কালার ইনসাইড

মিশন “স্ট্যান্টবাজি”

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail মিশন “স্ট্যান্টবাজি”

আজ আপনাদের একটি মিশনের গল্প শোনাব। যে গল্পটি রোলার কোস্টারের মতো গতিময়।

পাঠক!! তাহলে নিজ দায়িত্বে বেধে নিন আপনাদের সিটবেল্টগুলো। চলুন ভেতরে ঢোকা যাক একটি শ্বাসরুদ্ধ মিশনের।

কয়েক বছর আগের কথা। কোনো এক বাংলা সিনেমার গ্রুপে একজনের একটি ফেসবুক পোস্ট দেখেছিলাম। সেখানে তিনি মুক্তির দৌড়ে থাকা বেশ কয়েকটি বাংলাদেশী সিনেমার পোস্টারের একটি কোলাজ দিয়েছিলেন। যেখানে সাম্প্রতিককালের দুর্দান্ত পোস্টার ডিজাইনারদের বদৌলতে অসাধারণসব পোস্টারের কল্যাণে মনে হচ্ছিলো আহা এই বুঝি বদলে যেতে শুরু করলো আমাদের বাংলা সিনেমা। আমরা আবারো হয়তো ফিরে পাবো আমাদের হারানো সেই স্বর্ণযুগ। ততদিনে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই সিনেমা অমিতাভ রেজা চৌধুরীর “আয়নাবাজী”, দীপঙ্কর দীপনের “ঢাকা অ্যাটাক” আর রায়হান রাফীর “পোড়ামন ২” সহ বেশ কয়েকটি সিনেমা দর্শকদের ভালোবাসায় সিক্ত হওয়াতে দর্শকেরাও খুব বেশি আশাবাদী হতে শুরু করেছিলো মুক্তি পেতে চলা সিনেমাগুলো নিয়ে। এরপরে আঘাত হানলো বৈশ্বিক মহামারী করোনা। বন্ধ হয়ে গেলো হলগুলো। ধুকতে থাকা ঢাকাই সিনেমা ইন্ড্রাস্ট্রির অবস্থা চলে যেতে শুরু করলো আরো তলানির দিকে।

করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলে উঠলো বাংলাদেশ। ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করলো প্রেক্ষাগৃহগুলো। করোনা ঝড় কিছুটা কাটিয়ে ঊনপঞ্চাশ বাতাস দিয়ে শুরু হয়ে একে একে মুক্তি পেতে শুরু করলো চন্দ্রাবতী কথা, নোনা জলের কাব্য, রেহানা মরিয়ম নূর, পদ্মাপুরানের মতো সিনেমাগুলো। কিন্তু তারপরেও কিছু একটা যেন জমছিলোনা। কারণ ঢাকাই সিনেমাতে অনেক রঙয়ের অনেক ঢঙয়ের গল্প বলা হলেও বাণিজ্যিক বা মাসালা সিনেমাই যে দর্শকদের হলমুখী করতে বড় একটা অবদান রাখে সেটি কারো অজানা না।

চলুন এবার মূলগল্পে ঢোকা যাক।

দীপঙ্কর দীপনের প্রথম সিনেমা “ঢাকা অ্যাটাকের” একদম শেষভাগে পর্দায় লেখা উঠেছিলো “ঢাকা অ্যাটাক এক্সট্রিম” আসছে। যদিও অজানা কারনে সেই সিনেমা আর আলোর মুখ দেখেনি। কিন্তু আগের সিনেমার কাহিনীকার সানী সানোয়ার ও প্রধান সহকারী পরিচালক ফয়সাল আহমেদ এবার একসাথে বসলেন পরিচালকের সিটে। ঘোষণা এলো আরো একটি পুলিশ অ্যাকশন থ্রিলার যার নাম হবে “মিশন এক্সট্রিম”। প্রথমে দর্শক হিসাবে এটা বেশ ভালো লেগেছিলো, কারন আগের সিনেমা থেকে ঢাকা অ্যাটাক ফেলে মিশন শব্দটি যোগ করে হয়ে গেলো সিনেমার নাম। ঢাকাই সিনেমার বর্তমান সময়ের সুপারস্টার আরেফিন শুভ থাকায় দর্শক উৎসাহী হয়ে উঠতে শুরু করলো, কারণ নাম যা ই হোক ঢাকা অ্যাটাকের কারনে আরেফিন শুভর উপরে এতোদিনে ভরসা এসেছে মানুষের যে শুভ আছে তাই ভালো কিছু সম্ভব।

করোনার কারনে কয়েকবার সিনেমাটির মুক্তি পিছিয়ে গেলো। অবশেষে ঘোষণা এলো ডিসেম্বরের ৩ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে সিনেমাটি। এবার বুঝি অপেক্ষার পালা শেষ হলো! এরমাঝে মিশন এক্সট্রিমের জন্য আরেফিন শুভর শরীর গঠনের ভিডিও সাড়া ফেলেছিলো বেশ। সিনেমা মুক্তির আগে সিনেমাটির প্রিমিয়ারে নায়ক এলেন তার নির্মিতব্য সিনেমা বঙ্গবন্ধুর লুক নিয়ে। সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে বললেন “মিশন এক্সট্রিম সিনেমাটি অনেক পরিশ্রম করে করেছি। যেখানে একটি সিনেমা এক মাসে কাজ সম্পন্ন করা যায়, সেখানে আমরা ‘মিশন এক্সট্রিম’ দেড় বছরেরও বেশি সময় নিয়ে কাজ করেছি”। তিনি আরো যুক্ত করলেন “মুখে বড় বড় কথা বলার চেয়ে, ‘আন্তর্জাতিক-আন্তর্জাতিক মুখ দিয়ে বলার থেকে একবার করে দেখালাম আন্তর্জাতিক মানে কি। সংজ্ঞা ও উদাহরণসহ”। নায়কের এই আকাশচুম্বী আত্মবিশ্বাস দেখে আশার পারদ তুঙ্গে নিয়ে দর্শকেরা অপেক্ষায় বসলো ৩ ডিসেম্বরের।

অবশেষে মুক্তি পেলো সিনেমাটি। সিনেমার এই দুর্দিনে আর দর্শক ক্ষরার এই সময়ে প্রথমেই ৫০টি হল পাওয়া যেন ছিলো গোটা টিমের জন্য ঈদের মতোই খুশীর উপলক্ষ্য। কারণ সাম্প্রতিককালে ঈদের সময়টাতেই ২০০ হল বিষয়ে সিনেমাপাড়ায় কথা শোনা যায়। 
তবে আসলে কেমন হলো এই বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমাটি? কেমন হলো নায়ক আরেফিন শুভর দ্বিতীয় পুলিশ থ্রিলার অ্যাকশন ইন্টারন্যাশনাল। নামেই বুঝাচ্ছিলো এটি একটি মিশনকে নিয়ে তৈরী গল্পের সিনেমা। হ্যা “মিশন এক্সট্রিম” সত্যিই একটি মিশনের গল্প, তবে গল্পের ভাজে ভাজে আপনি থাকবেন ধোঁয়াশায় পূর্ণ একটি মিশনের গল্পে। হতে পারে এটি একটি হতে চলা জঙ্গি গোষ্ঠীর জঙ্গি দল হয়ে ওঠার গল্পের মিশন। হতে পারে সানী সানোয়ার ও ফয়সাল আহমেদের পরিচালক হয়ে ওঠার মিশন, অথবা এমনও হতে পারে হারাতে বসা বাংলা সিনেমাকে খানিকটা অক্সিজেন দিয়ে আবার বাঁচিয়ে তোলার মিশন।

যদিওবা গল্পের ভাজে ভাজে এতোটাই অগোছালো আর বেক্ষাপ্পা চিত্রনাট্যের খেলা চলছিলো যে দর্শকমাত্রই মিশনের গল্পে চলতে থাকা বড় পর্দার বাম কোনায় কিছুক্ষন পর পর উঠতে থাকা “দিন ৩০০”, “দিন ৬৫” বা “দিন ৯৫” এর চক্করে পড়ে গল্পে মনোযোগ হারেতে হারাতে হিসাব মেলাতে পারেন। ঠিক যখন আপনার মনে হবে ধুর ছাই সময় বাড়ছে না কমছে অথবা আপনার মনে হবে সিনেমাটা হয়তো ৪ ঘন্টার তাই কেটে অর্ধেক করে দেয়াতে সামনের দৃশ্যেই হয়তো মিলে যাবে এই সংখ্যা সাংঘাতিকের হিসাব। না হিসাব মিলে না মধ্যবিরতিতেও। আপনার বিরক্তি কাটাতে ভরে দেওয়া হবে বাংলা সিনেমার সিগনেচার কল্পনার স্বপ্নে চলে যাবার গান। যদিও আরেফিন শুভ আর নায়িকা ঐশীর পরিচয় (একজন পুলিশ আরেকজন সাংবাদিক এই পরিচয় বাদে) নিয়ে কনফিউশনে পড়লেও পড়তে পারেন দর্শকেরা। কখনো মনে হবে তারা ছোটকালের খালাতো ভাইবোন, আবার মনে হবে পাশের ফ্ল্যাটের দুষ্টু মেয়েটা।

ওদিকে এ সময়ের দেশসেরা অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু হয়তো গল্প আর পরিচালকের কথায় বিদেশে বসে নায়কের ফোনের ইন্সট্রাকশনেই কাজ করছেন কিন্তু এই কাজের কোনো শেষ নেই। মুখ বুজে পর্দায় এলেন দেশসেরা আরেক অভিনেতা শহিদুজ্জামান সেলিম। পর্দায় এলেন একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা শামস সুমন। সেইসাথে এই সময়ের জনপ্রিয় হতে থাকা দ্বীপ, সুমিত, পরীক্ষিত অভিনেতা রাশেদ মামুন অপু সহ নাটকের পরিচিত অনেক অনেক জনপ্রিয় মুখ। যারা এক একজন চাইলেই অভিনয়গুনে এক একটা সিনেমা টেনে নেবার যোগ্যতা হয়তো রাখতে শুরু করেছেন। ঠিক যেমন পর্দায় দর্শক দেখলো সৈয়দ নাজমুস সাকিবের অসাধারণ অভিনয়। গল্পে এতো এতো চরিত্র দেখে দর্শকরা হয়তো প্রায় ভেবেই ফেলছিলো যে এই বুঝি বর্তমানের দর্শকপ্রিয় অভিনেতা খায়রুল বাশার চলে আসবেন পর্দায়। তবে কোথা থেকে এলেন কিভাবে গল্পে চরিত্র হয়ে আগালেন সেটি কাহিনী যিনি লিখেছিলেন তিনি ছাড়া অনেকের পক্ষেই হয়তো বলা খানিকটা কঠিন। কারণ এক দৃশ্যে সীমান্তবর্তী এক রেলস্টেশনে দুজন অভিনেতা নামার পরেই আবার তাদের দেখা গেলো ঢাকা শহরেই । হয়তো সিনেমার এডিটর এবং পরিচালক ভেবেছিলেন গল্প ঠিকঠাকই আছে। পরের সিকুয়ালে আছে বলে এডিটর ভুলে গিয়েছিলেন পুরো সিনেমা তিনি কেটেছেন বলে তিনি নিজে গল্প জানলেও দর্শক কিন্তু গল্প জানে না পুরোটা। তাই সিনেমাকে সেভাবে এগিয়ে নিতে হবে যেভাবে দর্শক পরের কিস্তি ছাড়াই গল্প বুঝতে পারেন।

জঙ্গিবাদ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেশ পুরনো একটি বিষয়। কারন এদেশের মানুষ ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ বা জেএমবির কথা জেনেছিলো ২০০৪ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে সিরিজ বোমা হামলার মাধ্যমে। বর্তমানের বাংলাদেশে জঙ্গিদের ঠাই নেই। বর্তমান সরকারের কঠোর পদক্ষেপে এখন জঙ্গিবাদের ঘটনা শোনা যায় কালেভদ্রে। আর গুলশান অ্যাটাকের সময়ের পরে এই ডিজিটাল যুগে এসে তরুণ প্রজন্মকে কি এভাবেই ব্রেইনওয়াশ করা যায় কিনা তা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরাই হয়তো ভালো বলতে পারবেন। কিন্তু সিনেমাতে রাইসুল ইসালাম আসাদকে জঙ্গি কোনো গোষ্ঠী মেরে ফেললো। হ্যা মেরে ফেলার দৃশ্য থাকতেই পারে কিন্তু নাস্তিক এই শিক্ষকের টকশোতে কথা বলায় মেরে ফেলার ভুল ঢাকতেই কি নাস্তিক লেখকের ফাঁসি চাই লেখা পোস্টারের ইনসার্ট শট ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিলো কিনা তা পরিচালক সাহেব ও এডিটর ভালো বলতে পারবেন।

ট্রাই নাইট্রো টলুইন (TNT) একটি শক্তিশালী এক্সপ্লোসিভ, যার গাঠনিক সংকেত C6H2(NO2)3CH3। জঙ্গি গোষ্ঠী এটা দিয়েই হয়তো জাতীয় সংসদ ভবনে থার্টি ফাস্ট নাইটে হামলা চালাবার পরিকল্পনা করেছিলেন কিন্তু সিনেমার পর্দায় নায়ক যেভাবে ডিফিউজ না করেই ফাকা মাঠে ছুড়ে দিলেন তাতে টিএনটির শক্তিমত্তার উপরে বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস উঠে যাবার কথা। হ্যা আমাদের দেশের সিনেমায় হয়তো পাশের দেশ ভারতের রোহিত শেট্টি নির্মিত “সুরিয়াভানসির” মতো বাজেট নেই যা দিয়ে অনেকগুলো হেলিকপ্টার এনে মিশন এক্সট্রিমে দেখানো সেই থার্টি ফার্স্ট নাইটেই পার্টির বিল্ডিংটি তুলে নেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু সংসদের পরিকল্পনা পাল্টে গুলশানের এক ক্লাবে শিফট হওয়া প্ল্যান বি এর গল্পের গাঁথুনিটা একটু মজবুত হলেই লোকের বলতে হতো না আমরা কি আর অতো বাজেট পাই নাকি। দেশীয় প্রেক্ষাপটে বিশ্বমানের সিনেমা এটাই অথবা বলতে শোনা যেতনা যে ইহাই ইন্টারন্যাশনাল কিন্তু মুখে বললাম না। শুধু একটু মনে করতে হবে তারেক মাসুদের “রানওয়ে” সিনেমাটির কথা। যারা বলছেন যে জঙ্গিবাদ নিয়ে যেহেতু সিনেমাটি তাই প্রশংসা পাবে মিশন এক্সট্রিম, তাদের “রানওয়ে” সিনেমাটি দেখে নেওয়ার অনুরোধ রইলো।


তবে পরিচালক এবং এই সিনেমা সংশ্লিষ্ট কারো ফোনে যদি কোনো ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সাবস্ক্রাইব করা থাকে এবং ওবেব সিরিজ নামক টার্মের সাথে যদি পরিচিত হয়ে থাকেন তাহলে হয়তো কোনো একতা দিন কোনো একটা সময় তারা নিজে বসে চা খেতে খেতে ভাববেন ওয়েব সিরিজের মতো বিশাল গল্পকে মধ্য থেকে কেটে দিয়ে দুইভাগ করে দিয়ে ইহাই ইন্টারন্যাশনাল বলে গলা ফাটালেই তা ইন্টারন্যাশনাল হয়ে ওঠে না।

আমাদের এই ছোট ও মৃতপ্রায় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে কালেভদ্রে দর্শকেরা যে কয়জন মানুষের উপরে আশা নিয়ে বসে থাকেন তাদের মধ্যে আরেফিন শুভ অন্যতম একজন। হয়তো অচিরেই আরেফিন শুভ তার অসাধারণ অভিনয় নিয়ে হাজির হবেন জাতির পিতার উপরে শ্যাম বেনেগালের নির্মিত “বঙ্গবন্ধু” সিনেমা দিয়ে। কিন্তু গল্পে ভরসা না থাকলে শুধু মুখে মুখে সিনেমার ব্যবসার স্বার্থে দর্শকদের সাথে এ ধরনের প্রতারণা আরেফিন শুভর জন্য অবশ্যই মানানসই নয়।

পরিশেষে পরিচালক ও প্রযোজকদেরকে “ মিশন স্ট্যান্টবাজি” শিরোনামের ওবেব সিরিজ নির্মানের আহ্বান জানিয়ে মিশন এক্সট্রিম জার্নি শেষ করছি। কারণ হয়তো ওটিটি প্ল্যাটফর্মের এই যুগে ওয়েব সিরিজে চার পাচ ঘন্টার বড় বড় গল্পে কাজ করা হয় যেখানে ছোট ছোট চরিত্রগুলোও ফুটিয়ে তোলা যায় সময় নিয়ে, কিন্তু পরিচালকের মনে রাখতে হবে এটা সিনেমা!!!! এটা “বিগ স্ক্রিন”।

মিশন এক্সট্রিম   আরিফিন শুভ  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

জয়,বাবা-মাকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত শাকিব

প্রকাশ: ০৪:৩২ পিএম, ১৮ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail জয়, বাবা-মাকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত শাকিব

দীর্ঘ নয় মাস পর গতকাল দেশে ফিরেন ঢাকাই সিনেমার সুপারস্টার শাকিব খান। বুধবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১২টার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখেন তিনি। তাকে বরণ করে নেয় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত ভক্ত। দীর্ঘদিন পর বাবা-মা-সন্তানকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বসিত শাকিব।

দেশে ফিরেই বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বাসায় যান শাকিব। বাসায় ফিরেই বাবা-মায়ের পা ছুঁয়ে সালাম করেন তিনি। ছেলেকে পেয়ে বুকে জড়িয়ে ধরেন তারা।

জানা যায়, ছেলের দেশে ফেরার খবরে শাকিবের মা রেজিয়া বেগম ছেলের পছন্দের নানা পদের খাবার রান্না করেন। সেই খাবারের তালিকায় ছিল- টমেটো দিয়ে টেংরা মাছ, লাউশাক, চিংড়ি দিয়ে বরবটি এবং আলু দিয়ে গরুর মাংস।

এর আগে বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে শাকিবকে ফোন করে তার ছেলে আব্রাম খান জয়। ছেলের সঙ্গে ভিডিওকলে কথাও বলেন তিনি। বিকেল ৪টার পর বাবার সঙ্গে দেখা করতে গুলশানের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় জয়কে।

উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দিয়েছিলেন শাকিব খান। সেখানকার নাগরিকত্ব লাভের জন্য টানা ছয় মাস মার্কিন মুলুকে থাকেন। এর মধ্যে নিউইয়র্ক থেকেই ‘রাজকুমার’ নামের নতুন সিনেমার ঘোষণা দেন, মহরত করেন। যেখানে তার নায়িকা যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টনি কফি।

শাকিব খান   আব্রাম খান জয়  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

চলতি বছর মুক্তি পাচ্ছে না পরী-সিয়ামের ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’

প্রকাশ: ০৪:১৫ পিএম, ১৮ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail চলতি বছর মুক্তি পাচ্ছে না পরী-সিয়ামের ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’

সিয়াম ও পরীমণি জুটি অভিনীত সিনেমা ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’। ড. জাফর ইকবালের কিশোর উপন্যাস ‘রাতুলের রাত রাতুলের দিন’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত। সরকারি অনুদানে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন পরিচালক আবু রায়হান জুয়েল। গত সপ্তাহে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডে ছাড়পত্রও পেয়েছে ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’।

চলতি বছরেই সিনেমাটি মুক্তির কথা জানিয়েছিলেন পরিচালক। তবে এবার জানা গেল সিনেমাটি এ বছর আর মুক্তিই পাচ্ছে না। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর এসএসসি ও ২২ আগস্ট এইচএসসি পরীক্ষা শুরু। পরীক্ষার কারণে সিনেমাটির মুক্তি পিছিয়ে দিয়েছেন পরিচালক ও প্রযোজক। আগামী ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি সিনেমাটি সারাদেশে মুক্তি পাবে নিশ্চিত করেছেন পরিচালক নিজেই।

এ সম্পর্কে আবু রায়হান জুয়েল বলেন, বাচ্চাদের এসএসসি পরীক্ষা সামনে। এই সিনেমাটি শিশুদের জন্য নির্মিত। তারাই যদি সিনেমাটি দেখার সময় ও সুযোগ না পায় তাহলে আমার ২ বছরের পরিশ্রম সার্থক হবে না। তাই আমি ও আমার সহযোগী প্রযোজক বঙ্গ মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী বছর এটি মুক্তি দেবো।

জুয়েল আরও বলেন, সিয়ামের আর একটি ছবি এ বছরই মহাসমারোহে মুক্তি পাবে। তাই আমার সিনেমার সংবাদে সিয়ামকে হাইলাইট করলে দুটিরই প্রচারে কনফিউশন দেখা দিতে পারে।

ছবিতে সিয়াম আহমেদ পরীমনি ছাড়াও ১৮ জন শিশুশিল্পী অভিনয় করেছে। আরও আছেন শহীদুল আলম সাচ্চু, আজাদ আবুল কালাম, কচি খন্দকার, মুনিরা মিঠু, আশিষ খন্দকার।

পরীমনি   সিয়াম   চলচ্চিত্র  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

নতুন খবর জানালেন লাইভ টেকনোলজিস'র ডিরেক্টর অতুল

প্রকাশ: ০৩:৫৬ পিএম, ১৮ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail নতুন খবর জানালেন লাইভ টেকনোলজিস'র ডিরেক্টর অতুল

ঝরাজীর্ণ প্রেক্ষাগৃহের আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। দীর্ঘদিন পরে প্রেক্ষাগৃহে দশর্ককের ভিড় আর টিকেটের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে। আর এর শুরুটা হয়েছে ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘পরাণ’ সিনেমার মধ্য দিয়ে। এই সিনেমাটির চলচ্চিত্র শিল্পের গতি এনে দিয়েছে। এবার দেশের গন্ডি পার হয়ে শিঘ্রই ‘পরাণ’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে যুক্ত্ররাষ্ট্র, কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালী এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাতে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লাইভ টেকনোলজিস'র ডিরেক্টর তামজীদ অতুল।  
 
তিনি বলেন, দেশের বাইরে বাঙালী দর্শকদের পাশাপাশি ‘পরাণ’ ছবিটি সার্বজনীন দর্শক দেখার সুযোগ পাবে। উপরোল্লিখিত দেশগুলোতেও আমাদের সিনেমা 'পরাণ' দেশের বাজারের মতই বাম্পারহিট হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা সেই আভাস অনেক আগে থেকেই পাচ্ছি। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়াতে আমাদের পরাণ ছবিটি বাম্পার সেল হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা স্বপ্ন দেখছি খুব শিঘ্রই গার্মেন্টস শিল্প এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের কষ্টার্জিত আয়ের পরে বাংলাদেশী কনটেন্ট বিদেশ থেকে মূল্যবান রেমিটেন্স আয় করে এনে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড়ো ভুমিকা রাখতে সক্ষম হবে। আর সেখানেও আমরা লাইভ টেকনোলজিস হবো অন্যতম অংশীদার। কনটেন্টের এই অনির্বাণ পথচলায় আমাদের পাশে থাকুন। দয়াকরে আমাদেরকে আপনাদের ভালবাসায় রাখুন। আল্লাহ সবাইকে সবসময় সুস্থ ওবং সুন্দর রাখুক।

এদিকে নেক্সট উইকে লাইভ টেকনোলজিস প্রযোজিত নতুন তিনটা ফিল্ম/ কনটেন্ট এর ঘোষণা আসবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে প্লট এবং ডিরেক্টর  নির্বাচন শেষ। এখন শুধু ঘোষণার পালা। 


পরাণ   লাইভ টেকনোলজিস  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

ইউটিউব র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে ‘ব্যবসার পরিস্থিতি’

প্রকাশ: ০৩:২৫ পিএম, ১৮ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ইউটিউব র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে ‘ব্যবসার পরিস্থিতি’

ইউটিউব র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে দেশের অন্যতম শীর্ষ অডিও-ভিডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জি-সিরিজ নিবেদিত এবং আলী হাসানের গাওয়া তুমুল সাড়া জাগানো গান ‘ব্যবসার পরিস্থিতি’। সম্প্রতি গানটি জি সিরিজের ইউটিউব ও ফেসবুক পেইজে অবমুক্ত হলে অন্তর্জালে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

এক গানেই ভাইরাল নারায়ণগঞ্জের হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী আলী হাসান। সমসাময়িক সময়ের গানটি প্রশংসা কুড়াচ্ছে সব মহলে। মুক্তির পর এক সপ্তাহ পেরুতেই গানটি ইউটিউব র‌্যাংকিংয়ে ১ এ জায়গা করে নিয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গানটির ইউটিউব ভিউ ৮১ লাখ ৩৭ হাজার। ক্রমেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ভিউ সংখ্যা।

উপশহরে হার্ডওয়্যারের দোকান। ব্যবসায়ী দোকান খুললেন। একের পর এক আসতে শুরু করল নানা ধরনের ক্রেতা। ক্রেতার সঙ্গে দোকানদারের আলাপ হয়ে গেল গান! ব্যবসা ও ব্যবসায়ীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গড়া এই র‌্যাপ গান ইউটিউবে আপলোডের সঙ্গে সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ল নেট দুনিয়ায়।

এই গানে উঠে এসেছে মহামারির ধকল সামলে এক ব্যবসায়ীর টিকে থাকার চেষ্টার কথা। উঠে এসেছে যাপিত জীবনের নানাবিধ যন্ত্রণার কথা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা গানের কথায় খুঁজে পাচ্ছেন নির্মম বাস্তবতা।

গানটি লিখেছেন, সুর দিয়েছেন আলী হাসান নিজেই। গাওয়ার পাশাপাশি ভিডিওতে অভিনয়ও করেছেন। দোকানদারের চরিত্রে তার সাবলীল অভিনয় প্রশংসিত হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে আলী হাসান বলেন, ‘ভাইরাল হওয়ার জন্য গানটি আমি করিনি। বরং নিজের পরিস্থিতি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। দেড় বছর আগে আমার দোকানে বসেই গানটি লিখেছি। তবে গানটি প্রকাশ্যে আসতেই ভাইরাল হয়ে যায়। সবাই গানটির প্রশংসা করছেন। সবার ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ।’

আলী হাসান নিজেও একজন ব্যর্থ হার্ডওয়্যার দোকানের মালিক। আট মাস আগে দোকান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। সেই অভাব আর অভিজ্ঞতা থেকেই গানটি তৈরি করেন।

গানটিতে আলী হাসানের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন সাদি, মানাম, আমিন আলী, উদয়, রাকিব হাসান, মারুফ, সিয়াম হাওলাদার ও রিজন। গায়কদের ক্যামেরার সামনে এনে ভিডিও বানিয়েছেন নাসিমুল মোরসালিন স্বাক্ষর। ইশা খান দূরের তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হয়েছে র‍্যাপ গানটি।

ব্যবসার পরিস্থিতি   গান   ভাইরাল  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

অবশেষে পরকীয়ার অভিযোগে মুখ খুললেন পরমব্রত

প্রকাশ: ০১:৩০ পিএম, ১৮ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail অবশেষে পরকীয়ার অভিযোগে মুখ খুললেন পরমব্রত

অনেক দিন ধরে টলিপাড়ায় জোর গুঞ্জন উড়ছে, টলিউড অভিনেতা পরমব্রত চ্যাটার্জির সঙ্গে পিয়ার পরকীয়া সম্পর্কের কারণে সংসার ভেঙেছে অনুপমের। যার কারণে পিয়া চক্রবর্তীর সঙ্গে দীর্ঘ ছয় বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনেছেন সংগীতশিল্পী অনুপম রায়। যদিও বিবাহবিচ্ছেদের সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করেননি এই দম্পতি। 

পরকীয়া প্রেম নিয়ে টলিপাড়া ফিসফাস চললেও এতদিন বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেননি পরমব্রত। অবশেষে এ নিয়ে কথা বললেন তিনি। ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে পরমব্রত চ্যাটার্জি বলেন, দু’জন মানুষ বিচ্ছেদের ঘোষণা করেছে, সেখানে হামলে পড়ে তৃতীয় ব্যক্তিকে নিয়ে সেনসেশন তৈরি করাটা কাঙ্খিত নয়। প্রথমে শুনে খুব বিরক্ত হয়েছিলাম; খুব খারাপ লেগেছিল।

এ সময় পালটা প্রশ্ন করা হয় আপনার বন্ধুরাও তো এ নিয়ে কথা বলেছে। নিজেকে সামলে নিয়ে পরমব্রত বলেন, আমার সামনে তো বন্ধুরা কিছু বলেনি, বললে তো আমি তাদের থামিয়ে দিতাম। তবে পিয়ার সঙ্গে তার গভীর বন্ধুত্ব রয়েছে তা স্বীকার করে পরমব্রত বলেন, ‘দু’জন মানুষ স্বাধীন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার মধ্যে পিয়ার সঙ্গে আমার বন্ধুত্বের রেশ টেনে আনাটা অপ্রয়োজনীয়।

পিয়ার সঙ্গে তার এই বন্ধুত্ব কোনো স্থায়ী সম্পর্কের দিকে এগুচ্ছে কিনা? এ প্রশ্নের জবাবে পরমব্রত বলেন, এটা বন্ধুত্ব। সত্যি জানি না আমি বিয়ের জন্য প্রস্তুত কিনা, দীর্ঘস্থায়ী কোনো সম্পর্কের জন্য নিজে তৈরি কিনা তাও এই মুহূর্তে বলতে পারব না। 

পরমব্রত   সংগীতশিল্পী   অনুপম রায়  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন