ঢাকা, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

মোদি বিরোধী আন্দোলন: বাংলাদেশের লাভ না ক্ষতি?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২১ শুক্রবার, ১০:০০ পিএম
মোদি বিরোধী আন্দোলন: বাংলাদেশের লাভ না ক্ষতি?

ভারতে মোদি বিরোধী তীব্র আন্দোলন শুরু হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে মোদি সরকারের জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে। বিশেষ করে একের পর এক ব্যর্থতার পর এখন পেগাসাস কেলেঙ্কারিতে উত্তাল ভারত। ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, সরকারবিরোধী যে আন্দোলন সে আন্দোলন খুব শীঘ্রই বিস্তৃত হবে এবং মোদি সরকারের বিদায়ের ঘণ্টা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ভারতের মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে নাকি নতুন নির্বাচন পর্যন্ত মাটি কামড়ে পড়ে থাকবে মোদি সরকার সেটি নিয়ে নানারকম তর্ক-বিতর্ক এখন ভারতের রাজনীতিতে বড় আলোচনার বিষয়। দ্বিতীয় মেয়াদের মোদি সরকার একের পর এক ব্যর্থতাকে বরণ করছে। যেখানে হাত দিচ্ছে সেখানে মোদি সরকার ব্যর্থ হচ্ছে এবং সমালোচিত হচ্ছে। সমালোচনা থেকে মুক্ত পাওয়ার জন্য মোদি নরেন্দ্র মোদি মন্ত্রিসভার রদবদল করেন। কিন্তু রদবদল করতে করতে পেগাসাস কেলেঙ্কারি মোদি সরকারকে নতুন করে বিতর্কের মুখে ফেলেছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ভারতের কর্তৃত্ববাদী শাসন, ভিন্নমত এবং মুক্তচিন্তার মানুষদের দমন করার জন্য শুরু থেকে মোদি সরকার সমালোচিত হচ্ছিল। এরপর শুরু হলো কৃষক আন্দোলন। কৃষক আন্দোলনে মোদি সরকার শুধুমাত্র পুঁজিপতিদের পক্ষে থাকেন বলেই সমালোচিত হন। কৃষক আন্দোলনের রেশ না কাটতে কাটতেই ভারতে ছড়িয়ে পড়ে করোনা। মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পিছনে মোদি সরকারকে দায়ী করেন অনেকে। বিশেষ করে সেই সময় বিভিন্ন অঞ্চলে উপনির্বাচন এবং হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসব করোনার মহামারীর জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়। এই সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও মোদি বিতর্কিত হয় এবং বিপদে পড়েন। বিশেষ করে টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেশে দেশে সমালোচিত হয়েছেন মোদি সরকার। এই অঞ্চলে একাকীত্বকে বরণ করে নিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।

এখন সার্ক অঞ্চলের মূল কর্তৃত্ব চীনের হাতে চলে গেছে এমন সমালোচনাও ভারতের মধ্যে প্রায়ই শোনা যায়। মোদির কাশ্মীর নীতিও প্রশংসিত হয়নি দেশেই। বিশেষ করে কাশ্মীরে যেভাবে দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে তা ভারতবাসীই পছন্দ করেনি। এরকম অবস্থায় সর্বশেষ পশ্চিমবাংলা নির্বাচনকে ঘিরে মোদি সরকার যেভাবে ব্যাপকভাবে প্রচারণায় নেমেছিলেন এবং পশ্চিমবাংলা দখলের জন্য নরেন্দ্র মোদি অমিত শাহ জুটি যেভাবে নেমেছিলেন তা একেবারে জনমতের লড়াইয়ে পরিণত হয়। সেই জনমতের লড়াইয়ে মমতা ব্যানার্জির কাছে গো হারা হেরে যান নরেন্দ্র মোদি সরকার। এরপর থেকেই ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো মোদি বিরোধী আন্দোলন করার জন্য একাট্টা হচ্ছেন এবং সেই আন্দোলনে এখন মমতা ব্যানার্জিকে সামনে রেখেই একটি পরিকল্পনা আঁকা হচ্ছে। এখন পার্লামেন্টে বিরুদ্ধে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে এবং সরকারের পদত্যাগ দাবি করছে। ভারতের রাজনীতি সম্বন্ধে যারা খোঁজ-খবর রাখেন তারা বোঝেন যে, ভারতের পার্লামেন্টের আন্দোলনের সূচনা হয় তা রাজপথে ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগে না। তাছাড়া এমনিতে ভারতে অর্থনৈতিক মন্দা, বেকারত্ব, করোনা কারণে মানুষের মধ্যে নানারকম সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এরকম একটি পরিস্থিতিতে নরেন্দ্র মোদি বিরোধী আন্দোলন অবশ্যম্ভাবী।

সাম্প্রতিক সময় বাংলাদেশের সঙ্গেও ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। বিশেষ করে দ্বিতীয় মেয়াদে মোদি সরকারের মধ্যে এক ধরনের বাংলাদেশ বিরোধী কার্যক্রম প্রচ্ছন্নভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদিও নরেন্দ্র মোদি এর মধ্যে বাংলাদেশে এসেছেন এবং বার বার করে বলছেন বন্ধুত্বের দিক থেকে বাংলাদেশই প্রথম। কিন্তু মুখে যাই বলুক না কেন বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে যে, পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ, টিকা রফতানি বন্ধ, নাগরিকত্ব ইস্যু এবং সীমান্ত হত্যা ইত্যাদি নিয়ে মোদি সরকার বাংলাদেশকে চেপে ধরারই এক কৌশল গ্রহণ করেছেন। এই কৌশলের মধ্যে যখন মোদি বিরোধী এক আন্দোলন শুরু হতে যাচ্ছে তখন প্রশ্ন হচ্ছে যে, এই আন্দোলনে বাংলাদেশের লাভ হবে না ক্ষতি হবে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ভারতের যেকোনো সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে এগিয়ে যেতে চায়। আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতায় এসেছিল তখন কংগ্রেস ক্ষমতায় ছিল এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর ভারতে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসে। তখন মনে করা হয়েছিল যে, বিজেপি সরকার আসলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বিষয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নষ্ট হবে। কারণ আওয়ামী লীগ ঐতিহাসিক ভাবে কংগ্রেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা একটি রাজনৈতিক দল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল নরেন্দ্র মোদির প্রথম মেয়াদে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন উচ্চতা পেয়েছিল। কাজেই, ভারতের রাজনৈতিক আন্দোলন ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয়। ভারতে যে সরকারই আসুক না কেন তারা বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক সেকুলার রাজনৈতিক শক্তিকে দেখতে চায়। সে দিক দিয়ে ভারতে মোদি বিরোধী আন্দোলনে বাংলাদেশে কোন প্রভাব বা প্রতিক্রিয়া পড়বে না বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।