ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বাজেটে রাজস্ব আয় বাড়ানোর একটি প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২০ বুধবার, ০৯:৫৯ এএম
বাজেটে রাজস্ব আয় বাড়ানোর একটি প্রস্তাব

এখন বাজেট অধিবেশন চলছে। যারা বিশেষজ্ঞ তারা নানাভাবে দেয় বাজেটের গতানুগতিক সমালোচনা করছেন। কিন্তু কেউ তেমন করে বলছেন না যে কীভাবে সরকারের রাজস্ব বাড়ানো যায়। যা দিয়ে চলবে মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য প্রণোদনা, উন্নয়ন কাজ, ইত্যাদি। এমতাবস্থায় একটা নতুন কথা চিন্তা করা যেতে পারে। যা দিয়ে শুধু সরকারের রাজস্ব বাড়বে তাই নয় দুর্নীতিতেও কিছুটা লাগাম টানা যাবে।

নাগরিকদের অ-প্রদর্শিত  আয় মানে কালো টাকা সাদা করার অন্যতম একটা খাত হচ্ছে জমি বা বাড়ি, ফ্লাট কেনা। এখানেই কিছু করা যায় কি না তা নিয়েই এই ভাবনা।

আমাদের দেশে বাড়ি আর ফ্লাট বাদে জমির প্রকৃতি হিসেবে যা দেখা যায় তাতে-
নাল- দুই বা তিন ফসলি আবাদি জমি কে নাল জমি বলে।
বাইদ- আবাদি বা আবাদযোগ্য নিচু জমি। ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে প্রচলিত।
ভিটি- বসতবাড়ির ভূমি বা বসতবাড়ি নির্মাণের মত উঁচু জমিকে ভিটি বলে।
সিকস্তি- নদী ভাঙ্গনে পানিতে জমি বিলীন হয়ে যাওয়াকে সিকস্তি বলে।
পয়স্তি - নদীতে নতুন চর জেগে উঠে যে জমির আবির্ভাব হয়ে তাকে পয়স্তি জমি বলে। এছাড়া আছে নালা, ডোবা, কৃষি, অকৃষি, পতিত, ইত্যাদি ধরণের জমি।  

সরকারীভাবে সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকায় সরকারী চাকুরে, কর্পোরেট হাউজ ও বিভিন্ন পেশাজীবীরা তাঁদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নগদ টাকার চেয়ে শিক্ষা আর নামে বেনামে স্থাবর সম্পত্তি বা জমি, ফ্লাট, বাড়ি কিনে থাকেন। এসব কেনাকাটায় কালো টাকা যেমন সাদা করা যায় ঠিক তেমনি জমির ক্ষত্রে মৌজা-ভেদে সরকার নির্ধারিত জমির রেজিস্ট্রি মূল্যের চেয়ে বাস্তবে দাম থাকে কয়েকশত গুণ বেশি। মনে করি ঢাকা শহরের কোন জমির সরকার নির্ধারিত দলিল মূল্য ৫ লাখ টাকা শতক কিন্তু বাস্তবে ঐ জমির মূল্য ৫০ লাখ টাকা শতক। এখানেই ৪৫ লাখ পুরো অবৈধ টাকা (অ-প্রদর্শিত  টাকা নয়) সাদা হয়ে যায়। পরে জমির ক্রেতা মারা গেলে উত্তরাধিকার সূত্রে সন্তানগন ঐ সম্পত্তির মালিক বনে যান ওয়ারিশ সূত্রে। অন্য আত্মীয় যাদের নামে তারা জমি কেনেন তারা সামান্য টাকা খরচ করে তিন ধাপ উপর নীচে (দাদা-দাদি বাবা-মা, নিজ ভাই বোন, নিজ ভাই বোন, ছেলে-মেয়ে, নাতি নাতনি, এমন) হলে হ্যাবা করেন। অথবা একটা পবিত্র কোরআন কিংবা তসবি দিয়ে হ্যাবা বিল এওয়াজ করে বাড়ি, ফ্লাট, জমি ফেরত নেয়। তাই তারা ঘুস খেয়ে বা অবৈধ আয় করে ১০/২০টা ফ্লাট, বাড়ি জমি কিনে রাখেন নিজ নামে বা বেনামে।    

এশিয়া ইউরোপের অনেক দেশ আছে যেখানে পিতা বা মাতার জমি, বাড়ি বা ফ্লাট উত্তারাধিকার সূত্রে নিজের নামে নিতে উচ্চ হারে ট্রান্সফার ফিস দিতে হয়, না হলে তা সরকার নিয়ে নিলামে তুলে বিক্রি করে দিয়ে রাজস্ব আদায় করে থাকেন। আমাদের দেশে এটা চালু করা যেতে পারে যে শহরে বা গ্রামে যাদের দুই বা ততোধিক বাড়ি থাকে তিন ধাপ উপর (নিজ ভাই বোন, বাবা-মা, দাদা-দাদি) না হয়ে মাত্র এক ধাপেই ৫/৭টা ফ্লাট বা বাড়ির মালিক হয়েছেন, অনেক জমির মালিক হয়েছেন তারা তাঁদের উত্তরাধিকারের নামে ঐ সম্পত্তি ট্রান্সফার করতে গেলে ৩০ বা ৪০ শতাংশ কর দিয়ে মালিক হবেন। শুরুতে সম্পত্তি ট্রান্সফার ফিস কম রাখতে হবে, পরে ধীরে ধীরে বছর বছর তা বাড়বে। এতে আগামী ১০/১৫ বছরে অবৈধ আয়ের মাধ্যমে স্থাবর সম্পত্তি করার প্রবণতা কমে যাবে। এদিকে সরকারী রাজস্ব আয় বেড়ে যাবে অনেক। বিদেশে টাকা পাচার বাড়বে, সেটা ঠেকাতে হবে অন্য কৌশলে।