ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ৪ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বাংলাদেশে পাকিস্তানি তৎপরতা: সতর্ক ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২১ বুধবার, ১০:০০ পিএম
বাংলাদেশে পাকিস্তানি তৎপরতা: সতর্ক ভারত

বাংলাদেশের নতুন করে পাকিস্তান তৎপরতা শুরু করেছে। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই বাংলাদেশে বিভিন্ন রকম তৎপরতা চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। আর এই খবরের প্রেক্ষিতে ভারত বিষয়টিকে সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারতের কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভারতের একাধিক কূটনীতিকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে তারা মনে করছে যে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই বাংলাদেশকে ঘিরে তৎপরতা চালায় প্রধানত দুটি বিষয় নিয়ে। 

১. তারা বাংলাদেশে মৌলবাদী, জঙ্গিবাদী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে মদদ দিতে চায় এবং এই মদদ দানের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা, অগ্রগতি ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। অতীতে বিভিন্ন সময় দেখা গেছে যে বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের উত্থানের পেছনে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা ছিল। বিভিন্ন নির্বাচনে তারা পাকিস্তানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোকে মদদ দেয়, পৃষ্ঠপোষকতা করে এবং তাদেরকে জেতানোর জন্য অর্থ দেয়। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান আদালতে জবানবন্দি দিয়ে বলেছিলেন যে ২০০১ সালের নির্বাচনে তারা বিএনপিকে অর্থ যোগান দিয়েছিল। 

২. পাকিস্তান বাংলাদেশে তৎপরতা চালাতে চায় ভারতকে অস্থিতিশীল করার জন্য। ভারতের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সবসময় মদদ দেয় পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদদ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ, কৌশলগত জায়গা। ২০০৮ সালের আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আশ্রয় নিত এবং সেখানে তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো, অস্ত্র সরবরাহ করা হতো। সেই প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা ভারতে যেয়ে বিশৃঙ্খলতা তৈরি করার চেষ্টা করত। বাংলাদেশ ২০০৮ সালের ক্ষমতার পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করার পর পরই সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে বাংলাদেশের জমি কখনোই ভারতের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের জন্য ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। আওয়ামী লীগ সভাপতি এই কথাকে কাজে পরিণত করেছেন এবং বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের শেকড় উপড়ে ফেলেছে। আর এটিই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মূল ভিত্তি বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। 

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বাংলাদেশ সরকারকে এই একটি কারণেই সবচেয়ে বেশি সমর্থন করে ভারতের যেকোনো রাজনৈতিক দল এবং যেকোনো সরকার। কারণ ভারত তার নিজের স্বাধীনতা, অখণ্ডতার ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যতই মতপার্থক্য থাকুক না কেন ভারতের কোন রাজনৈতিক দলই বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কে প্রশ্রয় দেয় না, তাদেরকে মদদও দেয় না। তাই কংগ্রেস থেকে যখন বিজেপি ক্ষমতায় এলো তখন এই ঐক্যর সূত্র ধরেই ঐতিহ্যবাহী ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরো প্রগার হয়েছিল। আর এখানেই পাকিস্তান আঘাত হানতে চায়, পাকিস্তান বাংলাদেশে তাদের নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় যেখানে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সহযোগিতা করা সহজ হবে। 

বিভিন্ন সূত্র বলছে এই পরিকল্পনায় চীনেরও অংশীদারিত্ব রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার তাদের অবস্থানে অটল রয়েছে। বাংলাদেশ কখনই কোন বিচ্ছিন্নতাবাদী অপশক্তিকে বাংলাদেশের মাটিতে স্থান দিবে না, আর সে কারণেই ভারতের স্বস্তি। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা যাতে বেশি দূর না যায় সে জন্য ভারতও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেই কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।