ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘ট্যানারি মালিকদের বকেয়া চামড়ার বাজার ধসের প্রধান কারণ’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০১৮ রবিবার, ১০:০০ পিএম
‘ট্যানারি মালিকদের বকেয়া চামড়ার বাজার ধসের প্রধান কারণ’

‘চামড়ার বাজার ধসের কয়েকটি কারণের মধ্যে অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে ট্যানারি মালিকরা তিন চার বছর যাবত বকেয়া পরিশোধ করছে না। চামড়া ব্যবসার নিয়ম হলো প্রতি কোরবানির ঈদের সময় ট্যানারি মালিকরা আমাদের সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করে দিবে। ঈদের পর থেকে আবার নতুন করে তাঁদের সঙ্গে ব্যবসা শুরু হবে। এবছর মাত্র দুইটা ট্যানারি শতভাগ পাওনা পরিশোধ করেছে। ১০ টা ট্যনারির কেউ ২০% কেউ ৫০% টাকা দিয়েছে। বাকি ট্যানারিগুলো এবছর কোন টাকাই দেয় নাই।’

চামড়ার বাজার এমন ধসের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলা ইনসাইডারকে একথা বলেন চামড়া আড়তদারদের সংগঠন হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন।

কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে ধস নেমেছে এবছর। বিগত ৩০ বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হয়েছে কোরবানির পশুর চামড়া। কোরবানির পশুর চামড়া বেচাকেনায় সারা দেশে প্রায় একই পরিস্থিতি দেখা গেছে। লক্ষাধিক টাকার গরুর চামড়া এবছর হাজার টাকায়ও বিক্রি হয়নি। বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন এ বছর চামড়ার ধস নিয়ে তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

বর্তমান চামড়ার বাজার ধসের কারণ কি বলে মনে করছেন?

চামড়ার বাজার ধসের মধ্যে অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে ট্যানারি মালিকরা আমদেরকে তিন চার বছর যাবত বকেয়া পরিশোধ করছে না। আমাদের চামড়া ব্যবসার নিয়ম হলো প্রতি কোরবানির ঈদের সময় ট্যানারি মালিকরা আমাদের সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করে দিবে। ঈদের পর থেকে আবার নতুন করে তাদের সঙ্গে ব্যবসা শুরু হবে। এবছর মাত্র দুইটা ট্যানারি শতভাগ পাওনা করেছে। ১০টা ট্যনারির কেউ ২০% কেউ ৫০% টাকা দিয়েছে। বাকি ট্যানারিগুলো এবছর কোনো টাকাই দেয় নাই আমাদেরকে। আমরা পাইকারি কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ীরা অনেকেই পুঁজির অভাবে চামড়া কিনতে পারি নাই। যেহেতু পুঁজির অভাব তাই আমাদের মধ্যে এবছর চামড়া কেনার প্রতিযোগিতাও ছিল না প্রতিবছরের ন্যায়। কাঁচা চামড়ার পাইকারি ব্যবসায়ীদের যার কাছে যে পরিমাণ সীমিত টাকা ছিল তারা চামড়া কিনে ফেলার পর, তাদের আর চামড়া কেনার চাহিদা না থাকার কারণে চামড়ার দাম কমে যায়। এই সুযোগে আবার অনেক ট্যানারি মালিকরা নিজেরাই অনেক কম দামে সরাসরি চামড়া কিনে নিয়ে গেছেন।

ট্যানারি মালিকদের কাছে আপনাদের বকেয়া চাইলে তাদের বক্তব্য কি?

ট্যানারি মালিকরা আমাদেরকে টাকা না দেওয়ার কারণ বলছে, আমাদের কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের টাকা, ব্যাংকের টাকা এবং তাদের নিজস্ব পুঁজি সাভারে নতুন ট্যানারি স্থাপন করতে, ট্যানারির নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে তারা সব টাকা ব্যয় করে ফেলছে। তাই তাদের কাছে টাকা নেই, সেই কারণেই আমাদেরকে তারা বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে পারছেনা। যেটাই হোক মূল কথা হলো পুঁজির অভাবেই আজকে চামড়া শিল্পের এই অধপতন।

কোরবানির ঈদের আগে চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার কারণে কাঁচা চামড়ার ব্যবসার উপর কি কোনো প্রভাব পড়ছে?

পাঁচ-ছয় বছর আগে কখনো চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হত না। ওপেন মার্কেট থাকত। সবাই যে যার মত চামড়ার মান অনুযায়ী চামড়া কেনা বেচা করত। দেশি ট্যানারি মালিক বলেন আর বিদেশি ক্রেতা বলেন সবাই কিন্তু এক দামে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করে না। আবার সব পণ্যের মানও এক নয়। সরাসরি পশুর চামড়া ক্রয় করে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তারা একনজর দেখেই চামড়াটি কোনো কোয়ালিটি ও কত ফুট হবে তা বুঝতে পারে না। আমরা যারা দীর্ঘদিন এই চামড়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তারা কিন্তু একবার দেখেই বলে দিতে চামড়াটি কোন গ্রেডের এবং কত স্কয়ার ফুট হবে। আমরা সেভাবেই দাম নির্ধারণ করতে পারি কিন্তু মৌসুমী ব্যবসায়ীরাতো তেমন অভিজ্ঞ না। চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার কারণে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।     

চামড়া শিল্পের বর্তমান এই অধপতন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কিছু করণীয় আছে বলে, আপনি কি মনে করেন

চামড়া শিল্প অনেক বড় একটা সেক্টর। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গার্মেন্টস শিল্পের পরেই চামড়া শিল্পের অবস্থান। বাণিজ্য, শিল্প, এবং অর্থ মন্ত্রণালয় এই তিন মন্ত্রণালয় এই চামড়া শিল্পের সঙ্গে জড়িত। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো যদি চামড়া শিল্পের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করার চেষ্টা করে তাহলে ভালো হয়। এছাড়াও চামড়া শিল্পে সরকার ও ব্যাংকের যে বিনিয়োগ ট্যানারি মালিকরা তা সঠিকভাবে ব্যবহার করছে কি না তার তদারকি করা দরকার। ট্যানারি মালিকদের চামড়া শিল্পের উন্নয়নে কি কি প্রয়োজন সেগুলোও দেখতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই সম্ভাবনাময় এই শিল্পের বিকাশ হবে।

চামড়ার দামে ধস ও ব্যবসায়ীদের বাকি পরিশোধ না করার বিষয়ে কথা বলার জন্যে ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদের সঙ্গে গতকাল শনিবার একাধিকবার যোগাযোগ করলে তিনি আজ সকালে সময় দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু আজ রোববার সকাল থেকে তাঁর মোবাইলে একাধিকবার কল ও মেসেজ দিলেও তিনি কল ধরেননি এবং মেসেজেরও কোনো উত্তর প্রদান করেননি।


বাংলা ইনসাইডার/আরকে/জেডএ