ঢাকা, রোববার, ২০ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

তবুও আজ ঈদ

মো. মাহমুদুল হাসান
প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২১ শুক্রবার, ১২:০০ এএম
তবুও আজ ঈদ

ঈদ মানেই আনন্দ। ঈদ মানেই নতুন জামাকাপড়। ঈদ মানে আত্মীয়-স্বজন আর বন্ধুদের মিলনমেলা, হৈ-হুল্লোড়, ঘুরে বেড়ানো, খাওয়া-দাওয়া আর আড্ডা। ঈদ মানে ধনী, দরিদ্র সাবাই মিলে এক কাতারে দাঁড়ানো।

মানুষের অভাব অনটন, মৃত্যুর মিছিল সব কিছু ছাপিয়ে ঈদ হলো আনন্দের। বাংলাদেশে ঈদ একটি উৎসব। ৩০ দিনে সিয়াম সাধনার পরে ঈদের যে আবহ সেটি রঙিন হয়ে ওঠে পারস্পরিক সৌহার্দ বিনিময়ের মধ্য দিয়ে, কোলাকুলি ও করমর্দনের মধ্য দিয়ে।

এছাড়া সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, ভালোবাসার বন্ধনে সবাইকে নতুন করে আবদ্ধ করাও ঈদের অন্যতম অর্থ। ঈদ মানে ভোগান্তিকে সঙ্গী করে নাড়ির টানে গ্রামের বাড়িতে মা-বাবা, ভাই-বোনদের সঙ্গে একত্রিত হওয়া। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এবারের ঈদ আনন্দের সবকিছুতেই যেন ভাটা পড়েছে।

করোনার দ্বিতীয় বছর অর্থাৎ এবারের ঈদেও নেই অনাবিল আনন্দের আবহ আর খুশির জোয়ার। অদৃশ্য এক ভাইরাসে পুরো বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও থমকে গেছে স্বাভাবিক জীবনযাপন। এক কথায় বলতে গেলে, এবারও ঈদ উৎসব আনন্দ-খুশির ডালা সাজিয়ে নয়, এসেছে শঙ্কা-অনিশ্চয়তার বার্তা নিয়ে।

কিছু বিষয় সীমিত আকারে বা কিছু নিষিদ্ধ হলেও ঈদের আবহটা বাঙালির আবেগ দ্বারা প্রবাহিত। বাঙলি হাজার কষ্ট সহ্য করে হলেও এই ঈদটিকে উদযাপন করে থাকে মনভরে। তারই প্রমাণ আবারো দিল বাঙালি জাতি। সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে শর্তসাপেক্ষে মার্কেট-দোকানপাট খুলে দিলে ক্রেতারা ঠিকই গিয়েছে শপিংমলগুলোতে পরিবারের জন্য কেনাকাটা করকে। 

সরকারের দূরপাল্লার চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও গত কয়েকদিনে ৬৫ লক্ষ মানুষ ঢাকা ছেড়েছে নারীর টানে। ফেরিতে শত কষ্ট সহ্য করেও তারা গিয়েছে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে। অনেকে ছুটেছে পায়ে হেঁটে। সে জানে না কতদূর সে যেতে পারবে। আদৌও পৌঁছাতে পারবে কিনা গন্তব্যে। তারপরও ঈদ তাদের নিয়ে গেছে এই অনিশ্চিত যাত্রায়।

প্রিয়জনের জন্য ঈদ বয়ে আনে হাজারো খুশি। একটি দিনের প্রস্তুতি চলে দীর্ঘ ৩০ দিন ধরে। মানুষের আবেগের বহিঃপ্রকাশ এই ঈদ। এই একটি উৎসবে ধনী, দরিদ্রর ভেদাভেদ দূর হয়ে যায়। সবার ঘরেই থাকে উৎসবের আমেজ। যার যতটুকু সাধ্য সে তাই দিয়েই চালয় ঈদের প্রস্তুতি।

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, পূর্ণমাস সিয়াম সাধনার পর ঈদ মুসলমান জাতির প্রতি মহান আল্লাহ তায়ালার এক বিরাট নিয়ামত। এই উৎসবেই ধনী-গরিব, শত্রু-মিত্র সবাই ভালোবাসা-মমতার বাহুডোরে অনাবিল আনন্দ-উৎসবে মিলেমিশে যায়। নজরুলের ভাষায়, ‘আজ ভুলে যা তোর দোস্ত-দুশমণ, হাত মেলাও হাতে, তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল ইসলামে মুরিদ। ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।’

করোনার প্রকোপে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থাকলেও দেশের মানুষ রোজা এবং রোজার আগ থেকেই পাশের দুস্থ-অসহায় মানুষটির দিকে চোখ রেখেছেন। তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ঈদেও সামর্থবানরা একইভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাশের অসহায় মানুষটির সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করবেন বলে প্রত্যাশা সবার। যেমনটি বলে গেছেন জাতীয় কবি, “তোর সোনা-দানা, বালাখানা সব রাহে লিল্লাহ/দে যাকাত, মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ...”। এভাবেই আমাদের উচিৎ ঈদকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া। যেভাবেই হোক ঈদকে সাফল্যমন্ডিত করা। তাহলেই ৩০ দিন সিয়াম সাধনার সার্থকতা ধরা দেবে।

বিষয়: ঈদ