ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

২০২০: প্রবৃদ্ধির রেকর্ডের পর আসছে মন্দা?

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ জানুয়ারি ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৪:৩৯ পিএম
২০২০: প্রবৃদ্ধির রেকর্ডের পর আসছে মন্দা?

অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে পড়ে গেছে এশিয়ার দুই পরাশক্তি চীন এবং ভারত। দুই দেশের অর্থনীতিই এখন নিম্নমুখী। বিশ্ব অর্থনীতিও মহামন্দার আশঙ্কায় ঠক ঠক করে কাঁপছে। বাংলাদেশও এর বাইরে থাকছে না। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ছাড়া অর্থনীতির সব সূচকই এখন নেতিবাচক ধারায় নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, যেসব সূচক ঊর্ধ্বমুখী হলে অর্থনীতির গতি সঞ্চার হয়, সেই সূচকগুলো এখন নিম্নমুখী। আর যেসব সূচক নিম্নমুখী হলে অর্থনীতির ভিত শক্ত হয়, সেগুলো এখন ঊর্ধ্বমুখী। গত ১০ বছরে দেশের অর্থনীতি তরতর করে এগিয়ে প্রবৃদ্ধির নতুন রেকর্ড গড়েছে। এ বছর এর উল্টো পিঠ দেখার শঙ্কার কথা জানাচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিশ্ব অর্থনীতির মন্দার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য। দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের দেশে বাণিজ্য ঘাটতি থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও বেড়ে যাচ্ছে। এত দিন আমদানি বাড়ার একটা প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। তবে এখন সেটাও কমেছে। শিল্প খাতের প্রধান উপকরণ মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানিও কমে গেছে। রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও একই চিত্র।

গত বছরের অক্টোবরে ৩০৭ কোটি ৩২ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ, যা ২০১৮ সালের অক্টোবরের চেয়ে ১৭ দশমিক ১৯ শতাংশ কম। গত অক্টোবর মাসের ১ থেকে ২৮ অক্টোবর সময়ে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ২২ শতাংশ। অথচ ২০১৮ সালের এ সময়ে ৩৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।

গত বছর জুলাই মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৯৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আগস্ট শেষে এটি বেড়ে দাঁড়ায় ১৯৯ কোটি ডলার। আর সেপ্টেম্বর শেষে এটি দাঁড়িয়েছে ৩৭১ কোটি ৭০ লাখ ডলারে। বৈদেশিক বাণিজ্যে স্থবিরতার কারণে কমে গেছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও। ২০১৯ এর ৩০ সেপ্টেম্বরের তুলনায় আগের বছরের একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমেছে ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ।  ২০১৭ সালের গত ২২ জুন অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে বাংলাদেশের রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। এরপর প্রতিবারই আকু’র বিল শোধের পর রিজার্ভ নেমে আসে। ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়নি। কিন্তু গত ১৪ নভেম্বর রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। কমে গেছে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি। শুধু তাই নয়, কমে গেছে রাজস্ব আদায়ও। মূল্যস্ফীতি এখন উর্ধ্বমুখী। ব্যাংকের খেলাপি ঋণও বাড়ছে ভয়ঙ্করভাবে। পতন হতে হতে একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে দেশের পুঁজিবাজার। এ অবস্থায় একটি মন্দা আসন্ন বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

তবে আশার কথা হলো, সারা বিশ্বেই যখন অর্থনৈতিক মন্দাভাব বিরাজ করছে, তখন বাংলাদেশের অবস্থা অপেক্ষাকৃত ভালো। ভারত ও চীনের চেয়ে অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। ২০০৮ সালে যখন বিশ্বমন্দা এসেছিল তখনও ভালো অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। আর এবার মহামন্দার শঙ্কা যখন প্রবল, তখন আগাম প্রস্তুতি নিয়ে যথাযথ উদ্যোগের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি