ঢাকা, শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

এবার ঢাকায় ফেরার যুদ্ধ 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২১ বুধবার, ০৫:০৩ পিএম
এবার ঢাকায় ফেরার যুদ্ধ 

করোনার মধ্যে চতুর্থ এবং দ্বিতীয় ঈদ উল আজহা অনুষ্ঠিত হলো আজ। ঈদের আগে সরকার ৮ দিনের জন্য সবকিছু শিথিল করে দিয়েছে। সারা দেশে করোনা পরিস্থিতি অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। প্রতিদিনই দুইশ` বা তার বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে আক্রান্তের শতকরা হার ৩০ শতাংশের কাছাকাছি। এরকম সময়ে সরকার জাতীয় পরামর্শক কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করেই লকডাউন শিথিল করেছে। কারণ সরকার বুঝতে পেরেছে যে লকডাউন দিলেও মানুষ কোরবানি ঈদে এটি মানবে না। আর তাই ঈদের পর থেকে কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেছেন যে, ঈদের পর কঠোরভাবে আরোপ করা হবে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলছেন যে, ঢাকা শহরকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে। কেউ ঢাকায় ঢুকতে পারবেন এবং ঢাকা থেকে কেউ বের হতে পারবেন না। এরকম পরিস্থিতিতে যারা নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মানুষ তারা নাড়ির টানে গ্রামের বাড়িতে গেছেন এবং ঈদের পরে তারা আবার ঢাকায় ফিরে এসে জীবন-জীবিকার যুদ্ধে অবতীর্ণ হবেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যে, যাদের ঈদের পরে ঢাকায় ফিরতে হবে তাদের আগামীকালই রাত বারোটার মধ্যে ঢাকায় ঢুকতে হবে।

অন্যথায় এর পরে তারা ঢাকায় ঢুকতে পারবেন না। ফলে ঈদের পর আরেকটি জনদুর্ভোগ এবং জনঅশান্তির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি ঈদ উল ফিতরের ঢাকা থেকে মানুষের গ্রামে যাওয়ার মতোই হতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। কারণ অনেক মানুষই দূর-দূরান্তে থাকেন। তাদের ঢাকায় ফিরতে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা কোন কোন সময় ১২ ঘণ্টাও লাগে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, যে পরিমাণ মানুষ ঢাকার বাইরে গেছেন তাদের আবার ঢাকায় ফিরে আসছে অন্তত সাত থেকে আট দিন লাগবে। সব মানুষ যদি একসাথে ঈদের পরের দিন ঢাকায় ফিরতে চায় তাহলে একটি ভয়াবহ যানজট হবে। আবার সরকার যেহেতু ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন দিয়েছে ১৪ দিন গ্রামে থাকা মানুষের পক্ষে সম্ভব হবে না। অনেকেই দিনমজুর স্বল্প আয়ের মানুষ। তাদেরকে প্রতিদিনের খাবারের জন্য সংগ্রাম করতে হয়। এরকম মানুষগুলোর পক্ষে ১৪ দিন গ্রামে বসে থাকা প্রায় অসম্ভব। তাই তারা ঢাকায় ফিরবেন।

তাই প্রশ্ন উঠেছে যে, মানুষকে কি কঠোর লকডাউনের আওতায় আনা যাবে? নাকি তারা আবার যে যার মতো করে ঢাকায় ফিরবে এবং এর ফলে আবার লকডাউন ভেঙে পড়বে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, এটিই হলো এখন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার থেকে বিভিন্ন সময় কঠোর লকডাউনের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে কঠোর লকডাউন মানুষের অনিচ্ছার কারণে ভেঙে পড়ছে। আর এবার যে লকডাউনটা দেয়া হয়েছে তা অনেক চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে ঈদের পরে অনেকের হাত খালি থাকে। অনেকে নতুন কাজের জন্য চেষ্টা করেন। এরকম পরিস্থিতিতে শুক্রবার ভোর ছয়টা থেকে যে লকডাউন দেয়া হয়েছে সেই লকডাউন উপেক্ষা করে মানুষজন ঢাকায় ফেরার যুদ্ধ করবেন কিনা এবং সেই পরিস্থিতি সরকার কিভাবে মোকাবেলা করবে সেটি এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, আগামী ১৪ দিনের লকডাউন সফল হবে কিনা তা নির্ভর করছে গ্রাম থেকে ঢাকামুখী মানুষের স্রোত সরকার ঠেকাতে পারবে কিনা তার ওপর।

বিষয়: ঢাকা , যুদ্ধ