ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে কোনোভাবেই কাম্য নয়: মানবাধিকার চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২১ মঙ্গলবার, ০৮:২৫ পিএম
ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে কোনোভাবেই কাম্য নয়: মানবাধিকার চেয়ারম্যান

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম বলেছেন, আদালত প্রাঙ্গণে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে কোনোভাবেই কাম্য নয়, কিন্তু এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

মঙ্গলবার (২২ জুন) জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণ প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক ওয়েবিনারে মতবিনিময় সভায় নাছিমা বেগম এ কথা বলেন।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ভালোবাসার সম্পর্ক থাকার পর প্রতারণা বা অন্য কোনো কারণে মামলা করে, তারপর আপস হয়। আসামি জামিনে বের হলে আদালত প্রাঙ্গণেই বিয়ের ঘটনা ঘটে। বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার আলামত পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। মামলাটিও শেষ পর্যন্ত প্রমাণ করা যায় না।

প্রচলিত আইনে ধর্ষণের সংজ্ঞা পরিবর্তন, বিচারের দীর্ঘসূত্রতার পেছনের কারণগুলোও কমিশনের পক্ষ থেকে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান নাছিমা বেগম।

সভায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য সাবেক জেলা জজ জেসমিন আরা বেগম বলেন, ধর্ষণের ঘটনার ৮০ শতাংশই প্রেম, প্রতারণা বা বিয়ের প্রলোভনে সম্মতির মাধ্যমে ঘটছে। আর ২০ শতাংশ ঘটছে জবরদস্তির মাধ্যমে। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের সময় বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন আছে।

নিজের ৩১ বছরের বিচারকজীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জেসমিন আরা বেগম বলেন, ‘আমার আদালতে দেখেছি এবং আট বিভাগের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময়েও প্রায় সবার মতামত হচ্ছে, ধর্ষণের ৮০ শতাংশই ঘটছে প্রেমসহ অন্যান্য কারণে। আর এই ঘটনাগুলোতে একসময় সব সাক্ষী পাওয়া গেলেও ভিকটিম আর সাক্ষ্য দিতে আসেন না। মামলা আপস করে ফেলেন। আইন অনুযায়ী, ভিকটিমকেই বিচার চাইতে হয়।’

জেসমিন আরা বেগম বলেন, ইংল্যান্ডেও সম্মতিতে এ ধরনের ধর্ষণকে ‘রোমিও–জুলিয়েট রেপ’ বলে আলাদাভাবে দেখা হয়। বাংলাদেশে রোমিও–জুলিয়েট নাম না দিয়ে অন্যভাবেও ঘটনাগুলো দেখা দরকার।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের জাতীয় ইনকোয়ারি কমিটির আহ্বায়ক জেসমিন আরা বেগম বলেন, ছেলে শিশুরাও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। তাদের বিষয়টিও নজরে আনতে হবে। বিবাহিত নারী, যৌনকর্মীসহ যে কেউ ধর্ষণের শিকার হতে পারেন। স্বামীর মাধ্যমেও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এই বিষয়গুলো তলিয়ে দেখার পাশাপাশি ধর্ষণের ঘটনায় মিথ্যা মামলা হচ্ছে, সেই মিথ্যা মামলাগুলোকেও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

ওয়েবিনারে জাতীয় ইনকোয়ারি কমিটির সার্বিক দিক তুলে ধরেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের জাতীয় বিশেষজ্ঞ আবুল হোসেন। তিনি এর আগে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টি সেক্টরাল কার্যক্রমের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আবুল হোসেন জানান, জাতীয় ইনকোয়ারি কমিটি পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে অনুসন্ধানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের কারণ, ধরন, চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করার পাশাপাশি তা মোকাবিলা বা সমস্যা সমাধানেরও সুপারিশ দেওয়া হবে। আইন বা নীতিতে কোনো পরিবর্তন, সংশোধনের প্রয়োজন হলে তা–ও দেখবে এ কমিটি।

মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের নারী ও শিশু অধিকারবিষয়ক সংবাদ পরিবেশনের দায়িত্ব পালন করা সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বিভিন্ন সুপারিশ দেন।

ধর্ষণের ৮০ শতাংশই প্রেম বা অন্যান্য কারণে ঘটছে, এ বিষয়ে গবেষণা আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সাংবাদিক নাদিয়া শারমিন। তিনি বলেন, গবেষণার সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া এ ধরনের তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করা ঠিক নয়।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগমও যেকোনো তথ্য-উপাত্ত গবেষণার ভিত্তিতে প্রকাশের বিষয়টিতে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ধারণা করা হয়েছিল, করোনায় মানুষ ভয় পাবে। নারী নির্যাতনের মতো ঘটনাগুলো বন্ধ রাখবে। তবে ঘটেছে উল্টোটা। অতীতের চেয়ে নারী নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে গেছে।

বিষয়: ধর্ষক