ঢাকা, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ৪ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

লক্ষ্মীপুরে বোরো ধানের ফলন ভালো হওয়ায় খুশি কৃষক

মাহমুদুর রহমান মনজু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৭ মে ২০২১ শুক্রবার, ০৯:১৩ পিএম
লক্ষ্মীপুরে বোরো ধানের ফলন ভালো হওয়ায় খুশি কৃষক

লক্ষ্মীপুরে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মত বীজ বোপন ও জৈব ও সুষম সারের ব্যবহারের ফলে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে এ জেলায়। এখন চারদিকে চলছে ফসল কাটার ধুম। মাঠের ধান গোলায় তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা।

এদিকে করোনা মহামারির কারণে ধান কাটা শ্রমিক নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ার কথাও জানালেন কেউ কেউ। তবে শেষ পর্যন্ত প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে ভালোভাবেই ধান কেটে গোলায় তুলতে পারবেন বলে জানালেন কৃষকেরা। এদিকে ফলন ভালো হলেও ধানের ন্যায্য দাম পেতে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারীভাবে ধান ক্রয়ের দাবি কৃষকদের।

লক্ষ্মীপুরের বিস্তৃর্ণ সোনালী ধান ক্ষেতই বলে দেয় এবার বাম্পার ফলনের কথা। এখন মাঠের ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা। চলতি মৌসুমে অনুকুল আবহাওয়া, সময়মত বীজ বোপন ও জৈব ও ইউরিয়া সারের সুষম ব্যবহারের ফলে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে এ জেলায়। এতে খুশি কৃষকেরা।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে এবার জেলায় ৩০ হাজার ৫শ’হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। গেল বছর ধানের বাজার দর বাড়তি পাওয়ায় এবার আবাদ হয়েছে ৩৫ হাজার ৭শ’ ৮৩ হেক্টর। এর মধ্যে উফশী জাতের ২১ হাজার ২৭০ হেক্টর ও উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাতের ১৪ হাজার ৫১৩ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে  ১ লক্ষ ৯৩ হাজার ৩শ’ মেট্রিক টন। আর ফলন ভালো হওয়ায় এবার দুই লক্ষ ৩০ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি ধান উৎপাদন হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্তাব্যক্তিরা।

কৃষকরা জানান, কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ বোপন, পাচিং পদ্ধতি অবলম্বন ও পোকা-মাকড়ের উপদ্রব কম থাকাসহ এবার প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হওয়ায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজার দরও গতবারের চেয়ে ভালো। তবে সরকারীভাবে সরাসরি তাদের কাছ থেকে ধান ক্রয় হলে তারা লাভবান হবেন বলেন জানান কৃষকেরা।

সদর উপজেলার মজুচৌধুরীহাট এলাকার কৃষক কামরুল হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে এবার তিন একর জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের বোরো ধানের আবাদ করেছেন তিনি। অনুকূল আবহাওয়া ও পোকামাকড়ের উপদ্রব কম থাকায় ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। বাজারে ধানের ন্যায্য মূল্য পেলে এবার লাভবান হবেন তিনি।

কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন এলাকার কৃষক সানু মিয়া জানান, এবার বৃষ্টিপাত না হওয়া ও তীব্র গরমে ফসলের মাঠ নিয়ে প্রথমে কিছুটা দুঃশ্চিন্তা থাকলেও ফলন ভালো হওয়ায় খুশি তিনি। তবে করোনা মহামারির কারণে ধান কাটা শ্রমিক নিয়ে বিড়ম্বনা পড়ার কথাও জানান তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে ভালোভাবেই ধান কেটে গোলায় তুলতে পারবেন বলে জানালেন এই কৃষক।

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ বেলাল হোসেন খাঁন জানালেন, কৃষকদের মাঝে সরকারীভাবে বীজ সহায়তা প্রদান, সময়মতো বীজ বোপন, পাচিং পদ্ধতি অবলম্বন ও জৈব ও সুষম সারের ব্যবহারের ফলে এবার ধানের ভালো ফলন হয়েছে। সরকারীভাবে বীজ সহায়তা প্রদান ও কৃষি পুনর্বাসনের আওতায় এবার কৃষকদের সহায়তা করায় ধান চাষাবাদের আওতা বাড়ার কথা জানান কৃষি বিভাগের এই কর্মকর্তা।

তবে, ধানের ন্যায্য মূল্য পেতে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি ভাবে ধান ক্রয়ের দাবী জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।