ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

পেঁয়াজ রপ্তানির অনুরোধ জানিয়ে ভারতকে চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ বুধবার, ০৮:৪৪ পিএম
পেঁয়াজ রপ্তানির অনুরোধ জানিয়ে ভারতকে চিঠি

প্রতিবেশী দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে বিবেচনায় নিয়ে পেঁয়াজ রপ্তানি শুরু করতে নয়াদিল্লিকে অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। আজ বুধবার ভারতকে দেওয়া এক চিঠিতে বাংলাদেশ এমন অনুরোধ জানিয়েছে বলে জানা যায়। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের কাছে এ বিষয়ে একটি কূটনৈতিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, পেঁয়াজ রপ্তানির নীতিমালায় ভারত হঠাৎ করে পরিবর্তন আনার ঘোষণা বাংলাদেশকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। কারণ এতে করে বাংলাদেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে সরাসরি প্রভাব পড়েছে।

চলতি বছরের ১৫ ও ১৬ জানুয়ারি দুই দেশের বাণিজ্য সচিবদের বৈঠকে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী রপ্তানি বন্ধ না করার জন্য ভারতকে অনুরোধ জানানো হয়ে ছিল। তখন অনুরোধ করা হয়েছিল যে, যদি কোনো কারণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতেই হয়, তবে তা যেন বাংলাদেশকে আগেভাগে জানানো হয়। তাছাড়া, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছরের অক্টোবরে ভারতে রাষ্ট্রীয় সফরে প্রসঙ্গটি তুলেছিলেন। তখনো বাংলাদেশ অনুরোধ জানিয়েছিল, এমন কিছু ঘটলে যাতে আগাম জানানো হয়।

কিন্তু এতো কিছুর পরও অনেকটা হুট করেই পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয় ভারত। আর এতে করে পেঁয়াজ নিয়ে দেশে গত সেপ্টেম্বরের মতোই একটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অবশ্য বাণিজ্য মন্ত্রী পেঁয়াজ নিয়ে আতংকিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেঁয়াজের মজুত আছে বলেও জানান তিনি। ইতোমধ্যে তিনটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়। 

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আমাদের দেশে আগামী মৌসুম পর্যন্ত ১০ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। তার মধ্যে আমাদের প্রায় ৬ লাখ টন পেঁয়াজ আছে। ঘাটতি ৪ লাখ টন। মন্ত্রী আরও বলেন, ভারত হঠাৎ পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় একটু সমস্যা হয়েছে। অন্য মার্কেট থেকে পেঁয়াজ আনার চেষ্টা করছি। আমরা আগামী ৩০ দিন সময় পেলে অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আনব। তখন আর তেমন সমস্যা হবে না।

তবে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পেঁয়াজ নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হলেও ভারতের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানির বিষয়ে ভারত ইতিবাচক সাড়া দিবে কিনা- তা এই সময়ে বলা যাচ্ছে না। কারণ করোনা সংকটের পর থেকেই প্রতিবেশি এই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।