি।

হাসের এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে র‍্যাব সংস্কারের প্রশ্নই ওঠে না’ বলে মন্তব্য করেন এলিট ফোর্সটির নবনিযুক্ত মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন। শনিবার (১ অক্টোবর) সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আইন লঙ্ঘনকারী   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী   র‍্যাব-পুলিশ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে যোগদান করেছেন ড. নাহিদ রশীদ

প্রকাশ: ০২:৪৭ পিএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে যোগদান করেছেন ড. নাহিদ রশীদ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে যোগদান করেছেন ড. নাহিদ রশীদ। বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তিনি এ মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন।

রোববার (২ অক্টোবর) ড. নাহিদ রশীদ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে নিজ দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন।

এর আগে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের  এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক (সচিব) ড. নাহিদ রশীদকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে বদলি করা হয়।

উল্লেখ্য, ড. নাহিদ রশীদ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের ১০ম ব্যাচের সদস্য।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

মরণের ফাঁদ বরিশাল বানারীপাড়ায় নতুন নির্মিত ব্রিজ


Thumbnail মরণের ফাঁদ বরিশাল বানারীপাড়ায় নতুন নির্মিত ব্রিজ

বরিশাল-বানারীপাড়া-স্বরূপকাঠি সড়কের কাজলাহার বাজার সংলগ্ন নতুন নির্মিত গার্ডার ব্রিজের সংযোগ সড়ক অনেকটা মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এছাড়া ব্রিজের নির্মাণ কাজও নিম্নমানের হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

জানা গেছে,২০১৯-২০ অর্থ বছরে সড়ক ও জনপথের (সওজ) ৪ কোটি টাকার প্রাক্কলিত ব্যয়ে এ ব্রিজের নির্মাণ কাজ পায় বরিশালের মোসার্স মাহফুজ খান লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কচ্ছপ গতিতে এগুনো ব্রিজের কাজের মান নিয়ে শুরুতেই এলাকাবাসী আপত্তি তোলে। 

এ প্রসঙ্গে বরিশাল সড়ক ও জনপথের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ মাহমুদ সুমন বলেন,পূর্বে ওই ব্রিজের সংযোগ সড়কের প্রাক্কলন ব্যয় ও দৈর্ঘ্য সীমিত পরিসরে ধরা ছিল। চলতি অর্থবছরে ব্রিজটির সংযোগ সড়ক সংস্কার করে সৃষ্ট সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এনিয়ে ইউএনওসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগও করা হয়। তিন/চার মাস পূর্বে ব্রিজটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। তিন মাস না যেতেই ব্রিজের ওপরের ঢালাই উঠে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে। 

এছাড়া শ্রীহীন ব্রিজটি যে কেউ দেখলেই এটি নতুন নির্মিত নয় বহু পুরনো ব্রিজ বলে মনে করবেন। সংযোগ সড়ক উঁচু হওয়ায় অনেকটা পাহাড়ের মত ব্রিজের একপাশ থেকে অপর পাশের যানবাহন ও পথচারিসহ কিছুই দেখা না যাওয়ায় যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়ে যেকোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ব্রিজের সংযোগ সড়ক কমপক্ষে ৮০/১০০ মিটার দূর থেকে ঢাল উঠিয়ে করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু মাত্র কয়েক মিটারের মধ্যে করা হয়েছে। ব্রিজের  পশ্চিম প্রান্তে কাজলাহার বাজার অংশে সংযোগ সড়ক বাঁকা ও মাত্র কয়েক মিটার দূরত্ব নিয়ে করা হয়েছে। ফলে এ ব্রিজটি এখন মরণ ফাঁদে রূপ নিয়েছে। 

এদিকে ব্রিজের ওপরের ঢালাই উঠে খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়া ও অতিরিক্ত উঁচু সংযোগ সড়কের ফলে জনভোগান্তির বিষয়টি তুলে ধরে সম্প্রতি স্থানীয় সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আ. জলিল ঘরামী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিপন কুমার সাহার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এর-প্রেক্ষিতে ব্রিজের ওপরের উঠে যাওয়া ঢালাই সংস্কার করে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ব্রিজটি নির্মাণকাজের সাব ঠিকাদার সেলিম আহম্মেদ বলেন,কাজের প্রাক্কলন অনুযায়ী সংযোগ সড়কসহ ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে। 



মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে সিডনিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ০১:১০ পিএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে সিডনিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশে পাকিস্তানীদের পৈশাচিক গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে সিডনিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২ অক্টোবর) সকাল এগারোটায় সিডনির প্যারাম্যাটায় টাউন হল চত্বরে এক মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 

আমরা একাত্তর সংগঠনের অন্যতম সংগঠক ড. সুলতান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি ড. আব্দুল জলিল, বিশিষ্ট সংগঠক ড. স্বপন পাল, জাস্টিস ফর বাংলাদেশ জেনোসাইড ১৯৭১ এর প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন, মাল্টিকালচারাল সোসাইটি অব ক্যাম্বেলটাউনের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল আলম, অস্ট্রেলিয়া যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নোমান শামীম, একুশে একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা নিহাল বারী, সাংস্কৃতিক সংগঠন  প্রতীতির প্রতিষ্ঠাতা সিরাজুস সালেকীন, একুশে একাডেমির সাবেক সভাপতি মফিজুল হক, একুশে একাডেমির সাবেক সভাপতি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অভিজিত বড়ুয়া, একুশে একাডেমির সভাপতি প্রকৌশলী আব্দুল মতিন, বিশিষ্ট গায়িকা অমিয়া মতিন, নির্মল পাল, পূরবী পারমিতা বোস, শাহানা চৌধুরি, রোশনে আলম, ফাহাদ আসমার, প্রমুখ। 

সমাবেশে বক্তারা জাতিসংঘের কাছে ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশে পাকিস্তানীদের পৈশাচিক গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি জানান এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবার জন্য অনুরোধ জানান।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

রাজশাহীতে এমপি আয়েন উদ্দিনকে সতর্ক করে রিটার্নিং কর্মকর্তার চিঠি

প্রকাশ: ১০:৩২ এএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail রাজশাহীতে এমপি আয়েন উদ্দিনকে সতর্ক করে রিটার্নিং কর্মকর্তার চিঠি

জেলা পরিষদ নির্বাচনে রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে আয়োজিত সভায় অংশ নেওয়ায় এবার সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনকে চিঠি দিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালনের অনুরোধ জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

শনিবার (১ অক্টোবর) পাঠানো এক চিঠিতে এ অনুরোধের কথা জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রাজশাহী জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল।

এর আগে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ায় এর আগে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ও রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য মনসুর রহমানকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনকে ২৮ সেপ্টেম্বর ও সংসদ সদস্য মনসুর রহমানকে ২৯ সেপ্টেম্বর চিঠি দেওয়া হয়।

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে বলে চিঠিতে বলা হয়।

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন শুক্রবার রাজশাহী নগরের ‘চৈতির বাগানে’ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। ওই সভায় জেলা পরিষদে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল উপস্থিত ছিলেন।

চিঠিতে বলা হয়, স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) সংসদ সদস্য মো. আয়েন উদ্দিন রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে একজন প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন। জেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা ২০১৬ -এর বিধি ২(১৪) অনুসারে সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে একজন সংসদ সদস্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।

আয়েন উদ্দিন জানান, তিনি চিঠি পেয়েছেন; তাতে নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথ প্রতিপালনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এমপি আয়েন উদ্দিন   রিটার্নিং কর্মকর্তা  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন