কালার ইনসাইড

প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছে মির্জাপুর ৩?

প্রকাশ: ০৭:৪২ পিএম, ১০ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

চার বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে মুক্তি পেল ‘মির্জাপুর ৩’। প্রথম দুই সিজনের তুলনায় তৃতীয় সিজনের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। ‘মির্জাপুর’ কার দখলে থাকবে? ক্ষমতার সিংহাসনে বসবে কে? কালিন ভাইয়া না গুড্ডু? নাকি এই দুজনকে গুঁটি বানিয়ে অন্য কেউ নেপথ্যে চালাবে প্রতিহিংসার লড়াই? নতুন এই সিজন আদৌ কি প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছে দর্শকদের?

চার বছর আগে যেখানে শেষ হয়েছিল ‘মির্জাপুর ২’, সেখান থেকেই ‘মির্জাপুর ৩’-এর গল্প শুরু। যদিও চার বছর কেটে গেছে, তবুও মির্জাপুরের ঘড়ির কাঁটা যেন গুড্ডু ও কালিন ভাইয়ার প্রতিশোধেই আটকে আছে। নতুন সিজনের শুরুতেই দেখা যায় মুন্না ভাইয়ার মরদেহ এবং অচেতন কালিন ভাইয়াকে। সব চরিত্রই যেন একই জায়গায় থেমে আছে, প্রতিশোধের স্পৃহায় জর্জরিত। তবে গুড্ডু ভাইয়া ওরফে আলি ফজল এবার আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছে।

‘মির্জাপুর’-এর প্রথম দুই সিজনের পর নতুন সিজনে ক্ষমতা দখলের গল্প আরও এগিয়েছে। কালিন ভাইয়া গুরুতর আহত হওয়ায় গুড্ডু ভেবেছিল মির্জাপুরের দখল তার হাতেই থাকবে। কিন্তু ‘মির্জাপুর ৩’-এ কালিন ভাইয়ার প্রত্যাবর্তন আহত বাঘের মতো, আরও বেশি গর্জনসহ। এই সিজনের আরেকটি চমক হল গোলু ওরফে শ্বেতা ত্রিপাঠী। আগের দুটো সিজন যারা দেখেছেন, তারা সহজেই পার্থক্য করতে পারবেন যে এই সিজনটি আগের তুলনায় অনেক বেশি রক্তমাখা এবং সহিংসতায় ভরা। তবে, কিছু ক্ষেত্রে দশ এপিসোড কিছুটা দীর্ঘ বলে মনে হতে পারে।

প্রাথমিকভাবে গুড্ডু ও গোলুর প্রতিশোধ নেওয়া শেষ হলেও, এখন তাদের লড়াই মির্জাপুরের সিংহাসন দখলের জন্য। ক্ষমতাশালীদের একটি বৈঠকও দেখা যায়, যেখানে গুড্ডু ভাইয়াও অংশ নেন। মির্জাপুরের সিংহাসনে কে বসবে? গুড্ডু ভাইয়া নিজেই সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি এখন মির্জাপুর শাসন করবেন এবং কালিন ভাইয়ার চেয়ারে বসবেন। কিন্তু এখানেই রয়েছে চমক। বিশেষ করে, সিরিজটির দশম পর্বের শেষ দশ মিনিটের চমক পরবর্তী সিজনের জন্য দর্শকদের আগ্রহ আরো বাড়িয়ে তুলবে, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। 

অভিনয়ের দিক থেকে পঙ্কজ ত্রিপাঠী, আলি ফজল, বিজয় বর্মা, রাসিকা দুগ্গাল, শ্বেতা ত্রিপাঠী, অঞ্জুম শর্মা, প্রিয়াংশু পেইনিউলি সবাই অসাধারণ অভিনয় করেছেন। নতুন সিজনে স্ক্রিন স্পেস বেশি পাওয়ায় আলি ফজল তার সঠিক ব্যবহার করেছেন, পঙ্কজ ত্রিপাঠী সবসময়ের মতই তার অসাধারণ অভিনয় দিয়ে সকলের নজর কেড়েছেন। এছাড়াও শ্বেতা ত্রিপাঠীর গোলু চরিত্রটিও এই সিজনে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। 

তবে, ‘মির্জাপুর ৩’ মুক্তির পর এটি অনেক দর্শকের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। ২০১৮ সালে মির্জাপুর প্রথম সিজন নিয়ে যে উদ্দীপনা তৈরি করেছিল, তা আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। এতে ছিল অ্যাকশন, প্রতারণা, রাজনীতি এবং ক্ষমতার খেলা। বাবলু পন্ডিতের মৃত্যুতে যেমন ভক্তরা কেঁদেছিল, তেমনি পঙ্কজ ত্রিপাঠীর কালিন ভাইয়ার ভয়ংকর চরিত্র দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল।

দ্বিতীয় সিজনে আলি ফজলের গুড্ডু পন্ডিতের প্রতিশোধের নেশা এবং দিব্যেন্দুর মুন্না ভাইয়ার চরিত্র মির্জাপুরকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছিল। কিন্তু চার বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মির্জাপুর ৩ মুক্তি পেলেও এটি অনেক দর্শকদের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি। তাদের আশা ছিল যে ‘মির্জাপুর ৩’ আরো নতুন কিছু নিয়ে আসবে, কিন্তু দেখা গেল পুরোনো গল্পকেই নতুন মোড়কে সাজিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। অনেকেই বলেছেন, এটি নতুন বোতলে পুরোনো মদ।

আলি ফজল ও পঙ্কজ ত্রিপাঠীর অভিনয় নতুন রূপে দেখা গেলেও, সামগ্রিকভাবে মির্জাপুর ৩ আগের দুই সিজনের তুলনায় কিছুটা প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মত সমালোচকদের। তাদের মতে, অ্যাকশন দৃশ্যগুলো আকর্ষণীয় হলেও, কিছু কিছু জায়গায় গল্পের ধারাবাহিকতা কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। গল্পের প্লট আগের সিজনগুলোর চেয়ে তুলনামূলক দুর্বল। অনেকের মতে, কিছুক্ষণ দেখার পরেই বোঝা যাচ্ছিল এরপর কী ঘটতে চলেছে। অভিনয়ের দিক থেকে আলি ফজল, পঙ্কজ ত্রিপাঠি, শ্বেতা ত্রিপাঠি, অঞ্জুম শর্মা সবাই দুর্দান্ত অভিনয় করলেও সামগ্রিকভাবে সিরিজটি কিছুটা ব্যর্থ হয়েছে বলেই মনে করছেন বেশিরভাগ দর্শক ও সমালোচক। তারা বলছেন, শুধুমাত্র অ্যাকশন দিয়ে টানার চেষ্টা করেছেন পরিচালক, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিও যথেষ্ট মনে হয়নি।

পরিশেষে ‘মির্জাপুর ৩’ অ্যাকশনের দিক থেকে আগের সিজনগুলোর তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে, তবে গল্পের দিক থেকে সেই আগের দুটো সিজনেই আটকে রয়েছে বলা যায়। ‘মির্জাপুর’ কার দখলে থাকবে? ক্ষমতার সিংহাসনে বসবে কে? সব প্রশ্নের উত্তর খুজতে দর্শকরা এখন থেকেই অপেক্ষার প্রহর গুনবেন ‘মির্জাপুর ৪’ এর জন্য।

মির্জাপুর   মির্জাপুর সিজন ৩   ওটিটি   প্রাইম ভিডিও   পঙ্কজ ত্রিপাঠি   আলি ফজল   শ্বেতা ত্রিপাঠি শর্মা  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

থামছেই না ‘কল্কি’ ঝড়, ২০ দিনে আয় কত?

প্রকাশ: ০৫:২৫ পিএম, ১৮ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

গত ২৭ জুন মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই নাগ অশ্বিন পরিচালিত ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’ সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে ঝড় তুলেছে। ছবিটি মুক্তির ২০ দিন পেরিয়েছে এবং এরই মধ্যে আয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে।

বক্স অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০ দিনে সিনেমাটি ভারত থেকে ৫৮৯ কোটি রুপি আয় করেছে। ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’ প্রথম দিনেই ভারতীয় বক্স অফিসে ৯৫ কোটি রুপি আয় করে। এর মধ্যে কেবল তেলেগু সংস্করণ থেকেই আয় হয়েছে ৬৪ কোটি ৫০ লাখ রুপি, আর হিন্দি সংস্করণে ২৪ কোটি রুপি আয় হয়েছে।

মুক্তির প্রথম সপ্তাহে ছবিটি মোট ৪১৪ কোটি ৮৫ লাখ রুপি আয় করেছে। এই সফল ছবিটি পরিচালনা করেছেন নাগ অশ্বিন এবং এতে অভিনয় করেছেন প্রভাস, দীপিকা পাড়ুকোন, অমিতাভ বচ্চন, কমল হাসান, দিশা পাটানি প্রমুখ। এছাড়াও ম্রুণাল ঠাকুর, দুলকার সালমান, বিজয় দেবেরাকোন্ডা, এস এস রাজামৌলি এবং রাম গোপাল ভার্মাকে অতিথি চরিত্রে দেখা গেছে।


কল্কি   রেকর্ড   প্রভাস   দীপিকা পাড়ুকোন   অমিতাভ বচ্চন  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

পতাকা হচ্ছে রক্তাক্ত, পুরো জাতি কি আজ অবুঝ : আফরান নিশো

প্রকাশ: ০৫:১০ পিএম, ১৮ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

কোটা সংস্কারের আন্দোলনে উত্তাল সারা দেশ। তারকারাও এই আন্দোলনে সক্রিয় সমর্থন জানাচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের পক্ষে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিচ্ছেন। এর মধ্যে অভিনয়শিল্পী আফরান নিশো কিছুটা নিরব ছিলেন, যা নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপে আলোচনা ও সমালোচনা চলছিল। অবশেষে, আজ সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি কবিতা পোস্ট করে নিশো নিজের মত প্রকাশ করেছেন।

কবিতার নিচে লেখা ছিল "আ/নি," যা থেকে ধারণা করা যায় যে কবিতাটি নিশোরই লেখা। কবিতায় তিনি প্রশ্ন তুলেছেন লাল-সবুজের পতাকায় কেন আজ এত লাল রঙ দেখা যাচ্ছে।

তিনি লেখেন: "আমার সোনার বাংলা,
আমাদের প্রাণ,
লাল-সবুজের পতাকা,
সবুজের মাঝে লাল...
বাবা মুক্তিযোদ্ধা,
চেতনা-
লড়ব যদি যাক প্রাণ...
লাল-সবুজের পতাকা...
তাদেরই প্রতিদান,
তাদের আত্মত্যাগের ঘ্রাণ...
তবে আজ...
কেন এত... লাল???"

তিনি আরও লেখেন: "সবুজে লাল খুঁজি...
লালে নয় সবুজ
পতাকা হচ্ছে রক্তাক্ত...
পুরো জাতি কি আজ অবুঝ?
বলেন না?
মা বলেন ...আর চাই না লাল...
ফিরিয়ে দাও... আমার সবুজ।
লাল-সবুজের পতাকায় আজ কেন এত লাল?
শান্তি চাই
হোক সংস্কার
অপমান চাই না
রক্তাক্ত রাজপথ চাই না
হোক সমাধান
লাল-সবুজের পতাকায় আর তো লাল চাই না..."

উল্লেখ্য, আফরান নিশোর বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার লাশ দাফন করা হয়।

কোটা আন্দোলন   আফরান নিশো   পোস্ট  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

৭৬তম এমি অ্যাওয়ার্ডস এর মনোনয়ন ঘোষণা

প্রকাশ: ০৪:৫১ পিএম, ১৮ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

টেলিভিশনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার এমি অ্যাওয়ার্ডের মনোনীতদের তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (১৮ জুলাই) সকালে ঘোষণা করা হয় ৭৬তম এমি অ্যাওয়ার্ডের নমিনেশন। এবারের নমিনেশনে ২৫টি মনোনয়ন নিয়ে শীর্ষে রয়েছে এফএক্স-এর জনপ্রিয় সিরিজ ‘শোগুন’। সেরা ড্রামা, সেরা অভিনেতাসহ বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে এই সিরিজটি মনোনীত হয়েছে। এছাড়া, এফএক্স-এর আরেকটি সিরিজ ‘দ্য বিয়ার’ ২৩টি মনোনয়ন পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, যা কমেডি সিরিজ হিসেবে রেকর্ডসংখ্যক মনোনয়ন।

হুলুর ‘অনলি মার্ডারস ইন দ্য বিল্ডিং’ ২১টি মনোনয়ন পেয়েছে, এইচবিও/ম্যাক্সের ‘ট্রু ডিটেকটিভ: নাইট কান্ট্রি’ ১৯টি, এবং নেটফ্লিক্সের ‘দ্য ক্রাউন’ ১৮টি মনোনয়ন পেয়ে সেরা পাঁচে স্থান পেয়েছে।

সেরা অভিনেতার মনোনয়নে আছেন ইদ্রিস এলবা (হইজ্যাক), ডোনাল্ড গ্লোভার (মিস্টার অ্যান্ড মিসেস স্মিথ), ওয়ালটন গগিন্স (ফলআউট), গ্যারি ওল্ডম্যান (স্লো হর্সেস), হিরোয়ুকি সানাদা (শোগুন), এবং ডমিনিক ওয়েস্ট (দ্য ক্রাউন)।

অন্যদিকে সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পেয়েছেন ক্রিস্টিন বারানস্কি (দ্য গিল্ডেড এজ), নিকোল বেহারি (দ্য মর্নিং শো), এলিজাবেথ ডেবিকি (দ্য ক্রাউন), গ্রেটা লি (দ্য মর্নিং শো), লেসলি ম্যানভিল (দ্য ক্রাউন), কারেন পিটম্যান (দ্য মর্নিং শো) এবং হল্যান্ড টেলর (দ্য মর্নিং শো)।

সেরা ড্রামা সিরিজের জন্য লড়বে ‘দ্য ক্রাউন’ (নেটফ্লিক্স), ‘ফলআউট’ (প্রাইম ভিডিও), ‘দ্য গিল্ডেড এজ’ (এইচবিও), ‘দ্য মর্নিং শো’ (অ্যাপল টিভি+), ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস স্মিথ’ (প্রাইম ভিডিও), ‘শোগুন’ (এফএক্স), ‘স্লো হর্সেস’ (অ্যাপল টিভি+), এবং ‘থ্রি বডি প্রবলেম’ (নেটফ্লিক্স)।

এবারের নমিনেশনে নেটফ্লিক্স সর্বোচ্চ মনোনয়ন পেয়ে শীর্ষে রয়েছে। মোট ৩৫টি প্রোগ্রাম মিলিয়ে নেটফ্লিক্স পেয়েছে ১০৭টি মনোনয়ন, এফএক্স ৯৩টি, এইচবিও ৯১টি এবং অ্যাপল টিভি ৭২টি মনোনয়ন পেয়েছে।

বুধবার এল ক্যাপিটান থিয়েটারে একটি অনুষ্ঠানে টনি হেল, শেরিল লি রাল্ফ এবং টেলিভিশন একাডেমির চেয়ার ক্রিস অ্যাব্রেগো এবারের মনোনীতদের নাম ঘোষণা করেছেন। ৭৬তম এমি অ্যাওয়ার্ড ১৫ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসের পিকক থিয়েটার থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে।


এমি অ্যাওয়ার্ড   মনোনয়ন   শোগুন  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

কোটা আন্দোলন নিয়ে যে বার্তা দিলেন স্বস্তিকা

প্রকাশ: ০৪:৩৩ পিএম, ১৮ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজপথে নেমেছে শিক্ষার্থীরা। দেশজুড়ে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা যেকোনো মূল্যেই কোটা সংস্কার চান এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না বলে জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যখন সারাদেশ উত্তাল, তখন শোবিজ তারকারাও একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। সাধারণ জনগণের পাশাপাশি তারকারাও সরব এই ইস্যুতে। এবার কোটা আন্দোলন নিয়ে মুখ খুললেন ওপার বাংলার অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জি। তিনি জানান, তার ভীষণ অস্থির লাগছে।

স্বস্তিকা নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক আবেগঘন পোস্টে লেখেন, "প্রায় এক মাস হলো আমি নিজের দেশে নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খবরের চ্যানেলে তৃতীয় বিশ্বের কোনো খবরই তেমন একটা চলে না। আর আমি খুব একটা ফোনের পোকা নই তাই এত খারাপ একটা খবর কানে আসতে দেরি হলো।"

বাংলাদেশের স্মৃতিচারণ করে তিনি লিখেন, "এই তো কয়েক মাস আগে বাংলাদেশে গিয়েছিলাম। খুব ইচ্ছে ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় যাওয়ার। চারুকলায় যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল, জীবনের একটা স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। প্রতিবার আসি, ব্যস্ততায় যাওয়া হয় না, মা'ও খুব যেতে চাইতেন বাংলাদেশে, কিন্তু নিয়ে যাওয়া হয়নি। আজ একটি ভিডিও দেখলাম, গুলির ধোঁয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা আক্রান্ত। ছাত্র বয়স গেছে সেই কবে, তবে জাহাঙ্গীরনগর আর আমার যাদবপুর খুব কাছাকাছি। কাঠগোলাপের গাছগুলোও কেমন এক রকম। মেঘগুলোও এক রকম। আজ ওখানে বারুদের গন্ধ। এমন এক আপ্যায়নপ্রিয় জাতি দেখিনি, খাবারের নিমন্ত্রণ যেন শেষ হতেই চায় না। সারা রাস্তা জুড়ে ভাষার আল্পনা আর কোথায় দেখব? নয়নজুড়ানো দেওয়াল লেখা? এটি সম্ভবত মুক্তিযুদ্ধের শপথ নেওয়া একটি জাতির পক্ষেই সম্ভব।"

অভিনেত্রী জানান, "আজ ভীষণ অস্থির লাগছে। আমিও তো সন্তানের জননী। আশা করব বাংলাদেশ শান্ত হবে। অনেকটা দূরে আছি, এই প্রার্থনাটুকুই করতে পারি। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো—সেই আমাদের আলো...আলো হোক...ভাল হোক সকলের।"

কোটা আন্দোলন   স্বস্তিকা মুখার্জি   অভিনেত্রী  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

করজোড়ে মিনতি করছি, হানাহানি বন্ধ করুন : কবীর সুমন

প্রকাশ: ০৪:১৭ পিএম, ১৮ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

কলকাতার বরেণ্য সংগীতশিল্পী কবীর সুমন দেশের চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি আন্দোলনকারীদের ওপর সহিংসতা বন্ধের জন্য সব পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘সব পক্ষকে করজোড়ে মিনতি করছি, অনুগ্রহ করে হিংসা-হানাহানি বন্ধ করুন। ঢাকা সরকারকে অনুরোধ করছি- বাংলা ভাষার কসম, শান্তি রক্ষার চেষ্টা অব্যাহত রাখুন। ছাত্রবাহিনী যেন হিংসার আশ্রয় না নেন।’

পোস্টে কবীর সুমন আরও বলেন, ‘আমি ভারতের নাগরিক। বাংলাদেশ আমাদের প্রতিবেশী। তার বিষয়-আশয়ে নাক গলানোর অধিকার আমার নেই। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা আমি ভুলতে পারি না। কেনই বা ভুলব?’

ওপার বাংলার এই গায়ক বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছবি দেখছি। ছাত্রছাত্রীরা মিছিল করছেন। ব্যাকগ্রাউন্ডে শোনা যাচ্ছে কাজী নজরুল ইসলামের “কারার ঐ লৌহকপাট” গানটি। মনে হচ্ছে গানটি এডিট করে ভিডিওর সঙ্গে বসানো হয়েছে। সঠিক কাজই হয়েছে। বহুবার দেখেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা আমার গানের লাইন লিখেছেন দেওয়ালে। পশ্চিমবঙ্গে সে তুলনায় কিছুই দেখিনি। মনে মনে আমি বাংলাদেশেরও নাগরিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার জীবনসায়াহ্ন কাটছে মাভাষায় খেয়াল রচনা করে, গেয়ে, শিখিয়ে। পশ্চিমবঙ্গের সরকার আমার বাংলা খেয়ালকে স্বীকৃতি দিয়েছেন, যদিও তাদের কিছু শিল্পী আমার এবং বাংলা খেয়াল নিয়ে বিদ্রূপ করেছেন।’

দীর্ঘ পোস্টে কবীর সুমন আরও লিখেছেন, ‘আমার জীবনের সেরা কাজ বাংলা খেয়াল বাংলাদেশে চর্চা করা। মরহুম আজাদ রহমান বেশ কিছু বাংলা খেয়াল রচনা করে গিয়েছেন। বাংলা ভাষা আর বাংলা খেয়ালের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে আমার ভালোবাসার বন্ধন। ঢাকায় গানের অনুষ্ঠান করতে গিয়ে যে সম্মান ও ভালোবাসা পেয়েছি, তা ভারতে ক’বার পেয়েছি?’

কোটা আন্দোলনে সহিংসতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থায় চুপ করে থাকতে পারি না। আমি জানি না ঠিক কী কারণে এমন হচ্ছে, কারা জড়িত। তবুও করজোড়ে মিনতি করছি: অনুগ্রহ করে হিংসা-হানাহানি বন্ধ করুন। ঢাকা সরকারকে অনুরোধ করছি: শান্তি রক্ষার চেষ্টা অব্যাহত রাখুন। ছাত্রবাহিনী যেন হিংসার আশ্রয় না নেন। আমি ঢাকায় যেতে পারছি না। পারলে যেতাম, রাস্তায় বসে সবাইকে শান্তির আহ্বান জানাতাম।’

শেষে একটি স্বরচিত কবিতা জুড়ে দিয়েছেন সুমন। কবিতাটি হলো- 

হানাহানি বন্ধ হোক।
বন্ধ হোক উল্টোপাল্টা কথা বলে দেওয়া।
বাঁচুক বাংলাদেশ।
বাঁচুন বাংলাদেশের সকলে।
জয় বাংলাদেশ
জয় মুক্তিযুদ্ধ
জয় অসংখ্য বাংলাদেশির শাহাদাত ও অপূরণীয় ক্ষতিস্বীকার
জয় বীরাঙ্গনারা
জয় বাংলা ভাষা!


কোটা আন্দোলন   কবীর সুমন   পোস্ট  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন