ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৩ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আমলাদের সম্পদের হিসেবের কি হলো?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ শুক্রবার, ১০:০০ পিএম
আমলাদের সম্পদের হিসেবের কি হলো?

সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব দিতে হবে। এ নিয়ে সরকারের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনে আলোচনা হলো বেশ কদিন। কিন্তু এরপরে চাপা পড়ে গেল। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যেহেতু বিধান করা হয়েছে সেহেতু প্রশাসনের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব দিতেই হবে কিন্তু কবে হিসাব দেওয়া হবে, কিভাবে হিসাব দেওয়া হবে কিংবা এই হিসেব আদৌ জনসমক্ষে প্রকাশিতে হবে কিনা এ নিয়ে এখনো ধুম্রজাল রয়েছে। বরং ইস্যুটিকে ধামাচাপা দেওয়ারও চেষ্টা চলছে বলে কোনো কোনো মহল থেকে বলা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি ঘোষণা করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি প্রথম জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সফরে যান এবং সেখানে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভাষণে তিনি বলেন যে, দুর্নীতি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এখন বেতন অনেক বাড়ানো হয়েছে। কাজেই যারা দুর্নীতি করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী সরকারের আড়াই বছরের মাথায় জনপ্রশাসন দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানে আবার আবার দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার প্রত্যয় ঘোষণা করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন এবং তিনি বলেন যে, দুর্নীতি করলে কোনোভাবেই তা বরদাস্ত করা হবে না। এর মধ্যেই সরকার ১৯৭৯ সালের সরকারি চাকরিবিধির আলোকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সম্পদের হিসাব দেওয়ার ব্যবস্থা পুনরায় প্রবর্তন করেন। অবশ্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলছে যে, এটি পুনরায় প্রবর্তন করা হয়নি। ১৯৭৯ সালের বিধান কখনো রহিত ছিল না। কিন্তু এটি প্রতিপালিত হচ্ছে কিনা তা দেখা হতো না। এখন এটি প্রতিপালনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই ঘোষণা দেয়া হয়েছে জুন মাসে কিন্তু তারপরও এখন পর্যন্ত আমলাদের সম্পদের হিসেবের ক্ষেত্রে কি হল তা প্রকাশ হয়নি।

ইতিমধ্যে গণমাধ্যমের ১১ জন সাংবাদিক নেতার ব্যাংক একাউন্ট চাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠছে যে, যখন পেশাজীবীদের ব্যাংকের বিবরণী চাওয়া হচ্ছে তখন আমলাদের নয় কেন। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন অভিযোগ করেছিলেন যে, তারা খোঁজ নিয়ে জেনেছেন যে কানাডায় বেগম পাড়ায় বাড়ি বেশি আমলাদের। তিনি বলেছেন যে, আগে আমরা মনে করতাম যে রাজনীতিবিদদের বোধহয় সেখানে বাড়িঘর বেশি। কিন্তু এখন আমরা দেখছি যে আমলাদের বাড়িঘরই বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায় যে, বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ যখন উঠে তখন প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরকে খুব নিবিড়ভাবে অভিযোগ থেকে বাদ দেয়া যার সর্বশেষ উদাহরণ হলো শাহেদ কেলেঙ্কারি। রিজেন্ট হাসপাতালের সাথে চুক্তির ঘটনায় স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করেছিলেন যে, তৎকালীন স্বাস্থ্য সচিব আসাদুল ইসলামের মৌখিক অনুরোধে তিনি এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। কিন্তু মামলার চার্জশিট যখন দুর্নীতি দমন কমিশন অনুমোদন করলো তখন সেখানে আসাদুল ইসলামের নাম ছিল না। শুধু এটিই প্রথম ঘটনা নয়, এর আগে দুর্নীতি এবং এমনকি মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত আমলারাও বিচারের বাইরে থেকে গেছেন। একাধিক সচিবের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছিল। দুর্নীতি দমন কমিশন এই জালিয়াতি তথ্য প্রমাণ পেয়েছিল কিন্তু তাদেরকে শুধুমাত্র চাকরি থেকে অবসর দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই আমলারা বিচারের ঊর্ধ্বে থেকে যাচ্ছেন, এক ধরনের দায়মুক্তি দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে যখন আমলাদের সম্পদের হিসেব চাওয়া হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে তখন বিভিন্ন মহলের মধ্যে একটি উৎসাহ তৈরি হয়েছিল যে, সরকার হয়তো স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর অগ্রগতি অন্ধকারেই রয়ে গেছে। ফলে শেষ পর্যন্ত আমলাদের চাপে এই ঘোষণা কি বন্ধ হয়ে গেল কিনা সে প্রশ্ন উঠেছে আরো কারো কারো মধ্যে।