ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৩ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা নিখোঁজ কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২১ বৃহস্পতিবার, ১০:০০ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা নিখোঁজ কেন?

২০০৮ সালে দ্বিতীয়বারের মত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যখন শপথ নেন শেখ হাসিনা তখন তিনি একটি শক্তিশালী উপদেষ্টামণ্ডলী গঠন করেছিলেন। এইচ টি ইমাম, ড. আলাউদ্দিন, সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, ড. মসিউর রহমানের মত প্রবীণ এবং হৃদ্য ব্যক্তিদের নিয়ে তিনি এই উপদেষ্টামণ্ডলী গঠন করেছিলেন। আওয়ামী লীগের ২০০৯ সালের সরকারে উপদেষ্টামণ্ডলী অত্যন্ত ক্ষমতাবান ছিলেন। প্রথম দিকে তারা মন্ত্রিসভার বৈঠকেও যোগ দিতে, বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা। এক সময় মন্ত্রিসভায় তাদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপর উপদেষ্টামণ্ডলীর মধ্য থেকে শুধুমাত্র এইচ টি ইমাম মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগদান করতেন।

কিন্তু ২০১৪ সালে এসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয় মেয়াদে শপথ নিয়ে শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনেন। তিনি আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতাদেরকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করেন। আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিমের মতো নেতারা মন্ত্রিসভায় এলে গুরুত্ব হারায় উপদেষ্টারা। তারপরও এইচ টি ইমাম, তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ড. গওহর রিজভীরা কিছু কিছু হলেও কর্মকাণ্ডের মধ্যে ব্যস্ত ছিলেন এবং তাদের কর্মকাণ্ড গুলো দৃশ্যমান ছিল। কিন্তু তৃতীয় মেয়াদে আসার পর উপদেষ্টামণ্ডলী আছে কি নেই এটি যেন এখন বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে এইচ টি ইমামের মৃত্যুর পর উপদেষ্টামণ্ডলীর কার্যক্রম চোখে পড়ে না। আগে তাও উপদেষ্টারা সরকারের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতেন, বিভিন্ন জায়গায় তাদেরকে প্রধান অতিথি করা হতো। এখন সেই রেওয়াজটাও উঠে গেছে। বিশেষ করে দেশে করোনা প্রকোপ শুরু হওয়ার পর ২০২০ সালের মার্চ থেকে উপদেষ্টামণ্ডলীর কার্যক্রম প্রায় নেই বললেই চলে। উপদেষ্টারা কি করছেন সে সম্পর্কে কোন তথ্যই কারো কাছে নেই।

এইচ টি ইমামের মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবেও কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। টানা তৃতীয় মেয়াদের মধ্যে দ্বিতীয় মেয়াদে তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে হিসেবে ইকবাল সোবহান চৌধুরী থাকলেও পরের মেয়াদে আর তথ্য উপদেষ্টা রাখা হয়নি। প্রথম মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হিসেবে সৈয়দ মোদাচ্ছের আলীকে রাখা হলেও পরে আর কোন স্বাস্থ্য উপদেষ্টাও করা হয়নি। এখন উপদেষ্টামণ্ডলীর চেয়ে আমলারাই বেশি ক্ষমতাবান। প্রধানমন্ত্রীর মূল উপদেষ্টা এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর সচিব এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেই সরকারের ঘনিষ্ঠ মনে করেন। আর আমাদের এই প্রভাব বৃদ্ধির কারণেই উপদেষ্টামণ্ডলী ভূমিকাহীন হয়ে পড়েছে বলেন কেউ কেউ মনে করেন। উপদেষ্টাদের গঠন প্রক্রিয়াটি যদি বিশ্লেষণ করা যায় তাহলে তা প্রাক্তন আমলাদের দিয়েই করা হয়েছিল। যেহেতু এখন বর্তমান আমাকে সবকিছু চালাচ্ছে, সেইজন্য প্রাক্তন আমলাদের গুরুত্ব কমে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অবশ্য সরকারের ভেতরে অনেকে বলছেন, যেহেতু করোনাকালে অনেকের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে সেজন্য উপদেষ্টারা একটু পিছনে পড়ে গেছেন। তবে উপদেষ্টামণ্ডলীর কার্যক্রম এখনো আছে। উপদেষ্টামণ্ডলী কার্যক্রম থাকার কথা যতই সরকারের পক্ষ থেকে বলা হোক না কেন বাস্তবে উপদেষ্টামণ্ডলীরা এক ধরনের নিখোঁজ জীবনযাপন করছেন, তাদের খবর খুব কম মানুষই জানেন।