ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৪ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

তাঁতশিল্পে লক্ষমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না কেন?

অর্থনীতি ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শনিবার, ০২:০৯ পিএম
তাঁতশিল্পে লক্ষমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না কেন?

সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে বিশেষত খুলনা অঞ্চল বরাবরই তাঁতশিল্পের জন্য প্রসিদ্ধ। কিন্তু বেশকিছু সময় ধরেই উৎপাদন বা বিপণনে আশানরূপ লক্ষ্য অর্জন করতে পারছে না এই অঞ্চলের তাঁতশিল্প। কারণ এ অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি পাটকলে মোট ৫ হাজার ১০৯টি তাঁত থাকার পরেও এর অর্ধেক তাঁত দিয়ে চলছে উৎপাদন কার্যক্রম চলছে।

ফলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী পাটজাত পণ্য উৎপাদন হচ্ছে না। আর মোট উৎপাদিত পণ্যের অনেকটাই অবিক্রীত থাকছে। বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতায় থাকা তাঁতের অর্ধেকই অকেজো রয়েছে। বিজেএমসির পক্ষ থেকে দৈনিক ৩ হাজার ৬৪৮টি তাঁত চালু রাখার বাজেট থাকলেও চলছে ২ হাজার ৬০৭টি।

পাটকলগুলোয় দৈনিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২৭২ টন পাটজাত পণ্য থাকলেও উৎপাদন হচ্ছে ১৯০ টন। তাঁত সংকটের পাশাপাশি লক্ষ্যমাত্রার পরিমাণ পাট কিনতে না পারায় এমনটা হচ্ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পাট ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৮ লাখ ৩৫ হাজার ২৫২ কুইন্টাল থাকলেও ৩০ জুন পর্যন্ত কেনা হয় ৫ লাখ ২৩ হাজার ২৬৭ কুইন্টাল। আর চলতি অর্থবছরে (২০১৮-১৯) পাট ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ লাখ ৪৭ হাজার ৬৯০ কুইন্টাল। আর বর্তমানে মিলগুলোতে পাট রয়েছে ২ হাজার ১৪৭ কুইন্টাল।

উৎপাদিত প্রায় ৩৫ হাজার টন পাটজাত পণ্য অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে থাকা পণ্যগুলোর বিক্রয়মূল্য সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা। বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাওয়া ও নতুন বাজার তৈরি করতে না পারার কারণেই এমনটা হচ্ছে। নয়টি পাটকলে স্যাকিং (মোটা বস্তা), হেসিয়ান (পাতলা চট), সিবিসি (কার্পেট বেকিং ক্লথ) ও ইয়ার্ন (সুতা)— এ চার ধরনের পণ্য উৎপাদন হয়। উৎপাদিত পণ্য সিরিয়া, ইরাক, ইরান, সুদান, মিসরসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়।

পাটপণ্য অবিক্রীত থাকায় মিলগুলো আর্থিক সংকটে পড়েছে। এতে মিল কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। নয়টি পাটকলগুলোতে পাঁচ-ছয় সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে, যার মোট পরিমাণ প্রায় ৩০ কোটি টাকা। শ্রমিক নেতারা বকেয়া বেতন ও মজুরি পরিশোধ এবং মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলনেরও সংকেত দিয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, এর আগে পাট রপ্তানির লক্ষ্যে ভারত, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ পাঁচটি দেশে বিজেএমসির নিজস্ব অফিস আগে থাকলেও এখন নেই। তাদের মতে, নতুন বাজার তৈরি করলে বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন হবে।


বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ