ঢাকা, রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মেয়ের ধর্ষকদের লাশ দেখে কাঁদলেন বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০১৯ বুধবার, ০১:০৯ পিএম
মেয়ের ধর্ষকদের লাশ দেখে কাঁদলেন বাবা

ঈদের রাতে গণধর্ষণের শিকার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীর দুই ধর্ষকের মৃতদেহ দেখে খুশিতে কেঁদে ফেলেছেন ওই স্কুলছাত্রীর বাবা। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয় ওই দুই ধর্ষক। তারা দুজন স্কুলছাত্রী গণধর্ষণ মামলার প্রধান দুই আসামি ছিলেন।

নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সৈয়দ আহম্মেদের ছেলে আল আমিন (২৫) ও কামাল মিস্ত্রির ছেলে মঞ্জুর আলম (৩০)।

মেয়ের ধর্ষকদের নিহত হওয়ার খবর পেয়ে আজ বুধবার সকালে ভোলা সদর হাসপাতালে ছুটে যান স্কুলছাত্রীর বাবা কৃষক মো. হানিফ। এ সময় মর্গে ধর্ষকদের লাশ পড়ে থাকতে দেখে খুশিতে কেঁদে ফেলেন তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে হানিফ বলেন, মনে অনেক শ‌ান্তি পেলাম। পুলিশকে অনেক ধন্যবাদ।

হানিফ আরও বলেন, সকালে খবর পেয়ে আমি হাসপাতালে ছুটে আসি। দুই ধর্ষকের লাশ দেখে আমার মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। যারা আমার মেয়ের জীবন শেষ করে দিয়েছে আমি তাদের এভাবেই শেষ দেখার অপেক্ষায় ছিলাম। আমার মেয়ের সঙ্গে যা ঘটেছে তার সঠিক বিচার পেয়েছি আমি। ধর্ষকদের এভাবেই শাস্তি হওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, চরসামাইয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের চরসিফলি গ্রামের এক কৃষক ঈদ উপলক্ষে তার আদরের দুই মেয়ের জন্য বাজার থেকে মেহেদি কিনে আনেন। রোববার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে তিনি গরু বিক্রি করার টাকা আনতে ভোলা শহরে যান। বাবা শহরে চলে যাওয়ার পর দুই বোন রাত ৮টার দিকে প্রতিবেশী দুঃসম্পর্কের আত্মীয় মাহফুজের স্ত্রীর কাছে হাতে মেহেদি দিয়ে সাজতে যায়। ওই সময় আগে থেকে অপেক্ষমাণ মাহফুজের ঘরের ভাড়াটিয়া আল আমিন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া স্কুলছাত্রীকে ডেকে তার ঘরে নিয়ে যায়। এ সময় আলমিনের স্ত্রী ঘরে ছিল না। এ সুযোগে ওই ছাত্রীকে আলামিন ও তার সহযোগী মঞ্জুর আলম হাত-পা ও মুখে কাপড় বেঁধে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে ছাত্রীর চিৎকারে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি