ঢাকা, রোববার, ২০ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

অনিশ্চয়তায় চামড়া ব্যবসায়ীরা

অর্থনীতি ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০১৮ মঙ্গলবার, ০১:৫৪ পিএম
অনিশ্চয়তায় চামড়া ব্যবসায়ীরা

চলতি বছরের কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চামড়া ব্যবসায়ীরা আশার তুলনায় আশঙ্কার কথাই বলছেন বেশি। চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত লবনের সরবরাহ ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে অনিশ্চয়তা চলছিলো কয়েকমাস ধরেই। এবার এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে, চামড়ার দর-পতন ও পাচারের আশঙ্কা।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চামড়ার মোকামগুলোতে ইতিমধ্যেই ব্যাপক দরপতন শুরু হয়েছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার মোকাম যশোরের রাজারহাটে গত শনিবার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে চামড়া বেচাকেনা হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, চামড়া সংগ্রহ এবং লবণ ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার পেছনে ব্যয় হয় ৪০ টাকা। ছাগলের চামড়ার ক্ষেত্রে ব্যয় দাঁড়ায় ৩০ টাকা। কিন্তু গত শনিবারে গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা ও ছাগলের চামড়া ১৫ থেকে ২৫ টাকায়। ব্যাপক দরপতনের কারণে স্থানীয় অনেক ব্যবসায়ী চামড়া বিক্রি না করেই ফেরত নিয়ে যান। যশোর ছাড়াও দেশের আরও কয়েকটি চামড়ার মোকামেও দেখা গেছে একই চিত্র।

পুঁজির সঙ্কটের কারণেই চামড়ার দরপতন ঘটছে বলে মনে করছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা। ট্যানারি মালিকরা গত বছরের পাওনা পরিশোধ না করায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পুঁজির সংকটে রয়েছেন। তাদের কাছে নতুন করে চামড়া কেনার টাকা না থাকার কারণেই মূলত দরপতন শুরু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

কয়েকজন চামড়া ব্যবসায়ী ট্যানারি মালিকদের ওপর দায় চাপিয়ে বলেন, ট্যানারি মালিকরা খুচরা ব্যবসায়ীদের পাওনা পরিশোধ না করায় এবারও তারা নগদ অর্থের সংকটে পড়েছেন। চামড়া কেনার জন্য ট্যানারি মালিকরা সরকারের পক্ষ থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণ পেয়ে থাকেন। তবে সেই টাকা তারা চামড়া ক্রয়ে ব্যয় না করে অন্য খাতে বিনিয়োগ করেন। ফলে কোরবানির সময় এলে অর্থসঙ্কটে পড়েন তাঁরা।

চামড়ার ব্যাপক দরপতনের কারণে পাচারের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে দাম কম হওয়ায় কোরবানির পশুর চামড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে সরকার। চামড়া পাচার রোধে প্রশাসনকে নজরদারি বাড়ানোরও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি/জেডএ