ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৩ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

মারা গেলো গায়ে আগুন দেওয়া গর্ভবতী কিশোরী মা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৯:৪০ পিএম
মারা গেলো গায়ে আগুন দেওয়া গর্ভবতী কিশোরী মা

স্বামী–শাশুড়ির অত্যাচার সইতে না পেরে কিশোরী সুরাইয়া নেওয়াজ লাবণ্য (১৭) নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলেছে সে। শরীরের ৯০ ভাগ পোড়া নিয়ে হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে জন্ম দিয়েছে মৃত এক কন্যাসন্তানের। এর কয়েক ঘণ্টার মাথায় পৃথিবী থেকেও বিদায় নিয়েছে মেয়েটি।

আজ বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুরাইয়া নেওয়াজ লাবণ্যর মৃত্যু হয়। তার মা আফরোজা ফাতেমা এ তথ্য জানিয়েছেন।

লাবণ্যর স্বজনেরা জানান, ৯ অক্টোবর আনুমানিক সন্ধ্যা সাতটার দিকে স্বামী শেখ সাদী হোসায়েনের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। এরপরই গায়ে আগুন দেয় লাবণ্য। নেত্রকোনার কলমাকান্দা থেকে লাবণ্যকে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনেরা। এক দিন পর থেকে সে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। শ্বশুরবাড়িতে খবর দেওয়া হলেও কেউ খোঁজ নিতে আসেনি।

মেয়ের বরাত দিয়ে মা–বাবা জানান, লাবণ্যর গর্ভে সন্তান আসার পর থেকে শ্বশুরবাড়িতে তার মাছ–মাংস–ডিম খাওয়া ছিল নিষেধ। ভাতের পাশে একটু ভর্তা আর ডাল। চিকিৎসকের কাছেও নিয়ে যায়নি ওরা। লাবণ্যর স্বামী জানিয়ে দিয়েছিল, চিকিৎসকের কাছে যেতে হলে দাদির বাড়িতে ফিরতে হবে। ওর বাবা কথা দিয়েছিলেন সাত–আট দিন পরে মেয়েকে নিয়ে যাবেন। সেই সময়ও তারা দিতে রাজি হয়নি। গর্ভবতী কিশোরীকে প্রচণ্ড মারধর করে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মেয়েটি বাসা থেকে বেরিয়ে আসে। খবর পেয়ে আরিফুল ইসলাম মেয়ের শ্বশুরবাড়ি গিয়ে তাকে নিয়ে আসেন। গত ১ আগস্ট থেকে সে দাদির কাছেই ছিল।

লাবণ্যর শ্বশুরবাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায়। লাবণ্যকে সেখান থেকে এনে কলমাকান্দার গাখাজোড়া গ্রামে দাদির কাছে রেখে এসেছিলেন বাবা আরিফুল ইসলাম। পাঁচ দিন আগে ওই বাড়িতে থাকা অবস্থায় ফোনে স্বামীর সঙ্গে কথা হওয়ার পর গায়ে আগুন দেয় মেয়েটি।

সুরাইয়া নেওয়াজ লাবণ্যর মা–বাবার বক্তব্যের বিষয়ে জানতে তার স্বামী শেখ সাদী হোসায়েনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তার দুটি ফোন নম্বরই বন্ধ পাওয়া গেছে। ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার ওসি আবদুল আহাদ বলেন, এ বিষয়ে এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। তিনি খোঁজ নিচ্ছেন।