ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সাইবার হামলা: ব্যাংকিং খাতের নতুন বিষফোঁড়া

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৭:৫৭ এএম
সাইবার হামলা: ব্যাংকিং খাতের নতুন বিষফোঁড়া

জালিয়াতি করে অর্থ স্থানান্তর ও এটিএম থেকে নগদ অর্থ সরানোর লক্ষ্যে ব্যাংক গুলোতে সাইবার হামলা চালাচ্ছে বলে সম্প্রতি সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। আর উত্তর কোরিয়ার এই গ্রুপটি বাংলাদেশেও সাইবার হামলার চেষ্টা করেছিল। তবে তা ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানায় সরকারের কম্পিউটার ইনসিডেন্ড রেসপন্স টিম-সার্ট। প্রযুক্তি নির্ভর ব্যাংকিং খাতে এই ধরণের ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগেও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে টাকা চুরি করে হ্যাকাররা। সেইসাথে গত বছর একই ধরণের ঘটনা ঘটে ডাচ বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথে। অবশ্য এখানে কোন সাধারণ গ্রাহকের অর্থ চুরি হয়নি বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

সাম্প্রতিক সময়ে এই সকল ঘটনা ব্যাংকিং খাতের অনিরাপত্তার বিষয়টি ইঙ্গিত করে। সেইসাথে আমাদের ব্যাংকিং খাত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে কিনা- সেই প্রশ্নটিও থেকে যায়। সাম্প্রতিক ঘটনায় দেশের তিনটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে হ্যাকার গ্রুপটির ম্যালওয়ারের অস্তিত্ব পাওয়া যায় বলে জানা যায়। হামলাকারীদের লক্ষ্য ছিল মূলত ব্যাংক। ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হ্যাকাররা ব্যাংকের অনলাইনে হানা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। এ কারণে আতঙ্কে ছিলেন ব্যাংকাররা।

এতে করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) জানানো হয়েছিল। তাদের তদারকিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে ব্যাংকগুলো যথোপযুক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল। সে কারণে কোনো ব্যাংকের টাকা চুরি বা খোয়া যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। এতে আত্মতুষ্টিতে না ভুগে ব্যাংকগুলোকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তিবিদরা।

এদিকে, এখনও স্বাভাবিক হয়নি এটিএম বুথের কার্যক্রম। দেশের ব্যাংকগুলো এখনও সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। অনেক ব্যাংক এটিএম ও অনলাইন ব্যাংকিং কার্যক্রম রাতে বন্ধ রেখেছে। বেশিরভাগ ব্যাংক কার্ডে ও অনলাইনে বিদেশে লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছে। গ্রাহকদের কাছে সেই বার্তাও পাঠানো হয়েছে। শনাক্ত হওয়া ম্যালওয়ার পর্যবেক্ষণে সার্টের বিশেষজ্ঞরা দেখেছেন, হ্যাকার গ্রুপটি পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস), এটিএম লেনদেন ও এটিএমে অর্থের স্থিতি অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছে। তাই দেরি না করে প্রযুক্তি নির্ভর এই ব্যাংকিং ব্যবস্থা যাতে নিরাপদ হয়, জনগণের অর্থ যাতে নিরাপদে থাকে- সেই বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।

অবশ্য দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চুরি যাওয়া অর্থ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আর উদ্ধার হবে কিনা- তাও বোঝা যাচ্ছে না। তাই চুরি যাওয়ার আগেই এই ধরণের ঘটনায় সতর্ক হওয়া উচিত। সেইসাথে নিয়মিত প্রযুক্তি নির্ভর এই ব্যাংকিং খাতের নিরাপত্তা যাচাই করা উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তা না হলে ঋণ খেলাপির আগ্রাসনে ফোকলা হয়ে যাওয়া এই ব্যাংকিং খাতে নতুন বিষফোঁড়া হয়ে উঠবে সাইবার হামলা। তাই জনগণের আমানতের এই অর্থের নিরাপত্তার জন্য এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আর সকলের সুন্দর ও সমন্বিত প্রয়াসেই এই কাজ করা সম্ভব। অবশ্য এই উদ্যোগটা বাংলাদেশ ব্যাংকেই নিতে হবে। আর তবেই সম্ভব হবে নিরাপদ ব্যাংকিং কার্যক্রম।