ঢাকা, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

জয়পুরহাটে একদিনে ১০০০ পরিবারকে ত্রাণ দিল বসুন্ধরা গ্রুপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ আগস্ট ২০২১ রবিবার, ০৮:২৭ পিএম
জয়পুরহাটে একদিনে ১০০০ পরিবারকে ত্রাণ দিল বসুন্ধরা গ্রুপ

দুর্ঘটনায় অল্প বয়সেই এক পা হারিয়েছেন পঞ্চাশোর্ধ জরিনা বেগম। আরেক পা ভেঙে বাঁকা হয়েছে। দু`হাতের ওপর লাঠি ভর করে হাঁটাচলা করেন। কোনো কাজ করার জো নেই। স্বামী মারা গেছেন বছর হয়েছে। দাম্পত্য জীবনে হয়নি কোনো সন্তান। এখন জরিনার একমাত্র সম্বল হাতের দুটো লাঠি। বসবাস করেন রেল কলোনির একটি অস্থায়ী খুপরিতে। মানুষের দেওয়া সাহায্য আর বয়স্ক ভাতার টাকা দিয়ে দিনাতিপাত করেন জরিনা। তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই যৎসামান্য। কালের কণ্ঠ শুভসংঘের খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে তার হাতে। ১০ কেজি চাল, তিন কেজি ডাল আর তিন কেজি আটা পেয়ে অশ্রুসিক্ত হয়েছেন তিনি। জরিনা বলেন, হামাকে বসুন্ধরা গ্রুপ উপকার করলু, তোকের মালিকর শরীর-গতর ভালো থাক। তোরা বাঁচি থাক। দুধেভাতে থাক। বাল-বাচ্চা ভালো থাক।

জরিনার মতো সহায়সম্বলহীন সফি বানু। বয়স ৭৫ পেরিয়েছে। পৃথিবীতে স্বামী-সন্তান কেউ নেই। ভিক্ষাবৃত্তি করে একবেলা ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে আছেন। শুভসংঘের খাদ্যসামগ্রী পেয়ে চোখের কোণে জল জমেছে তার। বসুন্ধরা গ্রুপের জন্য দোয়া করে সফি বানু বলেন, হামি ভিক্ষা করে খাই। কাইল থেকে খাবার খাইতে পারিনাই। এই খাবার নিয়া বাসায় যাইয়া খামু৷ আল্লায় তোকের ভালো করবে৷ এই খাবার দিয়া আমি একলা এক মাস খাইতে পারমু।
শনিবার (১ আগস্ট) জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলায় তাদের মতো ৩০০ অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ। এছাড়া সকলের মাঝে মাস্ক বিতরণ ও করোনা সুরক্ষায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

উপজেলার আক্কেলপুর মুজিবুর রহমান সরকারি কলেজ মাঠে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ হয়।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম হাবিবুল হাসান বলেন, করোনায় কর্মহীন ও অসহায় পরিবারের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপ দেশব্যাপী যে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে তার জন্য আমরা তাদের সাধুবাদ জানাই। কালের কণ্ঠ শুভসংঘের সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে আজকে আপনাদেরকে ৭-১০ দিনের খাবার প্যাকেজ দিল। তাদের জন্য আপনারা সবাই দোয়া করবেন। এই সময়টা আপনার কেউ ঘর থেকে বের হবেন না। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। মাস্ক পরবেন। এরপরও আপনাদের কোন কিছুর প্রয়োজন হলে আমাদেরকে জানাবেন। আমরা আপনাদেরকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণে আরো উপস্থিত ছিলেন আক্কেলপুর মুজিবুর রহমান সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোকসেদ আলী, পৌর মেয়র শহিদুল আলম চৌধুরী, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুর রহমান, কালের কণ্ঠ শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শরীফ মাহ্দী আশরাফ জীবন, উত্তরা ইউনিভার্সিটির সাবেক সভাপতি আলমগীর হোসেন রনিসহ জয়পুরহাট জেলার শুভসংঘের সেচ্ছাসেবী নূর-ই-আলম হোসেন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, তরিকুল ইসলাম, ফিরোজ হোসেন, আবু তালহা সাঈদ, সানজিদ আহমেদ, সাইদুল ইসলাম, রাকিব হোসেব, কাউসার আহমেদ, ইশতিয়াক আহমেদ, মো. নাছিম, শিমুল।

জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল উপজেলা ৪০০ অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ। এছাড়া সকলের মাঝে মাস্ক বিতরণ ও করোনা সুরক্ষায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়। আজ রবিবার উপজেলার সরকারি ছাঈদ-আলতাফুন্নেছা কলেজ মাঠে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

বসুন্ধরা গ্রুপের খাদ্যসামগ্রী পেয়ে রোজিনা বেগম নামের এক উপকারভোগী বলেন, হামরা অসহায় মানুষ। করুনায় (করোনা) কেউ কোনো সাহায্য করে নাই। হামাকের কে দিবে বাপ, তোমরা দিলেই হামরা খাবার পারম। তোমাকের জন্য পাঁচ ওক্তোত দোয়া করুম।

রহিমা বেগম বলেন, হামার স্বামী নেই। টুকটাক কামকাজ করি যা পাই তা দিয়া খাই। আজ হামাকে খাবার দিলা আল্লা তোমাকের সহিসালামতে রাখুক। বসুন্ধরা মালিকত রহমত করুক। আমাকের যেন আরও দিবার পারে।
খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত হয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা চেয়ারম্যান মুস্তাকিম মন্ডল বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান কালের কণ্ঠ শুভসংঘের মাধ্যমে আজকে আপনাদের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। আমি উপজেলার পক্ষ থেকে বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই এই মহৎ উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। আপনারা তাদের জন্য দোয়া করবেন ভবিষ্যতে যেন তারা আপনাদের পাশে দাঁড়াতে পারে। করোনা থেকে সুরক্ষায় আপনারা সরকারের দেওয়া বিধি-নিষেধগুলো মেনে চলবেন। মাস্ক পরে থাকবেন।

স্থানীয় সেচ্ছাসেবী সংগঠক ফেরদৌসী রানা চৌধুরী বলেন, কালের কন্ঠ শুভসংঘ আজকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুব সুশৃঙ্খলা ভাবে আমাদের উপজেলায় ৪০০ অসহায় মানুষকে খাদ্যসামগ্রী দিয়েছে। একজন সেচ্ছাসেবী সংগঠক হিসেবে আমি তাদেরকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা চাই তারা ভবিষ্যতেও তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএফএম আবু সুফিয়ান, সরকারি ছাঈদ-আলতাফুন্নেছা কলেজের অধ্যক্ষ আইয়ুব হোসেন, পৌর মেয়র সিরাজুল ইসলাম বুলু, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নীরেন্দ্রনাথ মন্ডল, কালের কণ্ঠ শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শরীফ মাহ্দী আশরাফ জীবন, ক্ষেতলাল উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল মজিদ মোল্লা, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি দুলাল মিয়া, শুভসংঘের উত্তরা ইউনিভার্সিটির সাবেক সভাপতি আলমগীর হোসেন রনিসহ জয়পুরহাট জেলার শুভসংঘের সেচ্ছাসেবী নূর-ই-আলম হোসেন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, তরিকুল ইসলাম, ফিরোজ হোসেন, আবু তালহা সাঈদ, সানজিদ আহমেদ, সাইদুল ইসলাম, রাকিব হোসেব, কাউসার আহমেদ, ইশতিয়াক আহমেদ, মো. নাছিম, শিমুল, আজিজুল হক, আব্দুল আলিম, আজিজার রহমান, হাসান, সাইফুল ইসলাম মিলন।

জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলায় ৩০০ অসহায় ও অতিদরিদ্র্য পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ। এছাড়া সকলের মাঝে মাস্ক বিতরণ ও করোনা সুরক্ষায় সচেতনতামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়। আজ রবিবার কালাই সরকারি মহিলা কলেজ মাঠে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে শুভসংঘের সদস্যরা।

কাঠের পিঁড়িতে বসে দুই হাত দিয়ে মাটিতে ভর দিয়ে হাঁটছেন শামসুল আলম। বয়স ৫০ বছর। গ্যাংগ্রিনের (পচা ঘা) কারণে গত ৩০ বছর আগে পা দুটো কেটে ফেলতে হয়েছে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তিনি। জীবন হয়ে পড়েছে দুর্বিষহ। এক ছেলে থাকলেও করেন না কোনো সহযোগিতা। বয়স্কভাতা আর ভিক্ষাবৃত্তি করেই বউ নিয়ে দু`মুঠো খেতে পারেন। কালের কণ্ঠ শুভসংঘের সদস্যদের থেকে খাদ্যসামগ্রী পেয়ে শামসুল বলেন, আল্লা রহমত করুক। এই অসহায়কে খাবার দিছো। তোমাকের ভালো হবি। সুখে থাকবি তোমরা।

শাজাহান মোল্লা নামের এক উপকারভোগী বলেন, হামার এক হাত ভাঙা। কাম করবা পারি না। খুব কষ্টত আছি। তোমরা ত্রাণ দিছো। দুই হাত তুইল্যা দোয়া করি বাবা। আল্লায় বসুন্ধরা মালিকর মনের আশা পূরণ করবে৷ তাকত কবুল করবে।

ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত হয়ে কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টুকটুক তালুকদার বলেন, দেশের এই দুর্যোগকালীন কালের কণ্ঠ শুভসংঘের মাধ্যমে বসুন্ধরা গ্রুপ অসহায় মানুষকে খাদ্যসামগ্রী দিচ্ছে। আমাদের জয়পুরহাট জেলার অসংখ্য অতিদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। কালাই উপজেলায় ৩০০ পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দিয়েছে। তাই আমরা বসুন্ধরা গ্রুপ এবং শুভসংঘকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের মত দেশের বিত্তশালীরা যদি এগিয়ে আসেন তাহলে সরকার করোনার এই ক্রান্তিলগ্ন সহজেই মোকাবেলা করতে পারবে। বর্তমানে দেশে করোনা খুব দ্রুতই সংক্রমিত হচ্ছে। শহরের চেয়ে গ্রামের মানুষ বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। মারা যাচ্ছে। কারণ তারা অসচেতন। তাই আপনাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। অযথা বাইরে ঘোরাঘুরি করবেন না।

ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিনফুজুর রহমান মিলন, কালাই সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ নাজিমউদ্দীন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম মালিক, কালের কণ্ঠ শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান, শুভসংঘের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শরীফ মাহ্দী আশরাফ জীবন, উত্তরা ইউনিভার্সিটির সাবেক সভাপতি আলমগীর হোসেন রনিসহ জয়পুরহাট জেলার শুভসংঘের সেচ্ছাসেবী নূর-ই-আলম হোসেন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, তরিকুল ইসলাম, ফিরোজ হোসেন, আবু তালহা সাঈদ, সানজিদ আহমেদ, সাইদুল ইসলাম, রাকিব হোসেব, কাউসার আহমেদ, ইশতিয়াক আহমেদ, মো. নাছিম, শিমুল, শাহারুল আলম, সেলিম সারওয়ার, কামরুল হাসান, লিটন তালুকদার।

বিষয়: জয়পুরহাট