কালার ইনসাইড

একজন হুমায়ুন ফরিদী ও তাঁর কিছু কালজয়ী উক্তি

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ২৯ মে, ২০২২


Thumbnail একজন হুমায়ুন ফরিদী ও তাঁর কিছু কালজয়ী উক্তি

কিংবদন্তী অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদী। নাটক, চলচ্চিত্র কিংবা মঞ্চ- সবখানেই ছিল তার অবাধ বিচরণ। ২০১২ সালে ফাগুনের রঙে বিষাদ ছড়িয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন তিনি। মারা যাওয়ার এতোদিন পরেও ভক্তদের মনে এখনো জীবিত আছেন তিনি। তার কথা এখনো নাড়া দেয় ভক্তদের মন। আজ ২৯ মে হুমায়ুন ফরীদির জন্মদিন। ভাষা আন্দোলনের বছর অর্থাৎ ১৯৫২ সালের এই দিনে ঢাকার নারিন্দায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বেঁচে থাকলে ৭০-এ পা দিতেন নন্দিত এই তারকা।


শুধু অভিনয় দিয়েই মানুষকে বিমোহিত করেছিলেন ডাকসাইটে এই অভিনেতা। তাকে বলা হয় অভিনেতাদের অভিনেতা, একজন আদর্শ শিল্পী। তার অভিব্যক্তি, অট্টহাসি, ব্যক্তিত্বের ভক্ত কে না ছিলেন! অনেকের কাছে তার ব্যক্তিজীবনের গল্পও বেশ অনুপ্রেরণার। তেমন তাঁর কয়েকটি  কালজয়ী কথা দেখে আসা যাক।

মৃত্যুকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হুমায়ুন ফরীদি বলেছিলেন, মৃত্যুর মতো এতো স্নিগ্ধ, এতো গভীর সুন্দর আর কিছু নেই। কারণ মৃত্যু অনীবার্য, তুমি যখন জন্মেছো তখন মরতেই হবে। মৃত্যুর বিষয়টি মাথায় থাকলে কেউ পাপ করবে না। যেটা অনীবার্য তাকে ভালোবাসাটা শ্রেয়।

প্রেম নিয়ে হুমায়ুন ফরীদির সীমাহীন মুগ্ধতা ছিল। তিনি বলেছিলেন, প্রেমে পড়ার মতো এত আনন্দনায়ক কিছু কি আছে পৃথিবীতে? আমি এখনো একটা মেয়েকে অসম্ভব ভালোবাসি। নাম বলা ঠিক হবে না, ওর ক্ষতি হবে।

হুমায়ুন ফরীদির কাছে প্রেমের সংজ্ঞাও ছিল চমৎকার। তার ভাষ্য ছিল, প্রেম হচ্ছে স্বর্গীয়। প্রেমের যে অনুভূতি, এটা পবিত্র এবং স্বর্গীয়। প্রেমের চেয়ে ভালো বিষয় মানব ইতিহাসে নেই। আমি শুধু মানুষে মানুষে প্রেমের কথা বলছি না। একটা মানুষ বৃক্ষের সঙ্গে প্রেম করতে পারে, একটা মানুষ তার বাসার জানালার পাশে যে গাছটি আছে, সে গাছে যে দোয়েল পাখিটি বসে, ওই পাখির প্রেমেও পড়তে পারে। সাধারণত আমরা প্রেম বলতে বুঝি, একটা ছেলে আর একটা মেয়ে। কিন্তু ব্যাপারটা আসলে এরকম না। যেমন আমাদের নবীর সঙ্গে আল্লাহ্‌র প্রেম, এটাকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করবে? এটাকে সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব না। এটাকে শুধু হৃদয় থেকে অনুভব করতে হবে। প্রেম হচ্ছে এরকম।

প্রেম বলতে সাধারণ ভাষায় যেটা বোঝানো হয়, সেই প্রেম হুমায়ুন ফরীদির জীবনে প্রথম এসেছিল কৈশোরে। এ বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তখন আমার বয়স ১৪-১৫ বছর। প্রেমে পড়লাম এক গার্লস স্কুলের ম্যাডামের। যার বয়স আমার চেয়ে ২০ বছর বেশি। ওটা আমার প্রথম পড়া। এরপর বহুবার প্রেমে পড়েছি। প্রেমে পড়ার মতো আনন্দ বোধহয় আর কিছুতে নেই। কিন্তু একটা কথা মাথায় রাখতে হবে, কাউকে আঘাত দিয়ে প্রেমে পড়ার মতো গর্হিত কাজ পৃথিবীতে নেই।

ভালোবাসা নিয়ে হুমায়ুন ফরীদির আরেকটি কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়ায়। তিনি বলেছিলেন, তুমি যখন কাউকে ভালোবাসবে, এক বুক সমুদ্র নিয়ে ভালোবাসতে হবে। তা নাহলে সে প্রেমের কোনো অর্থ নেই।


ফরীদির নাট্যাভিনয় থেকে চলচ্চিত্রে আসা ছিল অনেক নাটকীয়। দেশীয় চলচ্চিত্রের তখনকার বেহাল অবস্থা দেখে রূপালি পর্দার জন্য কাজ করবেন কিনা এ বিষয়ে দ্বিধায় ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সুবর্ণা মুস্তাফার অকুণ্ঠ সমর্থনে ও নিজের দৃঢ়তায় এক নতুন আঙ্গিক নিয়ে বড় পর্দায় আসেন ফরীদি। তানভীর মোকাম্মেলের ‘হুলিয়া’ তার অভিনীত প্রথম ছবি।

নব্বই দশকে বাণিজ্যিক ছবির পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকনের ‘সন্ত্রাস’, ‘দিনমজুর’, ‘বীরপুরুষ’ ও ‘লড়াকু’ ছবিতে নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপরেই দেশীয় চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্র পায় এক অন্যমাত্রা। অবস্থা এমনই দাঁড়িয়েছিল যে, একসময় মানুষ নায়কের পরিবর্তে তাকে দেখার জন্যই প্রেক্ষাগৃহে যেতো।

পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকন ‘বিশ্বপ্রেমিক’, ‘অপহরণ’, ‘দুঃসাহস’সহ ২৮টি ছবির মধ্যে ২৫টিতেই রাখেন ফরীদিকে। তার অভিনীত ছবির তালিকায় আরও আছে ‘দহন’, ‘একাত্তরের যীশু’, ‘দূরত্ব’, ‘ব্যাচেলর’, ‘জয়যাত্রা’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘অধিকার চাই’, ‘ত্যাগ’, ‘মায়ের মর্যাদা’, ‘মাতৃত্ব’ ও ‘আহা!’র মতো ছবিতে অভিনয় করে এ দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনেন তিনি।

২০০৪ সালে ‘মাতৃত্ব’ ছবির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। বেঁচে থাকতে একুশে পদক পাননি এই শক্তিমান অভিনেতা। তবে মরণোত্তর একুশে পদক পেয়েছেন তিনি।


হুমায়ুন ফরীদির ব্যক্তিজীবন খুব বেশি সুখের ছিল না। আশির দশকের শুরুর দিকে বিয়ে করেছিলেন মিনুকে। প্রথম সংসারে দেবযানী নামের এক মেয়েকে রেখে গেছেন তিনি। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফাকে ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন ফরীদি। ২০০৮ সালে সেই সম্পর্কেরও বিচ্ছেদ হয়। পরের সময়গুলো অনেকটা নিঃসঙ্গ কেটেছে এই শক্তিমান অভিনেতার।


হুমায়ুন ফরিদী   চলচ্চিত্র   অভিনেতা  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

প্রথম কাজেই বাজিমাত সিজুর, ফের প্রশংসিত কাবিলা

প্রকাশ: ০১:৪৪ পিএম, ০৯ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail প্রথম কাজেই বাজিমাত সিজুর, ফের প্রশংসিত কাবিলা

‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’খ্যাত অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশ। কিছু দিন আগে তাকে নিয়ে একটি ওভিসি নির্মাণ করেন তরুণ নির্মাতা সিজু খান। মিস্টার হিলার নামে এই টেলিমেডিসিন অ্যাপের ওভিসিতে পলাশের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেন অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান।

গত ৪ আগস্ট মুক্তি পায় এই ওভিসি। মুক্তির পর সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ সাড়া ফেলেছে এটি। একজন লিখেছেন, ‘বিজ্ঞাপনও বিনোদন বানাই ছাড়লো জাতির কাবিলা ভাই!’ আরেকজন লিখেছেন, ‘দারুণ বিজ্ঞাপন।’ কাউসার লিখেন, ‘ঝাক্কাস।’ সজীব হাসান লিখেছেন, ‘কাবিলা ভাই মানেই নতুন কিছু।’ এমন অসংখ্য মন্তব্য অন্তর্জালে ভেসে বেড়াচ্ছে।

ওভিসিটি দেখে প্রশংসা করেছেন গুণী নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তা জানিয়ে এ বিজ্ঞাপনের নির্মাতা সিজু খান বলেন, গত ৪ আগস্ট রাতে কাজটি দেখার পর বস (মোস্তফা সরয়ার ফারুকী) আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, সিজু, তোমাদের কাজটা তো সুন্দর হইসে! বসের কাছ থেকে শোনা এই একটা বাক্য আমার জন্য অ্যাওয়ার্ড অর্জনের চাইতে বড় প্রাপ্তি। থ্যাংক ইউ বস। আপনার কাছ থেকে শিখছি, এখনো অনেকটা পথ হাঁটা বাকি।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পাশাপাশি অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা, পরিচালক কাজল আরিফিন অমি, প্রযোজক জসিম আহমেদসহ আরো অনেকেই বিজ্ঞাপনটির প্রশংসা করেছেন।

বিজ্ঞাপনটির প্রযোজক-পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন ‘ছবিয়াল’-এর সহকারী পরিচালক সিজু খান। তার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছেন আকাশ হক। ওভিসিটির চিত্রগ্রাহক হিসেবে ছিলেন ‘টেলিভিশন’, ‘পিঁপড়াবিদ্যা’, ‘কমলা রকেট’খ্যাত গোলাম মাওলা নবীর।


কাবিলা   পলাশ   বিজ্ঞাপন  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

আগামীকাল শিল্পকলায় দেখা যাবে ‘বন মানুষ’

প্রকাশ: ০১:১০ পিএম, ০৮ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail আগামীকাল শিল্পকলায় দেখা যাবে ‘বন মানুষ’

শিল্পকলা একাডেমিতে পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় প্রাচ্যনাট মঞ্চস্থ করবে নাটক বনমানুষ-দ্য হেয়ারি এপ। ইউজিন ও নীলের রচনায় এটি নির্দেশনায় রয়েছেন বাকার বকুল। যা প্রাচ্যনাটের ২৭তম প্রযোজনা।

জাহাজের খোলের ভেতর দাঁড়িয়ে ইঞ্জিনের চুল্লিতে কয়লা ভরে কয়েকজন শ্রমিক। তাদেরই অন্যতম হচ্ছে ইয়াংক। দেখতে প্রায় বনমানুষের মতো। কালিকুলি মাখা অবস্থায় তাকে আরও বন্য মনে হয়। ডগলাস এ জাহাজের যাত্রী। সে জাহাজের খোলে নেমে ইয়াংককে দেখে ভয়ে চিৎকার দেয়। ইয়াংক যখন বুঝতে পারে যে তাকে উপলক্ষ করেই এই চিৎকার, তখন তীব্র একটা ঘৃণাবোধ জন্ম নেয় তার মধ্যে। ডগলাসকে কেন্দ্র করেই সারা দুনিয়ায় পুঁজিপতিদের ঘৃণা করতে থাকে সে। ভাঙতে চায় পুঁজিপতিদের প্রাসাদ। এমনই গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রযোজনাটি।

এর ধ্বনিতে থাকছেন রিফাত আহমেদ নোবেল, কোরিওগ্রাফিতে পারভিন সুলতানা কলি, মঞ্চ ও আলো এ. বি. এস জেম। প্রদর্শনীর দিন হল কাউন্টারে পাওয়া যাবে টিকিট।

নির্দেশক বাকার বকুল প্রযোজনাটি প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘ইউজিন ও’নীল জন্মগ্রহণ করেছিলেন পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে এবং ‘দ্য হেয়ারি এপ’ নাটকের মধ্য দিয়ে তিনি আঘাতও করেছিলেন পুঁজিবাদকে। নিউইয়র্ক থেকে যাত্রা করা একটি জাহাজকে কেন্দ্র করে এ নাটক। জাহাজের খোলের ভেতর দাঁড়িয়ে ইঞ্জিনের চুল্লিতে কয়লা ভরতে থাকা কয়েকজন মানুষের গল্প। নাটকটির নির্দেশনার কাজ করতে গিয়ে সব সময় আমার কাছে মনে হয়েছে এ জাহাজটা যেন জাহাজ নয়, একটি পৃথিবী। যে পৃথিবীতে শ্রেণী বৈষম্য বেড়েই চলেছে এবং এমন সিমাহীনতায় পৌঁছেছে, যেখানে দিনমজুর মানুষগুলোকে উপরতলার মানুষেরা অসভ্য জানোয়ার বলে মনে করছে। সেই সূত্র ধরে এই নাটকের মধ্য দিয়ে বিশ্বায়নের অপকৌশলটাকে আমরা অনুধাবন করতে চাই রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে ব্যক্তিগত পর্যায় পর্যন্ত।’’

আগামীকাল   শিল্পকলা   ‘বন মানুষ’  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

আটক নয় হিরো আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয় ; ডিএমপি

প্রকাশ: ১২:০৬ পিএম, ০৮ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail আটক নয় হিরো আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয় ; ডিএমপি

সম্প্রতি দেশি- বিদেশি গণমাধ্যমে  আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমকে নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়। এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এতে বলা হয়েছে, হিরো আলমকে গ্রেফতার বা আটক করা হয়নি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন জানান, ‘আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম ফেসবুক/ইউটিউব চ্যানেল তথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নিজস্ব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, কনটেন্ট শেয়ার করে থাকেন। এসব কনটেন্টের কিছু অংশে বিধি-বহির্ভূতভাবে পুলিশের পোশাক পরে আপত্তিজনকভাবে কিছু অভিনয় প্রদর্শিত হয়। যা আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বিভিন্ন ধরনের গান গেয়ে তা প্রচার করেন যার বিরুদ্ধে ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে জনসাধারণ কর্তৃক আপত্তি উত্থাপিত হয়। বিকৃতভাবে পুলিশের পোশাক পরে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং বিভিন্ন প্রতিথযশা শিল্পী ও কলাকুশলীদের গান বিকৃত সুরে উপস্থাপন সম্পর্কিত তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রসঙ্গে অবহিত ও জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ২৭ জুলাই তাকে ডিবি কার্যালয়ে ডাকা হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওইদিন দুপুরে হিরো আলম ডিবি কার্যালয় ত্যাগ করেন

তিনি আরও জানান, ‘বিবিসি ওয়ার্ল্ডসহ কিছু দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বা দীর্ঘসময় ডিবি কার্যালয়ে আটক করে রাখা হয়েছে মর্মে সংবাদ প্রকাশ করেছে। বিষয়টির প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। হিরো আলমকে আটক বা গ্রেফতারের বিষয়টি আদৌ তথ্যভিত্তিক নয়। গত ২৭ জুলাই হিরো আলমকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার বা আটক করেনি বরং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল


হিরো আলম   ডিএমপি   বাংলাদেশ  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

অপা‌রেশ‌নের না‌মে কিডনি চু‌রি, বিচারের দাবিতে আদালতে ঘুরছেন নির্মাতা

প্রকাশ: ০৬:১৮ পিএম, ০৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail অপা‌রেশ‌নের না‌মে কিডনি চু‌রি, বিচারের দাবিতে আদালতে ঘুরছেন নির্মাতা

প্রায় চার বছর আগে চলচ্চিত্র পরিচালক রফিক শিকদারের মা রওশন আরা মারা গেছেন। চিকিৎসকের অবহেলার কারণে মায়ের মৃত্যু হয়েছে, এমনই অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়াও অপা‌রেশ‌নের না‌মে কিডনি চু‌রির অভিযোগও তুলেন এই নির্মাতা।

রোববার (৭ আগস্ট) চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট চত্বরে মামলার ফাইল হাতে তোলা একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন রফিক শিকদার। তিনি লিখেছেন, মা হত‌্যার বিচা‌রের দাবি‌তে এখ‌নও ঘুর‌ছি আদালত থে‌কে আদাল‌তে। অপা‌রেশ‌নের না‌মে কিডনি চু‌রির মাধ‌্যমে মা‌কে হত‌্যা করা ঘাতক ডাক্তার‌দের স‌র্বোচ্চ বিচার হ‌বে, ইনশাআল্লাহ।

রফিক শিকদার জানান, সম্প্রতি ডি‌বির তদন্ত কর্মকর্তা আদাল‌তে যে তদন্ত প্রতি‌বেদন দা‌খিল ক‌রে‌ছে তা ঘৃণাভ‌রে প্রত‌্যাখ‌্যান কর‌ছি। একজন জেলা ও দায়রা জ‌জের নেতৃ‌ত্বে হওয়া জাতীয় মানবা‌ধিকার ক‌মিশন কর্তৃক গ‌ঠিত তদন্ত ক‌মি‌টি যে তদন্ত প্রতি‌বেদন প্রকাশ ক‌রে‌ছিল তার স‌ঙ্গে পুলি‌শের অপরাধ তদন্ত বিভা‌গের ওসি মাহবুবের করা তদ‌ন্ত প্রতি‌বেদ‌নের অসঙ্গ‌তি স্পষ্ট! কো‌নো মিল নেই! মূলত ‌ডি‌বির ওসি মাহবুব মে‌ডিকেল সা‌য়েন্সের প‌রিপন্থিমূলক তদন্ত প্রতি‌বেদ‌ন আদাল‌তে দা‌খি‌লের মাধ‌্যমে অভিযুক্ত ডাক্তারদের‌কে বাঁচা‌নোর চেষ্টা ক‌রে‌ছেন। অবাক করার বিষয় হ‌চ্ছে, তদন্ত চলাকাল‌ীন সম‌য়ে এজাহারভুক্ত সা‌ক্ষী‌দের জবানবন্দ‌ি নেওয়া হয়‌নি এবং তা‌দের‌কে সাক্ষী হি‌সে‌বেও রাখা হয়‌নি দা‌খিলকৃত প্রতি‌বেদ‌নে। এখা‌নে যা‌দের‌কে সা‌ক্ষী হি‌সে‌বে রাখা হ‌য়ে‌ছে, তারা প্রত্যেকেই পেশাগত চিকিৎসক এবং তা‌দের বেশীরভাগেরই কর্মঠিকানা অভিযুক্ত অধ‌্যাপক হা‌বিবুর রহমান দুলালের নিয়ন্ত্রণাধীন বিএসএমএমইউ হাসপাতা‌ল।

নির্মাতা আরও জানান, সব‌চে‌য়ে অবাক করা বিষয় হ‌চ্ছে, প্রতি‌বেদন‌টি‌তে মা‌য়ের কিড‌নি জোড়া লাগা‌নো ছিল ব‌লে উল্লেখ করা হ‌য়ে‌ছে। অথচ অপা‌রেশ‌নের পূ‌র্বের সি‌টিস্ক‌্যান, আল্ট্রাসনোগ্রাম, এমআরআই, ডি‌টি‌পিএ রে‌নোগ্রাম রি‌পো‌র্টে মায়ের দু‌টো কিডনিই আলাদা এবং দু‌টো কিড‌নিরই আকৃ‌তি, বৈ‌শিষ্ট‌্য বা ফাংশনাল অবস্থার নিখুঁতভা‌বে বর্ণনা করা আছে। হর্ষসেপ কি‌ড‌নির ক্ষে‌ত্রে মে‌ডিকেল রিপো‌র্টে লেফ্ট অ‌্যান্ড রাইট কিড‌নি কথা‌টি লেখা থ‌া‌কে না। এক্ষেত্রে উল্লেখিত স্থা‌নে লেফ্ট অ‌্যান্ড রাইট কিড‌নি লেখার বদ‌লে হর্ষসেফ কিড‌নি কথা‌টিই লেখা থা‌কে। এছাড়াও স্বাভ‌াবিক কিড‌নির চে‌য়ে এমন‌ বিরল প্রকৃ‌তির কিড‌নির আকৃ‌তি বা গঠনপ্রণালীও ভিন্ন রকম; যা সাধারণ মে‌ডিকেল পরীক্ষা‌তেই স্পষ্ট বোঝা যায়।

আমিও দেখ‌তে চাই, মোড়লের জোর কোথায়! আজ আদাল‌তে হা‌জির হ‌য়ে ডি‌বির করা তদন্ত প্রতি‌বেদন প্রত‌্যাখ‌্যান ক‌রে নারা‌জি পি‌টিশন দা‌য়ের করার অভিপ্রায় ব‌্যক্ত ক‌রে এসেছি। মাননীয় আদালত আগামী ১৭/০৮/ ২০২২ তা‌রিখে নারা‌জি পি‌টিশ‌ন শুনানির দিন ধার্য ক‌রে‌ছেন। সবার দোয়া চাই।’

রফিক শিকদারের অভিযোগ, স্বাভাবিক কিডনি ভুল করে অপসারণ করে তার মাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) চার চিকিৎসক। ২০১৮ সাল থেকে অভিযোগ করলেও দুই বছর পর মামলা নিয়েছে পুলিশ। ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর রাজধানীর শাহবাগ থানায় এ বিষয়ে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কিডনি জটিলতার কারণে ২০১৮ বিএসএমএমইউ-তে ভর্তি হন রফিক শিকদারের মা রওশন আরা। চিকিৎসকরা তাকে সুস্থ করে তুলতে তার বাম কিডনি কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বিএসএমএমইউ হাসপাতালে রফিক শিকদারের মায়ের অস্ত্রোপচার করেন কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিভাগের প্রধান হাবিবুর রহমান দুলাল। কিন্তু বাম কিডনির সঙ্গে কেটে ফেলা হয় ডান কিডনিও।

এর কিছুদিন পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রওশন আরাকে রাজধানীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষার পর দেখা যায়, তার দুটি কিডনির একটিও নেই। এর দুই মাস পর রওশন আরার মৃত্যু হয়।

এ প্রসঙ্গে বিএসএমএমইউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ওই রোগীর জন্মগতভাবে কিডনি কমপ্লিকেশন (জটিলতা) ছিল। তাছাড়া অপারেশনে রক্তক্ষরণ ও ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ায় বাম কিডনি অপসারণ জরুরি হয়ে পড়েছিল। কিন্তু রোগীর কিডনি দুটি নিম্নমুখী ও সংযুক্ত বা জোড়া লাগানো ছিল; যাকে বলা হয় হর্ষ কিডনি। একটা ফেলতে গেলে আরেকটাও বেরিয়ে আসে। যেটা ডাক্তার দুর্ভাগ্যক্রমে ও অনিচ্ছাকৃতভাবে ফেলে দিয়েছিলেন। কারণ আলট্রাসনোগ্রাম ও সিটি স্ক্যানে বিষয়টি ধরা পড়েনি।


কিডনি   চু‌রি   নির্মাতা  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

‘ম্যাকগাইভার’ অভিনেতার মৃত্যু

প্রকাশ: ০৫:৩৬ পিএম, ০৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail

বিশ্বজুড়ে আলোচিত টিভি সিরিজ ‘ম্যাকগাইভার’-এর অভিনয়শিল্পী ক্লু গুলাগার মারা গেছেন। ৫ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ায় ৯৩ বছর বয়সী এই অভিনেতার মৃত্যু হয়। বার্ধক্যের কারণেই গুলাগারের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। তাঁর মৃত্যুর খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন তাঁর জামাতা দিয়ানে গোল্ডনার। প্রায় সাত দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১৬৫টি টিভি সিরিজ ও সিনেমায় অভিনয় করেন গুলাগার।

বাংলাদেশ টেলিভিশনে দুইবার প্রচারের সুবাদে এ দেশের দর্শকের কাছেও আলাদা পরিচিতি পেয়েছিলেন গুলাগার। সিরিজে ‘থিন আইস’সহ বেশ কয়েকটি পর্বে ওয়াট কিরবির চরিত্রে দর্শকের সামনে হাজির হয়েছিলেন তিনি। ‘ম্যাকগাইভার’ ছাড়া ‘দ্য ভার্জিনিয়ান’ ও ‘দ্য রিটার্ন অব লিভিং ডেড’সহ বেশ কয়েকটি সিরিজ ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য আলোচিত ছিলেন তিনি।

গুলাগারের মৃত্যুতে হলিউডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিচালক সিন বাকারসহ আরও অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। বাকার লিখেছেন, ‘তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম বলে আমি নিজেকে সম্মানিত বোধ করছি। “টানজারিন” সিরিজে ও “ভি” ম্যাগাজিনের ফটোশুটে তাঁর সঙ্গে কাজের সুযোগ পেয়েছিলাম। তিনি দুর্দান্ত একজন মেধাবী, ভদ্র ও দয়ালু মানুষ। তিনি সিনেমাকে ভালোবাসতেন। আমরা আপনাকে মিস করব।’

গত শতকের পঞ্চাশের দশকে অতিথি শিল্পী হিসেবে টিভি সিরিজে অভিনয় শুরু করেছিলেন গুলাগার। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে এনবিসির ‘দ্য টল ম্যান’ সিরিজের দুই সিজনে অভিনয়ের পর নিয়মিত কাজের ডাক পেতে থাকেন তিনি। পরবর্তীকালে ‘দ্য ভার্জিনিয়ান’, ‘দ্য লাস্ট পিকচার শো’সহ বেশ কয়েকটি কাজে পাওয়া গেছে তাঁকে।
আশির দশকে সিনেমায় নিয়মিত হন গুলাগার। অভিনয় করেন ‘দ্য ইনিশিয়েশন’, ‘আ নাইটমেয়ার অন ইলম স্ট্রিট ২: ফ্রেডি রিভেঞ্জ’সহ বেশ কয়েকটি সিরিজে। ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কুয়েন্টিন ট্যারান্টিনোর ‘ওয়ানস আপন আ টাইম’ সিনেমায় শেষবারের মতো দেখা গেছে গুলাগারকে।

ম্যাকগাইভার   অভিনেতা   মৃত্যু  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন