ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ঈদের পর জমে উঠেছে রাজধানীর কাঁচাবাজার

কাবিদুল ইসলাম
প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০১৮ শুক্রবার, ০৪:১৭ পিএম
ঈদের পর জমে উঠেছে রাজধানীর কাঁচাবাজার

ঈদুল আজহার রেশ কেটেছে অনেকটাই। আপনজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা মানুষগুলো পুনরায় ফিরে এসেছে ঢাকায়। সেইসঙ্গে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলো ফিরে পেয়েছে তাদের পুরানো রূপ। আজ শুক্রবার সকাল থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় ছিল কাঁচাপণ্যের বাজারগুলোতে। যদিও ঈদের পর গত কয়েকদিন রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে তেমন ক্রেতা সমাগম ছিল না, কিন্তু আজ সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় কাঁচাপণ্যের বাজারগুলো আবার জমে উঠেছে। ঈদ পরবর্তী চলতি সপ্তাহেই কিছু পণ্যের দাম কমেছে, বেড়েছে কিছু পণ্যের দাম, আবার কিছু পণ্যের দাম রয়েছে অপরিবর্তিত।

আজ শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউন হল কাঁচাবাজারে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের আগের তুলনায় কমেছে মুরগি ও ডিমের দাম। একই সঙ্গে আগের চেয়ে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে অধিকাংশ সবজি।

সাদা ব্রয়লার মুরগি ১৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যার ঈদ পূর্ববর্তী মূল্য ছিল ১৫০-১৬০ টাকা কেজিপ্রতি। লাল লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকা কেজিতে, যা ঈদের আগে ২৫০ টাকার ওপরে বিক্রি হয়েছিলো।

দেশি মুরগি কেজি প্রতি বিক্রি হয়েছিলো ৪৫০ টাকা, যা ঈদ পরবর্তী সময়েও অপরিবর্তিত আছে।

এদিকে, ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৯০-৯৫ টাকা ডজন, যা ঈদের আগে ১০০ টাকার বেশি ছিল।

বাজারে গরুর মাংসের দোকানে ক্রেতা সমাগম কম। কোরবানী ঈদের সপ্তাহখানেক পরে বাজারটা এমন থাকবে এটাই স্বাভাবিক। ঈদের আগে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ টাকায়।


এসব দোকানে সিটি কর্পোরেশন থেকে নির্ধারিত কেজি প্রতি ৪৮০ টাকার কমেও দরদাম করে ক্রেতারা গরুর মাংস কিনছেন।

বাজারে অপরিবর্তিত আছে খাসির মাংসের দাম। ঈদের আগে ও পরে খাসির মাংস কেজি প্রতি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও খাসির মাংসের ক্রেতা নেই বললেই চলে। বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও অনুষ্ঠানের অর্ডার থাকার কারণে খাসি জবাই দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন খাসির মাংস বিক্রেতারা।

ঈদের পরে মাছ বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই। অন্যান্য মাছের তুলনায় বাজারে ইলিশের সমাগম প্রচুর। প্রতিপিস ইলিশ ৬০০-১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিকেজি রুই মাছ ২৫০-৩০০, চিংড়ি ৫৫০-১১০০, পাবদা ৫৫০-৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদ পূর্ববর্তী সময়ে এসব মাছের দাম একই ছিল।

মাছের দাম প্রসঙ্গে মাছ বিক্রেতারা জানান, পাইকারি বাজারে মাছের দাম না কমায় খুচরা বাজারে বেশি দামেই ক্রেতাদের মাছ কিনতে হচ্ছে। 

ক্রেতার মোটেও চাপ নেই চাল ও মসলার পাইকারি বাজারে। পাইকারি চালের বাজারে দেখা যায়, বিক্রেতারা অলস সময় কাটাচ্ছেন। ঈদের পর চালের দাম অপরিবর্তিত আছে বলে জানান চাল বিক্রেতারা।

এদিকে, একই চিত্র দেখা যায় মসলার বাজারে। ঈদের পর মসলার বাজার একেবারেই ফাঁকা।

একটানা মাংস খেতে খেতে হাঁপিয়ে উঠেছেন অনেকেই, তাই তারা ছুটছেন সবজির বাজারে। এ ধরনের ক্রেতাদের বাজারে নতুন আসা সবজির প্রতিই চাহিদা বেশি। অধিকাংশ সবজি ৩০-৪০ টাকা কেজির মধ্যে বিক্রি হলেও বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে শীতের আগাম সবজি। শিম, টমেটো, গাজর, ফুলকপি ও পাতাকপি চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। এদিকে, কাঁচামরিচসহ উস্তা, বরবটি, কাকরল, করলা, পটল, ঝিঙা, ধুন্দল, ঢেঁড়স, লাউ-এর দাম কমেছে।

বেড়েছে আলু ও আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম। ৩-৫ টাকা বেড়ে ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি গোল আলু। এছাড়া আমদানিকৃত ভারতীয় পেঁয়াজ ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকায়।

সবজির মূল্য বৃদ্ধির ব্যাপারে সবজি বিক্রেতা রহমত মিয়া জানান, ঈদের পর মাছ ও সবজিতে ক্রেতা শূন্য ছিল। কিন্তু ছুটির দিনে চাহিদা বাড়ায় এগুলার দাম একটু বেড়েছে।

তবে বাজার করতে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা আবু জাফর উদ্দিন দাবি করেন, দোকানদাররা ইচ্ছে খুশি মতই পণ্যের দাম বাড়ান। চাহিদা কম বা বাড়ার সঙ্গে পণ্যের দামেরসম্পর্ক নেই। বরং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে সারাবছর পণ্যের দামের এমন হের ফের থাকে। এ ব্যাপারে সরকারের বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।

বাংলা ইনসাইডার/বিকে