ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ছুটে চলছে বাগান, সঙ্গে জরুরি সেবা!

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ বুধবার, ১২:১২ পিএম
ছুটে চলছে বাগান, সঙ্গে জরুরি সেবা!

শহরের অলি গলি চষে বেড়াচ্ছে আস্ত একটা বাগান, সেখানে মিলছে জরুরী সেবাও। কথাটি শুনতে আজব মনে হলেও এটা কিন্তু অবাস্তব নয়। বন্দরনগরী চট্টগ্রামে দেখা মিলছে এমনই এক অটোরিক্সার।  সিএনজিচালিত অটোরিক্সাটির চালক বৃক্ষপ্রেমী। সেই সাথে মানুষকে সেবা দেওয়ারও অনন্য মানসিকতা রয়েছে তার মধ্যে। এজন্য অটোরিক্সাটির ভেতর রেখেছেন চিকিৎসা উপকরণসহ যাত্রীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং বিশুদ্ধ পানি। 

বাতাসকে পরিশুদ্ধ রাখার জন্য সেই ২০১২ সাল থেকে অটোরিক্সায় বাগান করে শহরের অলিতে-গলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সিলেটের সুনামগঞ্জের বাসিন্দা মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন। ৩৯ বছর বয়সী লোকটির কথায়— ‘আমাকে দেখে কেউ বলেন এই সিএনজিচালক আস্ত পাগল। কেউ বলেন বাহ্ চমৎকার আইডিয়া, চট্টগ্রামে তো কখনও এমন গাড়ি (অটোরিক্সা) দেখিনি! আর কেউ বলেন আপনার গাড়িতে উঠে মনে হচ্ছে সত্যিই আজকেই ধুলোবালিমুক্ত বিশুদ্ধ অক্সিজেনই পাচ্ছি। এক বিদেশি আমার গাড়িটি দেখে সারাদিনের জন্য ভাড়া করে নিলেন। দিনশেষে যাওয়ার সময় ভাড়ার সঙ্গে ২ হাজার টাকা বকশিস দিয়ে আমার হাত ধরে বললেন `থ্যাংকস, আই গুড় গুড় অক্সিজেন’ (আই গট গুড অক্সিজেন!)।

জালাল তার গাড়ির ভেতর লাগিয়েছেন ৩৪ রকমের গাছ। এর মধ্যে ৮ রকমের পাতা বাহার, গোলাপ, রক্তজবা, বেলি, দনিয়া, পুদিনা ইত্যাদি। অটোরিকসাটিতে চেপে বসলেই শীতল বাতাস পাবেন কর্মব্যাস্ত যাত্রী। মনে হবে যেন কোনো বাগানে বসে আছেন। ধুলোবালি শরীরে স্পর্শও করতে পারবে না।

অটোরিক্সাচালক জালাল উদ্দিন জানান, তিনি ২০০২ সাল থেকে সিএনজি অটোরিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি অনেক মানুষকেই অটোরিকশায় উঠে নানা বিপদে পড়তে দেখেছেন, তাদের জন্যই বাগানের পাশাপাশি গাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জামও রেখেছেন। তার দেখাদেখি আরও দুজন সিএনজিতে গাছ লাগিয়েছেন বলে জানান জালাল। অনেক টাকাপয়সা নয়, সুন্দর মানসিকতা থাকলেই যে পরিবেশ এবং মানুষের সেবা করা যায়, সেটাই নতুন করে প্রমাণ করলেন জালাল। 

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি