ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

লেখাপড়ায় ভালো, চাকরিতে নেই  

মোস্তাকিম ভুঞা
প্রকাশিত: ০৪ আগস্ট ২০২০ মঙ্গলবার, ০৯:১৪ এএম
লেখাপড়ায় ভালো, চাকরিতে নেই  

বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। কাজী নজরুলের এই উক্তি যেন সবার মুখেই শোনা যায়। কিন্তু মুখে বলা কথা কি সবসময় মন থেকে মানা যায়? কেউ হয়তো মানে আর কেউ মানে না। বাংলাদেশে শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীরা অদম্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বেশ কয়েক বৎসর ধরেই এসএস সি ফলাফলে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে। শিক্ষার সবচেয়ে কার্যকর বয়স হল ১৫ থেকে ২৪ বছর। সেখানেও মেয়েদের অবস্থান ছেলেদের তুলনায় ভালো। ইউএনডিপির প্রতিবেদন বলছে, এই বয়সীদের গড় শিক্ষার হার হচ্ছে ৭৫.৪ শতাংশ। এর মধ্যে মেয়েদের ৭৬.৬ শতাংশ এবং ছেলেদের ৭৪ শতাংশ। প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রেও এমনটা দেখা যায়। প্রাথমিকে মেয়েদের পরিসংখ্যান ৯৮.৮ শতাংশ আর ছেলেদের ৯৬.৬ শতাংশ। এমনটা দেখা উচ্চ শিক্ষায়ও। বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তেও মেয়েরা ঈর্ষণীয় ফলাফল করছে। সেইসাথে বিবিএ’র মতো বেশ কয়েকটি বিষয়ে মেয়েদের সংখ্যাও ছেলেদের চেয়ে বেশি।

কিন্তু শিক্ষা ক্ষেত্রে মেয়েদের যতটা দাপুটে অংশগ্রহণ। চাকরিতে কিংবা পেশাদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে যেন তা নেই। ক্লাশরুমে মেয়েদের অংশগ্রহণ চিত্রের সাথে কর্মক্ষেত্রের চিত্র যেন সম্পূর্ণ বিপরীত। এমনটা দেখা যায় বোর্ড ফলাফলের মেধা তালিকা থেকে শুরু করে নিয়োগ তালিকাতেও। পাশের চিত্রে মেয়েরা সংখ্যা গরিষ্ঠ হলেও সরকারি বেসরকারি নিয়োগ তালিকায় মেয়েদের নাম খুব একটা দেখা যায় না।

মানসিকতা

শিক্ষা ক্ষেত্রে মেয়েরা যতোটা এগিয়ে কর্মক্ষেত্রে যেন ঠিক ততোটাই পিছিয়ে। আর এমনটার পেছনে নেতিবাচক সামাজিক মানসিকতাকে দায়ী করা হয়ে থাকে। সমাজ বিজ্ঞানীরা মনে করেন, কর্মক্ষেত্রে নারীদের পিছিয়ে থাকার ক্ষেত্রে সমাজের নেতিবাচক মানসিকতা অনেকাংশে দায়ী। কারণ নারীর চাকরি করাটাকে আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় ভালো চোখে দেখা হয় না। নারী হয়ে কেউ চাকরি করবে এমনটা লোকজন পছন্দই করেন না। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়গুলোতে ধীরে ধীরে এই অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। এই উন্নতি সামগ্রিকভাবে না ঘটলেও অন্তত কিছুটা হলেও হচ্ছে।

বিয়ে

আমাদের দেশে নারীর চাকরি বা পেশার ক্ষেত্রে বিয়ে অনেক বড় একটা বিষয় হয়ে উঠে। কারণ বিয়ের আগে চাকরি করতে পারলেও বিয়ের পরে এই বিষয়ে অনেক জটিলটা তৈরি হয়। অবশ্য আর্থিক দিক চিন্তা করে এখন অনেকেই স্ত্রীর চাকরির ক্ষেত্রে বাঁধা হচ্ছে না। তবে এটা অনেকাংশে সমাজের নিন্মবিত্তদের মধ্যে প্রচলিত। উচ্চ শিক্ষিত নারীদের বড় অংশই কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারছে না। অবশ্য মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষিত নারীদের কেউ কেউ শিক্ষকতার মতো পেশায় যাচ্ছে। কিন্তু এর বাইরে খুব একটা দেখা যায় না। আবার এর বাইরের পেশাগুলোতে যারা আছে। তারাও নানা সংগ্রাম করে টিকে আছে বলে জানা যায়। কারণ অনেক সময় নানা গঞ্জনা শুনতে হয়। আর সামাজিক নানা শৃঙ্খল বা উড়ো কথা তো আছেই।

উপার্জন

আমাদের সমাজ বাস্তবতায় পুরুষকেই উপার্জনকারী হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। অর্থ উপার্জনের বিষয়টা পুরুষদের উপরেই থাকে। আর নারী কাজ কেবল ঘরের মধ্যে এমনটাই ভাবা হয়ে থাকে। বর্তমান সমাজ বাস্তবতায় এই রকম রীতিই প্রচলিত হয়ে উঠেছে। অবশ্য এটা যে হাজার বৎসরের বাঙালি সংস্কৃতি এমনটা বলা যাবে না। কারণ চর্যাপদে নারীদের কৃষি কাজসহ বিভিন্ন পেশায় যুক্ত থাকার বিষয়ে জানা যায়। তাই আমাদের সংস্কৃতিতে নারীরা বাইরে কাজ করত না, এমনটা বলা যায় না।