ঢাকা, রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ইলিশে আশা, ইলিশে হতাশা

কাবিদুল ইসলাম রুদ্র
প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর ২০১৮ শুক্রবার, ১২:৫২ পিএম
ইলিশে আশা, ইলিশে হতাশা

ইকবাল হোসেন, পেশায় বেসরকারি চাকুরে। ব্যস্ততার কারণে সারা সপ্তাহের বাজার ছুটির দিন শুক্রবারেই সেরে ফেলেন। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই একহাতে ছেলে মুনিরের হাত ও অন্যহাতে বাজারের ব্যাগ নিয়ে ছুটলেন মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের উদ্দেশ্যে। প্রথমেই ঢুকলেন মাছের বাজারে। কেননা ছেলেটা মাছের মধ্যে শুধু ইলিশই খায়, আবার তার স্ত্রীরও ইলিশ খুব প্রিয়। গতমাসের মাঝামাঝি বেশ সস্তা দরেই কিনেছিলেন একহালি ইলিশ। এর মধ্যে অবশিষ্ট আছে মাত্র একটা। কিছু ইলিশ কিনে ফিজে রেখে দেওয়ার ইচ্ছা তাঁর। এদিকে, ‘ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০১৮’ এর আওতায় ৭-২৮ অক্টোবর ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞার আগে এটাই শেষ শুক্রবার হওয়ায় আজই ইলিশ তাঁকে কিনতেই হবে।  

বাজারে ঢুকেই খুশিতে চোখ চকচক করে উঠল ইকবাল হোসেনের। কেননা অধিকাংশ মাছ বিক্রেতাই আজ ইলিশ নিয়ে বসেছেন। সবারই সামনের ঝুড়িতে মাঝারি ও বড় বড় সাইজের ইলিশ। বাজারে ইলিশ ক্রেতাও কম নয়। একএকজনের গাঁ ঘেঁষে দরদাম করছেন অন্যজন। কিন্তু প্রত্যেকের চোখে মুখেই যেন বিরক্তির ছাপ। এগিয়ে গেলেন তিনিও। মাঝারি সাইজের ইলিশের দাম জিজ্ঞাসা করলেন এক ইলিশ বিক্রেতার কাছে। দাম হাঁকাল ১৯০০ টাকা। শুনেই চমকে গেলেন তিনি। কেননা গত মাসেই এমন সাইজের ইলিশ তিনি ৯০০ টাকায়। এবার প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায়, আর ইলিশ বিক্রি ও ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়কাল ঘনিয়ে আসায় ভেবেছিলেন ইলিশ সস্তাতেই পাবেন। কিন্তু এ কি? সস্তা তো নয়ই বরং কয়েকদিনের আগের দামের চেয়েও বেশি দাম হাঁকাচ্ছেন তারা। ইকবাল হোসেনের মতো আশাহত হয়েছেন বাজারে আসা অন্যান্য ইলিশ ক্রেতারা।

হঠাৎ করেই ইলিশের দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতারা জানান, এই কয়দিনে ইলিশের চাহিদা খুব বেড়েছে। সেই অনুযায়ী চালান কমে গেছে। এজন্য আড়ত থেকেই তাদের প্রতি হালি মাছ ৩০০-৪০০ টাকা বেশি করে কিনতে হচ্ছে। এরই প্রভাব পড়েছে ইলিশের খুচরা বাজারে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের কাঁচাবাজারে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, গরুর মাংসের দোকানে ক্রেতা গতসপ্তাহের চেয়ে একটু বেশি। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৪৮০-৫০০ টাকায়। অপরিবর্তিত আছে খাসির মাংসের দাম। গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহেও খাসির মাংস কেজি প্রতি ৭৫০ টাকা।

বয়লার মুরগির দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। সাদা বয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১২০-১৩০ টাকা দরে। লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৮০-২১০ টাকায়, আর দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৩৫০-৪১০ টাকায়।

আসন্ন শীত উপলক্ষ্যে ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে হাঁস বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। প্রতি কেজি হাঁস ৩৫০-৩৭০ টাকায় বিক্রি করছেন তারা।

দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকা কেজি। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা কেজি প্রতি।

এদিকে, বাজারের অন্যান্য মাছের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতিকেজি রুই মাছ ৩০০-৩৫০, কাতলা ২৫০-৩০০, চিংড়ি ৫৫০-১১০০, পাবদা ৫৫০-৬০০, কৈ মাছ দেশি ২৫০ টাকা ও পাঙ্গাস মাছ ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার দর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কৃষি মার্কেটে কাঁচাবাজারের ক্রেতা সুরাইয়া পারভীন বলেন, সবধরনের শীতকালীন সবজির দাম একটু বাড়তি। দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে তারা মুখস্ত করা কথা বলে, চালান সংকট। এসব ভুয়া কথা। সব সংকটই এদের নিজেদের তৈরি।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ