কালার ইনসাইড

মিশন “স্ট্যান্টবাজি”

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

আজ আপনাদের একটি মিশনের গল্প শোনাব। যে গল্পটি রোলার কোস্টারের মতো গতিময়।

পাঠক!! তাহলে নিজ দায়িত্বে বেধে নিন আপনাদের সিটবেল্টগুলো। চলুন ভেতরে ঢোকা যাক একটি শ্বাসরুদ্ধ মিশনের।

কয়েক বছর আগের কথা। কোনো এক বাংলা সিনেমার গ্রুপে একজনের একটি ফেসবুক পোস্ট দেখেছিলাম। সেখানে তিনি মুক্তির দৌড়ে থাকা বেশ কয়েকটি বাংলাদেশী সিনেমার পোস্টারের একটি কোলাজ দিয়েছিলেন। যেখানে সাম্প্রতিককালের দুর্দান্ত পোস্টার ডিজাইনারদের বদৌলতে অসাধারণসব পোস্টারের কল্যাণে মনে হচ্ছিলো আহা এই বুঝি বদলে যেতে শুরু করলো আমাদের বাংলা সিনেমা। আমরা আবারো হয়তো ফিরে পাবো আমাদের হারানো সেই স্বর্ণযুগ। ততদিনে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই সিনেমা অমিতাভ রেজা চৌধুরীর “আয়নাবাজী”, দীপঙ্কর দীপনের “ঢাকা অ্যাটাক” আর রায়হান রাফীর “পোড়ামন ২” সহ বেশ কয়েকটি সিনেমা দর্শকদের ভালোবাসায় সিক্ত হওয়াতে দর্শকেরাও খুব বেশি আশাবাদী হতে শুরু করেছিলো মুক্তি পেতে চলা সিনেমাগুলো নিয়ে। এরপরে আঘাত হানলো বৈশ্বিক মহামারী করোনা। বন্ধ হয়ে গেলো হলগুলো। ধুকতে থাকা ঢাকাই সিনেমা ইন্ড্রাস্ট্রির অবস্থা চলে যেতে শুরু করলো আরো তলানির দিকে।

করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলে উঠলো বাংলাদেশ। ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করলো প্রেক্ষাগৃহগুলো। করোনা ঝড় কিছুটা কাটিয়ে ঊনপঞ্চাশ বাতাস দিয়ে শুরু হয়ে একে একে মুক্তি পেতে শুরু করলো চন্দ্রাবতী কথা, নোনা জলের কাব্য, রেহানা মরিয়ম নূর, পদ্মাপুরানের মতো সিনেমাগুলো। কিন্তু তারপরেও কিছু একটা যেন জমছিলোনা। কারণ ঢাকাই সিনেমাতে অনেক রঙয়ের অনেক ঢঙয়ের গল্প বলা হলেও বাণিজ্যিক বা মাসালা সিনেমাই যে দর্শকদের হলমুখী করতে বড় একটা অবদান রাখে সেটি কারো অজানা না।

চলুন এবার মূলগল্পে ঢোকা যাক।

দীপঙ্কর দীপনের প্রথম সিনেমা “ঢাকা অ্যাটাকের” একদম শেষভাগে পর্দায় লেখা উঠেছিলো “ঢাকা অ্যাটাক এক্সট্রিম” আসছে। যদিও অজানা কারনে সেই সিনেমা আর আলোর মুখ দেখেনি। কিন্তু আগের সিনেমার কাহিনীকার সানী সানোয়ার ও প্রধান সহকারী পরিচালক ফয়সাল আহমেদ এবার একসাথে বসলেন পরিচালকের সিটে। ঘোষণা এলো আরো একটি পুলিশ অ্যাকশন থ্রিলার যার নাম হবে “মিশন এক্সট্রিম”। প্রথমে দর্শক হিসাবে এটা বেশ ভালো লেগেছিলো, কারন আগের সিনেমা থেকে ঢাকা অ্যাটাক ফেলে মিশন শব্দটি যোগ করে হয়ে গেলো সিনেমার নাম। ঢাকাই সিনেমার বর্তমান সময়ের সুপারস্টার আরেফিন শুভ থাকায় দর্শক উৎসাহী হয়ে উঠতে শুরু করলো, কারণ নাম যা ই হোক ঢাকা অ্যাটাকের কারনে আরেফিন শুভর উপরে এতোদিনে ভরসা এসেছে মানুষের যে শুভ আছে তাই ভালো কিছু সম্ভব।

করোনার কারনে কয়েকবার সিনেমাটির মুক্তি পিছিয়ে গেলো। অবশেষে ঘোষণা এলো ডিসেম্বরের ৩ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে সিনেমাটি। এবার বুঝি অপেক্ষার পালা শেষ হলো! এরমাঝে মিশন এক্সট্রিমের জন্য আরেফিন শুভর শরীর গঠনের ভিডিও সাড়া ফেলেছিলো বেশ। সিনেমা মুক্তির আগে সিনেমাটির প্রিমিয়ারে নায়ক এলেন তার নির্মিতব্য সিনেমা বঙ্গবন্ধুর লুক নিয়ে। সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে বললেন “মিশন এক্সট্রিম সিনেমাটি অনেক পরিশ্রম করে করেছি। যেখানে একটি সিনেমা এক মাসে কাজ সম্পন্ন করা যায়, সেখানে আমরা ‘মিশন এক্সট্রিম’ দেড় বছরেরও বেশি সময় নিয়ে কাজ করেছি”। তিনি আরো যুক্ত করলেন “মুখে বড় বড় কথা বলার চেয়ে, ‘আন্তর্জাতিক-আন্তর্জাতিক মুখ দিয়ে বলার থেকে একবার করে দেখালাম আন্তর্জাতিক মানে কি। সংজ্ঞা ও উদাহরণসহ”। নায়কের এই আকাশচুম্বী আত্মবিশ্বাস দেখে আশার পারদ তুঙ্গে নিয়ে দর্শকেরা অপেক্ষায় বসলো ৩ ডিসেম্বরের।

অবশেষে মুক্তি পেলো সিনেমাটি। সিনেমার এই দুর্দিনে আর দর্শক ক্ষরার এই সময়ে প্রথমেই ৫০টি হল পাওয়া যেন ছিলো গোটা টিমের জন্য ঈদের মতোই খুশীর উপলক্ষ্য। কারণ সাম্প্রতিককালে ঈদের সময়টাতেই ২০০ হল বিষয়ে সিনেমাপাড়ায় কথা শোনা যায়। 
তবে আসলে কেমন হলো এই বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমাটি? কেমন হলো নায়ক আরেফিন শুভর দ্বিতীয় পুলিশ থ্রিলার অ্যাকশন ইন্টারন্যাশনাল। নামেই বুঝাচ্ছিলো এটি একটি মিশনকে নিয়ে তৈরী গল্পের সিনেমা। হ্যা “মিশন এক্সট্রিম” সত্যিই একটি মিশনের গল্প, তবে গল্পের ভাজে ভাজে আপনি থাকবেন ধোঁয়াশায় পূর্ণ একটি মিশনের গল্পে। হতে পারে এটি একটি হতে চলা জঙ্গি গোষ্ঠীর জঙ্গি দল হয়ে ওঠার গল্পের মিশন। হতে পারে সানী সানোয়ার ও ফয়সাল আহমেদের পরিচালক হয়ে ওঠার মিশন, অথবা এমনও হতে পারে হারাতে বসা বাংলা সিনেমাকে খানিকটা অক্সিজেন দিয়ে আবার বাঁচিয়ে তোলার মিশন।

যদিওবা গল্পের ভাজে ভাজে এতোটাই অগোছালো আর বেক্ষাপ্পা চিত্রনাট্যের খেলা চলছিলো যে দর্শকমাত্রই মিশনের গল্পে চলতে থাকা বড় পর্দার বাম কোনায় কিছুক্ষন পর পর উঠতে থাকা “দিন ৩০০”, “দিন ৬৫” বা “দিন ৯৫” এর চক্করে পড়ে গল্পে মনোযোগ হারেতে হারাতে হিসাব মেলাতে পারেন। ঠিক যখন আপনার মনে হবে ধুর ছাই সময় বাড়ছে না কমছে অথবা আপনার মনে হবে সিনেমাটা হয়তো ৪ ঘন্টার তাই কেটে অর্ধেক করে দেয়াতে সামনের দৃশ্যেই হয়তো মিলে যাবে এই সংখ্যা সাংঘাতিকের হিসাব। না হিসাব মিলে না মধ্যবিরতিতেও। আপনার বিরক্তি কাটাতে ভরে দেওয়া হবে বাংলা সিনেমার সিগনেচার কল্পনার স্বপ্নে চলে যাবার গান। যদিও আরেফিন শুভ আর নায়িকা ঐশীর পরিচয় (একজন পুলিশ আরেকজন সাংবাদিক এই পরিচয় বাদে) নিয়ে কনফিউশনে পড়লেও পড়তে পারেন দর্শকেরা। কখনো মনে হবে তারা ছোটকালের খালাতো ভাইবোন, আবার মনে হবে পাশের ফ্ল্যাটের দুষ্টু মেয়েটা।

ওদিকে এ সময়ের দেশসেরা অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু হয়তো গল্প আর পরিচালকের কথায় বিদেশে বসে নায়কের ফোনের ইন্সট্রাকশনেই কাজ করছেন কিন্তু এই কাজের কোনো শেষ নেই। মুখ বুজে পর্দায় এলেন দেশসেরা আরেক অভিনেতা শহিদুজ্জামান সেলিম। পর্দায় এলেন একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা শামস সুমন। সেইসাথে এই সময়ের জনপ্রিয় হতে থাকা দ্বীপ, সুমিত, পরীক্ষিত অভিনেতা রাশেদ মামুন অপু সহ নাটকের পরিচিত অনেক অনেক জনপ্রিয় মুখ। যারা এক একজন চাইলেই অভিনয়গুনে এক একটা সিনেমা টেনে নেবার যোগ্যতা হয়তো রাখতে শুরু করেছেন। ঠিক যেমন পর্দায় দর্শক দেখলো সৈয়দ নাজমুস সাকিবের অসাধারণ অভিনয়। গল্পে এতো এতো চরিত্র দেখে দর্শকরা হয়তো প্রায় ভেবেই ফেলছিলো যে এই বুঝি বর্তমানের দর্শকপ্রিয় অভিনেতা খায়রুল বাশার চলে আসবেন পর্দায়। তবে কোথা থেকে এলেন কিভাবে গল্পে চরিত্র হয়ে আগালেন সেটি কাহিনী যিনি লিখেছিলেন তিনি ছাড়া অনেকের পক্ষেই হয়তো বলা খানিকটা কঠিন। কারণ এক দৃশ্যে সীমান্তবর্তী এক রেলস্টেশনে দুজন অভিনেতা নামার পরেই আবার তাদের দেখা গেলো ঢাকা শহরেই । হয়তো সিনেমার এডিটর এবং পরিচালক ভেবেছিলেন গল্প ঠিকঠাকই আছে। পরের সিকুয়ালে আছে বলে এডিটর ভুলে গিয়েছিলেন পুরো সিনেমা তিনি কেটেছেন বলে তিনি নিজে গল্প জানলেও দর্শক কিন্তু গল্প জানে না পুরোটা। তাই সিনেমাকে সেভাবে এগিয়ে নিতে হবে যেভাবে দর্শক পরের কিস্তি ছাড়াই গল্প বুঝতে পারেন।

জঙ্গিবাদ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেশ পুরনো একটি বিষয়। কারন এদেশের মানুষ ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ বা জেএমবির কথা জেনেছিলো ২০০৪ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে সিরিজ বোমা হামলার মাধ্যমে। বর্তমানের বাংলাদেশে জঙ্গিদের ঠাই নেই। বর্তমান সরকারের কঠোর পদক্ষেপে এখন জঙ্গিবাদের ঘটনা শোনা যায় কালেভদ্রে। আর গুলশান অ্যাটাকের সময়ের পরে এই ডিজিটাল যুগে এসে তরুণ প্রজন্মকে কি এভাবেই ব্রেইনওয়াশ করা যায় কিনা তা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরাই হয়তো ভালো বলতে পারবেন। কিন্তু সিনেমাতে রাইসুল ইসালাম আসাদকে জঙ্গি কোনো গোষ্ঠী মেরে ফেললো। হ্যা মেরে ফেলার দৃশ্য থাকতেই পারে কিন্তু নাস্তিক এই শিক্ষকের টকশোতে কথা বলায় মেরে ফেলার ভুল ঢাকতেই কি নাস্তিক লেখকের ফাঁসি চাই লেখা পোস্টারের ইনসার্ট শট ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিলো কিনা তা পরিচালক সাহেব ও এডিটর ভালো বলতে পারবেন।

ট্রাই নাইট্রো টলুইন (TNT) একটি শক্তিশালী এক্সপ্লোসিভ, যার গাঠনিক সংকেত C6H2(NO2)3CH3। জঙ্গি গোষ্ঠী এটা দিয়েই হয়তো জাতীয় সংসদ ভবনে থার্টি ফাস্ট নাইটে হামলা চালাবার পরিকল্পনা করেছিলেন কিন্তু সিনেমার পর্দায় নায়ক যেভাবে ডিফিউজ না করেই ফাকা মাঠে ছুড়ে দিলেন তাতে টিএনটির শক্তিমত্তার উপরে বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস উঠে যাবার কথা। হ্যা আমাদের দেশের সিনেমায় হয়তো পাশের দেশ ভারতের রোহিত শেট্টি নির্মিত “সুরিয়াভানসির” মতো বাজেট নেই যা দিয়ে অনেকগুলো হেলিকপ্টার এনে মিশন এক্সট্রিমে দেখানো সেই থার্টি ফার্স্ট নাইটেই পার্টির বিল্ডিংটি তুলে নেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু সংসদের পরিকল্পনা পাল্টে গুলশানের এক ক্লাবে শিফট হওয়া প্ল্যান বি এর গল্পের গাঁথুনিটা একটু মজবুত হলেই লোকের বলতে হতো না আমরা কি আর অতো বাজেট পাই নাকি। দেশীয় প্রেক্ষাপটে বিশ্বমানের সিনেমা এটাই অথবা বলতে শোনা যেতনা যে ইহাই ইন্টারন্যাশনাল কিন্তু মুখে বললাম না। শুধু একটু মনে করতে হবে তারেক মাসুদের “রানওয়ে” সিনেমাটির কথা। যারা বলছেন যে জঙ্গিবাদ নিয়ে যেহেতু সিনেমাটি তাই প্রশংসা পাবে মিশন এক্সট্রিম, তাদের “রানওয়ে” সিনেমাটি দেখে নেওয়ার অনুরোধ রইলো।


তবে পরিচালক এবং এই সিনেমা সংশ্লিষ্ট কারো ফোনে যদি কোনো ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সাবস্ক্রাইব করা থাকে এবং ওবেব সিরিজ নামক টার্মের সাথে যদি পরিচিত হয়ে থাকেন তাহলে হয়তো কোনো একতা দিন কোনো একটা সময় তারা নিজে বসে চা খেতে খেতে ভাববেন ওয়েব সিরিজের মতো বিশাল গল্পকে মধ্য থেকে কেটে দিয়ে দুইভাগ করে দিয়ে ইহাই ইন্টারন্যাশনাল বলে গলা ফাটালেই তা ইন্টারন্যাশনাল হয়ে ওঠে না।

আমাদের এই ছোট ও মৃতপ্রায় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে কালেভদ্রে দর্শকেরা যে কয়জন মানুষের উপরে আশা নিয়ে বসে থাকেন তাদের মধ্যে আরেফিন শুভ অন্যতম একজন। হয়তো অচিরেই আরেফিন শুভ তার অসাধারণ অভিনয় নিয়ে হাজির হবেন জাতির পিতার উপরে শ্যাম বেনেগালের নির্মিত “বঙ্গবন্ধু” সিনেমা দিয়ে। কিন্তু গল্পে ভরসা না থাকলে শুধু মুখে মুখে সিনেমার ব্যবসার স্বার্থে দর্শকদের সাথে এ ধরনের প্রতারণা আরেফিন শুভর জন্য অবশ্যই মানানসই নয়।

পরিশেষে পরিচালক ও প্রযোজকদেরকে “ মিশন স্ট্যান্টবাজি” শিরোনামের ওবেব সিরিজ নির্মানের আহ্বান জানিয়ে মিশন এক্সট্রিম জার্নি শেষ করছি। কারণ হয়তো ওটিটি প্ল্যাটফর্মের এই যুগে ওয়েব সিরিজে চার পাচ ঘন্টার বড় বড় গল্পে কাজ করা হয় যেখানে ছোট ছোট চরিত্রগুলোও ফুটিয়ে তোলা যায় সময় নিয়ে, কিন্তু পরিচালকের মনে রাখতে হবে এটা সিনেমা!!!! এটা “বিগ স্ক্রিন”।

মিশন এক্সট্রিম   আরিফিন শুভ  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

সহযোগী চলচ্চিত্র শিল্পীরা ভোট দিতে পারবে না : হাইকোর্ট

প্রকাশ: ০৬:১৪ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না সহযোগী শিল্পীরা। এ ব্যাপারে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলেন, আমাদের সমিতির সহশিল্পীরা যারা ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন, তারা এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালতে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ও অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি। আবেদনকারী শিল্পীদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দু কুমার রায়।

আগামী ২৮ জানুয়ারি এফডিসিতে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির এই দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আসন্ন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের দুটি প্যানেল অংশ নিচ্ছে। একটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন যথাক্রমে বরেণ্য অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন ও নায়িকা নিপুণ। অন্যটিতে আছেন মিশা সওদাগর ও জায়েদ খান।

হাইকোর্ট   শিল্পী সমিতি  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

যা আছে কাঞ্চন- নিপুণ পরিষদের ইশতেহারে

প্রকাশ: ০৫:০৯ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

আগামী ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২৭তম দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। এ উপলক্ষে বুধবার (২৬ জানুয়ারি) গণমাধ্যমের জন্য আয়োজন করা হয় ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুণ পরিষদের পরিচিত পর্ব। প্রার্থীদের পরিচয় পর্বের জন্য এ আয়োজন হলেও এতে খুঁজে পাওয়া গেল না বেশিরভাগ প্রার্থীদেরকেই।

বেলা ১টায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে পদপ্রার্থী ২১ জনের মধ্যে উপস্থিত হলেন শুধু সাংগঠনিক পদের পাঁচজন ও দুইজন কার্যকরী সদস্য।

উপস্থিত ছিলেন সভাপতি পদপ্রার্থী ইলিয়াস কাঞ্চন, সহ-সভাপতি রিয়াজ, ডি এ তায়েব, কোষাধ্যক্ষ আজাদ, কার্যকরী পদের ফেরদৌস, কেয়া ও সীমান্ত।

বিষয়টি নিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আর একদিন বাদেই আমাদের নির্বাচন। তাই আমরা কাজ ভাগ করে করছি। অনেকেই উপস্থিত হননি।’

এদিকে এই অভিনেতা সংবাদকর্মীদের সামনে তাদের ২২ দফা ইশতেহার তুলে ধরেন। এরমধ্যে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এফডিসিতে আনা এবং শিল্পীদের প্রোফাইল তৈরিসহ কয়েকটি দিক।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আমরা প্রথমেই চাই বঙ্গবন্ধুর তৈরি বিএফডিসিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনতে। এছাড়াও শিল্পীদের জন্য তৈরি কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবহার, চলচ্চিত্রের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে এটি নির্মাণে ঋণের ব্যবস্থাও করতে চাই।’

২২টি পয়েন্টের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বিএফডিসিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনা, শিল্পীদের জন্য তৈরি কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবহার, চলচ্চিত্রের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে এটি নির্মাণে ঋণের ব্যবস্থা, বাতিল ও স্থগিত বা ভোটাধিকার বঞ্চিত শিল্পীদের তা ফিরিয়ে দেওয়া, শিল্পীদের মর্যাদা রক্ষায় কেউ একবার সদস্য হলে আজীবন সদস্য থাকবে, যেকোনও দুর্যোগ শিল্পীদের পাশে দাঁড়াবে সমিতি, সহায়তা গ্রহণকারীদের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ না করা, পার্শ্ববর্তী দেশের শিল্পী সংগঠনের মধ্যে চুক্তি করে দেশের শিল্পীদের কর্মসংস্থান তৈরি করা, ওয়েবসাইট উন্নয়ন, শিল্পীদের প্রোফাইল তৈরি করা, বিশেষ করে নৃত্য ও অ্যাকশন শিল্পীদের প্রোফাইল তৈরি করে বিশ্বের বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে পাঠানো, সভাপতিকে পদাধিকার সেন্সর বোর্ড বা তথ্য-সম্প্রচার বা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন জায়গায় অধিষ্ঠিত করা।

ইলিয়াস কাঞ্চন জানান, ‘মর্যাদায় ও পর্দায় আমাদের শিল্পী’ স্লোগানে তারা এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তারা নির্বাচিত হলে শিল্পীদের মর্যাদা ও পর্দায় তাদের কাজের ব্যবস্থা করবেন।


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

দেড় বছর আড়াল ভেঙে প্রকাশ্যে এসে যে বার্তা দিলেন পপি

প্রকাশ: ০৫:০৫ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

ঢাকাই সিনেমার  দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিকা পারভীন পপি৷ প্রায় দেড় বছর আড়ালে ছিলেন তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এ তারকা। শোনা গিয়েছে বিয়ে করে সন্তান নিয়ে সংসার নিয়ে ব্যস্ত আছেন তিনি। বহু চেষ্টা করেও তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেননি সাংবাদিক থেকে শুরু করে তার কাছেন অনেক মানুষ।  অবশেষে আড়াল ভেঙে ফিরলেন এই অভিনেত্রী। দেখা দিলেন এক ভিডিও বার্তা দিলেন। 

ভিডিও বার্তায় পপি বিগত দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা শিল্পী সমিতির ক্ষমতাসীন একজনকে ইঙ্গিত করে কিছু অভিযোগের কথাও তুলে ধরেন। যদিও তিনি সরাসরি তার নাম নেননি।

পপি বলেন, ভেবেছিলাম আর কখনোই ক্যামেরার সামনে আসবো না। কিন্তু একজন শিল্পী হিসেবে এবং নিজের কিছু দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আজকে কিছু কথা না বললেই না।

পপি বলেন, দীর্ঘ ২৬ বছর ইন্ডাস্ট্রিতে সুনামের সাথে কাজ করার চেষ্টা করেছি। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি। আজকে অনেক কষ্ট নিয়ে কথাগুলো বলছি, আজ আমি কোথায়! আমি আছি আপনাদের মাঝেই, হয়তো ভাগ্য থাকলে আবারও ফিরবো।

অভিযোগ করে ‘কুলি’ সিনেমার এই নায়িকা বলেন, বর্তমান শিল্পী সমিতির একটি মাত্র লোকের কারণে, তার পলিটিক্স এবং তার অনেক রকম অসহযোগিতার কারণে আমাকে বার বার অপমানিত হতে হয়েছে। শুধু আমি না, আমার মতো রিয়াজ, ফেরদৌস, পূর্ণিমা, নিপুণও অপমানিত হয়েছেন। আমাদেরকে ব্যবহার করে যে এই চেয়ারটিতে বসেছে- সেখানে বসেই বিভিন্ন রকমের অপকর্মের চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমরা গুটি কয়েক তাতে সাঁয় দিইনি। যার কারণে আজকে আমি ভিক্টিম। আমার মতো শিল্পীকে সদস্য পদ বাতিলের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। এতো বছর কাজ করার পর এমন আচরণ, একটা শিল্পীর জন্য কতোটুকু অপমানের- সেটা আমি বুঝতে পারি। ১৮৪জন শিল্পীরাও এই কষ্টটা বুঝতে পারবে।

পপি জানান, এসব কারণে চলচ্চিত্র থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি। আমার কাছে সদস্য পদ বাতিলের চিঠিটা এখনও আছে। ওই চিঠিটা যখনই পেয়েছি, তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছি- এই নোংরামির মধ্যে আর আমি যাবো না। ভেবেছি, কখনো যদি পরিবেশ ভালো হয়- তখনই চলচ্চিত্রে ফিরবো।

২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে উধাও তিনি। এরপর তাকে নিয়ে নানা খবর চাউর হয়। গত বছরের ২৮ অক্টোবর জানা যায় তিনি পুত্র সন্তানের মা হয়েছেন। যার কারণে আড়ালে তিনি৷ শোনা গিয়েছিল চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার খবর৷ তবে সে পর্যন্ত নির্বাচনে দেখা যায়নি তাকে। তাছাড়া পপি ২৮ জানুয়ারি ভোট দিতে আসছেন না বলেও জানা গেছে।

উল্লেখ্য, পপির আড়াল থাকার কারণে আটকে আছে কয়েকটি সিনেমা। তার মধ্যে রয়েছে- রাজু আলীম ও মাসুমা তানি পরিচালিত ‘ভালোবাসার প্রজাপতি’ ও আরিফুর জামান আরিফের ‘কাঠগড়ায় শরৎচন্দ্র’ সিনেমা দুটি।

পপি  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

শিল্পী সমিতির নির্বাচনে বাধা নেই

প্রকাশ: ০৪:৪৩ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

আগামী ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন হতে বাধা নেই বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট। বুধবার বিকালে বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান এ আদেশ দেন। আদেশে বিচারপতি বলেন, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়াদের বিষয়ে রুল শুনানির পর বিস্তারিত সিদ্ধান্ত জানাবে হাইকোর্ট।

এর আগে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২২-২৪ মেয়াদের নির্বাচন স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়।  বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে ১৬ জন হাইকোর্টে এ আবেদন করেন।

আগামী ২৮ জানুয়ারি শিল্পী সমিতির নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

স্থগিত হতে পারে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন?

প্রকাশ: ০৩:৪৫ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন স্থগিত চেয়ে আবেদন দায়ের করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৬ জানুয়ারি) বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এই আবেদনের শুনানি চলছে।

এছাড়া বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া শিল্পীদের আবেদনের শুনানিও চলছে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায় বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি নির্বাচন  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন