ঢাকা, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

লকডাউন: বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২১ শুক্রবার, ০৬:০১ পিএম
লকডাউন: বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো 

লকডাউনের আগের দিন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বললেন এবার লকডাউন হবে কঠোরতম। অন্যান্য লকডাউনের চেয়ে আলাদা। কিন্তু লকডাউনের প্রথম দিনই যেন সবকিছু ভেঙে পড়ল। আগেই একথা আমরা বাংলা ইনসাইডারে লিখেছিলাম যে, ঈদের পর ঘরমুখী মানুষ আবার ঢাকায় ফিরে চাইবে এবং এই ঢাকায় ফেরা সামাল দেওয়াটা কঠিন হয়ে পড়বে। বাস্তবে তাই হয়েছে। আজ লঞ্চে, ফেরিতে ঢাকামুখী মানুষের ভিড়ে লকডাউন কার্যত ভেঙে পড়েছে। মানুষ যে যেভাবে পেরেছে ঢাকায় আসার চেষ্টা করছে। যারা ঢাকায় আসার চেষ্টা করছে তারা সবই নিম্ন আয়ের মানুষ এবং ছোটখাটো চাকরি করে বা দোকান চালায়। ধরা যাক হোটেল রেস্টুরেন্টে কাজ করা একজন ব্যক্তি তিনি তিনদিনের ছুটি নিয়ে গ্রামে গেছেন। আজকে যদি তিনি ঢাকায় না আসেন, কাজে যোগ না দেন তাহলে পরে তার চাকরিটা হয়তো চলে যাবে। আবার লকডাউনে হোটেল রেস্টুরেন্ট খোলা রাখা হয়েছে এবং সেখানে টেক এওয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। তাহলে যে হোটেল রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি এবং অন্যান্য কর্মী তারা বাড়িতে গেলেন তাদের ফেরার ব্যবস্থা কি হবে? গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঈদের পরদিনই কি সবগুলো মানুষের একসাথে ঢাকায় ফেরা সম্ভব? এরকম অনেকগুলো সেক্টর আছে যে সেক্টরগুলোর মানুষ ঈদের ছুটিতে বাড়ি গেছে এখন তাদের ফিরে আসতে হচ্ছে।

হাসপাতালে যারা জরুরী কাজ করেন, স্বাস্থ্যকর্মী তাদের অনেকের ছুটি ঈদে ভাগ করে দেওয়া হয়। একদল ঈদুল ফিতরে ছুটি নেয় অন্য দল ঈদুল আজহাতে ছুটি নেয়। যারা এবার ঈদে ছুটি পেয়েছেন তারা বাড়ি গেছেন। তাদেরকে ফিরতেই হবে কারণ তাদের কাজ করতে হবে। এরকম বহু ক্ষেত্র আছে যে ক্ষেত্রগুলোতে মানুষকে ঢাকায় ফিরতেই হবে এবং তারা ফিরছেনও যেকোন উপায়ে। ফলে এই লকডাউন প্রথম দিনই কার্যত ভেঙে পড়েছে। সরকারের কিছু ব্যক্তি যেভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করেন সেই প্রজ্ঞাপন জারির সঙ্গে বাস্তবতা খতিয়ে দেখেন না। যার ফলে সমস্যা হয়, জনভোগান্তি তৈরি হয় এবং জনগণ যেভাবে পারে তার কাজটা শেষ করে। এখন আজকে ছিল লকডাউনের প্রথম দিন। এর আগে যখন ১৪ এপ্রিল থেকে লকডাউন শুরু হয়েছিল তখন প্রথম তিনটি চারটি মানুষ বেশ ভালোমতোই লকডাউন মেনেছিল এবং ঘরে ছিল। তারপর আস্তে আস্তে মানুষ রাস্তায় বেরোতে থাকে। এখন এবার যে ঈদের পরদিন থেকে লকডাউন দেওয়া হয়েছে সেই লকডাউন শুরুতেই প্রশ্নের মুখোমুখি হলো। ভবিষ্যতে আর সামনের দিনগুলোতে এই লকডাউন কতটুকু বাস্তবে থাকবে সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

কারণ এখানে অনেকগুলো এখানে অনেকগুলো বিষয় বিজ্ঞান ভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং বাস্তবতা বিচার করা হয়নি। যেমন ধরা যাক ব্যাংক খোলা থাকবে, সরকারি কর্মচারীদেরকে তাদের কর্মস্থলে থাকতে বলা হয়েছে। আবার আটদিনের যে লকডাউন শিথিল করা হয়েছিল সেই শিথিলে লোকজনকে বাড়ি যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। তাহলে একজন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ঈদের ছুটি কাটিয়ে যদি গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরতে চান তাহলে তাকে আজকেই ফিরতে হবে। কারণ ঈদের পরদিন যে পরিস্থিতি হোক না কেন সবাই ঢাকায় আসতে পারবেন না। ফলে ঢাকার ভেতরে লকডাউন যতই কার্যকর হোক না কেন যারা ঢাকায় ঢুকবেন, সেই ঢাকায় ফেরা মানুষের স্রোত সামলানো যায় নি। ফলে প্রথমেই লকডাউন একটা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতি সামনের দিনগুলোতে কোথায় নিয়ে যাবে সেটিও একটি বড় প্রশ্ন। বারবার বলা হচ্ছে যে লকডাউন এখন আর করোনা মোকাবেলায় সমাধান নয়। তাছাড়া লকডাউন দিতে হবে বাস্তবতা বিবেচনা করে এবং প্রান্তিক পর্যায়ে মাঠের চাহিদা এবং সুবিধা-অসুবিধা ইত্যাদি বিচার-বিশ্লেষণ করে। কিন্তু তা না করে উপর থেকে চাকরি দেওয়া প্রজ্ঞাপন যে কার্যকর হতে পারে না এবারের লকডাউন হয়তো সেটি প্রমাণ করে দেবে।