ক্লাব ইনসাইড

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ৭৬ ছাত্রীকে ছাত্রলীগের সাইকেল উপহার

প্রকাশ: ০৯:৪৫ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ৭৬ ছাত্রীকে ছাত্রলীগের সাইকেল উপহার

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ৭৬ জন শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল উপহার দিয়েছে ছাত্রলীগ। প্রধানমন্ত্রীর ৭৬তম জন্মদিনকে স্মরণীয় রাখতে এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টিএসসিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পাঁচটি ছাত্রী হল, ইডেন কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ এবং গভর্নমেন্ট কলেজ অফ অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স কলেজের ৭৬ মেধাবী ছাত্রীকে এ উপহার দেয়া হয়।

ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয়ের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. সিদ্দিকুর রহমান। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, শহীদ বুদ্ধিজীবীর সন্তান ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. নুজহাত চৌধুরী। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ইমরান জমাদ্দার এবং উপ-ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফারুক আহম্মেদ ও আনোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা ‘দুর্যোগ দুর্বিপাকে; সংকট সংশয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রথমে ছাত্রীদের মাঝে বাইসাইকেল উপহারের জন্য আবেদন ফর্ম বিতরণ করা হয়। দীর্ঘ যাচাই-বাছাইের পরে চূড়ান্তভাবে ৭৬ জন ছাত্রীর মাঝে ক্রমিক নম্বর সংবলিত টোকেন প্রদান করা হয়। ৭৬ জন ছাত্রীর সকলেই প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ‘জন্মদিনের শুভেচ্ছা চিঠি’ লিখেন। তাদের মধ্য থেকে সেরা ১০ জনকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা বই উপহার দেয়া হয়।

আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সামনে নির্বাচন, এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, ঐক্যবদ্ধ থাকলে আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে কেউ হারাতে পারবে না। 

আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গৌরবময় ইতিহাস যারা রুখে দিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ রুখে দাঁড়াবে। যারা এই ঐতিহ্যবাহী সংগঠনকে কলঙ্কিত করতে চায়, সে ঘরের শত্রু হোক কিংবা বাইরের- তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে।’

ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি এই উন্নয়ন অর্জন সহ্য করতে পারছে না। তারা নানা রকম বিভ্রান্ত তথ্য ছড়ানো শুরু করেছে। এ ব্যাপারে ছাত্র সমাজকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের উন্নয়ন ও অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং ছাত্রলীগের ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ন করতে সংগঠনের ভেতরে একটা ক্ষুদ্র শ্রেণি উঠেপড়ে নেমেছে। তাদের আসল উদ্দেশ্য কী আমরা খতিয়ে দেখব।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতার পর দেশের যত উন্নয়ন সবকিছু আওয়ামী লীগের হাত ধরেই হয়েছে। সামনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, এই নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে ছাত্রলীগকে মানুষের ঘরে ঘরে যেতে হবে। তিনি বলেন, একটা শ্রেণি ছাত্রলীগকেই ভয় পায়। কারণ তারা জানে ছাত্রলীগ হচ্ছে জননেত্রী শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড। ছাত্রলীগকে ক্ষতিগ্রস্ত করা গেলে স্বাধীনতা বিরোধীরা সুবিধা পাবে। কিন্তু ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে সজাগ থাকতে হবে। বিরোধী পক্ষকে সমালোচনার সুযোগ সৃষ্টি করতে কোন ইস্যু তুলে দেওয়া যাবে না।


মন্তব্য করুন


ক্লাব ইনসাইড

জাবিতে সহকারী প্রক্টরের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ

প্রকাশ: ১১:১০ এএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর মাহমুদুর রহমান জনির নামে একাধিক গণমাধ্যমে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এবং একাধিক নারী শিক্ষার্থীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগের রয়েছে।

সোমবার (২৮ নভেম্বর) সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুক ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক নিয়োগে ক্ষমতার প্রভাব খাটানো ও অনৈতিক পন্থা অবলম্বনের অভিযোগে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবী জানায় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখা।

সংগঠনটির সভাপতি আবু সাঈদ ও সাধারণ সম্পাদক কনোজ কান্তি রায় এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, 'প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা একজন শিক্ষকের নামে এইরকম অভিযোগকে আমলে না নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে শুধু নষ্ট করেই ফেলছে না, বরং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়েও হুমকি হয়ে উঠছে।'

যৌথ বিবৃতিতে আরো বলেন, 'শিক্ষকরা দেশগড়ার কারিগর। তাদের নিয়োগ পদ্ধতিতে এমন অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে পুরো প্রশাসনের চরিত্র নিয়েই বিশাল প্রশ্নের উত্থাপিত হয়। শিক্ষক নিয়োগে অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করা শিক্ষক ও প্রশাসনের মর্যাদাবোধ ও দায়িত্ববোধকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।'

নেতৃবৃন্দ এই অভিযোগের বিষয়ে নির্বিকার না থেকে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থাগ্রহণের দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, অনৈতিক পন্থা অবলম্বন, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও নিয়োগ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে এবং স্বাচ্ছে নিয়োগ প্রক্রিয়ার দাবিতে ছাত্র ও শিক্ষকদের মিলিত আওয়াজ তোলার দাবি জানান।

অনৈতিক সম্পর্ক  


মন্তব্য করুন


ক্লাব ইনসাইড

ইবিতে গ্লোবাল সিটিজেনশিপ এন্ড সিভিক এডুকেশন বিষয়ে কর্মশালা


Thumbnail

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) 'গ্লোবাল সিটিজেনশিপ এন্ড সিভিক এডুকেশন' শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৭ নভেম্বর) বেলা ১১ টায় রোভার স্কাউট গ্রুপের সদস্যদের অংশগ্রহণে টিএসসিসি'র ১১৬ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠিত এ ওয়ার্কশপের উদ্বোধন করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ভাইস চ্যান্সেলর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান। 

উদ্বোধনকালে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, সুনাগরিক হতে হলে সত্যিকারের মানুষ হতে হবে। স্কাউটস সদস্যদের প্রথম কাজ নাগরিকদের সেবা দান করা। নাগরিক সেবা দেয়ার জন্য স্কাউট সদস্যদের সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি বলেন, আমাদেরকে প্রতিনিয়ত একই ভুল করা চলবে না। ভুলগুলো শুধরে নিয়ে নিজেদেরকে সংশোধন করতে হবে এবং প্রত্যেককে নিজ নিজ-নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া বলেন, সচেতনতা, সুশৃংখলতা ও মানবিকতার আদর্শ ধারণ করে স্কাউট সদস্যদের সুনাগরিক হিসেবে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

রোভার স্কাউট গ্রুপের সম্পাদক প্রফেসর ড. রুহুল কে এম সালেহ'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রেজিস্টার (ভারপ্রাপ্ত) এইচ. এম. আলী হাসান স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়াও বিএনসিসি'র প্রধান সমন্বয়কারী কর্মকর্তা প্রক্টর প্রফেসর ড. মোহাঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বক্তব্য দেন। সঞ্চালনায় ছিলেন এস. এ. এইচ. ওয়ালিউল্লাহ। 

খুলনা বিভাগীয় রোভার সমন্বয়ক সাব্বির হোসেন জয় কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সিটিজেনশিপ  


মন্তব্য করুন


ক্লাব ইনসাইড

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধিতে ইবিতে র‌্যালি


Thumbnail

"পলিথিনকে না বলি/ আমার ক্যাম্পাস আমি পরিচ্ছন্ন রাখি"-স্লোগানকে সামনে রেখে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কর্মপরিকল্পনা (২০২২-২০২৩) বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে প্রশাসন ভবনের সামনে র‌্যালি শুরু হয়। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটক সংলগ্ন মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব মুর‌্যাল চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া ও রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এইচ. এম. আলী হাসানের উপস্থিতিতে র‌্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট গ্রুপের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ট্রেজারার প্রফেসর ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া ও বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের সম্পাদক প্রফেসর ড. রুহুল কে এম সালেহ বক্তব্য প্রদান করেন।

এসময় ট্রেজারার প্রফেসর ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে আমরা যদি প্রত্যেকে নিজ-নিজ দায়িত্ব পালন করি, যত্রতত্র না ফেলে আবর্জনা যদি ডাস্টবিনে ফেলি তাহলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে। তিনি সকলকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন আমরা নিজে পরিষ্কার থাকি এবং সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন দেশ গঠনে সহযোগিতা করি।

আলোচনা শেষে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকায় ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা  


মন্তব্য করুন


ক্লাব ইনসাইড

হলের ছাদ থেকে পড়ে ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রকাশ: ১২:০১ পিএম, ২৩ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ছাদ থেকে পড়ে লিমন কুমার রায় (২৩) নামে এক ছাত্র মারা গেছেন। তিনি শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

বুধবার (২৩ নভেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা লিমনকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর বাচ্চু মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।



মন্তব্য করুন


ক্লাব ইনসাইড

গৌরবের ৪৪ বছরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়


Thumbnail

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত প্রথম সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় এটি। ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ জেলার মধ্যবর্তী স্থান শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুরে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ৪টি বিভাগে ৮জন শিক্ষক ও ৩০০ শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হয় একাডেমিক কার্যক্রম। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) প্রতিষ্ঠার ৪৪ বছরে পদার্পণ করছে ১৭৫ একরের এই বিদ্যাপীঠ।  হাজারও প্রতিকূলতা পেরিয়ে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করে এগিয়ে চলেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। শিক্ষা-গবেষণায়, সংস্কৃতি-ক্রীড়াঙ্গনে উল্লেখযোগ্য অর্জন দীর্ঘ পথচলাকে গৌরবান্বিত করেছে।
 
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮টি অনুষদের অধীন রয়েছে ৩৬টি বিভাগ। রয়েছে ৪০৩ জন শিক্ষক ও ১৩হাজার ৪৬৮ জন শিক্ষার্থী এবং ৭৮৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২জন শিক্ষক ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কর্তৃক ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ বিষয়ে বিশেষ গবেষণা প্রকল্প অনুদানের জন্য মনোনীত হয়েছেন। তাঁরা ৬টি প্রজেক্টের আওতায় কাজ করবেন। এর আগে ২০২১ সালে অ্যালপার ডগার (এডি) সায়েন্টিফিক ইনডেক্সের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিশ্বসেরা গবেষকের তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ১৭ শিক্ষক স্থান পেয়েছিলেন। এখানে রয়েছে সুবিশাল স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরাল, চিকিৎসা কেন্দ্র, ব্যায়ামাগার ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। রয়েছে ক্যাম্পাস ভিত্তিক সর্ববৃহৎ মসজিদ ও দৃষ্টিনন্দন মফিজ লেক। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন খেলার জন্য রয়েছে সুবর্ণ সুযোগ। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, বঙ্গবন্ধু কর্নার এবং একুশে কর্নার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টি এ পর্যন্ত ৫৯৯ জনকে পিএইচ.ডি এবং ৭৫৮ জনকে এম.ফিল ডিগ্রি প্রদান করেছে। বর্তমানে ২৫০ জন পিএইচ.ডি এবং ৯৫ জন এম.ফিল গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এবং শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের যাত্রা শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত বিশ^বিদ্যালয়ে ৪টি সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম সমাবর্তন ২৭ এপ্রিল ১৯৯৩ সালে, দ্বিতীয় সমাবর্তন ৫ ডিসেম্বর ১৯৯৯ সালে, তৃতীয় সমাবর্তন ২৮ মার্চ ২০০২ সালে এবং সর্বশেষ ৪র্থ সমাবর্তন ৭ জানুয়ারি ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি ক্রীড়া ক্ষেত্রেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে ঈর্ষণীয় সাফল্য। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী  ভারোত্তোলন, ফুটবল, ভলিবল, ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্রী ইসরাত জাহান ইভা দুইবার দেশের দ্রুততম মানবী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ভলিবল প্রতিযোগিতায় এ বিশ্ববিদ্যালয় নয়বার, ফুটবল প্রতিযোগিতায় তিনবার ও অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় চারবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এছাড়াও ভলিবল প্রতিযোগিতায় তিনবার রানার্স আপ এবং ক্রিকেটে তিনবার দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপ-এর ৩য় আসরের হ্যান্ডবল ফাইনালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ৩১-২২ গোলে এবং বাস্কেটবল ইভেন্টে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে ৭৪-৬২ পয়েন্টে পরাজিত করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগটি বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে বড় ধরণের ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া হয়রানি-মুক্ত শিক্ষাক্ষেত্র ও কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে যৌন নিপীড়ন বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার অভিযানের অংশ হিসেবে হলে-হলে যৌন নিপীড়ন বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনাসভা, তথ্য অধিকার বিষয়ে ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে র‌্যালি, লিফলেট বিতরণ, মনের স্বাস্থ্য বিষয়ে কর্মশালা, র‌্যাগিং বিরোধী সভা, প্রশিক্ষণ কর্মশালা, আন্তর্জাতিক সেমিনার, বৃক্ষরোপন কর্মসূচি ইত্যাদি কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে নানা অর্জনের পাশাপাশি বেশকিছু সংকটও রয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। গবেষণা, চিকিৎসা ও আইটি খাতে অপর্যাপ্ত বাজেট, শ্রেণীকক্ষ সংকট, সেশনজট, আবাসন সমস্যা, পরিবহন সংকট, মানসম্মত খাবার ও সুপেয় পানির অভাব, গণরুম কালচার, সিটবাণিজ্য, নিয়োগবাণিজ্যসহ নানা সমস্যায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে আটটি আবাসিক হল রয়েছে। তবে তা শিক্ষার্থী তুলনায় যথেষ্ট না। ফলে প্রায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করতে হয়।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে মেগাপ্রকল্পের আওতায় উন্নয়ন কর্মকান্ড চলমান রয়েছে। ৫৩৭ কোটি ৭ লাখ টাকার মেগা প্রকল্পের আওতায় নয়টি দশ তলা ভবনের সবগুলোর নির্মাণকাজ চলেছে। নির্মাণাধীন ভবনগুলোর মধ্যে রয়েছে দুটি ছাত্র ও দুটি ছাত্রী হল, একটি একাডেমিক ভবন, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য একটি, কর্মচারীদের জন্য একটি, নির্মাণাধীন শেখ রাসেল হলের দ্বিতীয় ব্লক এবং নতুন প্রশাসন ভবন নির্মাণ। দশতলা বিশিষ্ট আবাসিক হলগুলো নির্মাণ শেষ হলে আবাসন সুবিধা নিশ্চিত হবে ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর। এছাড়া একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের সংকট দূর হবে এবং নতুন-নতুন বিভাগ খোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া প্রশাসন ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হলে অফিসসমূহ উন্নত হবে, শিক্ষার্থীদের সেবা প্রদানের মান বাড়বে এবং  স্থান সংকট অনেকটাই নিরসন হবে। এসব প্রকল্পের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টির মধ্যে ৫টি ভবনের উর্দ্ধমুখী সম্প্রসারণের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য বর্তমানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলে গাড়ি রয়েছে ৪৯টি। এর মধ্যে ৭টি এসি কোস্টার গাড়ি, ডাবল ডেকার বাস ১টি, বড়বাস ১৩টি, নন-এসি মিনিবাস ৫টি। বাকিগুলোর মধ্যে রয়েছে এ্যাম্বুলেন্স, পিক-আপসহ অন্যান্য ছোট গাড়ি। গত ১৮ সেপ্টেম্বর পরিবহন পুলে সর্বশেষ সংযোজিত নতুন ৩ টি বড় বাস ও ২ টি  হায়েচ এসি মাইক্রোবাসের শুভ উদ্বোধন করেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে  ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমাদের অনেক সংকট রয়েছে। এগুলো অস্বীকার করার উপায় নেই। ধীরে ধীরে আমরা এই সংকটগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন