ঢাকা, শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

লকডাউন নয়, গণটিকাই লক্ষ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২১ শনিবার, ০৭:৫৯ পিএম
লকডাউন নয়, গণটিকাই লক্ষ্য

কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিন আজ। প্রথম দিনের মতো আজও মানুষ নানা রকম অজুহাতে বেরিয়েছে। আজও ঢাকার বাইরে থেকে মানুষজন ঢাকায় এসেছে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশ চেকপোস্ট জিজ্ঞাসা করছিল। কিন্তু যেভাবে সরকার কঠোর লকডাউন করতে চেয়েছিল সেই লকডাউন পরিস্থিতি ক্রমশ ঢিলেঢালা হয়ে পড়ছে। আগামীকাল ঈদের পর প্রথম কর্মদিবস। আগামীকাল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। কাল ব্যাংক খুলবে এবং সীমিত আকারে অন্যান্য কার্যক্রম শুরু হবে। এরকম পরিস্থিতিতে আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর লকডাউন রাখা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের নীতিনির্ধারক মহল বিষয়টি নিয়ে আলাপ আলোচনা করছে এবং এই লকডাউন যে করোনা মোকাবেলার সমাধান নয় এটি নিয়ে সরকারের মধ্যেই এখন কথাবার্তা হচ্ছে। সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারক বলছেন যে, আর লকডাউনে যাওয়ার পক্ষে সরকার নয়। কারণ লকডাউন একদিকে যেমন করোনার সংক্রমণ কমানোর ক্ষেত্রে খুব একটা ভূমিকা রাখছে না পাশাপাশি এই লকডাউনের ফলে মানুষের অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিচ্ছে। এটি সরকারের ওপর একটা বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। আর এ কারণেই ৫ আগস্টের পরে নতুন করে আর লকডাউন না দেওয়ার বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে।

বরং লকডাউন তুলে নিয়ে মানুষের স্বাস্থ্যবিধির উপর নজর দেওয়া, গণজমায়েত হতে পারে এমন কর্মসূচি গুলোর উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা যেমন: বিয়ের অনুষ্ঠান, ওয়াজ মাহফিল, রাজনৈতিক সমাবেশ, গণজমায়েত হতে পারে এমন কোনো কর্মসূচি। এগুলো বিরত রেখে মানুষজন যেন স্বাভাবিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজের মধ্যে যেতে পারে সেটি নিয়ে সরকারের মধ্যে আলাপ আলোচনা হচ্ছে। সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চাচ্ছে গণটিকা কর্মসূচিকে। টিকা নিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে যে সংকট তৈরি হয়েছিল সেই সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে সরকার। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গণটিকা কর্মসূচি নিয়ে আগাম আরেকটি আশার বক্তব্য শুনিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ১৮ বছর বয়সী সকলকে গণটিকা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে টিকার জন্য ১ কোটি ১৫ লক্ষ ৬৫ হাজার ৮৭ জন মানুষ নিবন্ধিত হয়েছেন। তবে বহু মানুষ আছে যারা নিবন্ধনের বাইরে। সেজন্য তাদেরকে নিবন্ধনে আনার কৌশল নিয়েও সরকারের মধ্যে আলোচনা চলছে। সরকার মনে করছে যে গণটিকাই একমাত্র সমাধানের পথ এবং সেদিকেই যাচ্ছে।

বাংলাদেশে গণটিকার কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে। পৃথিবীর যে দেশগুলো গণটিকা কর্মসূচিতে সফল হয়েছে সেই দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। শুধু অন্যতম নয়, বাংলাদেশ বিশ্বে গণটিকা কর্মসূচিতে সফল দেশগুলোর রোল মডেলও বটে। শতভাগ টিকাদান কর্মসূচির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম অভিজ্ঞ একটি দেশ। বিশেষ করে পোলিও, হাম, ডিপথেরিয়াসহ নবজাতকের জন্য যে টিকা গুলো দেওয়া হয় সে টিকাগুলো দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিপুলভাবে সফল হয়েছে। আর এই কারণেই সরকার মনে করছে যে, বাংলাদেশ যদি টিকার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারে তাহলে সব মানুষকে টিকা দেওয়া কোন কঠিন কাজ হবে না। আর এ কারণেই সরকার অনেক ব্যাপক আকারে টিকা প্রদানের পরিকল্পনা নিয়েছে। এই ১৪ দিনের লকডাউনের মধ্যে একটা রোডম্যাপ চূড়ান্ত হবে যে, বাংলাদেশ কোথা থেকে কত টিকা পাবে এবং এই টিকা অনুযায়ী গণটিকা কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কাজ করবে। তাই ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে হয়তো লকডাউন যুগের অবসান ঘটবে এবং গণটিকা কর্মসূচির ব্যাপকতা বৃদ্ধি পাবে।