ঢাকা, শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

চকরিয়ায় পৌর নির্বাচনে দুই মেয়র প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ মঙ্গলবার, ১২:১৪ পিএম
চকরিয়ায় পৌর নির্বাচনে দুই মেয়র প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

আসছে ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কক্সবাজার চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে দুই মেয়র পার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ  এনেছেন। সরকার দলের নৌকা প্রতীকের পার্থী ও বর্তমান মেয়র আলমগীর চৌধুরী তার এক কর্মীকে পেটানোর অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী নারিকেল গাছ প্রতীকের জিয়াবুল হকের বিরুদ্ধে। তবে মেয়রের এ অভিযোগ একেবারেই সত্য নয় বলে দাবি করেন জিয়াবুল হক। পাশাপাশি ইভটিজিংয়ের ঘটনাকে নির্বাচনী সহিংসতায় রূপ দেয়ার চেষ্টা বলে পাল্টা অভিযোগ করেছেন এ স্বতন্ত্র প্রার্থী।

গতকাল সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার আগে নিজ নির্বাচনী কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে নিজ কর্মীকে পেটানোর অভিযোগ এনে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন নৌকার প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী, সহ-সভাপতি ছরওয়ার আলম, সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, যুগ্ন সম্পাদক জামাল উদ্দিন জয়নাল প্রমূখ। এ সময় দলের বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আলমগীর চৌধুরীসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াবুলকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন ধরণের উষ্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। 

এ সময় তারা প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে এবং আলমগীর চৌধুরীর কর্মী ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সবুজের ওপর হামলায় জড়িত স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াবুলসহ তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা রুজু করতে হবে। তা না হলে এর দায়ভার প্রশাসনের ওপর বর্তাবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াবুলকে সন্ত্রাসী হিসেবেও উল্লেখ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী।

সম্মেলন শেষে দলের এবং নিজের কর্মী-সমর্থক নারী-পুরুষকে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন নৌকার প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী। এ সময় লাঠিসোটা ও ঝাঁড়ু শোভা পাচ্ছিল তাদের হাতে। মিছিল থেকে জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও সন্ত্রাসীদের আস্তানাসহ নানা ধরণের শ্লোগান শোনা যায়। এ সময় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এদিন সন্ধ্যার দিকে পৌরসভার কমিউনিটি সেন্টার মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশও করা হয়।

তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াবুল হক সরকার দলের প্রার্থীর করা অভিযোগ মোটেও সত্য নয় বলে দাবি করেছেন।

জিয়াবুল হক তার ফেসবুক পেইজে এই সংক্রান্তে একটি পোষ্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন থেকে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে নারীদের উত্ত্যক্ত করছিল সবুজ নামের বহিরাগত এক ইভটিজার। এ কারণে সে গণপিটুনির শিকার হয়। ইতোপূর্বেও নারী সংঘটিত এমন ঘটনায় এলাকাবাসী তাকে পিটুনি দেয়।

তিনি বলেন, বর্তমানে চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা একেবারে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চলছে। আমার বিজয় নিশ্চিত জেনে প্রতিপক্ষ সরকার দলের প্রার্থী ও তাঁর লোকজনের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। তাই শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করে নির্বাচনী ফায়দা হাসিলের জন্য ইভটিজিংয়ের ঘটনাকে নির্বাচনী সহিংসতায় রূপ দিতে নাটক শুরু করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের চাওয়া হচ্ছে শান্তিপূর্ণ ও শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন। সম্প্রতি নির্বাচনের আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায়ও প্রশাসনের ঊর্ধতন কর্মকর্তারা শতভাগ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা জোর দিয়ে বলেছেন এবং সেই নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করলেও সরকার দলের প্রার্থী চাচ্ছেন যেনতেনভাবে নিজের বিজয় নিশ্চিত করতে। এমন কিছু করার চেষ্টা হলে আমার কর্মী-সমর্থকেরা ঘরে বসে থাকবে না। এর কঠোরতম জবাব দেওয়া হবে।

এ ঘটনায় চকরিয়া থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের বলেন, নৌকার প্রার্থীর অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে। এর পরও কোনপক্ষ যাতে সহিংসতায় না জড়ায় সেজন্য পুলিশের টহল ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে।

চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে। এর পরও কেউ শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশী টহল ব্যবস্থা জোরদার করাসহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।