ঢাকা, শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

১১ বছর আত্মগোপনে থেকে অপহরণের নাটক!

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ মঙ্গলবার, ০১:০৯ পিএম
১১ বছর আত্মগোপনে থেকে অপহরণের নাটক!

হবিগঞ্জ জেলায় এক নারীকে অপহরণের অভিযোগের মামলায় চার ব্যক্তি আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন ১১ বছর ধরে। এদের মধ্যে তিন জনকে জেলও খাটতে হয়েছে। তবে এত বছর পর জানা গেল মামলাটি বানোয়াট। অপহরণ নয় বরং আত্মগোপনে ছিলেন ঐ নারী।

হবিগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ জহুরা খাতুন শিমু নামে ওই নারীকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে। আজ মঙ্গলবার  (১৪ সেপ্টেম্বর) শিমুকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।  আত্মগোপনে থাকা শিমু সদর উপজেলার রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা।
 
হবিগঞ্জ পুলিশ জানায়, শিমুকে অপহরণ করা হয়েছে বলে তার মা আমেনা খাতুন একটি মামলা দায়ের করেন ২০১২ সালের ১১ নভেম্বর। রতনপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ, সুরাব আলী, আব্বাস মিয়া ও হারুন মিয়াকে এ মামলায় আসামি করা হয়। এরপর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। পরে অবশ্য চারজনই উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। কিন্তু নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন তারা।
 
এরপর হবিগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটির বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে আদালত ওই নারীকে উদ্ধারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন। এরপর শিমুর সন্ধানে নামে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ। গতকাল সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে শিমুকে গ্রেফতার করেন থানাটির উপ পরিদর্শক (এসআই) সনক কান্তি দাশ।
 
সনক কান্তি দাশ বলেন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিমু জানিয়েছেন, তাকে কেউ অপহরণ করেননি। পরিবারের পরামর্শে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য তিনি সিদ্ধিরগঞ্জে ১১ বছর আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের একটি কাপড়ের কারখানায় চাকরি করতেন। নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ হতো। বাড়িতে টাকাও পাঠাতেন। শিমু আরও জানান যে প্রতিপক্ষ দুই পরিবারে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। দুই পক্ষই এর আগে পাল্টাপাল্টি মামলা করেছিল।
 
তিনি জানান, মামলাটি মিথ্যা উল্লেখ করে আদালতে দুইবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। কিন্তু বাদীপক্ষের নারাজি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। অবশেষে জানা গেল মামলাটি মিথ্যা। অপরাধ না করেই ভুক্তভোগী হয়েছেন চার আসামি।