ইনসাইড বাংলাদেশ

রাজধানীতে ৭৮টি গ্যাংয়ের ২ হাজারের বেশি সদস্য সক্রিয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২:০০ পিএম, ২০ জুন, ২০২১


Thumbnail

রাজধানীতে কিশোর গ্যাং এর উৎপাত ও অপরাধ কর্মকাণ্ড দিন দিন বাড়ছে। ইভটিজিং, মারধর, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ছাড়াও মাদক ব্যবসা, ছিনতাই এমনকি খুনের মতো অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে কিশোর গ্যাং। অনেক এলাকায় কিশোর গ্যাং সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। এমন বাস্তবতায় মাঠ পর্যায় থেকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। সেই তালিকায় জানা গেছে রাজধানীতে এ ধরনের ভয়ংকর কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা ৭৮টি এবং যেগুলোর সদস্য সংখ্যা ২ হাজারের বেশি। 

ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে একটি হালনাগাদ তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। যাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা, সদস্য এবং পৃষ্ঠপোষকদের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। এবারই প্রথম তালিকায় নাম ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরের পাশাপাশি গ্যাং লিডারের ছবিও সংযুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশের তালিকা অনুযায়ী রাজধানীতে সবচেয়ে বেশি কিশোর গ্যাং রয়েছে মিরপুর এলাকায়। আর সবচেয়ে কম গুলশানে। এছাড়া তেজগাঁও বিভাগে যথাক্রমে ১৪টি, মিরপুরে ২৩, উত্তরায় ১১, গুলশানে ১, ওয়ারীতে ৬, মতিঝিলে ১১, রমনায় ৮ এবং লালবাগে ৪টি গ্রুপ চিহ্নিত হয়েছে। তবে এটিই চূড়ান্ত তালিকা নয়। ইতোমধ্যে সবগুলো থানাকে কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা হালনাগাদ রাখতে বলা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী প্রায় প্রতিদিনই কিশোর সন্ত্রাসীদের তালিকায় নতুন নাম যুক্ত হচ্ছে। 

এছাড়া পুলিশের হালনাগাদ তালিকায় সদস্যদের পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষক বা রাজনৈতিক গডফাদারদের নামও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাদের রাজনৈতিক পদ, পদবি ও নাম-ঠিকানাসহ এবং মোবাইল নম্বর যুক্ত করে কে কোন গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক তার বিস্তারিত বিবরণও রয়েছে এ তালিকায়। এতে যেসব রাজনৈতিক নেতার নাম উঠে এসেছে তাদের বেশির ভাগই পাড়া-মহল্লার উঠতি নেতা বা পাতিনেতা হিসাবে পরিচিত। এছাড়া বেশ কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নাম আছে তালিকায়। তবে সূত্রগুলো বলছে, কোনো কোনো গ্রুপের নেপথ্যে রয়েছে একেবারে বড় মাপের প্রভাবশালী নেতা। কিন্তু বিদ্যমান বাস্তবতায় যাদের নাম তালিকায় স্থান পায়নি। 

পৃষ্ঠপোষক যারা : 
পুলিশের তালিকায় কিশোর গ্যাংয়ের রাজনৈতিক শেল্টারদাতা বা পৃষ্ঠপোষক হিসাবে অর্ধশত ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। কেউ কেউ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে সুবিধার জন্য সরকারি দলের সাইনবোর্ডসর্বস্ব পদ-পদবিও নিয়েছেন। তালিকায় নাম আছে এমন নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন শিল্পাঞ্চল থানা ছাত্রলীগের সভাপতি জিল্লুর রহমান ওরফে জীবন, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তালুকদার সারোয়ার হোসেন, মোহাম্মদপুর এলাকার চন্দ্রিমা হাউজিং ও সিলিকন হাউজিংয়ের মালিক ছারোয়ার ও নাজিব আমজাদ এবং গ্রামবাংলা হাউজিংয়ের মালিক কবির, ড্রিমল্যান্ড হাউজিংয়ের মালিক সাদিকুর রহমান ওরফে বকুল, শেরেবাংলা নগর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান ওরফে আসাদ। আদাবর এলাকার ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কাশেম, ১০০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি পাপ্পু। 

৭৮ কিশোর গ্যাং সম্পর্কিত তথ্য: 
রাজধানীর তেজগাঁও থানা এলাকায় সক্রিয় গ্রুপ ১৪টি। এর সদস্য সংখ্যা ১০৫০ জন। গ্রুপের নামগুলো হলো-কানা জসিম গ্রুপ, মাইন উদ্দিন গ্রুপ, শাকিল গ্রুপ, মামুন গ্রুপ, লাড়া-দে, চিনে ল, কোপাইয়া দে, বাঁধন গ্রুপ, পলক গ্রুপ, গাংচিল, ঘুটা দে, চেতাইলেই ভেজাল, দ্যা কিং অব গাইরালা, ভইরা দে এবং অনলি কোপাইয়া দে গ্রুপ। এছাড়া মিরপুরে সক্রিয় ২৩টি গ্রুপ। এগুলো হলো-অপু গ্রুপ, আব্বাস গ্রুপ, নাডা ইসমাইল, হ্যাপি, বগা হৃদয়, ভাস্কর, রবিন, এল কে ডেভিল বা বয়েজ এল কে তালতলা, পটেটো রুবেল, অতুল গ্রুপ, আশিক গ্রুপ, জল্লা মিলন গ্রুপ, রকি, পিন্টু-কাল্লু গ্রুপ, মুসা হারুন গ্রুপ ওরফে ভাই ভাই গ্রুপ, রোমান্টিক গ্রুপ, সোহেল গ্রুপ, ইসামিন, ইমন ও জুয়েল গ্রুপ। 

উত্তরা বিভাগে মোট ১১টি গ্রুপ পুলিশের তালিকাভুক্ত হয়েছে। এগুলো হলো-নাইন স্টার, এইচবিটি বা হিটার বয়েজ, সানি, ইয়ংস্টার, বিগ বস, রানা ভোলা কিং মহল, জিদান গ্রুপ, দি বস (হৃদয় গ্যাং)। নামবিহীন আরও ২টি গ্রুপ শনাক্ত করেছে পুলিশ। গুলশান এলাকায় ডি নাইন নামের মাত্র একটি গ্রুপ শনাক্ত করেছে পুলিশ। এর সদস্য সংখ্যা ৩০ জনের বেশি। রমনা বিভাগে ৮টি গ্রুপের নাম হচ্ছে বেইলী কিং রন, অলি গ্রুপ, জসিম, লাভলেন, বাংলা গ্রুপ, পারফেক্ট গ্যাং স্টার বা পিজিএস, সুমনের গ্রুপ এবং লাড়া-দে। এছাড়া ওয়ারী বিভাগের ৬টি গ্রুপ চিহ্নিত করা হয়। এগুলো হচ্ছে-শুক্কুর গ্রুপ, লিটন গ্রুপ, তাহমিদ, পলাশ, মোল্লা এবং সাঈদ গ্রুপ। 

রাজধানীর ব্যাংকপাড়া হিসাবে পরিচিত মতিঝিল এলাকায় ১১টি কিশোর গ্যাং পুলিশের তালিকাভুক্ত। এগুলো হলো-মিম গ্রুপ, চাঁন যাদু, ডেভিল কিং, ফুল পার্টি, জিসান গ্রুপ, বিচ্ছু বাহিনী, আকিল ও অন্নয় গ্রুপ, নিবিড় গ্রুপ, মাসুদ গ্রুপ। এছাড়া সক্রিয় আরও ৩টি গ্রুপের নাম জানা যায়নি। পুলিশের লালবাগ বিভাগে জুম্মন গ্রুপ, বহুল আলোচিত টিকটক হৃদয়, আহম্মেদ পাত্তি গ্রুপ, ইয়ামিন, ফায়সাল ও নাসির গ্রুপ নামের মোট ৪টি গ্রুপ সক্রিয়। 

শিল্পাঞ্চল থানা : তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকায় ২টি গ্রুপ কিশোর গ্যাং হিসাবে পুলিশের খাতায় তালিকাভুক্ত। এর একটির নাম শাকিল গ্রুপ। সদস্য সংখ্যা ১৪-১৫ জন। গ্রুপ লিডার শাকিল হোসেন। তিনি ২৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তার পিতা এনায়েত হোসেন পেশায় রাজমিস্ত্রি। ঠিকানা ৪৫/১ বেগুনবাড়ি, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, থানা। শাকিল গ্রুপের উল্লেখযোগ্য সদস্যরা হলেন- তামিম, সাব্বির, তুষার, রবিন, তপু, রাসেল, মুহিন এবং তুহিন। গ্রুপের প্রায় সব সদস্য ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। শাকিল গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকের নাম জিল্লুর রহমান জীবন। তিনি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা ছাত্রলীগের সভাপতি। 

পুলিশ বলছে, শাকিল গ্রুপের সদস্যরা শিল্পাঞ্চল থানার বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয়। তবে পদ্মা গার্মেন্ট, সিদ্দিক মাস্টারের ঢাল, ইয়াং স্টার স্পোর্টিং ক্লাবের আশপাশে তাদের সার্বক্ষণিক দেখা যায়। ইয়াং স্টার ক্লাবের পাশে রিকশার গ্যারেজের চিপায় তারা মাদক সেবন করেন। চুলের ছাঁটেও শাকিল গ্রুপের সদস্যদের বিশেষত্ব রয়েছে। বেশির ভাগ সদস্য জিন্স প্যান্টের সঙ্গে শার্ট পরে এবং চুলে কদম ফুল ছাঁট দেয়।

এছাড়া শিল্পাঞ্চলে সক্রিয় কিশোর গ্যাং মামুন গ্রুপের নেতার নাম মামুন খান। তিনি বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সাধারণ সম্পাদক। ৭-৮ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে তার। নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো হচ্ছে-নাবিস্কো মোড়, নিপ্পন বটতলা, প্রগতি মোড় এবং নূরানী মোড়ের আশপাশ। গ্রুপের সদস্যরা অবৈধ অটোরিকশা, বিদ্যুৎ সংযোগ, চাঁদাবাজি, ফুটপাত দখল করে রিকশার গ্যারেজ নির্মাণসহ বেআইনি কর্মকাণ্ড চালায়। গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক হিসাবে আছেন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তালুকদার সারোয়ার হোসেন। 

মোহাম্মদপুর : মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় ৪টি কিশোর গ্যাং চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এগুলো হচ্ছে-গাংচিল গ্রুপ, ঘুটা দে, চেতাইলেই ভেজাল এবং লাড়া-দে গ্রুপ। এর মধ্যে গাংচিল গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ৪০ জনের মতো। এর লিডার মোশারফ ওরফে লম্বু মোশারফ। তার ঠিকানা চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকার ১ নম্বর এভিনিউ। নদীতে ডাকাতি, ছিনতাই, ভূমিদস্যুদের ক্যাডার হিসাবে কাজ করেন তিনি। এছাড়া চুক্তিতে যে কোনো ধরনের খারাপ কাজে তিনি সিদ্ধহস্ত। তার গ্রুপের সদস্যরা হলেন- লম্বু কবির, মানিক ওরফে বোমা মানিক, ফরহাদ, মাঈন উদ্দিন, রনি, সাফায়েত, বদরুল, নূরে আলম, আক্তার, মামুন, মোহন, খান আলমগীর, হায়াত, ইউনুস, মিজান এবং জসিম। পুলিশের তালিকা অনুযায়ী গাংচিল গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক হলেন চন্দ্রিমা হাউজিং ও সিলিকন হাউজিংয়ের মালিক ছারোয়ার, নাজিব আমজাদ এবং গ্রামবাংলা হাউজিংয়ের মালিক কবির। 

মোহাম্মদপুর এলাকায় সক্রিয় `ঘুটা দে` গ্রুপের সদস্য দেড়শর বেশি। নবোদয় হাউজিং, নবীনগর হাউজিং, চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকায় দাপিয়ে বেড়ায় তারা। গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, ভূমিদস্যুদের ক্যাডার এমনকি খুনের অভিযোগও আছে। সদস্যরা হলেন নবীনগর হাউজিংয়ের আহম্মেদ, নবোদয় হাউজিংয়ের ডেভিড আলম, সুনিবিড় হাউজিং এলাকার রাহাত, গোল্ডেন সানি, হাসান, সোহেল, জাহিদুল, রিয়াজ, আকাশ এবং বিপ্লব। গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক ড্রিমল্যান্ড হাউজিংয়ের মালিক সাদিকুর রহমান ওরফে বকুল। মোহাম্মদপুরে আরেকটি কুখ্যাত কিশোর গ্যাংয়ের নাম `চেতাইলেই ভেজাল`। শতাধিক সদস্য রয়েছে তাদের। গ্রুপ লিডারের নাম শান্ত ওরফে বুলেট শান্ত। তিনি সূচনা কমিউনিটি সেন্টারের পেছনে গাড়ি শোরুমের সামনে আড্ডা দেন। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, ছিনতাই এবং মারামারির অভিযোগ রয়েছে। টিক্কাপাড়া এলাকায় সক্রিয় `চেতাইলেই ভেজাল` গ্রুপের অ্যাডমিনের নাম আরিয়ান ওরফে রহিত। টিক্কাপাড়া, জুহুরী মহল্লা, আজিজ মহল্লা, সূচনা কমিউনিটি সেন্টার এবং আশপাশের এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে। গ্রুপের সদস্যরা হলেন-অর্ণব, শেখ রাজিব, রহমান, ইয়াছিন, রাব্বি ও শামিনুর রহমান। 

মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোড, বাঁশবাড়ী, নূরজাহান রোড এবং কাটাশুর টাউন হল এলাকায় সক্রিয় ভয়ংকর কিশোর গ্রুপের নাম লাড়া-দে। তাদের স্লোগান হচ্ছে-`চিনে-ল`, `কোপাইয়া দে` ইত্যাদি। এ গ্রুপের লিডারের নাম তামিমুর রহমান ওরফে মীম। ২৫ বছর বয়সি মীমের পিতার নাম একরামুল শেখ। বাঁশবাড়ী এলাকায় তার বাসা। তিনি একাধিকবার গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গেলেও সংশোধন হননি। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। লাড়া দে গ্রুপের আরেক সদস্য অভিক ইসলাম ওরফে অভি মাত্র ১৮ বছর বয়সে একাধিকবার কারাগারে যান। তার বিরুদ্ধেও মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। লাড়া দে গ্রুপের সদস্য সংখ্যা অন্তত আড়াইশ জন। সদস্যদের বেশির ভাগই ভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন-রবিউল ইসলাম, মেহেদী হাসান, হৃদয় হোসেন, আরিফুল ইসলাম, সানি ওরফে ডিকে সানি, আজগর আলী, নেছার উদ্দিন ওরফে হৃদয়, তৌসিক, মানিক, হাসান আশিকুজ্জামান, সাকিল, মেহেদী হাসান, জিসান আহম্মেদ, রায়হান হোসেন ও শুকরুল ইসলাম ওরফে নাঈম। এদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে ছিলেন। জামিনে বেরিয়ে ফের তারা গ্যাং কালচারে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। 

মোহাম্মদপুর এলাকায় `অনলি কোপাইয়া দে` নামের একটি গ্রুপের সদস্য সংখ্যা তিন শতাধিক। গ্রুপ লিডারের নাম তানভীর। মাদক সেবন এবং মারামারিতে পারদর্শী তানভীরের বয়স মাত্র ১৮ বছর। এছাড়া গ্রুপের অন্য সদস্যরা হলেন-জগৎ, মিঠু, সুমন ওরফে ওয়ান পিচ সুমন, এমডি পরান, মোহাম্মদ সাব্বির রহমান, বিবিসি রাকিব, শাহদাৎ। গ্রুপের প্রশ্রয়দাতা হিসাবে ১০০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি পাপ্পুর নাম আছে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায় মাত্র একটি কিশোর গ্যাং তালিকাভুক্ত করা হয়। লিডারের নাম জাকির হোসেন। তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বসবাস করেন পশ্চিম আগারগাঁও এলাকার বিএনপি বস্তিতে। তার গ্রুপের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে আছে বাংলাদেশ বেতারের আশপাশ, বিএনপি বস্তি, খালপাড়, শিশুমেলা ও আগারগাঁও এলাকা। ৩০-৩৫ জনের গ্রুপটির অন্য সদস্যরা হলেন-লিমন, সুজন, রুবেল, মনির হোসেন, সুমন ও সাগর। গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক হিসাবে নাম আছে শেরেবাংলা নগর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান ওরফে আসাদের নাম। 

আদাবর : আদাবর এলাকায় সক্রিয় ৩টি গ্রুপ পুলিশের তালিকাভুক্ত। এর মধ্যে `দ্যা কিং অব গাইরালা` নামের গ্রুপের নেতা শেখ ইয়াসিন। তিনি ছিনতাই ও মারামারিতে সিদ্ধহস্ত। গ্রুপের সদস্য সংখ্যা দেড়শরও বেশি। বেশির ভাগ সদস্য পুলিশের খাতায় মাদক ব্যবসায়ী হিসাবে চিহ্নিত। শেকেরটেক, মনসুরাবাদ, আদাবর ও ঢাকা উদ্যান এলাকায় তাদের আধিপত্য রয়েছে। যেসব সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় ইতোমধ্যে অভিযোগ রয়েছে তারা হলেন-আরকে রাকিব, মিরাজ, মুরগি শাওন (আলিফ হাউজিংয়ের বাসিন্দা), শেকেরটেকের ইউসুফ, মামুন, নান্টু ও রাহুল। ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাশেমের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এই বাহিনী। 

`ভইরা দে` নামের আরেকটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে শেকেরটেক, শ্যামলী হাউজিং ও নবোদয় হাউজিং এলাকায়। এ গ্রুপের লিডারের নাম সেলিম। তার ঠিকানা হচ্ছে-খায়ের সাহেবের বাসা, মালা হাউজিং শেকেরটেক-৬। গ্রুপের সদস্য সংখ্যা শতাধিক। উল্লেখযোগ্য সদস্যরা হলেন-সাগর, মিরাজ (গ্রুপ লিডার-১), জুয়েল (গ্রুপ লিডার-২), শাকিল (গ্রুপ লিডার-৩), রাব্বি টিবি (গ্রুপ লিডার-৪), এরফান ওরফে সেলিমের ভাগ্নে এরফান, আব্দুল্লাহ আল মঈন, রাব্বি এবং মোমিন ইসতিয়াক রিয়াজ। 

পুলিশ বলছে, গ্রুপের সদস্যরা আল নূরানী তোতামিয়া জামে মসজিদের পাশের ৩য় তলা, আদবর, শেকেরটেক, শ্যামলী হাউজিং এবং শেকেরটেক ১ নম্বর রোডের মাথায় সমবেত হয়। এ গ্রুপের নিয়ন্ত্রণেও ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাশেমের হাত রয়েছে। 

তেজগাঁও : রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় সক্রিয় ২টি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে কাওরান বাজার এলাকায় দাপিয়ে বেড়ায় কানা জসিম গ্রুপ। সদস্য সংখ্যা ১৫ থেকে ২০ জন। লিডারের নাম জসিম উদ্দিন পাটোয়ারী ওরফে জসিম পাটোয়ারী ওরফে কানা জসিম। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের কামরাঙ্গীবাজার। বর্তমানে তিনি বসবাস করেন মিরপুরের পশ্চিম কাজীপাড়ায়। 

কানা জসিম গ্রুপের অন্য সদস্যরা হলেন তাজুল ইসলাম সোহেল ওরফে কিলার সোহেল, সাইদুর রহমান ওরফে বাবু, নাজির আহাম্মেদ, জয়-ই মামুন, পারভেজ, শাকির রানা, রনি শেখ, ইমন হোসেন ও শফিক। গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক জনৈক যুবলীগ নেতা সাব্বির আলম ওরফে লিটু। গ্রুপের সদস্যদের অনেকেই পাজামা-পাঞ্জাবি পরে ঘোরাফেরা করেন। 

তেজগাঁও এলাকায় সক্রিয় আরেকটি কিশোর গ্যাং মাইন উদ্দিন গ্রুপ। লিডারের নাম জাহিদুল ইসলাম ওরফে মাইন। তিনি ২৬ নম্বর ওয়ার্ড শেখ রাসেল শিশু-কিশোর পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার লাইন ও স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিশেষ করে হলিক্রস স্কুল গির্জার সামনে থেকে নাখালপাড়া পর্যন্ত অটোরিকশা চলাচল তার নিয়ন্ত্রণে। মাইনউদ্দিন গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে আছেন তেজকুনিপাড়ার গোলাপ, রেলওয়ে কলোনি স্কুলের বস্তির সোহেল, নাখালপাড়ার জাকির আহাম্মেদ, জায়িজ, গেশু, মনির, রাফছান এবং জুয়েল। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল হক জিল্লু এবং শেখ রাসেল শিশু-কিশোর পরিষদের তেজগাঁও থানা ইউনিটের সভাপতি আনোয়ার হোসেন রিপনের নাম আছে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক হিসাবে।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মৃত্যু

প্রকাশ: ০৯:৫৩ পিএম, ০৬ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মৃত্যু

রাজধানীর বাড্ডায় ইসরাত জাহান (২১) নামের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।

বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

জানা যায়, ইসরাতের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী সদর উপজেলায়। তিনি পরিবারে সঙ্গে বাড্ডায় থাকতেন। দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়।

ইসরাতের বাবা হুমায়ুন কবির জানান, ইসরাত একটু রাগী ছিলেন, বিবিএ পড়ছিলেন। সেশনজটের কারণে তাঁর পরীক্ষা দেওয়া হয়নি। গতকাল বুধবার রাতে হুমায়ুন কবির কর্মস্থল থেকে বাড়িতে এসে দেখেন, ইসরাত ঘুমিয়ে আছেন। তখনো তিনি বুঝতে পারেননি, ইসরাত ঘুমের ওষুধ সেবন করেছেন। রাতে ইসরাতের মুখ দিয়ে লালা বের হচ্ছিল। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে পাকস্থলী পরিষ্কার করে তাঁকে ভর্তি করা হয় মেডিসিন বিভাগে।

তিনি আরও বলেন, ‘আগেও একবার এমনই ঘটনা ঘটিয়েছিল। একটু শাসন করতে গেলে এমনটি করে বসে।’

বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বেলাল হোসেন বলেন, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

সন্তানের লাশ নিয়ে দু'দিন ধরে সীমান্তে


Thumbnail সন্তানের লাশ নিয়ে দু'দিন ধরে সীমান্তে

ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এক বাংলাদেশী আর লাশ নিয়ে দু’দিন ধরে সীমান্তে ভোগান্তি। গত ৪ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন জনাব আবু বক্করের পুত্র আল আমিন। 

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর থানার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ডুলপাড়া (আসাদ মোড়) গ্রামের জনাব আবু বক্করের পুত্র আল আমিন। গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলো। 

মৃত্যুর পর সঙ্গে থাকা তার মা মনজুয়ারা খাতুন সন্তানের লাশ নিয়ে এম্বুলেন্সে গতকাল বুধবার চ্যাংড়াবান্ধা চেক পোস্টে যান। চেকপোস্টে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা মৃতের   প্রয়োজনীয় কাগজপত্র  না থাকায় লাশটি বাংলাদেশে নিয়ে আসতে বাঁধা দেন। এমতাবস্থায়   প্রয়াত আল আমিনের মা পাগলপ্রায় হয়ে  প্রয়োজনীয় কাগজের জন্য হন্য হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ধর্না দিয়েও কোন সুরাহা না পেয়ে অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। এবং তিনি সন্তানের লাশ নিয়ে আসার জন্য বাংলাদেশ সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে  চ্যাংড়াবান্ধায় আটকে থাকা আল আমিনের মরদেহটি হস্তান্তরে কলকাতাস্থ বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রার্থনা করেছে নিহতের পরিবার এবং এলাকাবাসী ।  

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত লাশটি ফেরত আনার ব্যাপারে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছেন কুড়িগ্রাম জেলার আইনজীবী আব্রাহাম লিংকন। তিনি ভারতীয় হাইকমিশনসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দপ্তরে নিজ উদ্যোগে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছেন এবং তিনি জানান ভারতীয় হাইকমিশন প্রয়োজনীয় সকল  সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে এবং সর্বশেষ ভারতীয় এক্সটার্নাল এফেয়ার্স ব্যুরোর সম্মতি প্রয়োজন বলে তারা জানিয়েছেন যেটির জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে লাশটি ফেরত আনা সম্ভব। 

কুড়িগ্রাম  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জে এসে দেখে যান আমরা কারা: শামীম ওসমান

প্রকাশ: ০৯:১৩ পিএম, ০৬ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail নারায়ণগঞ্জে এসে দেখে যান আমরা কারা: শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে অনেক কাজ চলছে। কাজগুলো হয়ে গেলে ঢাকাবাসীকে বলবো নারায়ণগঞ্জ এসে দেখে যান আমরা কারা। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। 

বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে নাসিম ওসমান সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় অংশ নিয়ে একথা বলেন তিনি।

শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জের আরও কিছু কাজ প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন। যেমন- বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটী থেকে মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত ফ্লাইওভার হচ্ছে, এগুলো হলে চিত্র পাল্টে যাবে।

এ সময় সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, ইতোমধ্যে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু বা নাসিম ওসমান সেতুর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। এটি শুধু বন্দর ও নারায়ণগঞ্জকেই নয়। পদ্মা সেতুর সাথে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগকে সংযুক্ত করবে। আমাদের মহাপরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের বিশ্বাস অনেক সুন্দরভাবে আমরা এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি করতে পারব।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, আগামী ১০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের সদর বন্দরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নির্মিত নাসিম ওসমান সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সেতুটি উদ্বোধন করবেন। 

নাসিম ওসমান সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রহিমা আক্তার, নারায়ণগঞ্জ ২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চন্দন শীলসহ প্রমুখ।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

আজ থেকে শুরু হচ্ছে ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশ: ০৬:৫৭ পিএম, ০৬ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail আজ থেকে শুরু হচ্ছে ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা

 আজ ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। বৈরী আবহাওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এ নিষেধাজ্ঞায় হতাশা নেমে এসেছে জেলে পল্লীতে। জেলেদের দাবী প্রতিকুল আবহাওয়ার কারণে ঘাটে নোঙর করে থাকতে হয়েছে। 

এর মধ্যেই আবার আসছে নিষেধাজ্ঞা। যার কারণে বিপর্যস্ত জেলে পেশার সাথে সংশ্লিষ্টরা। এদিকে নিষেধাজ্ঞার সময়ে সংসারের ব্যয়ভার বহন ও দাদনের ঋণ পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় সাগর উপকূলের হাজার হাজার জেলে।
 
রাঙ্গাবালী উপজেলার সগির মাঝি(৫৩) জানান, খারাপ আবহাওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও শুরু হচ্ছে মাছ শিকারে  নিষেধাজ্ঞা। ইলিশের প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নদী ও সমুদ্রে সব ধরণের মাছ শিকারের ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার।  ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত  এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

২৩ জুলাই ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর হতে গত দুই মাসের সিংহভাগ সময়ই বৈরী আবহাওয়া ছিল।  সমুদ্র উত্তাল থাকায় দুই মাসে দুই-তিন সপ্তাহ মাছ শিকার করতে পারেনি। এরমধ্যেই আবার শুরু হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। 

 জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম জানান, নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে বেকার জেলেদেরকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ২০ কেজি করে চাল দেয়া হবে। সেই সাথে নিষেধাজ্ঞার সময়ে যাতে কেউ মাছ শিকার করতে না পারে সে জন্য প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছ পটুয়াখালী জেলায়  নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা  প্রায় ৭৯ হাজার। এর বাইরেও লক্ষাধিক জেলে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন বলে জানান তিনি।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

নতুন রাষ্ট্রপতি: আলোচনার শীর্ষে ৩ নাম

প্রকাশ: ০৬:০২ পিএম, ০৬ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail নতুন রাষ্ট্রপতি: আলোচনার শীর্ষে ৩ নাম

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত করতে হবে সরকারকে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। কাজেই আওয়ামী লীগ যাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করবেন তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হবেন এটা বলাই বাহুল্য। রাষ্ট্রপতি কে হবেন, এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। বিশেষ করে আগামী নির্বাচন হবে নতুন রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে। সেজন্যই রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এপ্রিলে। কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত করতে হবে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা বলেছেন, রাষ্ট্রপতি কে হবেন এ নিয়ে আওয়ামী লীগের থিংক-ট্যাংকের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ব্যক্তির মতামত নিচ্ছেন। এ ব্যাপারে তিনিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য তিনটি নাম বেশি আলোচিত হচ্ছে এর এই তিনটি নামের মধ্যে রয়েছে-

১. বিচারপতি খায়রুল হক: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি খায়রুল হক একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি। তিনি অনেকগুলো যুগান্তকারী এবং ঐতিহাসিক রায় দেওয়ার কারণে আলোচিত। একজন সৎ নিষ্ঠাবান বিচারপতি হিসেবে তাঁর জন্যে যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল ঘোষিত হয়েছিল। তিনি এ দেশে আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একজন পথিকৃৎ পুরুষ। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নাম এখন ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। যদিও তিনি শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। তারপরও অনেকেই মনে করছেন যে, সরকারের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় রাষ্ট্রপতি পদের জন্য তিনি একটি পছন্দের নাম।

২. ড. মসিউর রহমান: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কাজ করেছেন। আবার তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টাও বটে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে যাদের নাম এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে তাদের মধ্যে ড. মসিউর রহমান অন্যতম বলে অনেকেই মনে করছেন।

৩. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের নামও রাষ্ট্রপতি হিসেবে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের যে শিক্ষক গ্রুপ রয়েছে তাদের অন্যতম নেতা। তিনি একজন মিডিয়া বান্ধব ব্যক্তিত্ব এবং আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে সরব দেখা যাচ্ছে।

এই তিনজনের মধ্যে থেকেই যেকোনো একজন রাষ্ট্রপতি হতে পারেন বলে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বাংলা ইনসাইডারকে বলেছে। তবে বাংলাদেশের নিজস্ব অনুসন্ধানে মনে করছে রাষ্ট্রপতি হিসেবে কে হবেন, এ নিয়ে এই বিষয়টি এখনো অংকুরে রয়েছে। এ নিয়ে তেমন সিরিয়াস আলোচনা হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর নিশ্চয়ই কে রাষ্ট্রপতি হবে সেটি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে রেখেছেন এবং তার একটি পছন্দ আছে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শেষ পর্যন্ত এই তিনজন হবেন না কোনো চমক হবে সেটা বোঝা যাবে আরও পরে। তবে এখন আওয়ামী লীগের অন্দরমহলে এই তিনজনের নামই ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন