ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

চামড়ার দাম কমলেও জুতার দাম কেন আকাশছোঁয়া?

অর্থনীতি ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট ২০১৮ সোমবার, ০১:৩১ পিএম
চামড়ার দাম কমলেও জুতার দাম কেন আকাশছোঁয়া?

সারাদেশে গত ৩০ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কম দামে কেনাবেচা হচ্ছে পশুর চামড়া। কিন্তু চামড়ার দাম কমলেও জুতা ও ব্যাগের মতো চামড়াজাত পণ্যের দাম এখনো রীতিমতো আকাশছোঁয়া। শুধু এবছরই নয়, গত পাঁচ বছর ধরেই ক্রমাগত চামড়ার দাম কমলেও, চামড়াজাত পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। ক্রেতারা ইতিমধ্যেই এ বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন।

এ বছর কোরবানির সময় প্রতি বর্গফুট কাচা চামড়ার মূল্য সরকারিভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৫ টাকা, ঢাকার বাইরে ৩৫টাকা। অবশ্য চামড়া কেনা-বেচা হয়েছে আরও কম দামে। সরকার নির্ধারিত দামেই একেকটি গরুর চামড়া হাতবদল হয়েছে তিনশো থেকে আটশো টাকার মধ্যে। অথচ চামড়া দিয়ে তৈরি একজোড়া জুতা কিনতে গেলে গুনতে হচ্ছে তিন থেকে আট হাজার টাকা। এক্ষেত্রে ক্রেতারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

কাঁচামালের সঙ্গে তৈরি পণ্যের দামের আকাশ-পাতাল পার্থক্যের কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। পশুর ক্রয়মূল্যের সঙ্গে চামড়ার দামের যেমন কোনো সামঞ্জস্য পাওয়া যাচ্ছে না, তেমনি চামড়ার সঙ্গে আবার জুতার দামেরও সঙ্গতি মিলছে না। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঠকছেন সাধারণ মানুষ।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘কাঁচামালের সঙ্গে তৈরি পণ্যের দামের পার্থক্য থাকবেই। চামড়ার মতো কাঁচামাল অনেক হাত ঘুরে ট্যানারি মালিকদের কাছে পৌঁছায়। ফলে ৩০০ টাকার চামড়াটাই হাজার টাকায় কিনতে হয় তাদের। এর সঙ্গে সেটির প্রসেসিং, কারখানা ও শ্রমিক খরচ যোগ হলে এর দাম আরও বেড়ে যায়। এরপর প্রসেসড চামড়াটা আরেকজন কিনে নিয়ে দেশী বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার মতো সেটা দিয়ে জুতা, স্যান্ডেল বা ব্যাগ তৈরি করে। ব্রান্ডগুলো আবার এসব পণ্য কিনে নিয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করে। আন্তর্জাতিকভাবেই মনে করা হয়, কয়েকগুণ বেশি দাম না ধরা হলে তারা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবেন না।

জুতা প্রস্তুতকারকরা জানান, শুধু কাঁচামাল নয়, অনেকগুলো বিষয় বিবেচনা করেই পণ্যের দাম নির্ধারিত হয়। কারখানার ভাড়া, বিদ্যুৎ, পানি, শ্রমিকদের বেতন ইত্যাদি বিষয়ের ওপরও পণ্য দাম নির্ভর করে। কাঁচামালের দাম কমলেও অন্যান্য খরচ বেড়েই চলেছে বলে জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিজ্ঞাপন, দোকানের খরচ, কর্মী ব্যয় তো রয়েছেই, এর সঙ্গে পণ্য অবিক্রীত থেকে গেলে সেটারও একটা খরচ ধরা হয়। এ কারণে চূড়ান্ত ভোক্তাকে কয়েকগুণ বেশি দামে পণ্য কিনতে হয়। তবে কাঁচামালের মূল্য কমলে এসব পণ্যের খুচরা বিক্রয় মূল্যও কমানো উচিৎ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

গবেষকরা বলছেন, কাঁচামালের সঙ্গে তৈরি পণ্যের মূল্য নির্ধারণে সবসময়ই পার্থক্য থাকবে। কিন্তু সেটা যৌক্তিক হচ্ছে কিনা, বাংলাদেশে সেরকম কোনো নজরদারি নেই। তাছাড়া বাংলাদেশের বাজারে কোনো পণ্যের দাম একবার বেড়ে গেলে, সেটার উৎপাদন ব্যয় কমলেও পণ্যটির দাম আর কমানো হয় না। ভোক্তারা বাধ্য হয়ে  উৎপাদকদের নির্ধারিত দামেই পণ্যটি কেনে। শুধুমাত্র চামড়াজাত পণ্যই নয়, সব পণ্যের ক্ষেত্রেই এমনটি ঘটছে। তবে ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং ভোক্তা অধিকার আইনের বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি/জেডএ