কালার ইনসাইড

মিশন “স্ট্যান্টবাজি”

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail মিশন “স্ট্যান্টবাজি”

আজ আপনাদের একটি মিশনের গল্প শোনাব। যে গল্পটি রোলার কোস্টারের মতো গতিময়।

পাঠক!! তাহলে নিজ দায়িত্বে বেধে নিন আপনাদের সিটবেল্টগুলো। চলুন ভেতরে ঢোকা যাক একটি শ্বাসরুদ্ধ মিশনের।

কয়েক বছর আগের কথা। কোনো এক বাংলা সিনেমার গ্রুপে একজনের একটি ফেসবুক পোস্ট দেখেছিলাম। সেখানে তিনি মুক্তির দৌড়ে থাকা বেশ কয়েকটি বাংলাদেশী সিনেমার পোস্টারের একটি কোলাজ দিয়েছিলেন। যেখানে সাম্প্রতিককালের দুর্দান্ত পোস্টার ডিজাইনারদের বদৌলতে অসাধারণসব পোস্টারের কল্যাণে মনে হচ্ছিলো আহা এই বুঝি বদলে যেতে শুরু করলো আমাদের বাংলা সিনেমা। আমরা আবারো হয়তো ফিরে পাবো আমাদের হারানো সেই স্বর্ণযুগ। ততদিনে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই সিনেমা অমিতাভ রেজা চৌধুরীর “আয়নাবাজী”, দীপঙ্কর দীপনের “ঢাকা অ্যাটাক” আর রায়হান রাফীর “পোড়ামন ২” সহ বেশ কয়েকটি সিনেমা দর্শকদের ভালোবাসায় সিক্ত হওয়াতে দর্শকেরাও খুব বেশি আশাবাদী হতে শুরু করেছিলো মুক্তি পেতে চলা সিনেমাগুলো নিয়ে। এরপরে আঘাত হানলো বৈশ্বিক মহামারী করোনা। বন্ধ হয়ে গেলো হলগুলো। ধুকতে থাকা ঢাকাই সিনেমা ইন্ড্রাস্ট্রির অবস্থা চলে যেতে শুরু করলো আরো তলানির দিকে।

করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলে উঠলো বাংলাদেশ। ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করলো প্রেক্ষাগৃহগুলো। করোনা ঝড় কিছুটা কাটিয়ে ঊনপঞ্চাশ বাতাস দিয়ে শুরু হয়ে একে একে মুক্তি পেতে শুরু করলো চন্দ্রাবতী কথা, নোনা জলের কাব্য, রেহানা মরিয়ম নূর, পদ্মাপুরানের মতো সিনেমাগুলো। কিন্তু তারপরেও কিছু একটা যেন জমছিলোনা। কারণ ঢাকাই সিনেমাতে অনেক রঙয়ের অনেক ঢঙয়ের গল্প বলা হলেও বাণিজ্যিক বা মাসালা সিনেমাই যে দর্শকদের হলমুখী করতে বড় একটা অবদান রাখে সেটি কারো অজানা না।

চলুন এবার মূলগল্পে ঢোকা যাক।

দীপঙ্কর দীপনের প্রথম সিনেমা “ঢাকা অ্যাটাকের” একদম শেষভাগে পর্দায় লেখা উঠেছিলো “ঢাকা অ্যাটাক এক্সট্রিম” আসছে। যদিও অজানা কারনে সেই সিনেমা আর আলোর মুখ দেখেনি। কিন্তু আগের সিনেমার কাহিনীকার সানী সানোয়ার ও প্রধান সহকারী পরিচালক ফয়সাল আহমেদ এবার একসাথে বসলেন পরিচালকের সিটে। ঘোষণা এলো আরো একটি পুলিশ অ্যাকশন থ্রিলার যার নাম হবে “মিশন এক্সট্রিম”। প্রথমে দর্শক হিসাবে এটা বেশ ভালো লেগেছিলো, কারন আগের সিনেমা থেকে ঢাকা অ্যাটাক ফেলে মিশন শব্দটি যোগ করে হয়ে গেলো সিনেমার নাম। ঢাকাই সিনেমার বর্তমান সময়ের সুপারস্টার আরেফিন শুভ থাকায় দর্শক উৎসাহী হয়ে উঠতে শুরু করলো, কারণ নাম যা ই হোক ঢাকা অ্যাটাকের কারনে আরেফিন শুভর উপরে এতোদিনে ভরসা এসেছে মানুষের যে শুভ আছে তাই ভালো কিছু সম্ভব।

করোনার কারনে কয়েকবার সিনেমাটির মুক্তি পিছিয়ে গেলো। অবশেষে ঘোষণা এলো ডিসেম্বরের ৩ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে সিনেমাটি। এবার বুঝি অপেক্ষার পালা শেষ হলো! এরমাঝে মিশন এক্সট্রিমের জন্য আরেফিন শুভর শরীর গঠনের ভিডিও সাড়া ফেলেছিলো বেশ। সিনেমা মুক্তির আগে সিনেমাটির প্রিমিয়ারে নায়ক এলেন তার নির্মিতব্য সিনেমা বঙ্গবন্ধুর লুক নিয়ে। সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে বললেন “মিশন এক্সট্রিম সিনেমাটি অনেক পরিশ্রম করে করেছি। যেখানে একটি সিনেমা এক মাসে কাজ সম্পন্ন করা যায়, সেখানে আমরা ‘মিশন এক্সট্রিম’ দেড় বছরেরও বেশি সময় নিয়ে কাজ করেছি”। তিনি আরো যুক্ত করলেন “মুখে বড় বড় কথা বলার চেয়ে, ‘আন্তর্জাতিক-আন্তর্জাতিক মুখ দিয়ে বলার থেকে একবার করে দেখালাম আন্তর্জাতিক মানে কি। সংজ্ঞা ও উদাহরণসহ”। নায়কের এই আকাশচুম্বী আত্মবিশ্বাস দেখে আশার পারদ তুঙ্গে নিয়ে দর্শকেরা অপেক্ষায় বসলো ৩ ডিসেম্বরের।

অবশেষে মুক্তি পেলো সিনেমাটি। সিনেমার এই দুর্দিনে আর দর্শক ক্ষরার এই সময়ে প্রথমেই ৫০টি হল পাওয়া যেন ছিলো গোটা টিমের জন্য ঈদের মতোই খুশীর উপলক্ষ্য। কারণ সাম্প্রতিককালে ঈদের সময়টাতেই ২০০ হল বিষয়ে সিনেমাপাড়ায় কথা শোনা যায়। 
তবে আসলে কেমন হলো এই বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমাটি? কেমন হলো নায়ক আরেফিন শুভর দ্বিতীয় পুলিশ থ্রিলার অ্যাকশন ইন্টারন্যাশনাল। নামেই বুঝাচ্ছিলো এটি একটি মিশনকে নিয়ে তৈরী গল্পের সিনেমা। হ্যা “মিশন এক্সট্রিম” সত্যিই একটি মিশনের গল্প, তবে গল্পের ভাজে ভাজে আপনি থাকবেন ধোঁয়াশায় পূর্ণ একটি মিশনের গল্পে। হতে পারে এটি একটি হতে চলা জঙ্গি গোষ্ঠীর জঙ্গি দল হয়ে ওঠার গল্পের মিশন। হতে পারে সানী সানোয়ার ও ফয়সাল আহমেদের পরিচালক হয়ে ওঠার মিশন, অথবা এমনও হতে পারে হারাতে বসা বাংলা সিনেমাকে খানিকটা অক্সিজেন দিয়ে আবার বাঁচিয়ে তোলার মিশন।

যদিওবা গল্পের ভাজে ভাজে এতোটাই অগোছালো আর বেক্ষাপ্পা চিত্রনাট্যের খেলা চলছিলো যে দর্শকমাত্রই মিশনের গল্পে চলতে থাকা বড় পর্দার বাম কোনায় কিছুক্ষন পর পর উঠতে থাকা “দিন ৩০০”, “দিন ৬৫” বা “দিন ৯৫” এর চক্করে পড়ে গল্পে মনোযোগ হারেতে হারাতে হিসাব মেলাতে পারেন। ঠিক যখন আপনার মনে হবে ধুর ছাই সময় বাড়ছে না কমছে অথবা আপনার মনে হবে সিনেমাটা হয়তো ৪ ঘন্টার তাই কেটে অর্ধেক করে দেয়াতে সামনের দৃশ্যেই হয়তো মিলে যাবে এই সংখ্যা সাংঘাতিকের হিসাব। না হিসাব মিলে না মধ্যবিরতিতেও। আপনার বিরক্তি কাটাতে ভরে দেওয়া হবে বাংলা সিনেমার সিগনেচার কল্পনার স্বপ্নে চলে যাবার গান। যদিও আরেফিন শুভ আর নায়িকা ঐশীর পরিচয় (একজন পুলিশ আরেকজন সাংবাদিক এই পরিচয় বাদে) নিয়ে কনফিউশনে পড়লেও পড়তে পারেন দর্শকেরা। কখনো মনে হবে তারা ছোটকালের খালাতো ভাইবোন, আবার মনে হবে পাশের ফ্ল্যাটের দুষ্টু মেয়েটা।

ওদিকে এ সময়ের দেশসেরা অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু হয়তো গল্প আর পরিচালকের কথায় বিদেশে বসে নায়কের ফোনের ইন্সট্রাকশনেই কাজ করছেন কিন্তু এই কাজের কোনো শেষ নেই। মুখ বুজে পর্দায় এলেন দেশসেরা আরেক অভিনেতা শহিদুজ্জামান সেলিম। পর্দায় এলেন একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা শামস সুমন। সেইসাথে এই সময়ের জনপ্রিয় হতে থাকা দ্বীপ, সুমিত, পরীক্ষিত অভিনেতা রাশেদ মামুন অপু সহ নাটকের পরিচিত অনেক অনেক জনপ্রিয় মুখ। যারা এক একজন চাইলেই অভিনয়গুনে এক একটা সিনেমা টেনে নেবার যোগ্যতা হয়তো রাখতে শুরু করেছেন। ঠিক যেমন পর্দায় দর্শক দেখলো সৈয়দ নাজমুস সাকিবের অসাধারণ অভিনয়। গল্পে এতো এতো চরিত্র দেখে দর্শকরা হয়তো প্রায় ভেবেই ফেলছিলো যে এই বুঝি বর্তমানের দর্শকপ্রিয় অভিনেতা খায়রুল বাশার চলে আসবেন পর্দায়। তবে কোথা থেকে এলেন কিভাবে গল্পে চরিত্র হয়ে আগালেন সেটি কাহিনী যিনি লিখেছিলেন তিনি ছাড়া অনেকের পক্ষেই হয়তো বলা খানিকটা কঠিন। কারণ এক দৃশ্যে সীমান্তবর্তী এক রেলস্টেশনে দুজন অভিনেতা নামার পরেই আবার তাদের দেখা গেলো ঢাকা শহরেই । হয়তো সিনেমার এডিটর এবং পরিচালক ভেবেছিলেন গল্প ঠিকঠাকই আছে। পরের সিকুয়ালে আছে বলে এডিটর ভুলে গিয়েছিলেন পুরো সিনেমা তিনি কেটেছেন বলে তিনি নিজে গল্প জানলেও দর্শক কিন্তু গল্প জানে না পুরোটা। তাই সিনেমাকে সেভাবে এগিয়ে নিতে হবে যেভাবে দর্শক পরের কিস্তি ছাড়াই গল্প বুঝতে পারেন।

জঙ্গিবাদ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেশ পুরনো একটি বিষয়। কারন এদেশের মানুষ ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ বা জেএমবির কথা জেনেছিলো ২০০৪ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে সিরিজ বোমা হামলার মাধ্যমে। বর্তমানের বাংলাদেশে জঙ্গিদের ঠাই নেই। বর্তমান সরকারের কঠোর পদক্ষেপে এখন জঙ্গিবাদের ঘটনা শোনা যায় কালেভদ্রে। আর গুলশান অ্যাটাকের সময়ের পরে এই ডিজিটাল যুগে এসে তরুণ প্রজন্মকে কি এভাবেই ব্রেইনওয়াশ করা যায় কিনা তা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরাই হয়তো ভালো বলতে পারবেন। কিন্তু সিনেমাতে রাইসুল ইসালাম আসাদকে জঙ্গি কোনো গোষ্ঠী মেরে ফেললো। হ্যা মেরে ফেলার দৃশ্য থাকতেই পারে কিন্তু নাস্তিক এই শিক্ষকের টকশোতে কথা বলায় মেরে ফেলার ভুল ঢাকতেই কি নাস্তিক লেখকের ফাঁসি চাই লেখা পোস্টারের ইনসার্ট শট ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিলো কিনা তা পরিচালক সাহেব ও এডিটর ভালো বলতে পারবেন।

ট্রাই নাইট্রো টলুইন (TNT) একটি শক্তিশালী এক্সপ্লোসিভ, যার গাঠনিক সংকেত C6H2(NO2)3CH3। জঙ্গি গোষ্ঠী এটা দিয়েই হয়তো জাতীয় সংসদ ভবনে থার্টি ফাস্ট নাইটে হামলা চালাবার পরিকল্পনা করেছিলেন কিন্তু সিনেমার পর্দায় নায়ক যেভাবে ডিফিউজ না করেই ফাকা মাঠে ছুড়ে দিলেন তাতে টিএনটির শক্তিমত্তার উপরে বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস উঠে যাবার কথা। হ্যা আমাদের দেশের সিনেমায় হয়তো পাশের দেশ ভারতের রোহিত শেট্টি নির্মিত “সুরিয়াভানসির” মতো বাজেট নেই যা দিয়ে অনেকগুলো হেলিকপ্টার এনে মিশন এক্সট্রিমে দেখানো সেই থার্টি ফার্স্ট নাইটেই পার্টির বিল্ডিংটি তুলে নেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু সংসদের পরিকল্পনা পাল্টে গুলশানের এক ক্লাবে শিফট হওয়া প্ল্যান বি এর গল্পের গাঁথুনিটা একটু মজবুত হলেই লোকের বলতে হতো না আমরা কি আর অতো বাজেট পাই নাকি। দেশীয় প্রেক্ষাপটে বিশ্বমানের সিনেমা এটাই অথবা বলতে শোনা যেতনা যে ইহাই ইন্টারন্যাশনাল কিন্তু মুখে বললাম না। শুধু একটু মনে করতে হবে তারেক মাসুদের “রানওয়ে” সিনেমাটির কথা। যারা বলছেন যে জঙ্গিবাদ নিয়ে যেহেতু সিনেমাটি তাই প্রশংসা পাবে মিশন এক্সট্রিম, তাদের “রানওয়ে” সিনেমাটি দেখে নেওয়ার অনুরোধ রইলো।


তবে পরিচালক এবং এই সিনেমা সংশ্লিষ্ট কারো ফোনে যদি কোনো ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সাবস্ক্রাইব করা থাকে এবং ওবেব সিরিজ নামক টার্মের সাথে যদি পরিচিত হয়ে থাকেন তাহলে হয়তো কোনো একতা দিন কোনো একটা সময় তারা নিজে বসে চা খেতে খেতে ভাববেন ওয়েব সিরিজের মতো বিশাল গল্পকে মধ্য থেকে কেটে দিয়ে দুইভাগ করে দিয়ে ইহাই ইন্টারন্যাশনাল বলে গলা ফাটালেই তা ইন্টারন্যাশনাল হয়ে ওঠে না।

আমাদের এই ছোট ও মৃতপ্রায় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে কালেভদ্রে দর্শকেরা যে কয়জন মানুষের উপরে আশা নিয়ে বসে থাকেন তাদের মধ্যে আরেফিন শুভ অন্যতম একজন। হয়তো অচিরেই আরেফিন শুভ তার অসাধারণ অভিনয় নিয়ে হাজির হবেন জাতির পিতার উপরে শ্যাম বেনেগালের নির্মিত “বঙ্গবন্ধু” সিনেমা দিয়ে। কিন্তু গল্পে ভরসা না থাকলে শুধু মুখে মুখে সিনেমার ব্যবসার স্বার্থে দর্শকদের সাথে এ ধরনের প্রতারণা আরেফিন শুভর জন্য অবশ্যই মানানসই নয়।

পরিশেষে পরিচালক ও প্রযোজকদেরকে “ মিশন স্ট্যান্টবাজি” শিরোনামের ওবেব সিরিজ নির্মানের আহ্বান জানিয়ে মিশন এক্সট্রিম জার্নি শেষ করছি। কারণ হয়তো ওটিটি প্ল্যাটফর্মের এই যুগে ওয়েব সিরিজে চার পাচ ঘন্টার বড় বড় গল্পে কাজ করা হয় যেখানে ছোট ছোট চরিত্রগুলোও ফুটিয়ে তোলা যায় সময় নিয়ে, কিন্তু পরিচালকের মনে রাখতে হবে এটা সিনেমা!!!! এটা “বিগ স্ক্রিন”।

মিশন এক্সট্রিম   আরিফিন শুভ  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে পদ্মা সেতুতে দাঁড়িয়ে ছবি তুললেন নায়িকা শিরিন শিলা

প্রকাশ: ০৮:০২ পিএম, ২৯ Jun, ২০২২


Thumbnail আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে পদ্মা সেতুতে দাঁড়িয়ে ছবি তুললেন নায়িকা শিরিন শিলা

সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্ভোধন করেছেন পদ্মা সেতু। উদ্ভোধনের পর দিন থেকে চলাচলের জন্য খুলে দেয়কা হয়েছে সেতু। তবে চালু করে দেয়ার পর এই সেতুকে ঘিরে ঘটেছে বেশ কিছু দূর্ঘটনা। যার ফলে সেতুতে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা কিংবা টিকটক করা কিংবা হেঁটে পার হওয়ার উপর সরকার থেকে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই সেতুতে দাঁড়িয়ে মধ্যরাতে কেক কাটলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের বর্তমান প্রজজন্মের নায়িকা শিরিন শিলা। 



মঙ্গলবার মধ্যরাতে নায়িকা শিরিন শিলা তার কাছে কিছু মানুষদের নিয়ে সেতুতে ঘুরতে যান। যেখানে তিনি গাড়ির ছাদ খুলে লাইভও করেন। আর এর পরপরই তারা সেতুর পাশে গাড়ি দাঁড়া করিয়ে ছবি তোলেন কেক কাটেন। নিজের ফেসবুকে সেই সব ছবি পোষ্ট না করলেও তাঁর ব্যক্তিগত ফটোগ্রাফার সেই মূহুর্তের ছবিগুলো তার আইডে পোষ্ট করেন। যেখানে মন্তব্যের ঘরে অনবেক নেতিবাচক মন্তব্য দেখা যাচ্ছে। 

জানা যায় তাঁরা নাকি দায়িত্বরত পুলিশের অনুমতি নিয়েই সেতুর উপরে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন। এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে আইন কী তাহলে এক এক জনের জন্য ভিন্ন? 


পদ্মা সেতু   শিরিন শিলা  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

শাকিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন শিল্পী সমিতি!

প্রকাশ: ০৭:৪৪ পিএম, ২৯ Jun, ২০২২


Thumbnail শাকিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন শিল্পী সমিতি!

ঢাকাই চলচ্চিত্রের সুপারস্টার শাকিব খান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র অবস্থান করছে। সেখান থেকে দেশের গণমাধ্যমে দেখা এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিকে ‘ভুয়া সংগঠন’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে শাকিবের এমন মন্তব্য সত্য হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন অমিত হাসান। 

এ প্রসঙ্গে অমিত হাসান বলেন, ‘আমি আগেই মন্তব্য করবো না। কারণ ওর (শাকিব খান) কণ্ঠের ভিডিও যদি শুনতে পাই তাহলে… একজন বললো আর লিখলাম! শাকিব সম্পর্কে খারাপ কোনো মন্তব্যও করবো না। কিন্তু ও যদি সত্যি বলে থাকে তখন অনেক কথা বলার থাকবে। তখন তাকে সমিতিতে ডাকা হবে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সমিতিকে ছোট করে কথা বললে সমিতি তাকে ডাকবে। সমিতিকে ছোট করার রাইট কোনো শিল্পীর নেই।’

অমিত হাসান চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান কমিটির কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচিত সদস্য। শাকিব খান পরপর দুইবার চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সঙ্গে একবার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন অমিত হাসান।

শাকিব খান   শিল্পী সমিতি   চলচ্চিত্র  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

‘লা মানো এস্থেটিকস অ্যান্ড লেজার সেন্টার’র ফটোশুটে মিথিলা

প্রকাশ: ০৬:০৪ পিএম, ২৯ Jun, ২০২২


Thumbnail ‘লা মানো এস্থেটিকস অ্যান্ড লেজার সেন্টার’র ফটোশুটে মিথিলা

বাংলাদেশি মডেল ও ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২০’-এ বিজয়ী তানজিয়া জামান মিথিলা। মডেলিং ও ফটোশুট নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। গতকাল ২৮ জুন ‘লা মানো এস্থেটিকস অ্যান্ড লেজার সেন্টার’ এর ফটোশুটে অংশ নেন মিথিলা। গৌতম সাহার কোরিওগ্রাফিতে এতে আরো অংশ নেন জনপ্রিয় মডেল তৃণ, লিন্ডা এবং তানভির। ক্যামেরায় ছিলেন মোস্তফা তারিক হাদি।

মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ তানজিয়া জামান মিথিলা বলেন, ‘লা মানো এস্থেটিকস অ্যান্ড লেজার সেন্টারে বেশ কয়েকটি লেজার থেরাপি  নিলাম। খুবই ভালো। আশা করছি এখানকার থেরাপিতে সবাই উপকৃত হবে।’

লা মানো এস্থেটিকস অ্যান্ড লেজার সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বাবু বলেন, ‘বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা পরিচালিত লা মানো। ঈদে সবাই নিজেকে পরিপাটি রাখতে চান। তাই আসছে ঈদকে সামনে রেখে আমাদের বিশেষ ছাড় রয়েছে।’

অভিজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা লা মানো এস্থেটিকস অ্যান্ড লেজার সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির ত্বক বিশেষজ্ঞ ডা. নুসরাত জাহান। তিনি বলেন, বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা পরিচালিত লা মানো এস্থেটিকস অ্যান্ড লেজার সেন্টার। এফডিএ অ্যাপ্রোভ বিশ্বখ্যাত জার্মান প্রযুক্তির আলমা অ্যাকসেন্ট প্রাইম লেজার ব্যথাহীন, নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য, কার্যকরী ট্রিটমেন্টের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান লা মানো এস্থেটিকস অ্যান্ড লেজার সেন্টার।

তিনি আরো বলেন, বয়স আর হবে না সৌন্দর্যের পথে বাধা। আমাদের বোটক্স সার্ভিসটি ইউএস-এফডিএ অনুমোদিত নিরাপদ পদ্ধতি, যা আপনার ত্বকের নমনীয়তা পুনরুদ্ধার করে আপনার সৌন্দর্যকে ধরে রাখবে দীর্ঘ সময়। ঠোঁট আমাদের মুখমণ্ডলে সৌন্দর্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আদ্রতা হারালে ঠোঁট বিবর্ণ ও কালো হয়ে যায়। তাছাড়া সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মির প্রভাবেও ঠোঁট কালো হতে পারে। এছাড়াও অতিরিক্ত চা-কফি বা অতিরিক্ত ধূমপানের অভ্যাসের কারণেও ঠোঁট কালো বা বিবর্ণ হতে পারে। আধুনিক চিকিৎসায় খুব সহজেই আমরা আমাদের ঠোঁটের হারানো গোলাপী রঙ ফিরিয়ে আনতে পারি। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে সবচেয়ে নিরাপদ, ব্যথাহীন ও স্থায়ী সমাধানে ব্যবহার ব্যবহার করা হয় কিউ-সুইচড লেজার। লা মানো ডার্মা অ্যান্ড এস্থেটিক অ্যান্ড লেজার সেন্টারে এফডিএ অনুমোদিত জার্মানের তৈরি কিউ-সুইচড লেজারের মাধ্যমে ‘ডার্ক লিপ’ এর চিকিৎসা করা হয়। এছাড়াও ত্বকের নানা সমস্যার উপযুক্ত লেজার থেরাপি মিলবে 

মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ   তানজিয়া জামান মিথিলা  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

আল্লুর ‘পুষ্পা-টু’ সিনেমায় বিজয়!

প্রকাশ: ০৫:৩৩ পিএম, ২৯ Jun, ২০২২


Thumbnail আল্লুর ‘পুষ্পা-টু’ সিনেমায় বিজয়!

চলতি বছরের বহুল আলোচিত সিনেমা ‘পুষ্পা: দ্য রাইজ’। গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে মুক্তি পায় সুকুমার পরিচালিত এ সিনেমা। মুক্তির পর বক্স অফিসে বাজিমাত করেছে; পাশাপাশি দর্শক-সমালোচকদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে এই সিনেমা।

‘পুষ্পা: দ্য রাইজ’ সিনেমায় জুটি বেঁধে অভিনয় করেন আল্লু অর্জুন ও রাশমিকা মান্দানা। খুব শিগগির সিনেমাটির দ্বিতীয় পার্টের শুটিং শুরু করবেন তারা। সিনেমাটির দ্বিতীয় পার্টেও অভিনয় করবেন রাশমিকা-আল্লু অর্জুন। এবার জানা গেলো, এ সিনেমায় নতুন করে যুক্ত হচ্ছেন তামিল সিনেমার জাদরেল অভিনেতা বিজয় সেতুপতি।  

টলিউড ডটনেটকে একটি সূত্র বলেন, ‘পরিচালক সুকুমার ও তার টিম ‘পুষ্পা-টু’ সিনেমার চিত্রনাট্যের চূড়ান্ত কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আগামী সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবরে সিনেমাটির শুটিং শুরু হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে এ সিনেমায় দেখা যাবে বিজয় সেতুপতিকে। সিনেমাটিতে একজন সিনিয়র পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করবেন তিনি। খুব শিগগির এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।’

‘পুষ্পারাজ’ বিয়ে করেন শ্রীবল্লীকে, তারপর শেখাওয়াত অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেন। আর এ পর্যায়ে এসে শেষ হয় ‘পুষ্পা’ সিনেমার প্রথম পার্ট। প্রথম পার্টের মতো দ্বিতীয় পার্টও পরিচালনা করবেন সুকুমার।

পুষ্পা: দ্য রাইজ   আল্লু অর্জুন   রাশমিকা মান্দানা  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

ঈদে রাশেদ সীমান্তর ৩ নাটক

প্রকাশ: ০৫:১১ পিএম, ২৯ Jun, ২০২২


Thumbnail ঈদে রাশেদ সীমান্তর ৩ নাটক

বরাবরের মত এবারের ঈদুল আজহাতেও থাকছে জনপ্রিয় অভিনেতা রাশেদ সীমান্তের তিনটি বিশেষ নাটক। ২টি একক এবং একটি ৭ পর্বের ধারাবাহিক। তিনটি নাটকই প্রচার হবে বৈশাখী টিভিতে।

টিপু আলম মিলনের গল্প এবং জিয়াউর রহমান জিয়ার পরিচালনায় ‘ঢাকা টু বরিশাল’ রাশেদ সীমান্থকে  যাবে মানিক চরিত্রে। এটি মূলত বরিশাল টু ঢাকা নাটকের সিক্যুয়েল। এ নাটকে রাশেদ সীমান্তের বিপরীতে অভিনয় করেছেন অহনা রহমান। নাটকটি অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন অলিউল হক রুমি হায়দার আলী, শফিক খান দিল, নিলা ইসলামসহ অনেকে।

পার্থ সারথি দাস-এর রচনা এবং মৃত্যুঞ্জয় সরদার উচ্ছ্বাসের পরিচালনায় ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে শুটিং সম্পন্ন হয়েছে ঈদের বিশেষ একক নাটক ‘বাবার পুরস্কার’। এ নাটকে রাশেদ সীমান্তের চরিত্রের নাম রমিজ। রমিজের ৬ বছরের বাচ্চা পরী বাকপ্রতিবন্ধী এবং একটি দুর্ঘটনার ফলে রমিজ আর কোনদিন বাবা হতে পারবে না বলে জানিযয়ে দেয় ডাক্তার। নিম্নবিত্ত রমিজ মেয়ের মুখ থেকে বাবা ডাক শোনার জন্য বিভিন্ন কবিরাজ ফকিরের কাছে দ্বারস্থ হয়। কিন্তু কোনভাবেই তার আশা পুরন হয় না। শেষমেষ সে জানতে পারে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তার মেয়ের মুখে কথা ফুটানো সম্ভব প্রয়োজন ১০ লক্ষ টাকা। ১০ লক্ষ টাকা জোগাড় করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে রমিজ। শেষ পর্যন্ত কি রমিজ তা পারে? জানতে চোখ রাখুন বৈশাখী টিভিতে এবারের ঈদের বিশেষ নাটক ‘বাবার পুরস্কার’। নাটকটিতে রাশেদ সীমান্তের বিপরীতে অভিনয় করেছেন শশী। অন্যান্য চরিত্রে মুনতাহা, মাজনুন মিজান, দোলন দে সহ আরো অনেকে।

টিপু আলম মিলনের গল্প এবং আল হাজেনের পরিচালনায় নির্মিত হচ্ছে ঈদের ৭ পর্বের ধারাবাহিক ‘শিয়াালবাড়ি-৩’। নাটকটিতে রাশেদ সীমান্তকে দেখা যাবে আসমান চরিত্রে। এ নাটকটিতে রাশেদ সীমান্ত বিপরীতে অভিনয় করেছেন মৌসুমী হামিদ। অন্যান্যর মধ্যে আরো অভিনয় করেছেন আমিরুল হক চৌধুরী, আরফান আহমেদ, মিলন ভট্টাচার্য, শেলী আহমেদসহ অনেকে।

রাশেদ সীমান্ত   নাটক   অহনা   মৌসুমী হামিদ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন