ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সারাবিশ্বে কমছে, বাংলাদেশে বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২১ মঙ্গলবার, ০৮:৫৯ পিএম
সারাবিশ্বে কমছে, বাংলাদেশে বাড়ছে

সারাবিশ্ব করোনা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে এবং গতকাল বিশ্বে একদিনে সর্বনিম্ন সংখ্যক আক্রান্ত এবং মৃত্যুবরণ করেছে। যেদিন সর্বনিম্ন আক্রান্তের বৈশ্বিক খবর আমরা পাচ্ছি সেদিন বাংলাদেশ গত দেড় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী আক্রান্ত হচ্ছে। গত দুই দিন ধরেই বাংলাদেশে রোগীর শতকরা হার ২০ শতাংশের কাছাকাছি। ৪ হাজার ৮৪৬ জন গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, বাংলাদেশে কত মানুষ আক্রান্ত হল একটি মূল বিচার্য বিষয় নয়, মূল বিচার্য বিষয় হলো যে আক্রান্তের শতকরা হার কত। কারণ বাংলাদেশের সীমিত পরীক্ষায় কতজন আক্রান্ত হলো এ দিয়ে করোনা সংক্রমণের ব্যাপ্তি এবং পরিধি বোঝা সম্ভব নয়। আর এ কারণে আক্রান্তের হার যখন ৫ শতাংশের নিচে নামবে তখন বোঝা যাবে যে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে এসেছে। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইনেও বলা হয়েছে। আর সে বিবেচনায় বাংলাদেশের এখন করোনার সংক্রমণের হার উদ্বেগজনক বলা যায়। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে কোথাও ৩৭ কোথাও ৪০ এমনকি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে বাংলাদেশের জন্য করোনা আরও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

এদিকে নতুন করে ৭টি জেলায় লকডাউন সহ মোট ২১টি জেলায় এখন লকডাউন চলছে। কিন্তু এই লকডাউনের পরও করোনার সংক্রমণ বেড়ে চলেছে। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, সামাজিক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর লকডাউন তেমন কোনো কাজে দেয় না। এখন শুধু লকডাউন দিলেই হবে না, যারা আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসেছে তাদেরকে চিহ্নিত করে তাদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে এবং তাদেরকে দ্রুত আইসোলেশনে নিতে হবে। তাছাড়া করোনার লাগাম টেনে ধরা সম্ভব না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, করোনা প্রতিরোধ করতে গেলে করোনার পিছনে ছুটলে হবেনা করোনার আগে যেতে হবে। করোনা মোকাবেলার সবচেয়ে বড় উপায় হল যে আক্রান্ত সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরকে শনাক্ত করা এবং তাদেরকে দ্রুত আইসোলেশনে নেওয়া। যারা আক্রান্তের সংস্পর্শে আসেনি তারা যেন আক্রান্তদের সংস্পর্শে না আসে, সে ব্যাপারে সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, প্রতিরোধই হলো করোনা মোকাবেলায় সবচেয়ে ভালো উপায়। কিন্তু সেই প্রতিরোধ প্রক্রিয়ায় আমাদের ব্যাহত হচ্ছে। শুধু তাই নয় আমাদের যে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতাও একেবারেই নেই বললেই চলে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেই চলছি, যার ফলে করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে চলেছে। এ অবস্থায় দ্রুত সরকারকে করণীয় নির্ধারণ করতে হবে এবং একটি সুবিন্যস্ত পরিকল্পনা নিতে হবে। গত ঈদে দেখা গেছে যে, মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে লকডাউন ভেঙে তাদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে গেছেন ঈদ করতে। সামনে ঈদে আসছে। ঈদের সময় যদি এখনই একটি পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা গ্রহণ না করা হয়, শুধু লকডাউন দিয়ে বসে থাকা হয় তাহলে করোনা মোকাবেলা করা অসম্ভব হবে। কারণ মানুষ ঈদে ঢাকা ছাড়বে এবং গ্রামের বাড়িতে যাবে। আর এটিই যদি হয় তাহলে এখন যেভাবে বাড়ছে তার মাত্রা আরো বেড়ে যাবে। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। ইতোমধ্যেই ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে করোনা পরিস্থিতি প্রায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সেখানে শয্যা সংখ্যা খালি নাই। মানুষ মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছে, অনেকে হাসপাতালেও যেতে পারছে না। এরকম পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য এখনই একটি বিজ্ঞান ভিত্তিক সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।