ঢাকা, শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শেখ হাসিনার ‘আম কূটনীতি’ কি সফল হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২১ শনিবার, ০৮:৫৯ পিএম
শেখ হাসিনার ‘আম কূটনীতি’ কি সফল হবে?

সার্ক অঞ্চলে এই মুহূর্তে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতার নাম শেখ হাসিনা। সার্কের প্রধান দুই দেশের নেতারাই যখন টলটলায়মান, তাদের তীব্র সমালোচনা এবং জনপ্রিয়তা নিম্নমুখী সেই সময়ে নানা রকম সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার জনপ্রিয়তা অটুট ভাবে ধরে রেখেছেন। শুধু দেশে জনপ্রিয়তা নয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন বিশ্বনেতায় পরিণত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি প্রশংসিত এবং একজন প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রমাণিত। এই বাস্তবতাই করোনাকালীন সময়ে এই অঞ্চলের ঐক্য এবং সম্প্রীতি ধরে রাখার জন্য অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি সার্ক অঞ্চলের বিভিন্ন সরকার এবং রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে উপহার হিসেবে আম পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশের আমি অত্যন্ত সুস্বাদু এবং সারা বিশ্বে আদৃত। আর সেই আম উপহার পাঠিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশের এক কূটনৈতিক জাগরণ তৈরি করতে চেষ্টা করছেন। অনেকেই বলতে পারেন যে, আম পাঠানো স্রেফ সৌজন্যতা। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর কাছে আম পাঠানো একটি অথিতিপরায়ণতার লক্ষণ মাত্র। বাংলাদেশ অথিতিপরায়ণ জাতি হিসেবে পরিচিত। বাঙ্গালীরা সবসময় ভালো মন্দ প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিলিয়ে নেয়। সেই চিরাচরিত অভ্যাসটাকে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় অভ্যাসে পরিণত করেছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ে পালা-পার্বণে প্রতিবেশীদেরকে নানারকম উপহার দেয়। এই প্রতিবেশীদের যে পক্ষপাত বিচার তিনি করেন না, সকলকে তিনি সমান চোখে দেখেন সেটি সার্ক অঞ্চলের প্রায় সব সরকার প্রধানের কাছে পাঠানোর মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা প্রমাণ করলেন। বাংলাদেশ `সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সাথে বৈরিতা নয়` এই পররাষ্ট্র নীতিতে বিশ্বাস করে যেটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিষ্ঠা করেছেন।

সার্ক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভক্ত। আর একারণেই সার্ক যেভাবে কার্যকর হওয়া উচিত ছিল তা কার্যকর হয়নি। আর এই বিভক্তির মূল কারণ হিসেবে রয়েছে ভারত এবং পাকিস্তানের বৈরী সম্পর্ক। দুই দেশের সম্পর্ক কখনোই স্বাভাবিক পর্যায়ে ছিল না। আর বাংলাদেশে ঐতিহাসিকভাবেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হিসেবে পরিচিত। কারণ, বাংলাদেশের ৩০ লাখ শহীদের রক্ত, তিন লাখ মা-বোনের ইজ্জত, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতা কোনদিন ভুলতে পারবে না। কাজেই পাকিস্তানের সঙ্গে কখনোই একটি স্বাভাবিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হবে না। তারপরও যদি পাকিস্তান বাংলাদেশের কাছে একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করত, বাংলাদেশের ন্যায্য পাওনা যদি বুঝিয়ে দিত তাহলে পরিস্থিতি হয়তো অন্যরকম হলেও হতে পারতো, কিন্তু পাকিস্তান কখনই সেটা করেনি।

তবে লক্ষণীয় ব্যাপার যে, ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বাংলাদেশ পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু কিছু ইতিবাচক ফলাফল দৃশ্যমান হচ্ছে। বিশেষ করে ইমরান খান একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করেছেন। তাদের মধ্যে কথা বিনিময় হয়েছে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। এইসব বিষয়গুলোকে অনেক ইতিবাচক মনে করেন। তবে পাকিস্তান তার ভুল রাজনীতি এবং বাংলাদেশ নিয়ে ভুল কৌশল থেকে এখনও সরে আসেনি। পাকিস্তান এখন একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র এবং সব সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে। এরকম বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আম পাঠিয়ে প্রমাণ করলেন যে, অতীতে পাকিস্তান যাই করুক না কেন বাংলাদেশে যে সার্ক অঞ্চলের প্রত্যেকটি দেশকে নিয়ে এগুতে চায় এই বার্তাটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিলেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো যে, শেখ হাসিনার এই আতিথেয়তা, মহানুভবতা, উদারতা কি সব রাষ্ট্রগুলো বুঝবে? এই আম কূটনীতি কতটুকু সফল হবে? কূটনৈতিক মহল মনে করছে, আম কূটনীতি সফল ব্যর্থতার বিষয় নয়। আম কূটনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একটি বার্তা দিলেন। তাহলো বাংলাদেশ সকলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ রাখতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ সকলকে নিয়ে ভালো থাকতে চায়। এই আম কূটনীতির মাধ্যমে শেখ হাসিনা বিশ্বনেতা হিসেবে নিজেকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।