ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বড় বাজেট, বড় আকারের বাস্তবায়ন ব্যর্থতা

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৪ জুন ২০১৮ সোমবার, ০১:০৩ পিএম
বড় বাজেট, বড় আকারের বাস্তবায়ন ব্যর্থতা

গত সাত বছরে বাজেটে আকার যেমন বড় হচ্ছে, তেমনি বড় আকারের তার বাস্তবায়ন ব্যর্থতাও দেখা যাচ্ছে। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে এই হার ছিল ৭৮ শতাংশ, যা তার আগের বছর ছিল ৮০ শতাংশ্ সর্বোচ্চ ৯৭ শতাংশ ছিল ২০১০-১১ অর্থ বছরে।

আগামী অর্থবছরে ৪ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা বাজেট দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়। এটিকে অনেকেই দেখছে অতিরঞ্জিত বাজেট হিসেবে। মূল বিষয় হলো, বাজেট বাস্তবায়নের হার ক্রমশই কমে আসছে। ২০১১-১২ অর্থবছরের যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, এর সংশোধিত বাজেটের ৯৩ শতাংশ বাস্তবায়ন করা গেছে। এরপর প্রতিবছর বাস্তবায়নের হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে। তাই আগামী অর্থবছরের জন্য যে বাজেট দেওয়া হচ্ছে, তা বাস্তবতা ও ব্যয়ের সক্ষমতার নিরিখে তা অবাস্তবায়নযোগ্য বলেই ভাবা হচ্ছে।

প্রতিবছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নেও একই চিত্র দেখা যায়। কোনো বছরই পুরো এডিপি বাস্তবায়িত হয়নি। সেখানেও প্রতিবছর এডিপি বাস্তবায়নের হার কমে যাচ্ছে। চিরন্তন যেটা দেখা যায়, সংশোধিত এডিপি মূল এডিপি থেকে কমে যায়। মূল এডিপির অনুপাতে ৭০-৮০ শতাংশের বেশি এডিপি বাস্তবায়িত হয় না। প্রতিবছরই দেখা যায়, প্রথম ৯ মাসে ৪০-৪৫ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়িত হয়। শেষের দিকের দুই মাসে বাকি ৩০-৩৫ শতাংশ টাকা খরচ হয়। এতে কাজের গুণগত মান থাকে না। বড় আকারের এডিপি হওয়ার কারণে অগ্রাধিকার বিবেচনা না করেই অনেক প্রকল্প নেওয়া হয়। এতে সব প্রকল্পেই বিক্ষিপ্তভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর ফলে সব প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল বাড়ে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে খরচের মাত্রা বাড়ে। এসব কারণে আমাদের দেশে কোনো প্রকল্পই শুরুতে যে মেয়াদকাল ধরা হয়েছিল, সেই সময়ে শেষ করা যায়নি। এতে চার, পাঁচ, ছয় বছর সময় বেশি লাগে। সে কারণে প্রকল্পের খরচ তিন-চার গুণ বেড়ে যায়।

রাজস্ব খাতের পরিস্থিতিও খুব ভালো নয়। মোট রাজস্বের ৮০ শতাংশের মতো আসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে। গত অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) সময়ে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ে ১৮-১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল। চলতি অর্থবছরে একই সময়ে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি কমে ১৪-১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এ বছরও রাজস্ব আদায়ে বড় মাত্রায় ঘাটতি হবে। তবে এটি উদ্বেগের বিষয় নয়। কেননা কাঙ্ক্ষিত হারে খরচও (এডিপি বাস্তবায়ন) করতে পারছি না।

এদিকে, প্রতিবারের মতো এবারও মোট বাজেটের চার ভাগের এক ভাগ টাকাই অর্থমন্ত্রীকে ধার করতে হবে। আসন্ন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, এর মধ্যে ধার করতে হবে তাঁকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকার মতো। আগামী বাজেটে ঘাটতি পূরণের জন্য বড় উৎস হিসেবে ভাবা হচ্ছে ব্যাংক ব্যবস্থাকে। আর কমিয়ে আনা হচ্ছে সঞ্চয়পত্র বিক্রি ও বিদেশি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা।

চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৮ হাজার ২০৩ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে এ লক্ষ্যমাত্রা ৫৯ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী বিদেশ থেকে অনুদান ও ঋণ মিলিয়ে মোট ৫১ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছিলেন। আগামী অর্থবছরে বিদেশি উৎস থেকে অনুদান গ্রহণের লক্ষ্য বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। আর বিদেশি ঋণের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ৪২ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে অর্থ সংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা আগামী বাজেটে কমানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে ৩০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। আগামী অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে ২৯ হাজার ২০০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ

বিষয়: বাজেট-২০১৮