ঢাকা, রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিনিয়োগ ও মুনাফা সংগ্রহের প্রবণতায় পুঁজিবাজারে পতন

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ রবিবার, ০৩:০২ পিএম
বিনিয়োগ ও মুনাফা সংগ্রহের প্রবণতায় পুঁজিবাজারে পতন

দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের দুই কার্যদিবসেই পতন হয়েছে। বাকি তিন কার্যদিবস উত্থান হলেও সূচক, লেনদেন, বাজার মূলধন ও লেনদেনে অংশ নেয়া বেশির ভাগ কোম্পানি ও ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট দর সপ্তাহ শেষে কমেছে। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক কমেছে দশমিক ৪২ শতাংশ। প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে লেনদেন। এ ছাড়া ২ শতাংশ বাজার মূলধন কমেছে  এবং লেনদেনে থাকা ৩৮২টি শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে ২৮২টির দর কমেছে। খাতভিত্তিক রিটার্ন দরপতন হয়েছে ১৪ খাতের শেয়ারে।

বিপরীতে গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা সংগ্রহের প্রবণতা দেখা গেছে পাঁচ খাতে। ফলে বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন সপ্তাহ শেষে পতন হয়েছে বাজারে। 

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে লেনদেনের মোট ৫৩ শতাংশই হয়েছে আর্থিক, ওষুধ ও রসায়ন, প্রকৌশল, বস্ত্র ও ব্যাংক খাতে। গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইর মোট লেনদেন হয়েছে ১১ হাজার ১২২ কোটি ৩৯ লাখ ৪৫ হাজার ৮০৬ টাকা। এর মধ্যে আলোচ্য পাঁচ খাতে লেনদেন হয়েছে ৭ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা বা ৫২ দশমিক ৯০ শতাংশ। এদিকে লেনদেনের বিপরীতে সপ্তাহ শেষে রিটার্নের দিক থেকে আলোচ্য পাঁচ খাতের বেশির ভাগ শেয়ারদর কমেছে। ফলে খাতগুলোর শেয়ার লোকসানে রয়েছে। 

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে টানা উত্থানের ফলে বেশির ভাগ শেয়ারেই মুনাফায় ছিলেন বিনিয়োগকারীরা। তবে গত সপ্তাহে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিলের বিষয় নিয়ে যে সংশয় তৈরি হয় এতে দ্বিধায় পড়ে যান বিনিয়োগকারীরা। একই সঙ্গে তিন কোম্পানি বার্জার পেইন্টস, ওয়ালটন ও আইসিবির ১০ শতাংশ করে শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে বিএসইসি যে নির্দেশনা দেয় এতে বেড়ে যায় তিন কোম্পানির শেয়ার বিক্রির চাপ। ফলে বিনিয়োগকরীরা বাজার থেকে মুনাফা সংগ্রহ শুরু করেন। এতে করে শেয়ার বিক্রির চাপ বেড়ে যায় এবং বাজারে পতন হয়। 

বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিলের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি আস্থা তৈরি হয়েছিল। তহবিল গঠন করা হলে এর মাধ্যমে বাজারের স্থিতিশীলতায় কাজ করলে বিনিয়োগকারীরা বড় পতন থেকে রক্ষা পেতেন বা তাদের বিনিয়োগ সুরক্ষা নিশ্চিত থাকত। এ কারণে তাদের আস্থা বেড়ে যায় এবং বাজারে বিনিয়োগ বাড়তে শুরু করে। কিন্তু গত সপ্তাহে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যে ফান্ড রয়েছে সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট দেখা দেয়। এতে তারা মুনাফা সংগ্রহ করতে থাকেন, সেই সঙ্গে অনেকে বিনিয়োগ তুলে নেন। এতে পতনের সঙ্গে লেনদেনও কমে যায় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।