ঢাকা, শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ঢাকার দুই সিটিতে বর্জ্য অপসারণে সাড়ে ২১ হাজার কর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২১ বুধবার, ১১:৪২ এএম
ঢাকার দুই সিটিতে বর্জ্য অপসারণে সাড়ে ২১ হাজার কর্মী

কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে এবার ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে সাড়ে ২১ হাজার কর্মী প্রস্তুত রয়েছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১১ হাজার ৫০৮ জন ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রায় ১০ হাজার কর্মী ঈদের দিন থেকে বর্জ্য অপসারণের কাজে নিয়োজিত থাকবেন। বর্জ্য অপসারণের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার পাশাপাশি এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম তদারকের লক্ষ্যে দুই সিটি করপোরেশন একাধিক মনিটরিং টিম গঠন করেছে। 

দক্ষিণ সিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের জানান, ডিএসসিসির আওতাধীন এলাকা ও পশুর হাটগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মাঠপর্যায়ে তদারকের জন্য ১০টি দল গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। পশুর হাটের বর্জ্য ও ঈদের দিন আজ বুধবার বেলা দুইটা থেকে ২৪ জুলাই বেলা দুইটা পর্যন্ত দক্ষিণ সিটির আওতাধীন এলাকা ও পশুর হাটগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মাঠপর্যায়ে তদারকের জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে এই টিমগুলো গঠন করা হয়েছে।

ডিএসসিসি জানায়, সংস্থার শীতলক্ষ্যা হলে স্থাপিত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারক করা হবে। করপোরেশনের আওতাধীন যেকোনো নাগরিক তাঁর নিজ এলাকায় সৃষ্ট বর্জ্য–সম্পর্কিত তথ্যাদি প্রেরণ বা পশুর বর্জ্য অপসারণ–সম্পর্কিত সমস্যা সুরাহার জন্য কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষের ০১৭০৯৯০০৮৮৮ নম্বরে ফোন করে জানাতে পারবেন।

ডিএসসিসি জানায়, পাশাপাশি ৯০টি খোলা ট্রাক, ৫৩টি কম্পেক্টর, ১২টি পানির গাড়ি, ১০২টি ডাম্প ট্রাক, ১৪টি পে-লোডার, ৮১টি কন্টেইনার ক্যারিয়ার, ৯টি টায়ার ডোজার, ২টি ট্রেইলার, ৯টি স্কিড লোডারসহ প্রায় পৌনে ৪০০ যান-যন্ত্রপাতি মাঠপর্যায়ে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে নিযুক্ত থাকবে।

ডিএসসিসি জানায়, নিয়মিত পাঁচ হাজার কর্মীর পাশাপাশি অতিরিক্ত আরও পাঁচ হাজার কর্মী পশুর বর্জ্য অপসারণে নিযুক্ত থাকবেন। পরিবেশ সুরক্ষা ও দূষণমুক্ত রাখার লক্ষ্যে দক্ষিণ সিটিতে প্রায় ৩০ টন ব্লিচিং পাউডার ও ১ হাজার ৮০০ লিটার তরল জীবাণুনাশক ছিটানো হবে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবুল বাশার মো. তাজুল ইসলাম জানান, এবার ৫৪টি ওয়ার্ডে দুই লাখেরও বেশি পশু কোরবানি দেওয়া হবে। পশু কোরবানি দেওয়ার জন্য ৩০৭টি স্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোরবানির জন্য সর্বমোট ২৫০ জন ইমাম ও ২৫০ জন মাংস প্রস্তুতকারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। 

তিনি জানান, কোরবানির বর্জ্য অপসারণের জন্য ডিএনসিসির নিজস্ব ২ হাজার ৬৬৭ জন এবং অন্যান্য বেসরকারি ব্যবস্থাপনাসহ মোট ১১ হাজার ৫০৮ জন কর্মী নিয়োজিত করা হয়েছে। কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে দুটি অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে ডিএনসিসি। ডিএনসিসির বাসিন্দারা বর্জ্য–সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য ০২-৫৮৮১৪২২০, ০৯৬০-২২২২ ৩৩৩, ০৯৬০-২২২২ ৩৩৪—এই নম্বরগুলোয় ফোন করে জানাতে পারবেন। 

ডিএনসিসি জানায়, বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারক করার জন্য ২২ সদস্যের একটি তদারকি টিম গঠন করা হয়েছে। করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদের ছুটিকালে কর্মস্থলে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

ডিএনসিসি জানায়, জবাইকৃত পশুর বর্জ্য তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ এবং পশুর হাটগুলো দ্রুত পরিষ্কারের লক্ষ্যে করপোরেশনের নিজস্ব বর্জ্যবাহী ট্রাক, ভারী যন্ত্রপাতি, ওয়াটার বাউজারের পাশাপাশি আউটসোর্সিং থেকে অতিরিক্ত গাড়ি নিয়োজিত থাকবে। ঈদ উপলক্ষে বর্জ্য পরিবহন–সক্ষমতা কমপক্ষে ১০ হাজার টনে উন্নীতকরণে প্রয়োজনীয় যান-যন্ত্রপাতি নিয়োজিত থাকবে। এ লক্ষ্যে ঈদের আগের দিন থেকে ঈদের পরবর্তী দুদিন নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্জ্য অপসারণের জন্য বর্জ্যবাহী ড্রাম্প ট্রাক, খোলা ট্রাক, ভারী যান-যন্ত্রপাতি, পানির গাড়ি, পিকআপ ভ্যানসহ সর্বমোট ৪৯৩টি গাড়ি নিয়োজিত থাকবে। 

পরিবেশদূষণ রোধে ১১টি ওয়াটার বাউজার দিয়ে তরল জীবাণুনাশক মিশ্রিত পানি স্প্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানায় ডিএনসিসি। এ ছাড়া সাড়ে ৬ লাখ বর্জ্য থলে, ৫০ টন ব্লিচিং পাউডার, ১ হাজার ৫ ক্যান স্যাভলনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।