ঢাকা, রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ঈদ কার্ড এখন শুধুই স্মৃতি; যান্ত্রিক নতুন প্রজন্ম

মাহমুদুল তুহিন
প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৩:১৮ পিএম
ঈদ কার্ড এখন শুধুই স্মৃতি; যান্ত্রিক নতুন প্রজন্ম

টিফিনের কিছু টাকা জমেছে মাত্র। ক্লাসের বন্ধুদের ঈদ কার্ড দিতে হবে। সবচেয়ে ভালো বন্ধুকে মিউজিক কার্ডটা দিব। কিন্তু মিউজিক কার্ডের দাম তো বেশি। আম্মুকে বলে টাকা নিতে হবে। কালকের পর স্কুল ছুটি হয়ে যাবে। কালই দিতে হবে। ভাবনাটা একটি প্রজন্মের যারা এই ঈদ কার্ডেই খুঁজে পেত আনন্দ, তৃপ্তি। প্রিয় মানুষের দেয়া ঈদ কার্ড রেখে দিত সযত্নে। ঈদ কার্ডে জড়িয়ে থাকতো ছোট ছোট আবেগ, ভালোবাসা।

বর্তমান প্রজন্মের হাতে নামীদামী সব গ্যাজেট। প্রযুক্তির কল্যাণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয় ঈদের শুভেচ্ছা। কিন্তু এই শুভেচ্ছায় নেই কোন আবেগ, ভালোবাসা, আনন্দ, তৃপ্তি। এই প্রজন্ম হয়ে গেছে যান্ত্রিক। এদের আবেগ, অনুভূতি, ভালোবাসায় মরিচা ধরে গেছে প্রযুক্তির বিষবাষ্পে। প্রযুক্তির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার কতটা ভয়ঙ্কর সেটা নিয়ে এই প্রতিবেদন নাই বা বললাম।

সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় অলি-গলিতে, স্কুল-কলেজের সামনে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে দেখা যেত পাটের বস্তা দিয়ে বানানো কিছু অস্থায়ী দোকান। রমজান মাস শুরু হলেই এই দোকানগুলোর অস্তিত্ব প্রকাশিত হয়। ঈদকে সামনে রেখে এইসব অস্থায়ী ঈদ কার্ডের দোকানের মালিক হতো পাড়ার স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া বন্ধুরা। বিক্রি করতো বিভিন্ন রঙ-বেরঙের বাহারি ঈদ কার্ড। প্রযুক্তি ছোঁয়া যখন এখানেও এসে লাগে তখন তৈরি হয় বাহারি মিউজিক ঈদ কার্ড।

রমজান মাস শুরুতেই দোকান বসতে শুরু করলেও রমজানের মধ্যভাগ থেকে শুরু হতো বেচাকেনা। এই ঈদ কার্ডের ক্রেতা ছিলো কিশোর-কিশোরীরা। এমনকি প্রেমিক-প্রেমিকারাও ঈদ কার্ড দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করতো।

কালের পরিক্রমায় এই ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আজ যাদুঘরে। এখন আর দেখা যায় ঈদ কার্ড। কমে গেছে এর ব্যবহারও। এখনকার প্রজন্ম যেখানে ঈদ কার্ডের সঙ্গে পরিচিত নয় সেখানে অলি-গলিতে এসব দোকান না বসাটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। আবেগ, প্রেম, ভালোবাসা, অনুভূতি জড়ানো সেই ঈদ কার্ড এখন শুধুই স্মৃতি। সেই প্রজন্মের অনেকেই এখনো সযত্নে রেখেছে আবেগ, ভালোবাসা। যেখানে আজকের নতুন প্রজন্ম শুধুই যান্ত্রিক।

বিষয়: ঈদ-কার্ড