ইনসাইড বাংলাদেশ

কোরবানির যত নিয়ম কানুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০:০৩ পিএম, ২০ জুলাই, ২০২১


Thumbnail

কোরবানির আভিধানিক অর্থ হলো কাছে যাওয়া বা নৈকট্য অর্জন করা। ইসলামি ফিকহের পরিভাষায় কোরবানি হলো জিলহজ মাসের ১০ তারিখ সকাল থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে শরিয়তের বিধান অনুসারে নির্দিষ্ট পশু জবাই করা। আসুন জেনে নেই কোরবানির যত নিয়ম কানুন রয়েছে সেগুলো।

কোরবানির পশুর বয়স :
কোরবানির জন্য ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার বয়স এক বছর হতে হয়; গরু ও মহিষের বয়স দুই বছর এবং উটের বয়স পাঁচ বছর হতে হবে। দুম্বার এক বছর পূর্ণ না হলেও যদি এক বছরের মতো হৃষ্টপুষ্ট হয় তাহলে চলবে। উল্লিখিত পশুগুলো নর-মাদি যা-ই হোক না, তা দ্বারা কোরবানি হবে। কোরবানির পশু তরতাজা ও হৃষ্টপুষ্ট হওয়া উত্তম। কোনো খুঁত থাকলে সে পশু দ্বারা কোরবানি আদায় হবে না। যেমন: লেজের বা কানের বেশির ভাগ অংশ কাটা থাকা, অন্ধ বা এক চোখ কানা হওয়া, এক পা খুঁড়িয়ে চলা বা চলনশক্তিহীন হওয়া, উভয় শিং বা কোনো এক শিং মূল থেকে উত্পাটিত হওয়া। অর্থাৎ এমন কোনো খুঁত বা অপূর্ণতা, যার দ্বারা এটির উপযোগিতা কমে যায় ও মূল্য হ্রাস পায়।

কোরবানির মাংস ও ভাগের শরিয়তসম্মত নিয়ম:
কোরবানির মাংস তিনভাগে ভাগ করে এর একভাগ গরীব ও ইয়াতিম-মিসকিনদের দান করা, একভাগ আত্মীয়-স্বজনকে দেয়া এবং অন্য ভাগ নিজে রাখা মুস্তাহাব। তবে ইচ্ছা করলে আপনি পুরো মাংসই খেতে পারেন এতে দোষের কিছু হবে না। কোরবানির পশু যবেহকারী ও মাংস প্রস্তুতকারীকে কোরবানির পশুর মাংস থেকে পারিশ্রমিক স্বরূপ দেয়া যাবে না।

চামড়া: কোরবানির পশুর চামড়া, রশি ও ফুলের মালা প্রভৃতি সদকা করে দিতে হবে। চামড়া নিজের ব্যবহারের জন্য রাখতে চাইলে রাখতে পারবে, যেমন- জায়নামায, বিছানা, ইত্যাদি বানাতে পারবে। কিন্তু কোরবানির চামড়া বিক্রি করে এর মূল্য নিজ কর্মে ব্যয় করতে পারবে না।

মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি:
যদি মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি দেয়া হয়, তাহলে মাংস উপরোল্লিখিত নিয়মে বন্টন করা উত্তম।

কোরবানির পশু জবেহ করার নিয়ম:
জবেহ করার নিয়ম জানা থাকলে কোরবানির পশু নিজ হাতে জবেহ করা মুস্তাহাব। যদি নিজে করতে না পারেন তাহলে অন্যের দ্বারা তা সমাধা করা যাবে। তবে জবেহ্’র সময় নিজে সামনে থাকা উত্তম। জবেহ্’র সময় নিম্ন লিখিত রগসমূহ কাটার ব্যাপারে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবেঃ

(ক) শ্বাসনালী (খ) খাদ্যনালী এবং (গ) রক্ত চলাচলের নালীদ্বয়।

বক্ষস্থল হতে গলদেশের মধ্যবর্তী কোন স্থানে জবেহ করা বাঞ্চনীয়। জবেহ’র পূর্বে ছুরি খুব ধারালো করে নিতে হবে। তারপর কোরবানির পশুর মাথা দক্ষিণ এবং পেছনের দিক উত্তর দিকে রেখে কেবলামুখী করে শায়িত করে দোয়া পড়বেন।

দোয়া: “ইন্নী ওয়াজ্জাহ্তু ওয়াজহিয়া লিল্লাজি ফাত্বারাস সামাওয়াতী ওয়াল আরদা হানীফাঁও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন, ইন্না সালাতী ওয়ানুসুকী ওয়া মাহ্য়ায়া ওয়ামামা-তী লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন। আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়ালাকা বিস্মিল্লাহি আল্লাহু আকবর” বলে কোরবানির পশু জবেহ করার পর পাঠ করবেন- “আল্লাহুম্মা তাক্বাব্বাল মিন্নী (অংশীদার থাকলে- ‘ওয়া মিন’ বলার পর প্রত্যেকের নাম ও বাপের নাম বলবেন) কামা তাক্বাব্বালতা মিন খলীলিকা ইব্রাহীমা আলাইহিস্ সালাম ওয়া হাবীবিকা মুহাম্মদিনিল্ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।”

কোরবানি দিবসে করণীয়:
হাদীস শরীফ: হুজূর আক্বদাস (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঈদুল ফিত্বরের দিন মিষ্টি জাতীয় কিছু আহার করে ঈদগাহে তাশরিফ নিয়ে যেতেন, কিন্তু ঈদুল আযহার দিবসে নামায আদায় না করা পর্যন্ত কিছুই আহার করতেন না। -[তিরমিজী, দারেমী ও ইবনে মাজাহ]

আকিকা:
অনেককেই কোরবানির সাথে আকিকাও আদায় করতে দেখা যায়। আকিকা ছেলে সন্তান হলে কোরবানির পশুতে দুই অংশ আর মেয়ে সন্তান হলে এক অংশ। আকিকার অংশ পিতা-মাতা, দাদা-দাদী সবাই খেতে পারবে; কোন অসুবিধা নেই। আকিকার চামড়ার হুকূম কোরবানির চামড়ার হুকুমের আওতায় পড়বে।

যাদের ওপর কুরবানি ওয়াজিব:
কুরবানি আল্লাহর প্রেমের নির্দশন। যুগে যুগে আল্লাহ প্রত্যেক আম্বিয়া কেরামগণের ওপরেই এই দায়িত্ব ন্যস্ত করেছেন। যার ধারাবাহিকতা এখনও প্রবাহমান। আল্লাহ সামর্থ্যবান মুসলমান আকিল, বালিগ, মুকিম পুরুষ ও নারীর ওপর কুরবানি করাকে ওয়াজিব করেছেন। যাদের ওপর কুরবানি ওয়াজিব তা তুলে ধরা হলো-

যারা কুরবানি করবেন-
১. কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য নেসাব পরিমাণ মাল পূর্ণ এক বছর থাকা জরুরি নয়। অর্থাৎ যে ব্যক্তি ১০ জিলহজ্ব ফজর হতে ১২ জিলহজ্ব সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকবে, তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব।

২. পারিবারিক ব্যয় নির্বাহের জন্য যে পরিমাণ জমি বা ফসলের দরকার তা থেকে অতিরিক্ত জমি বা ফসলের মূল্য অথবা যে কোনো একটির মূল্য যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মূল্যের সমান হয়। তাহলেও কুরবানি ওয়াজিব।

৩. পরিবারের সব সদস্যের যদি আলাদা-আলাদাভাবে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়, তবে সবার ওপর আলাদাভাবেই কুরবানি ওয়াজিব।

৪. গরিব ব্যক্তি যদি কুরবানির নিয়্যাতে গরুক ক্রয় করে তবে তার ওপরও কুরবানি ওয়াজিব।

৫. উদ্দেশ্য হাসিলে কুরবানির মান্নত করলে সে উদ্দেশ্য পূর্ণ হলেও কুরবানি করা ওয়াজিব।

৬. নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক যত সম্পদের অধিকারী হোক না কেন তার ওপর একটি কুরবানিই ওয়াজিব। সম্পদ বেশি বলে একাধিক কুরবানি করতে হবে এমন কোনো বিধান নেই। অবশ্য একাধিক কুরবানি করলে অনেক ছাওয়াব লাভ হয়।

এক কথায় যে অবস্থায়, যার ওপর সাদাকায়ে ফিতর ওয়াজিব, সে অবস্থায় ঐ ব্যক্তির ওপর কুরবানিও ওয়াজিব। অতএব প্রত্যেক স্বাধীন, ধনী, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক নর-নারীর উপর কুরবানি ওয়াজিব।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

বরগুনায় পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় ৩৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ

প্রকাশ: ১১:৩১ এএম, ১৯ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail বরগুনায় পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় ৩৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ

বরগুনায় জাতীয় শোক দিবসের দিনে ছাত্রলীগ কর্মীদের উপর অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে লাঠিচার্জ ও সংসদ সদস্যর সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের ঘটনায় তদন্ত কমিটি ৩৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছে। 

ডিআইজি এস. এম. আক্তারুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, একটু বড় রিপোর্ট হচ্ছে যার জন্য সময় প্রয়োজন। বুধবার তদন্ত কমিটি ৩৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছে। বুধবার বরগুনা সার্কিট হাউসে ডিআইজি সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের উপর আস্থা রাখুন। যেটা হয়েছে বাড়াবাড়ি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টায় ডিআইজি সাংবাদিকদের বলেন, এখনও কাজ চলছে। ইনশাআল্লাহ বৃহস্পতিবারের মধ্য রিপোর্ট তৈরি শেষ হবে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, রিপোর্টে প্রধান অভিযুক্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহররম আলিকে সাময়িক বরখাস্তসহ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা এবং অন্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ পেশাদারিত্ব রক্ষা করে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের বিষয় সুপারিশ করা হচ্ছে। 

বরগুনা   পুলিশের লাঠিচার্জ   সাক্ষ্যগ্রহণ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

টানা ৩ দিনের ছুটিতে পর্যটকে মুখরিত কুয়াকাটা

প্রকাশ: ১০:৫৫ এএম, ১৯ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail টানা ৩ দিনের ছুটিতে পর্যটকে মুখরিত কুয়াকাটা

টানা ৩ দিনের ছুটির আনন্দ উপভোগ করতে সূর্যোদয় সূর্যাস্তের বেলাভূমি কুয়াকাটায় পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠছে। শুক্রবার (১৯ আগস্ট) ভোর থেকে সৈকতে ভিড় করছে নানা বয়সী মানুষ। কক্ষ খালি না থাকায় পর্যটকদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন এখানকার হোটেল-মোটেল মালিকরা।

স্থানীয়রা জানান, টানা তিনদিনের ছুটি থাকায় কুয়াকাটায় পর্যটকের ভিড় বাড়ছে। ছুটির আগেই এখানকার অধিকাংশ হোটেল-মোটেল বুকিং হয়ে গেছে। থাকার জায়গা না পেয়ে পর্যটকরা আশপাশের বাসা-বাড়িতে রাত্রিযাপন করছেন।

ঢাকা থেকে আসা সকলাইন নামের এক পর্যটক জানান, পরিবার নিয়ে কুয়াকাটায় প্রথম আসা। আগে বুকিং না দিয়ে আসায় হোটেল পেতে কিছুটা বিড়ম্বনা হয়েছে। তবে বেশি ভাড়ায় একটি রুম পেয়েছি।

সমুদ্র বাড়ি রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম মিরন বলেন, ২০ দিন আগে আমাদের সব রুম অগ্রিম বুকিং হয়েছে। ধারণক্ষমতা কম হওয়ায় অনেক পর্যটককে ফিরিয়ে দিয়েছি। তবে রুম বাড়াতে আমরা কাজ করছি।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ জানান, টানা তিনদিন বন্ধের আজ দ্বিতীয় দিন। আমাদের কয়েকটি টিম সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রতিকার ঘটনা ঘটেনি।

ছুটি   পর্যটক   কুয়াকাটা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত সারের মজুত রয়েছে: কৃষি মন্ত্রণালয়

প্রকাশ: ১০:১০ এএম, ১৯ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত সারের মজুত রয়েছে: কৃষি মন্ত্রণালয়

দেশে চাহিদার বিপরীতে সব ধরনের সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি কৃত্রিমভাবে যাতে কেউ সারের সংকট তৈরি করতে না পারে এবং দাম বেশি নিতে না পারে, সে বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিবিড় তদারকি করছেন বলেও জানানো হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, বর্তমানে (১৮ আগস্ট) ইউরিয়া সারের মজুত ৬ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন, টিএসপি ৩ লাখ ৯৪ হাজার টন, ডিএপি ৭ লাখ ৩৬ হাজার টন ও এমওপি ২ লাখ ৭৩ হাজার টন। 

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সারের বর্তমান এ মজুত বেশি। গত বছরের এ সময়ে ইউরিয়া সারের মজুত ছিল ৬ লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টন, টিএসপি ২ লাখ ২৭ হাজার টন ও ডিএপি ৫ লাখ ১৭ হাজার টন। 

সারের বর্তমান মজুতের বিপরীতে আগস্ট মাসে সারের চাহিদা ইউরিয়া ২ লাখ ৫১ হাজার টন, টিএসপি ৪৭ হাজার টন, ডিএপি ৮১ হাজার টন, এমওপি ৫২ হাজার টন বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। 

পর্যাপ্ত সার   মজুত   কৃষি মন্ত্রণালয়  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

আজ রাজধানীর কোথায় কখন লোডশেডিং

প্রকাশ: ০৯:৪৬ এএম, ১৯ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail আজ রাজধানীর কখন কোথায় লোডশেডিং

দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি কমাতে গত ১৯ জুলাই থেকে চলছে শিডিউল করে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং। প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দফায় দফায় লোডশেডিং কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের এ শিডিউল পরিবর্তনও হচ্ছে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের ভোগান্তি কমাতে কোন এলাকায় কখন লোডশেডিং হবে তার সময়সূচি আগেই জানিয়ে দেয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আজ শুক্রবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীতে সম্ভাব্য লোডশেডিংয়ের তালিকা প্রকাশ করেছে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ডিপিডিসি ও ডেসকো।   

আজ কোথায়, কখন লোডশেডিং হবে, তার তালিকা দিয়েছে সংস্থা দুটি। এ প্রতিবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত ডিপিডিসি ও ডেসকোর সময়সূচি থেকে জেনে নিতে পারেন কোথায়, কখন লোডশেডিং হবে।

লোডশেডিংয়ের তালিকা:



লোডশেডিং   বিদ্যুৎ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

ভারতকে বলেছি শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৮:৩৮ এএম, ১৯ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ভারতকে বলেছি শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, নয়াদিল্লিতে গিয়ে অনেকের সঙ্গে আমার দেখা হয়। আমি দেশটিতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। আজকে অনেকের বক্তব্যতে সেটাই এসেছে। শেখ হাসিনা আমাদের আদর্শ। তাকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার, আমি ভারতবর্ষের সরকারকে সেটা করতে অনুরোধ করেছি।

বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর জেএমসেন হলে জন্মাষ্টমী উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখলে আমাদের দেশ উন্নয়নের দিকে যাবে এবং সত্যিকারের সাম্প্রদায়িকতামুক্ত একটা দেশ হবে। অনেকেই আমাকে ভারতের দালাল বলেন। কারণ অনেক কিছু হয়, আমি স্ট্রং স্টেটমেন্ট দিই না। কিন্তু আমারও তো একটি কনস্টিটিউয়েন্সি আছে। সেটাকে তো আমি ইগনোর করতে পারি না। 

তিনি বলেন, আমি ভারত সরকারকে বলেছি, আমার দেশে কিছু খারাপ লোক আছে, কিছু উগ্রবাদী আছে। আমার দেশ সারা পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন না। আপনাদের দেশে যখন কিছু অসুবিধা হয়, আমরা চুপ করে থাকলেও খারাপ লোক খবর পায়। কিছুদিন আগে আপনাদের দেশের এক ভদ্রমহিলা কিছু কথা বলেছিলেন, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে একটি কথাও বলিনি। বিভিন্ন দেশ কথা বলেছে, আমরা বলিনি। এ ধরনের প্রটেকশন আমরা আপনাদের দিয়ে যাচ্ছি। সেটা আপনাদের মঙ্গলের জন্য, আমাদের মঙ্গলের জন্য। আমরা যদি একটু বলি, তখন আমাদের উগ্রবাদীরা আরও সোচ্চার হয়ে আরও বেশি বেশি কথা বলবে। তাতে আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন হবে। আমাদের স্থিতিশীলতা বিঘ্ন হবে। সেইজন্য আমি ভারতবর্ষকে বলেছি যে, আমরা এমন ভাবে কাজ করব যাতে আমাদের কোন কারণে কোন উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডকে কখনও প্রশ্রয় দেব না। এটা যদি আমরা করতে পারি, ভারত এবং বাংলাদেশ উভয়ের মঙ্গল।

মন্ত্রী বলেন, আমি বলেছি, শেখ হাসিনা আছেন বলে ভারতের যথেষ্ট মঙ্গল হচ্ছে। এ বর্ডারে অতিরিক্ত খরচ করতে হয় না। আর আমাদের উন্নতি হচ্ছে বলে ভারতে লোক যায়। ২৮ লাখ লোক আমাদের দেশ থেকে প্রতিবছর ভারতে বেড়াতে যায়। ভারতের কয়েক লাখ লোক আমাদের দেশে কাজ করে। এটি সম্ভব হয়েছে আমাদের সোনালী অধ্যায়ের ফলে। সুতরাং আমরা কোনো ধরনের উস্কানিমূলক কাজ করব না। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি গোহাটি গিয়েছিলাম। আসামের মুখ্যমন্ত্রী আমাকে বললেন, শেখ হাসিনার প্রতি আমাদের অনেক কৃতজ্ঞতা। আমি বললাম কেনো। তিনি বলেন, আমাদের এখানে রাস্তাঘাট হচ্ছে, শিল্প কারখানা আসতেছে। এগুলো সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার জন্য। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। বাংলাদেশে সন্ত্রাসের কোন জায়গা নেই। এর ফলে আসামে ও মেঘালয়ে কোন সন্ত্রাসী নেই। তিনি বলছেন এই কারণে বিভিন্ন কোম্পানি এসে এখানে শিল্প কারখানা খুলছে। 

তিনি বলেন, আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, শেখ হাসিনার স্থিতিশীলতা চাই৷ তিনি আমাদের জন্য আশীর্বাদ। 

এর আগে জন্মাষ্টমী উৎসবের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। সেখানে আরও বক্তব্য দেন বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, ঢাকা মহানগর জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক এস কে সিকদার, চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি দুলাল চন্দ্র দে ও সাধারণ সম্পাদক শংকর সেনগুপ্ত।

ভারত   শেখ হাসিনা   পররাষ্ট্রমন্ত্রী  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন