ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

রসুনের দরপতন

অর্থনীতি ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সোমবার, ০৬:৩০ পিএম
রসুনের দরপতন

বাড়তি আমদানি ও সরবরাহের কারণে দেশের পাইকারি বাজারগুলোতে রসুনের ব্যাপক দরপতন ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আমদানি করা রসুনের দাম ৩০ টাকার নিচে নেমে এসেছে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন রসুন আমদানিকারকরা।

দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ। এই বাজারের আড়তগুলোয় আমদানি করা প্রতি কেজি রসুন মানভেদে ২৫-২৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোরবানি ঈদের আগেও মানভেদে রসুণের দাম ছিল কেজি প্রতি ৪০-৫০ টাকা। সেই হিসাবে ২০ দিনেরও কম সময়ের ব্যবধানে স্থানীয় বাজারে আমদানি করা প্রতি কেজি রসুনের দাম সর্বোচ্চ ২৪ টাকা কমেছে।

রসুনের দরপতনের কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা পণ্যটির বাড়তি আমদানিকেই দায়ী করছেন। কোরবানি ঈদে বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখে অতিরিক্ত রসুন আমদানি করেছিলেন দেশীয় আমদানিকারকরা। তবে ঈদের সময় পণ্যটির চাহিদা প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়েনি। বাড়তি মজুদের কারণে ঈদের পরপরই রসুনের দাম কমতে শুরু করে।

ঈদের পর রসুনের বিক্রি বাড়বে বলে আশা করা হলেও বাস্তবে এর উল্টোটাই ঘটেছে। খাতুনগঞ্জের রসুনের আড়তদাররা জানান, গত ২০ দিনে পণ্যটির ক্রেতা নেই বললেই চলে। ফলে রসুনের বড় দরপতন ঘটেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে পণ্যটির দাম আরও কমবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

ক্ষতির আশঙ্কা থেকে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা মজুদ করা রসুন বাজারে ছাড়তে শুরু করায় পণ্যটির দাম পেঁয়াজের দামের সমপর্যায়ে চলে এসেছে। চলতি সপ্তাহে ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ ২৫-২৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি রসুনও প্রায় একই দামে বিক্রি হচ্ছে আড়তগুলোতে। 

রসুনের দরপতনে বড় ধরণের লোকসানের মুখে পড়েছেন এর আমদানিকারকরা। অনেকেই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পণ্যটি আমদানি করেছিলেন। আগামী দিনগুলোয় রসুনের দাম না বাড়লে লোকসানে থাকা পাইকার ও আমদানিকারকরা ব্যবসা গোটাতে বাধ্য হবেন বলে জানিয়েছেন তারা।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে চীন থেকে ২৯ হাজার ৩৫৯ টন রসুন আমদানি করা হয়েছিলো। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আমদানির পরিমান বেড়ে ৫৬ হাজার ৪৭১ টনে পৌঁছায়। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে রসুনের দাম কমতির দিকে থাকায় পণ্যটির আমদানি বাড়লেও ব্যয় কমেছে। এ সুযোগে বিগত এক বছরে দেশীয় আমদানিকারকরা রসুন আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেড়ে গিয়ে পণ্যটির বড় ধরণের দর পতন ঘটেছে।


বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি