এডিটর’স মাইন্ড

সম্রাট কি ফিরবেন আওয়ামী লীগে?

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ১১ মে, ২০২২


Thumbnail সম্রাট কি ফিরবেন আওয়ামী লীগে?

প্রায় দুই বছর সাত মাস কারাভোগের পর আওয়ামী যুবলীগের বহিস্কৃত নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট মুক্তি পেতে যাচ্ছেন। আজ সর্বশেষ মামলায় আদালত তাকে জামিন দিয়েছে। ফলে তার মুক্তির পথে আর কোনো বাধা রইলো না। ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ছিলেন। শুধু যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি বললে ভুল হবে, ঢাকার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তিনি অন্যতম সংগঠক ছিলেন। ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তার আগ পর্যন্ত তিনি ঢাকা মহানগরীতে আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে আলোচিত ছিলেন। অন্যান্য নেতারা যখন দুর্নীতি করেন বা দুর্বৃত্তায়নের সঙ্গে যুক্ত হন, তখন তারা দলেও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন এবং দলের তৃণমূলের সঙ্গে তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিন্তু ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের ক্ষেত্রে ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট দুঃসময়ে সময় আওয়ামী লীগের অন্যতম কাণ্ডারী ছিলেন।

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট আলোচনায় আসেন। এই সময় ঢাকা মহানগরীতে বিপর্যস্থ আওয়ামী লীগের সংগঠিত করার কাজ শুরু করেন ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। কর্মীবান্ধব হওয়ার কারণে দ্রুতই কর্মীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক হয়ে উঠে। নিজে বিভিন্নভাবে যে উপার্জন করেছেন, সেই উপার্জনের অর্থ বেশিরভাগই তিনি ব্যয় করেছেন সংগঠনের জন্য। কর্মীদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করার কারণে তিনি দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার যখন ক্ষমতা ছাড়ে তখন পল্টন এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সহিংসতা ঘটে। সেই সময় বিএনপি-জামায়াতের পরিকল্পনা ছিল আওয়ামী লীগ অফিস জ্বালিয়ে দেওয়া। কিন্তু ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটসহ আরও কয়েকজন নেতা সেদিন সাহসিকতার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতকে প্রতিহত করেছিল। না হলে আওয়ামী লীগের ঢাকায় অস্তিত্ব কতটুকু থাকতো সেটি নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানারকম আলোচনা রয়েছে।

২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেন আসার পর শেখ হাসিনা গ্রেফতার হন। এই সময় ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। শেখ হাসিনার পক্ষে নেতাকর্মীদেরকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিলেন। এভাবেই আস্তে আস্তে রাজনীতিতে তিনি একটি আলাদা বলয় তৈরি করেছেন। এমনকি নেতারাও তার উপর নানা বিষয়ে নির্ভরশীল ছিলেন। এই সম্রাটের এরকম পরিণতি হবে সেই সময় কেউ স্বপ্নেও ভাবেনি। ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতায় আসার পরই শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি ঘোষণা করেন এবং তিনি বলেন যে, দুর্নীতিবাজ যেই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ায় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হয় এবং এই অভিযানে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট গ্রেফতার হয়েছিলেন। এই গ্রেফতারের আগেই অবশ্য তাকে দল বহিষ্কার করেছিল। এখন সম্রাটে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এমন একটি সময় তিনি জামিনে মুক্তি পেলেন যখন আওয়ামী লীগের মধ্যে কাউন্সিল নিয়ে নানামুখী আলোচনা এবং সামনে বিরোধী দলের আন্দোলন। এছাড়াও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে টালমাটাল আন্ডারওয়ার্ল্ড। এরকম একটি পরিস্থিতির মধ্যে রাজনীতিতে সম্রাটের ভূমিকা কি হবে? জামিন পেয়ে কি তিনি নিভৃত জীবন-যাপন করবেন? নাকি রাজনীতির মধ্যে আবার সক্রিয় হবেন। সক্রিয় হলে আওয়ামী লীগের ভূমিকা কি হবে? আওয়ামী লীগই বা তাকে নেবে কিনা? ইত্যাদি নানা প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে। সম্রাটের মুক্তি পাওয়ার পরই হয়তো এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে। 

সম্রাট   যুবলীগ   জামিন   আওয়ামী লীগ   ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট  


মন্তব্য করুন


এডিটর’স মাইন্ড

রাষ্ট্রদ্রোহী

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ০২ Jul, ২০২২


Thumbnail

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত ২৮ জুন, মঙ্গলবার এক ঐতিহাসিক নির্দেশনা দিয়েছেন। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে ডিভিশন বেঞ্চ পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র সম্পর্কে একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেন। এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে হাই কোর্ট বেঞ্চ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে একটি কমিশন গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।  দুই মাসের মধ্যে কমিশনকে রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। এ বিষয়ে আগামী ২৮ আগস্ট শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। হাই কোর্ট বেঞ্চ পদ্মা সেতুকে ‘জাতীয় সম্পদ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এ ধরনের জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করে তাদের জাতীয় শত্রু বলে মন্তব্য করেন হাই কোর্ট। বাংলাদেশে এই প্রথম একটি ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচনের জন্য সর্বোচ্চ আদালত সরাসরি নির্দেশনা দিলেন। এ নির্দেশনার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিলেন আদালত। জাতীয় শত্রু মানে দেশের শত্রু। যারা দেশের বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তারা রাষ্ট্রদ্রোহী। এ ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহীর সর্বোচ্চ সাজা হওয়া উচিত। আদালতের এ নির্দেশনার এক দিন পর বুধবার ইউনূস সেন্টার থেকে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠানো হয়। এ বিবৃতিতে ড. ইউনূস তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ড. ইউনূসের মতো একজন গুণীজনের বিবৃতি অসংলগ্ন, অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বিবৃতিতে দাবি করেছেন, ২০১১ সালে পদত্যাগ করতে বলায় গ্রামীণ ব্যাংকের মৌলিক আইনি মর্যাদা রক্ষার্থে তিনি হাই কোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেছিলেন। এর সঙ্গে চাকরি ধরে রাখার কোনো সম্পর্ক নেই। ওমা! এ কী কথা! রিট পিটিশনটাই হলো ড. ইউনূসকে পুনর্বহালের নির্দেশনা চেয়ে। অথচ এখন তিনি বলছেন, এর সঙ্গে চাকরি ধরে রাখার সম্পর্ক নেই। পুরো বিবৃতি এ রকম জগাখিচুড়িতে ভরপুর। হাই কোর্ট কমিশন গঠনের নির্দেশনার পরপরই এ বিবৃতি দেওয়া হলো। এর কারণ সুস্পষ্ট। আগেভাগে তিনি দায়মুক্তির চেষ্টা করলেন। তার মানে গ-গোল তো কিছু আছে। না হলে এত দিন কোনো প্রতিবাদ নেই, আদালত কমিশন গঠন করতে বলার পর কেন এ বিবৃতি? কমিশন গঠনের আগেই তিনি বলছেন, ‘আমি ষড়যন্ত্রকারী নই’। বাংলাদেশের প্রতিটি অর্জন অনেক ত্যাগের বিনিময়ে। অনেক কষ্টের। আর প্রতিটি অর্জনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নানা ষড়যন্ত্র। কখনো দেশে, কখনো বিদেশে। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র আবার প্রায় সব ক্ষেত্রেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে অর্জনকে বানচাল করার সব চেষ্টা করেছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে খুনি মোশতাক চক্র ষড়যন্ত্র করেছিল। যুদ্ধের মধ্যেই পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন প্রস্তাব নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করেছিল। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ এটা টের পেয়ে মোশতাককে পররাষ্ট্র দফতর থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। ’৭৫-এ জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়েছিল বাঙালির অস্তিত্ব মুছে ফেলার জন্য। এ হত্যার ষড়যন্ত্র হয়েছিল আওয়ামী লীগের ভিতরেই। ২০০৭ সালে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি বানচালের জন্য ষড়যন্ত্র হয়েছিল। সেই ষড়যন্ত্রের কুশীলবরা ছিল আমাদের সুশীলসমাজের একটি অংশ। লোভী ও চতুর সুশীলদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন কিছু কাপুরুষ রাজনীতিবিদ। পদ্মা সেতু নিয়েও ষড়যন্ত্র হয়েছিল। এ ষড়যন্ত্রে নেতৃত্ব দিয়েছিল সুশীল শিরোমণি ড. ইউনূসের নেতৃত্বে দেশের স্বনামধন্য কিছু ব্যক্তি। এসব ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্যই ছিল বাংলাদেশকে থামিয়ে দেওয়া। বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিনাশ। সব ষড়যন্ত্রই রাষ্ট্রদ্রোহিতা। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো, আমরা একটি ষড়যন্ত্রেরও স্বরূপ উন্মোচন করতে পারিনি কিংবা আগ্রহ দেখাইনি। একটি ষড়যন্ত্র আরেকটি ষড়যন্ত্রের ভিত্তি তৈরি করেছে। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে কার কী ভূমিকা তা নিয়ে একটি কমিশন গঠনের দাবি উঠেছিল মুক্তিযুদ্ধের পর। বঙ্গবন্ধু সে সময় দেশ গড়ার কাজেই মনোযোগী ছিলেন। এজন্য কমিশন গঠনে আগ্রহী হননি। জাতির পিতা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছিলেন। দালাল আইন করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এ-দেশি দোসরদের বিচার শুরু করেছিলেন। এ বিচার অব্যাহত থাকলে মুখোশধারী স্বাধীনতাবিরোধীদের চিহ্নিত করা যেত। তাদের আওয়ামী লীগ এবং সরকার থেকে আলাদা করা যেত। কিন্তু সে প্রক্রিয়া নস্যাৎ করে দেয় ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট। ’৭৫-পরবর্তী আওয়ামী লীগের হাল ধরেন শেখ হাসিনা। ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে নিরন্তর কাজ করেন। জনমত গড়ে তোলেন। মানবাধিকারের জন্য আন্দোলন করেন। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। এরপর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরু হয়। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার সম্পন্ন করেন। আত্মস্বীকৃত বেশ কয়েকজন খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যা ষড়যন্ত্রের তদন্ত হয়নি। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ বেশ কয়েকজন নেতা কয়েক বছর ধরে এ ব্যাপারে একটি ‘তদন্ত কমিশন’ গঠনের দাবি করছেন। গত বছর জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক বঙ্গবন্ধু হত্যা ষড়যন্ত্রের তদন্তে একটি ‘জাতীয় কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা জাতির পিতার হত্যার বিচার করেছি, কিন্তু এই নীলনকশার তদন্ত করতে পারিনি।’ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জাতীয় শোক দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আগস্ট ষড়যন্ত্রের নানা বিষয় উত্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ‘এত বড় দল, এত নেতা কেউ এগিয়ে এলো না। একটা প্রতিবাদ মিছিল করতে পারল না কেন?’ আগস্ট ট্র্যাজেডি নিয়ে ভাবলেই অনেক প্রশ্ন মাথায় কিলবিল করে। আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভার সব সদস্য কেন ভেড়ার পালের মতো সুড়সুড় করে বঙ্গভবনে খুনি মোশতাকের আজ্ঞাবহ ভৃত্য হলো? তিন বাহিনীর প্রধানরা কেন পুতুলের মতো নীরব-নিথর থাকলেন? জিয়ার রাষ্ট্রদূত হিসেবে বদলির আদেশ বাতিলে কে বা কারা বঙ্গবন্ধুকে প্ররোচিত করেছিল? ইত্যাদি অনেক প্রশ্ন। আগস্ট ট্র্যাজেডির সময় যারা চারপাশে ছিলেন তাদের অনেকেই চলে গেছেন। আর কিছুদিন পর সত্য অন্বেষণে সাক্ষীও পাওয়া যাবে না। আওয়ামী লীগ সরকার কেন আগস্ট ষড়যন্ত্রের মূল উদ্ঘাটনের জন্য একটি কমিশন এখনো করল না? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাই না। ওয়ান-ইলেভেন ছিল বাংলাদেশে গণতন্ত্র এবং রাজনীতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। এ ষড়যন্ত্রের চেনা কুশীলবরা এখন কেউ বিদেশে, কেউ দেশে বহাল। এ বিষয়ে ১-১১-এর বিরাজনীতিকরণের নীলনকশা বাস্তবায়ন হয়নি শেখ হাসিনার সাহস এবং দৃঢ়তার জন্য। কিন্তু গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে এ ষড়যন্ত্রের স্বরূপ উন্মোচন হয়নি আজও। ড. ইউনূস ওয়ান-ইলেভেনের আগেই কেন নোবেল পুরস্কার পেলেন? তা-ও আবার শান্তিতে! যৌথভাবে (গ্রামীণ ব্যাংক ড. ইউনূস) নোবেল পুরস্কার কীভাবে এক ব্যক্তির অর্জন হিসেবে প্রচার হলো সে-ও এক প্রশ্ন। ড. ইউনূসের নোবেল জয়ের পরপরই রাজনৈতিক দল গঠনের চেষ্টা। সেই রাজনৈতিক দলে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের যোগদান! নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত। জনগণকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পরিকল্পিতভাবে ঠেলে দেওয়া। দুটি প্রথম সারির দৈনিকে (একটি বাংলা, একটি ইংরেজি) বিরামহীনভাবে রাজনীতিবিদদের চরিত্রহনন। তারপর ড. ফখরুদ্দীনের মতো এলিট আমলাকে সিংহাসনে বসানো। সবকিছু নিখুঁত নীলনকশার পরিপাটি বাস্তবায়ন। এরপর ড. কামাল হোসেনের সাংবিধানিক ফতোয়া দিয়ে অবৈধ অনির্বাচিত সরকারকে বৈধতা দেওয়া। দুই সম্পাদকের বিরামহীনভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার তোষণ। একজন স্বনামে কলাম লিখলেন, ‘দুই নেত্রীকে সরে যেতেই হবে’। অন্যজন গোয়েন্দা সংস্থার চিরকুট যাচাই-বাছাই না করেই শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের পটভূমি তৈরি করলেন। সব যেন এক সুতোয় মালা গাঁথার মতো। দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে ১-১১-এর ঘটনার তদন্ত কমিশন গঠিত হওয়া প্রয়োজন ছিল; কিন্তু হয়নি। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত না হওয়ার জন্যই খুনি মোশতাক জাতির পিতাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল। ঠিক তেমনি, ১-১১-এর কুশীলবদের ব্যাপারে তদন্ত না হওয়ার কারণেই এরা পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র করার সাহস পেয়েছিল। ১৯৭১, ১৯৭৫, ২০০৭ এবং ২০১১-এর ষড়যন্ত্র একসূত্রে গাঁথা। এসব ষড়যন্ত্র আসলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। আবার ’৭১ ও ’৭৫-এর ষড়যন্ত্রের কুশীলবরা যেমন ছিল এক ও অভিন্ন। তেমনি ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলবরাই পদ্মা সেতু না হওয়ার ষড়যন্ত্রে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। ’৭১ ও ’৭৫-এর ষড়যন্ত্রকারীরা যুদ্ধাপরাধী, খুনি। আর ২০০৭ ও ২০১১-এর ষড়যন্ত্রকারীরা হলো গণতন্ত্রবিরোধী, রাষ্ট্রদ্রোহী।

পদ্মা সেতুতে ড. ইউনূস কেন বাধা দিয়েছিলেন? কেনই বা তাঁর সঙ্গে ১-১১-এর কুশীলবরা যোগ দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু নির্মাণে ষড়যন্ত্র নিয়ে যতবার কথা বলেছেন ততবার ড. ইউনূস প্রসঙ্গ এসেছে। ড. ইউনূস ছিলেন গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের চাকরির একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা থাকে। গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নির্ধারিত বয়স অতিক্রান্ত হয়েছিল বহু আগেই। বাংলাদেশ ব্যাংক তাঁকে অবসরে পাঠায়। ড. ইউনূস বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে যান। সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত সঠিক। এরপর ড. ইউনূস শুরু করেন দেনদরবার-তদবির। তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও টেলিফোন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। প্রচ্ছন্ন ধমকও দেন। কিন্তু হিলারি-ইউনূস কেউই সম্ভবত বুঝতে পারেননি শেখ হাসিনা অন্য ধাতুতে গড়া। তিনি শেখের বেটি। এসব চাপের কাছে নতিস্বীকার তিনি কখনই করবেন না। এর পরই অন্য চাপ। সে চাপটি হলো পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ। মহাজনী ব্যবসায় বেড়ে ওঠা ড. ইউনূস জানতেন বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ হলে অন্য দাতারাও সরে যাবে। আমার মনে হয়, ড. ইউনূস বুঝতে পেরেছিলেন শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকলে আর গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে ফিরতে পারবেন না। এজন্য তিনি শেখ হাসিনা সরকারকেই সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে নেমেছিলেন। গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ হারিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদ দখলের মাধ্যমে প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন। ঘটাতে চেয়েছিলেন আরেকটি ১-১১। পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ ছিল আসলে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র। ২০১২ সালের ২৯ জুন বিশ্বব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে ঋণচুক্তি বাতিল করে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দেড় বছর আগে। এ সময় যদি আমরা ‘মাইনাস ফরমুলার প্রবক্তা’ দুটি সংবাদপত্রে চোখ রাখি, দেখব দুর্নীতি-অনিয়ম নিয়ে নানা গল্পকাহিনি। ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ড. শাহদীন মালিকসহ আরও কতিপয় সুশীল পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি প্রমাণে কলমযোদ্ধা হয়ে গেলেন! পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংক সরে আসা নিয়ে সে সময় কে কী বলেছেন তা ইতোমধ্যে দেশের গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়েছে। সে প্রসঙ্গ এখানে আর উল্লেখ করতে চাই না; কিন্তু এই সংঘবদ্ধ সাঁড়াশি আক্রমণের লক্ষ্য ছিল একটাই- সরকারকে দুর্নীতিবাজ প্রমাণ। এ সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারবে না- এটি প্রমাণের চেষ্টা। সুশীলরা ক্ষমতায় আসে রাজনৈতিক শক্তির ঘাড়ে চড়ে। ২০০৭ সালে সুশীলরা বিএনপির কাঁধে সওয়ার হয়ে ক্ষমতা দখল করেছিল। ইয়াজউদ্দীনকে দিয়ে একের পর এক এমন সব সিদ্ধান্ত সে সময় বিএনপি নিয়েছিল, যাতে ন্যূনতম সুষ্ঠু নির্বাচনের পথও রুদ্ধ হয়েছিল। ২০১২ সালেও সুশীলরা আরেকটি ‘অনির্বাচিত’ অধ্যায় শুরুর নীলনকশা করেছিল বিএনপিকে মাথায় রেখে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ সময় মাঠে নামলেন নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি নিয়ে। বক্তৃতায় বলতে শুরু করলেন, এ সরকারের আমলে পদ্মা সেতু হবে না। পদ্মা সেতু জোড়াতালি দিয়ে হচ্ছে। এমন অবাস্তব, হাস্যকর কথা বলে তিনি সুশীলদের ক্রীড়নকে পরিণত হলেন।

২০১৩ সালের সব সিটি করপোরেশনে জয়ী হওয়ার পর বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস যখন তুঙ্গে ঠিই তখনই বেগম জিয়া জাতীয় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেন। পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সার্টিফিকেট আর বেগম জিয়ার নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা- দুইয়ে মিলে সুশীলদের জন্য মঞ্চ প্রস্তুত। ওয়ান-ইলেভেনের আগে দুই সুশীল সম্পাদক যা করেছিলেন, ঠিই একই ভূমিকায় আবার মাঠে নামলেন। কিন্তু তাঁরা বোধহয় কার্ল মার্কসের অমর বাণীটির কথা ভুলে গিয়েছিলেন। মার্কস বলেছিলেন- ‘ইতিহাসে একই ঘটনার একই রকম পুনরাবৃত্তি হয় না।’ ২০১৪ সালের নির্বাচন হলো। ২০০৭-এর মতো আরেকটি অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতা দখল করতে পারল না। ফলে ‘পদ্মা সেতু’ ট্রাম্পকার্ড ব্যবহার করে একটি নির্বাচিত সরকারকে হটানোর চক্রান্ত ভেস্তে গেল। এ ষড়যন্ত্র ভেস্তে গেল শুধু একজন মানুষের জন্য। তাঁর নাম শেখ হাসিনা। ওয়ান-ইলেভেনের মতো এ সময়ও আওয়ামী লীগের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলেছিলেন, ‘নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করা যাবে না।’ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যক্তি বিশ্বব্যাংকের শর্ত মেনে ঋণচুক্তি আবার চালুর জন্য ওয়াশিংটনে ছুটে গিয়েছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনার সুবিধা হলো, তিনি ভবিষ্যৎটা খুব ভালো দেখতে পান। তিনি জানতেন কারা পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন। কেন করছেন। ২০১২ সালের ৪ জুলাই সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মতামত উপেক্ষা করে তিনি জাতীয় সংসদে নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন। ৮ জুলাই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। ৯ জুলাই এটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। এরপর অসম্ভবকে সম্ভব করার এক অবিশ্বাস্য যুদ্ধ। এ কারণেই ২৯ জুন বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ সেতুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের আবেগ, আমাদের সৃজনশীলতা, আমাদের সাহসিকতা, সহনশীলতা, আমাদের প্রত্যয়। শেষ পর্যন্ত অন্ধকার ভেদ করে আমরা আলোর মুখ দেখেছি।’ সুশীলদের বিরুদ্ধে এটি ছিল শেখ হাসিনার দ্বিতীয় বিজয়। এ সুশীলরাই ২০০৭ সালে শেখ হাসিনাকে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ বানানোর এক কুৎসিত নোংরা খেলায় মেতেছিলেন। একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। রাজনীতি থেকে মাইনাস করতে চেয়েছিল। ঠিক পাঁচ বছর পর ওই একই চক্র ‘পদ্মা সেতু’ নাটক করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য বঙ্গবন্ধু পরিবারকে দুর্নীতির কালিমা দিতে চেয়েছিল। শেখ হাসিনাকে আবার রাজনীতি থেকে মাইনাস করতে চেয়েছিল। কিন্তু ১-১১-এর সময় শেখ হাসিনা যেমন করে সততার আলোয় সব অসত্যের অন্ধকার দূর করেছিলেন, তেমনি ২০১২ সালেও তিনি হিমালয়ের মতো সাহসী হয়ে উঠেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি প্রমাণ করেছিলেন তিনিই সত্য।

এ দেশে কিছু মানুষ আছে যারা সারাক্ষণ অন্যের অনিষ্ট চায়। নিজেদের হাজারো পাপ, কিন্তু তারা ব্যস্ত অন্যের খুঁত খোঁজায়। জনগণের মঙ্গল, কল্যাণ, ভালো- সবকিছু তাদের খুব অপ্রিয়। এ গোষ্ঠী দেশে গণতন্ত্র চায় না। উন্নয়ন দেখলেই দুর্নীতি খোঁজে। বাংলাদেশ স্বাবলম্বী হয়ে মাথা তুলে দাঁড়ালে তারা হাহাকার করে। বিদেশি প্রভুদের নির্দেশই তাদের জন্য অমর বাণী। পদ্মা সেতু বাংলাদেশের সামনে এ দেশের মুখোশ উন্মোচন করে দিয়েছে। পদ্মা সেতু প্রমাণ করে দিয়েছে তারা সত্য বলেন না। তারা দেশের মঙ্গল চান না। উন্নয়ন চান না। আমরা আশা করি শিগগিরই কমিশন গঠিত হবে। পদ্মা সেতু উন্মোচনের মতো ভদ্রলোকের মুখোশ পরা রাষ্ট্রদ্রোহীদের চেহারা উন্মোচিত হবে। সেদিন না হয় আমরা আরেকটা উৎসব করব।

লেখক : নির্বাহী পরিচালক, পরিপ্রেক্ষিত।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।

রাষ্ট্রদ্রোহী   পদ্মা সেতু   ড. ইউনূস  


মন্তব্য করুন


এডিটর’স মাইন্ড

মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে নতুন গুঞ্জন

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ০১ Jul, ২০২২


Thumbnail মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে নতুন গুঞ্জন

গতকাল জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট পাস হয়েছে। আজ নতুন অর্থবছর শুরু হলো। বাজেট পাস হওয়ার পরপরই রাজনৈতিক অঙ্গনে মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে নতুন গুঞ্জন শুরু হয়েছে। নির্বাচনের দেড় বছর আগে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভাকে আরো শক্তিশালী করতে চান এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরকে মন্ত্রিসভায় আনতে চান, এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন আলোচনায় মন্ত্রিসভার রদবদলের বিষয়টি আবার সামনে চলে এসেছে। অবশ্য মন্ত্রিসভার এই রদবদলের গুঞ্জন নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সময় মন্ত্রিসভার রদবদলের কথা শোনা গেছে কিন্তু শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভার বড় কোন রদবদল হয়নি।

২০১৮ সালের নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর ২০১৯ সালে মন্ত্রিসভা গঠন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠনে চমক দেখান। দলের হেভিওয়েট সিনিয়র নেতাদেরকে বাদ দিয়ে একেবারে তরুণ এবং আনকোরাদের দিয়ে এই মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছিলো। এমনকি মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছিলেন দলের দুঃসময়ের সাথী হিসেবে পরিচিত বেগম মতিয়া চৌধুরীর মতো সৎ রাজনীতিবিদও। তবে ২০১৯ সালের গঠিত মন্ত্রিসভা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি জনগণের, এমনকি আওয়ামী লীগের। মন্ত্রিসভার ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। অনেকে মনে করেন যে, শেখ হাসিনা একাই আসলে সবকিছু সামাল দিচ্ছেন। মন্ত্রীদের অধিকাংশই ইতিবাচক কোনো কাজ তো করছেনই না বরং তাঁরা বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্ক তৈরি করছেন। তাদের ব্যর্থতার কারণে সরকার সমালোচিত হচ্ছে। এরকম পরিস্থিতিতে প্রতি ৬ মাস পরপরই মন্ত্রিসভায় রদবদল দিয়ে নানা রকম আলোচনা এবং গুঞ্জন শোনা যায়। কিন্তু কখনোই মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল হয় না।

প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার ছোটখাটো কিছু পরিবর্তন করেছেন কয়েকদফা। একবার তিনি মন্ত্রিসভার দফতর পরিবর্তন করেন। সেসময় তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে এডভোকেট শ ম রেজাউল করিমকে সরিয়ে মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন এবং আরও দুই একজন মন্ত্রীর দপ্তর সুনির্দিষ্টকরণ করেছিলেন। এরপর ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মৃত্যুবরণ করলে সেই জায়গায় নতুন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী দেয়া হয়। ড. শামসুল আলমের চাকরির মেয়াদ শেষ হলে তাকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো। এর বাইরে মন্ত্রিসভার বড় ধরনের রদবদল হয়নি। বিভিন্ন সময়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রীসহ বেশকিছু মন্ত্রীর ব্যর্থতার অভিযোগ এসেছে এবং আওয়ামী লীগের মধ্যেই রদবদলের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে পথে হাঁটেননি।

মন্ত্রিসভার রদবদল একান্তই প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক এখতিয়ার। প্রধানমন্ত্রী যখন যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে মন্ত্রিসভার পরিবর্তন করতে পারেন। তবে তিনি মন্ত্রিসভার বড় ধরনের পরিবর্তন করেননি এখন পর্যন্ত। তবে আওয়ামী লীগের মধ্যে থেকে মন্ত্রিসভা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে তীব্র। আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা মনে করেন যে, নির্বাচনের আগে একটি সচল মন্ত্রিসভা দরকার। মন্ত্রিসভায় রাজনৈতিক পরিচিত মুখদের অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। অনেকেই বর্তমান মন্ত্রিসভাকে একটি টেকনোক্র্যাট মন্ত্রিসভা মনে করেন। যে সমস্ত মন্ত্রীরা আছেন তাদের অধিকাংশেরই কোনো রাজনৈতিক অবস্থান নেই এবং রাজনৈতিক বিষয়ে তারা কথাবার্তা বলেন না। এ কারণেই বাজেট পাস হওয়ার পরপরই নতুন করে মন্ত্রিসভার রদবদলের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন এবং বাজেট পাস করার পর অনেকেই মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী হয়তো মন্ত্রিসভায় একটি রদবদল করবেন। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এগুলো শুধু আকাঙ্ক্ষার কথা। মন্ত্রিসভায় রদবদল আদৌ হবে কিনা, সেটি প্রধানমন্ত্রীর একক এখতিয়ারাধীন বিষয় এবং তিনি এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, অন্য কেউ নয়।

মন্ত্রিসভা  


মন্তব্য করুন


এডিটর’স মাইন্ড

খালেদার সাবেক সহকারী প্রেস সচিবও মিথ্যাবাদী বললেন ফখরুলকে

প্রকাশ: ০২:০০ পিএম, ২৬ Jun, ২০২২


Thumbnail খালেদার সাবেক সহকারী প্রেস সচিবও মিথ্যাবাদী বললেন ফখরুলকে

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছিলেন যে পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার এই দাবির সমর্থনে বিএনপির কোনো নেতাই এখন পর্যন্ত এগিয়ে আসেনি। উল্টো বেগম খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখনকার তার সহকারী প্রেস সচিব মহিউদ্দিন খান মোহন এক নিবন্ধে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। 

তিনি তার নিবন্ধে লিখেছেন, 'অত্যন্ত দুঃখজনক হলো, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগ মুহূর্তে বিরোধী দল বিএনপির পক্ষ থেকে একটি অহেতুক বিতর্কের অবতারণা করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, পদ্মা সেতুর প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বলে নেওয়া দরকার মির্জা আলমগীর সাহেব যে সময়ের কথা বলেছেন, তখন আমি প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহকারী প্রেস সচিব ছিলাম। ওই মেয়াদে বেগম খালেদা জিয়া চারবার মুন্সীগঞ্জ জেলায় গিয়েছিলেন। একবার মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে ‘রজতরেখা’ নামে একটি গুচ্ছগ্রাম উদ্বোধন করতে, দ্বিতীয়বার মুক্তারপুরে, তৃতীয়বার লৌহজংয়ে নতুন উপজেলা ভবন উদ্বোধন করতে এবং চতুর্থবার গজারিয়ায় ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফ কলেজের ভিত্তি স্থাপন করতে। এর কোনোবারই তিনি মাওয়া পয়েন্টে পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেননি। সবচেয়ে বড় কথা হলো, তার সহকারী প্রেস সচিব হওয়ায় তিনি মুন্সীগঞ্জ সফরে গেলে আমি তাঁর সফরসঙ্গী হতাম। বেগম খালেদা জিয়া পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন এমন কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে আমি কথা বলেছি তাঁর তৎকালীন সহকারী একান্ত সচিব মো. আবদুল মতিনের সঙ্গে। তিনি ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দেখভাল করতেন। মতিন সাহেবও তেমন কোনো ঘটনার কথা স্মরণ করতে পারলেন না।' 

তার এই নিবন্ধে তিনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রশ্ন করেছেন যে, তিনি এমন একটি ভিত্তিহীন তথ্য কোথায় পেলেন? মহিউদ্দিন খান মোহনের এই লেখা থেকে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দাবি মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। এখন পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর খালেদা জিয়া স্থাপন করেছেন এরকম বক্তব্যের দাবিদার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পাশে কেউ নেই। আর সত্য কথা বলতে মিথ্যার সঙ্গে কেউ থাকেও না। বর্তমানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অবস্থা তারই প্রমাণ। 

পদ্মা সেতু   বিএনপি   মির্জা ফখরুল  


মন্তব্য করুন


এডিটর’স মাইন্ড

পদ্মা সেতু: ক্যারিয়ার বদলে দিলো এক আমলার

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ২৫ Jun, ২০২২


Thumbnail

আজ আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হলো। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। খন্দকার আনোয়ার পদ্মা সেতুর কারণেই তার ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছেন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। পদ্মা সেতু নিয়ে ঘটনাপ্রবাহের আগে তিনি অনেকটাই আলোচিত এবং উপেক্ষিত ছিলেন। ১৯৮৩ সালের ব্যাচের কর্মকর্তা খন্দকার আনোয়ার। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এই ব্যাচের সবচেয়ে আলোচিত আমলা ছিলেন নজরুল ইসলাম খান। তিনি প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যখন শেখ হাসিনা বিরোধী দলের নেতা। এ কারণে নজরুল ইসলাম খান অনেক বিপদসংকুল পরিস্থিতির মধ্যে ছিলেন, অনেক কঠিন সময় পার করেছেন। এমনকি তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকার তাকে তার প্রাপ্য গাড়িটিও দেননি। এরকম কষ্ট, নির্যাতন এবং পদোন্নতি বঞ্চিত থাকা অবস্থায় ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে এন আই খান প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত একান্ত সচিব, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এই ব্যাচের সম্পর্কে একটি কথা প্রচলিত ছিল যে, এই ব্যাচকে বলা হতো টিকচিহ্ন ব্যাচ। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ যখন প্রথম উপজেলা ব্যবস্থা চালু করেন তখন উপজেলায় ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য তড়িঘড়ি করে একটি বিসিএস পরীক্ষার আয়োজন করা, যে বিসিএস ব্যাচটি টিকমার্ক দিয়ে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। তখন কথা ছিলো যে, শুধুমাত্র তারা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু পরবর্তীতে এই ব্যাচের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিট করা হয় এবং এই রিটে তারা বিজয়ী হয়ে প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে যুক্ত হয় ৮৩ এর এই ব্যাচটি। এই ব্যাচের অনেক মেধাবী কর্মকর্তা ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে অনেকেই এই ব্যাচ থেকে নানাভাবে আলোচিত হন। আবার এই ব্যাচ থেকেই মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট জালিয়াতি বা বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক ব্যক্তি স্বেচ্ছায় অবসরেও গিয়েছিলেন। এসব আলোচনা-সমালোচনা বিতর্কের উর্ধ্বে ছিলেন খন্দকার আনোয়ার। তিনি নিভৃতে কাজ করতেন। কিন্তু যখন পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয় এবং তৎকালীন যোগাযোগ সচিব মোশারফ হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করা হয়, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, ঠিক সেই সময়ে খন্দকার আনোয়ারকে দেওয়া হয় সেতু বিভাগের দায়িত্বে।

খন্দকার আনোয়ার একজন সৎ, পরিশ্রমী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অনেকেই তাকে কোনো ঘরোনার নয়, কর্ম পাগল একজন ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করতো। কিন্তু সেতু মন্ত্রণালয়ের পান তিনি পদ্মা সেতু নিয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় মধ্যে। এরকম পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়ে তিনি তার ক্যারিয়ারের সেরা সময়টি পার করেন। মূলত তার বিচক্ষণতা, কর্ম তৎপরতা এবং সততার কারণে পদ্মা সেতু নিয়ে নতুন কোনো বিতর্ক হয়নি বলে অনেকে মনে করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন সেই আস্থার প্রতিদান তিনি খুব ভালমতোই দেন। আর এই এটিই তার ক্যারিয়ার বদলে দেয়। পদ্মা সেতুর সাফল্যের কারণেই সেতু বিভাগ থেকে তিনি মন্ত্রিপরিষদ সচিব হন, যদিও আমলাতান্ত্রিক হিসাব-নিকাশে তার মন্ত্রিপরিষদ সচিব হওয়ার কথা ছিল না। মন্ত্রিপরিষদ সচিব হওয়ার পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর আরও আস্থাভাজন হন। এজন্য তিনি দুদফা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন। একজন সৎ, পরিশ্রমী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি পরিচিত। তার সততা, যোগ্যতাই তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। যেটি সম্ভব হয়েছে পদ্মা সেতুর কারণে।

পদ্মা সেতু   মন্ত্রিপরিষদ সচিব   খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম  


মন্তব্য করুন


এডিটর’স মাইন্ড

সব হারিয়ে সব পাওয়ার গল্প

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ২৫ Jun, ২০২২


Thumbnail সব হারিয়ে সব পাওয়ার গল্প

আজ বাংলাদেশের গৌরবের দিন। অহংকারের দিন। বাংলাদেশ যত দিন বেঁচে থাকবে তত দিন ২৫ জুনকে স্মরণ করবে। আত্মমর্যাদা ও সাহসের উন্মোচনের দিন হিসেবে উদ্যাপন করবে। পদ্মা সেতু যতটা না সামষ্টিক অর্জন, তার চেয়ে বেশি শেখ হাসিনার নেতৃত্বের স্বীকৃতি। তাঁর দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মনোবল, জনগণের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক পদ্মা সেতু। একজন নেতা কী অসাধ্য সাধন করতে পারেন তার বড় বিজ্ঞাপন পদ্মা সেতু। প্রশ্ন উঠতেই পারে, পদ্মা সেতু কি শেখ হাসিনার সেরা অর্জন? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের একটু পেছনে ফিরে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবন-দর্শন ও রাজনীতি খানিকটা হলেও বিশ্লেষণ করতে হবে।

দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে আওয়ামী লীগের মতো জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতা শেখ হাসিনা। ২৩ জুন আওয়ামী লীগ ৭৩ বছরে পা রাখল। শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের ৭৩ বছরের আয়ুষ্কালে শেখ হাসিনাই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ৪১ বছর। আওয়ামী লীগের মতো একটি সংগঠনের শুধু প্রধান নেতা হিসেবে নয়, সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবেও শেখ হাসিনা প্রতিষ্ঠিত। আওয়ামী লীগে তাঁর কোনো বিকল্প নেই। এটি যে কোনো রাজনীতিবিদের জন্য অনন্য অর্জন। টানা ৪১ বছর দলের নেতা-কর্মীদের কাছে জনপ্রিয় থাকা কঠিন কাজ। সে কঠিন কাজটিই তিনি করেছেন অবলীলায়। এজন্যও শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে অমরত্ব পাবেন।

তবে আওয়ামী লীগ বা দেশের রাজনীতিতে তাঁর অপরিহার্য হয়ে ওঠার গল্পটা খুব সোজাসাপটা ছিল না। দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে। ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা দেশে ফিরেছিলেন এক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে। সামরিক শাসনের শৃঙ্খলে গণতন্ত্র বন্দি। বুটের তলায় পিষ্ট মানুষের অধিকার। আওয়ামী লীগ বিভক্ত, ক্ষতবিক্ষত। দেশে ফিরেই শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের ডাক দিলেন। মানুষের মুক্তির কথা বললেন। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গড়ে তুললেন গণজাগরণ। শেখ হাসিনা যদি বাংলাদেশে না আসতেন তাহলে বাংলাদেশ হয়তো আরেকটি পাকিস্তান হতো। অথবা ব্যর্থ, পরাজিত এক রাষ্ট্র হিসেবে ধুঁকতে থাকত। দেশে সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা শেখ হাসিনার আরেকটি বড় অর্জন। অং সান সু চি পারেননি। ব্যর্থ হয়েছেন বেনজির ভুট্টো। মিয়ানমারে সু চি সামরিক জান্তার সঙ্গে সমঝোতা করে শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রকেই বলি দিয়েছেন। কিন্তু শেখ হাসিনা সামরিক জান্তাদের বিরুদ্ধে গণজাগরণ সৃষ্টি করেছেন। শেষ পর্যন্ত উর্দিতন্ত্রের কবর দিয়েছেন চিরতরে। একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রধান নেতা হিসেবেও শেখ হাসিনা অবলীলায় ইতিহাসে অমরত্ব পাবেন।

গণতন্ত্রের জন্য একটি শক্তিশালী বিরোধী দল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতাসীন দলকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখার জন্য একটি কার্যকর শক্তিশালী বিরোধী দল জরুরি। ১৯৮৬ ও ’৯১ সালের সংসদে আওয়ামী লীগ ছিল বিরোধী দল। শেখ হাসিনা ছিলেন বিরোধী দলের নেতা। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে ছিল এজন্যই গণতন্ত্রের পথ সুগম হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ কেবল সরকারের সমালোচনা করেনি। বিকল্প পথ দেখিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে সফল বিরোধী দল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ দেখিয়েছে বিরোধী দলের কাজ কী। বিরোধী দলকে কীভাবে রাজনীতি করতে হয়। এজন্য এ দেশের রাজনীতির ইতিহাসে চিরকাল বেঁচে থাকবেন শেখ হাসিনা। দলে-বাইরে নানা প্রতিকূলতা পার হয়ে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ২১ বছর পর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায়। এ সময় তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায়ও এমন কিছু পদক্ষেপ নেন, যার যে কোনো একটির জন্যই তিনি অমরত্ব পেতে পারেন। গঙ্গার পানিচুক্তি ছিল ১৯৯৬-২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সাফল্যের প্রথম পালক। পার্বত্য শান্তির মতো একটি উদ্যোগ অন্য কোনো দেশের সরকারপ্রধান গ্রহণ করলে সেজন্য নিশ্চিত নোবেল শান্তি পুরস্কার পেতেন। কিন্তু পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়েও শেখ হাসিনা ওই অঞ্চলের মানুষের ভালোবাসা ছাড়া কিছুই পাননি। তবে পার্বত্য শান্তিচুক্তির জন্যও শেখ হাসিনা অমরত্ব পাবেন। ’৯৬ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে কল্যাণকামী রাষ্ট্রের অবয়ব দিতে শুরু করেন। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, কমিউনিটি ক্লিনিক, একটি বাড়ি একটি খামার, আশ্রয়ণ ইত্যাদি প্রতিটি উদ্যোগ মানবিক বাংলাদেশ গঠনের একটি করে স্তম্ভ। এ উদ্যোগগুলোর জন্য শেখ হাসিনা চিরকাল বেঁচে থাকবেন। দরিদ্র প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আপন মানুষ হয়ে উঠেছিলেন তিনি এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে। শেখ হাসিনার মতো বাংলাদেশে আর কেউ কি এত দরিদ্রবান্ধব কর্মসূচি নিয়েছিল? এ অর্জনগুলো খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এ সবই হলো আর্থসামাজিক উন্নয়ন। অনেক সময় আর্থসামাজিক উন্নয়ন অবকাঠামো উন্নয়নের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ২০০১ সালে বাংলাদেশে প্রথম শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন শেখ হাসিনা। সে বছর বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসে। শুরু হয় সংখ্যালঘু ও বিরুদ্ধমতের ওপর তান্ডব। ১ অক্টোবর থেকে সারা দেশে জ্বালাও-পোড়াও, হত্যা-সন্ত্রাসের এক ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এ সময় বাংলাদেশ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাহসী এক লড়াকু যোদ্ধাকে দেখে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যেভাবে নিপীড়ন-নির্যাতনের মধ্যে শেখ হাসিনা অটল, দৃঢ়চিত্তে দলের হাল ধরেছেন, নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সেটিও তাঁর বড় এক অর্জন। ২০০১-এর মাস্টারপ্ল্যান ছিল আওয়ামী লীগকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা। আর এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত রূপ ছিল ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা। অলৌকিকভাবে সেদিন বেঁচে যান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। এ ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েও হাল ছাড়েননি শেখ হাসিনা। বরং জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরও সোচ্চার হয়েছেন। এ সাহস আর অকুতোভয় চরিত্রের কারণেই শেখ হাসিনা অমরত্ব পাবেন। সেদিন যদি তিনি ভয় পেয়ে গুটিয়ে যেতেন তাহলে আজকের বাংলাদেশ আমরা পেতাম না। দানবের বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস খুব কম মানুষের থাকে। তার চেয়েও কম মানুষ এ লড়াইয়ে জয়ী হয়। শেখ হাসিনা সে রকমই এক বিরল বিজয়ী যোদ্ধা। ওয়ান-ইলেভেনের সময়টা ছিল বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা। সে পরীক্ষায় জয়ী হয়েছেন মাত্র একজন রাজনীতিবিদ। তাঁর নাম শেখ হাসিনা। এক-এগারো ছিল বাংলাদেশে বিরাজনীতিকরণের সবচেয়ে পরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদি নীলনকশা। সেনাবাহিনীর ঘাড়ে সওয়ার হয়ে সুশীল রাজত্ব কায়েম হয়েছিল বাংলাদেশে। বাংলাদেশের রাজনীতির দৈন্যের করুণ চেহারাটা সে সময় উন্মোচিত হলো। কেউ পালিয়ে গেলেন, কেউ আপস করলেন, কেউ দিগ্ভ্রান্ত, হতবিহ্বল। রুখে দাঁড়ালেন একজন। শেখ হাসিনা। সেদিন যদি নির্বাচনের দাবিতে, দ্রুত জনগণের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য তিনি সোচ্চার না হতেন, তাহলে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হতো অধিকারহীন এক করপোরেট দাসতন্ত্র। এ সময় শেখ হাসিনার ওপর নেমে এসেছিল অত্যাচারের স্টিম রোলার। একের পর এক বানোয়াট মামলা, নির্যাতনে এতটুকু টলাতে পারেনি সাহসী এই রাষ্ট্রনায়ককে। এ সময় দেশের মানুষ দেখেছে ক্লান্তিহীন লড়াকু এক নেতাকে। একাই যুদ্ধ করে হারিয়েছেন ক্ষমতালিপ্সুদের। ফিরিয়ে এনেছেন গণতন্ত্র।

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বর্তমান টানা ১৩ বছরের শাসনামল নিয়েই চর্চা বেশি হয়। অতীতে তাঁর সংগ্রাম, অসম্ভবের বিরুদ্ধে একাকী যুদ্ধ অনেকটাই আড়ালে থেকে যায়। কিন্তু ১৯৮১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ শেখ হাসিনাকে করেছে অনন্য, অসাধারণ, তুলনাহীন। সোনা যেমন পুড়েই খাঁটি হয়, শেখ হাসিনাও ঘাত-প্রতিঘাতেই আজকে রাষ্ট্রনায়ক থেকে বিশ্বনেতা হয়েছেন। এ ১৩ বছরে ১০০ কারণে শেখ হাসিনা অমরত্ব পাবেন। ১০০ কারণে আগামী ১০০ বছরেও বাংলাদেশ শেখ হাসিনার মতো একজন নেতা পাবে না। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার সম্পন্ন করে রায় কার্যকর। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে জাতির কলঙ্ক মোচন। বিডিআর বিদ্রোহ দমন। কোন অর্জনকে খাটো করবেন? সমুদ্রে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠা। ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান। ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মানবিক বিবেচনায় আশ্রয় দান। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণ। প্রায় সব সূচকে ভারত-পাকিস্তানকে পেছনে ফেলা। টানা প্রবৃদ্ধি। কোন অর্থনৈতিক অর্জনকে আপনি উপেক্ষা করবেন?

পদ্মা সেতু নিঃসন্দেহে অনন্য, অসাধারণ এক অর্জন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল কিংবা রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প, একটিও কম? কবে বাংলাদেশ একসঙ্গে এতগুলো স্বপ্ন পূরণের পথে হেঁটেছে।

পদ্মা সেতু ব্যতিক্রম এবং আলাদা মর্যাদায় অন্য কারণে। কেবল একটি নান্দনিক আধুনিক অবকাঠামোর জন্য নয়, পদ্মা সেতু বাংলাদেশকে অপমানের প্রতিশোধ। আমাদের সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক। পদ্মা সেতু সব সময় আমার আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ মনে হয়। বাংলাদেশের দামাল ছেলেরা যেমন প্রায় নিরস্ত্র অবস্থায় যুদ্ধ করে একটা দেশ স্বাধীন করেছে; তেমনি দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রামরত একটা দেশ বিশ্বের অন্যতম চিত্তাকর্ষ এক সেতু বানিয়ে ফেলল নিজের টাকায়। এর পেছনে শক্তিটা কী? শক্তিটা হলো সাহস। এ সাহস তাকে দিয়েছে অফুরন্ত প্রাণশক্তি, সবকিছু জয়ের অদম্য স্পৃহা।

শেখ হাসিনার জীবনের গল্পটা সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়েও রোমাঞ্চকর। মাঝেমধ্যে তা রূপকথার চেয়েও বিস্ময়কর। একজন মানুষ যদি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়, লক্ষ্য অবিচল থাকে, চিন্তা পরিচ্ছন্ন হয় তাহলে যে তিনি বিজয়ী হবেন শেখ হাসিনাই তার প্রমাণ। ’৭৫-এ মানুষটি সব হারিয়েছেন। বাবা, মা, ভাই সবাইকে। এ রকম একজন মানুষের তো উন্মাদ হয়ে যাওয়ার কথা। অথবা হতাশার গহিন অরণ্যে হারিয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু শেখ হাসিনা দেখালেন সব হারিয়েও সব পাওয়া যায়। মনোবল, সততা ও নিষ্ঠা দিয়ে কাজ করলে অসম্ভব শব্দটাকে সহজেই পরাজিত করা যায়। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে জাতির পিতাকে পুনর্বার প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এ দেশে আর কেউ কোনো দিন বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে পারবে না।

’৭৫-এর পর কজন ভেবেছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আবার তাঁর মর্যাদার আসনে বসবেন। কেউ কি ভেবেছিল বাংলাদেশ আবার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের পথে হাঁটবে? ’৮১ সালে যখন শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলেন অসহায়, রিক্ত, সিক্ত অবস্থায় তখন কজন ভেবেছিল তিনি হয়ে উঠবেন বাঙালির কান্ডারি। তার হাত ধরেই বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে পাবে মর্যাদার আসন। ’৯১ সালের নির্বাচনে যখন আওয়ামী লীগ হেরে গেল, তখন শেখ হাসিনার রাজনীতির যবনিকা দেখেছিলেন বেশির ভাগ পন্ডিত। ২০০১-এ আওয়ামী লীগের পরাজয়ের পর আওয়ামী লীগের নেতারাই ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব ভেবেছিলেন। ২০০৭ সালে তো নৌকা থেকে ঝাঁপ দিয়ে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে চেয়েছিলেন হেভিওয়েট নেতারা। কিন্তু শেখ হাসিনা হাল ছাড়েননি। লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি এতটুকু। তিনি আস্থা রেখেছিলেন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের ওপর, কোটি মানুষের ওপর। তাদের নিয়ে লড়াই করে গেছেন সব হারানো মানুষটি। লড়াই করেছেন অসত্যের বিরুদ্ধে, অপশাসনের বিরুদ্ধে, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে। বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথেই তিনি হেঁটেছেন। নতুন পথ বানাতে চাননি। জাতির পিতার ছায়ায় থেকেই নিজেকে বিস্তৃত করেছেন। শেখ হাসিনার গল্পটা তাই সব হারিয়ে সব পাওয়ার গল্প। শুধু শেখ হাসিনার গল্প নয়, বাংলাদেশ পদ্মা সেতুর গল্পটাও যেন একই চিত্রনাট্যের অনুপম বাস্তবায়ন। এক অসম যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশ পায় এক স্বাধীন রাষ্ট্র। জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল এক স্বনির্ভর, আত্মমর্যাদার দেশ। কিন্তু ’৭৫-এ জাতির পিতাকে হারিয়ে বাংলাদেশ যেন সব হারায়। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন স্বাধীনতা, চেয়েছিলেন অর্থনৈতিক মুক্তি। নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ যেন অর্থনৈতিক মুক্তির পতাকা ওড়াল। ’৭৫-এ সব হারানো বাংলাদেশ ২০২২-এ এসে সব পেল। পদ্মা সেতুর গল্পটাও একই রকম। বিপুল আড়ম্বরে এ সেতু নির্মাণের যাত্রা হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের কথিত দুর্নীতির অভিযোগ সব স্বপ্ন লন্ডভন্ড করে দেয়। সব হারায় পদ্মা সেতু প্রকল্প। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পদ্মা সেতু এখন বাংলাদেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন।

পদ্মা সেতু নিঃসন্দেহে শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি। কিন্তু শেখ হাসিনার আসল অর্জন হলো তাঁর রাজনীতি, সাহস ও সততা। এ কারণেই লক্ষ্য অর্জনে পাহাড়সম বাধা তিনি পার হয়ে যান অবলীলায়। সব হারিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এটাই তাঁর সব পাওয়া। রাজনীতির এ দৃঢ় আদর্শের জন্য শেখ হাসিনা অমরত্ব পাবেন। বেঁচে থাকবেন হাজার বছর।

লেখক : নির্বাহী পরিচালক, পরিপ্রেক্ষিত।
Email : poriprekkhit@yahoo.com
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।

পদ্মা সেতু উদ্বোধন   পদ্মা সেতু   উদ্বোধন   শেখ হাসিনা  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন