এডিটর’স মাইন্ড

কপিলের বিশ্বকাপ, শেখ হাসিনার পদ্মা সেতু এবং পন্ডিতদের ভ্রান্তি

প্রকাশ: ০৯:৫৮ এএম, ২৮ মে, ২০২২


Thumbnail কপিলের বিশ্বকাপ, শেখ হাসিনার পদ্মা সেতু এবং পন্ডিতদের ভ্রান্তি

অবশেষে স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের তারিখ ঘোষিত হলো। ২৫ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের গৌরব, আত্মমর্যাদার প্রতীক পদ্মা সেতু। শত প্রশ্নের এক উত্তর পদ্মা সেতু। অনেক সংশয় উড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় এ পদ্মা সেতু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন নিজের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন তখন আমাদের পন্ডিতদের মধ্যে হাহাকার উঠেছিল। একমাত্র অধ্যাপক আবুল বারকাত ছাড়া আর কেউ সাহস করে বলেননি যে বাংলাদেশ পারে। একজন পন্ডিত অর্থনীতিবিদ, যিনি সারা দিন বাংলাদেশের সর্বনাশের ছিদ্র খোঁজেন, প্রমিত বাংলায় পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে করলে কী কী বিপর্যয় হবে তার লম্বা ফিরিস্তি দিয়েছিলেন। ওই ফিরিস্তিতে তিনি বলেছিলেন, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ পড়বে। দারিদ্র্য বাড়বে। অবশ্য তখন আমরা জানতাম না ২০২০ সালে করোনার তান্ডব গোটা বিশ্বকে লন্ডভন্ড করে দেবে। ভাগ্যিস ওই পন্ডিতদের কল্পনায় করোনা ছিল না। থাকলে তো তাঁদের ভবিষ্যদ্বাণীতে বাংলাদেশ নামে দেশটাকেই বিলীন করে দিতেন। শুধু ওই এক পন্ডিত নন, এ রকম বহু পন্ডিত সেদিন নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণকে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। আমরা মূর্খ জনতা পন্ডিতদের অমৃত বাণীতে আস্থা রেখেছি। সরকারের এসব পাগলামি নিয়ে চায়ের আসর গরম করেছি। বুদ্ধিজীবীদের কথায় উদীপ্ত হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়াও। ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি। দুর্নীতির মামলায় দন্ডিত হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে ছাত্রদলের এক সভায় পন্ডিতদের বাণীতে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘পদ্মা সেতুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে সরকার। কিন্তু পদ্মা সেতু আওয়ামী লীগের আমলে হবে না। এ সেতু জোড়াতালি দিয়ে বানানো হচ্ছে। এ সেতুতে কেউ উঠবেন না অনেক রিস্ক আছে।’ পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের আগে পদ্মা সেতু নিয়ে কে কী বলেছিলেন তার ওপর একটা ভালো প্রামাণ্যচিত্র হতে পারে। এ সমাজে কিছু মানুষ আছেন যাঁদের কথার কোনো জবাবদিহি নেই। তাঁরা বাংলাদেশ সম্পর্কে সারাক্ষণ শঙ্কা আর আতঙ্কের কথা বলতে থাকেন। তবে তাঁদের পূর্বাভাস যখন অসত্য প্রমাণিত হয়, তাঁরা দুঃখ প্রকাশটুকু পর্যন্ত করেন না। অবশ্য এই সুধীজনরা বাংলাদেশের জনগণকে খুব একটা পাত্তা দেন না। তাঁদের প্রভুরা থাকেন দূর দেশে। তাঁদের চোখে বাংলাদেশ নিকৃষ্ট, জঘন্য। জাতির পিতার নেতৃত্বে এ দেশের অভ্যুদয়ের পর থেকেই এঁরা বাংলাদেশ নিয়ে শুধু হতাশার কথাই শুনিয়েছেন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্বব্যাংক বলেছিল, ‘স্বাধীনতা অর্জন করলেও অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে সব সময় নির্ভর করতে হবে বিদেশি সাহায্যের ওপর।’ বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টের ওপর মন্তব্য করেছিলেন তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার। তিনি বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ হলো একটা তলাবিহীন ঝুড়ি। এখানে যতই সাহায্য দেওয়া হোক, কোনো কাজে আসবে না।’

১৯৭২-৭৩ সালে বিশ্বব্যাংকের প্রধান রবার্ট ম্যাকনামারা বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশকে সব সময় বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভর করেই চলতে হবে। এভাবে টিকে থাকা যে কোনো রাষ্ট্রের জন্যই অসম্ভব।’ ১৯৭৩-এ বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছি, ‘দেখার বিষয় বাংলাদেশ কত দিন টেকে এবং কীভাবে টেকে। সবচেয়ে ভালো অবস্থায়ও বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত কঠিন উন্নয়ন সমস্যা বিদ্যমান। জনগণ দরিদ্র। মাথাপিছু আয় ৫০ থেকে ৭০ ডলার। যা গত ২০ বছরে একচুলও বাড়েনি। জনসংখ্যার আধিক্য বাংলাদেশকে ক্রমেই অস্তিত্বের সংকটে ঠেলে দেবে।’ বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর দেশটির সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়নি একদম। বরং বিশ্বের বড় বড় পন্ডিত ও অর্থনীতিবিদরা বাংলাদেশের টিকে থাকা নিয়েই সংশয় প্রকাশ করেছেন বারবার। মার্কিন অর্থনীতিবিদ ডগলাস মন্তব্য করেছিলেন, ‘ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের মডেল হবে বাংলাদেশ।’ এ সময় বাংলাদেশ কত দিন টিকবে তা নিয়ে অর্থনীতিবিদরা রীতিমতো গবেষণা করেছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন মার্কিন অর্থনীতিবিদ ডাস্ট ফাল্যান্ড ও পারকিনসন্স। বাংলাদেশকে তাঁরা ‘উন্নয়নের ল্যাবরেটরি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। যৌথ নিবন্ধে তাঁরা বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশে যদি উন্নয়ন সম্ভব হয় তাহলে বিশ্বের যে কোনো দেশেই উন্নয়ন সম্ভব।’ স্বাধীনতার পর থেকে তাই যে বাংলাদেশকে ভয় দেখানো শুরু হয়েছে, তা এখনো চলমান। ’৯৮ সালে বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যা হলো। এটিকে বলা হয় সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা। শেখ হাসিনা তখন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বব্যাংক প্রতিবেদনে বলল, ‘অন্তত ২০ লাখ মানুষ মারা যাবে। ক্ষুধা-দারিদ্র্য-দুর্ভিক্ষ হবে।’

বিশ্বব্যাংক যখন এ কথা বলে তখন তাদের দেশি এজেন্টরা কি বসে থাকে? কথার ফুলঝুরি ছুটল। বাংলাদেশের গণ্যমান্য অর্থনীতিবিদরা বললেন, ‘ক্ষুধা, দুর্ভিক্ষে ১ কোটি মানুষ মারা যেতে পারে।’ এরপর শুরু হলো হুঁশিয়ার সাবধান! এটা করা যাবে, ওটা করা যাবে না। অর্থনীতির ১২টা বাজার ঘণ্টাও বাজালেন কেউ কেউ। কিন্তু শেখ হাসিনা অন্য ধাতুতে গড়া এক মানুষ। এসব গায়ে না মেখে তিনি দিনরাত একাকার করে কাজ করলেন। কোথায় দুর্ভিক্ষ, কোথায় ক্ষুধা। মানুষ নতুন উদ্যমে জীবনের গান গাইল। বন্যা কাটিয়ে বাম্পার ফলন উপহার দিল কৃষক। তখনো বুদ্ধিজীবী, পন্ডিত আর অর্থনীতিবিদরা ভুল ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য জিবে কামড়টুকু দেননি। ২০২০ সালে সারা বিশ্বে করোনার প্রকোপ শুরু হলো। মার্চে করোনা আক্রান্ত দেশের তালিকায় ঢুকল বাংলাদেশ। বাংলাদেশেও বাড়তে থাকল করোনার প্রকোপ। এ সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অযোগ্য নেতৃত্ব, দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণে বেশ কিছু সমস্যাও তৈরি হলো। একদল পন্ডিত ঢাকঢোল নিয়ে মাঠে নামলেন। বাংলাদেশে করোনার মহামারি হবে। কোটি মানুষের প্রাণ যাবে। লাশ দাফনের জায়গা পাওয়া যাবে না। এ রকম ভয়ংকর কথাবার্তায় রীতিমতো আঁতকে উঠলাম। দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে ভারতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল পরিস্থিতি। আমাদের জ্ঞানীরা বলতে শুরু করলেন বাংলাদেশের অবস্থা ভারতের চেয়েও শোচনীয় হতে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা পরিস্থিতি সামাল দিলেন অসাধারণ দক্ষতায়। তার পরও কেউ ধন্যবাদ দিল না। ওইসব পন্ডিতের কেউ স্বীকার করলেন না ‘আমাদের একজন শেখ হাসিনা আছেন’।

বাংলাদেশ নিয়ে অশুভ শঙ্কার প্রলাপ এখনো চলছে। এবার শ্রীলঙ্কা নিয়ে। আবার আমাদের পবিত্র মানুষ নতুন ভবিষ্যদ্বাণী দিচ্ছেন বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হবে। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হবে এমনভাবে প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত বলা হচ্ছে যাতে গোয়েবলসও হয়তো বেঁচে থাকলে লজ্জা পেতেন। কদিন আগে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে গিয়েছিলাম জনশুমারি বিষয়ে তাঁর একটি বক্তব্য ধারণ করার জন্য। স্পিকার হিসেবে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ইতিহাসে তিনি অন্যতম সেরা। বিনয়ী, জ্ঞানী, বুদ্ধিদীপ্ত। সাক্ষাৎকার শেষে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছিল। একপর্যায়ে একজন শ্রীলঙ্কা প্রসঙ্গ ওঠালেন। শান্ত, বিনয়ী মানুষটিও এ কথা শুনে একটু উত্তেজিত হলেন, বললেন, কোন বিচারে বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনা করা হয়! দুটো দেশের মধ্যে তুলনা করার মতো কিছুই নেই। জোর করে তুলনা করা হচ্ছে। স্পিকার বললেন, ‘কিছু কিছু মানুষের কথা শুনে মনে হয় তারা যেন বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হোক এটা চাইছেন। কেন? আলাপকালে তিনি বলছিলেন, ‘ওপরতলার মানুষ যারা সবচেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন, তারাই যেন সবচেয়ে বড় সমালোচক।’ ঘণ্টাখানেক কথা বলে বেরিয়ে এলাম। আপন মনে একা একা তাঁর কথাগুলো ভাবতে থাকলাম। অনেক প্রশ্নের উত্তর পেলাম তাঁর কথায়। তাই তো, ’৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধে সংগ্রাম করেছে দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষক, শ্রমিক, রিকশাওয়ালারা। সে সময় ধনীদের এক বড় অংশ ছিল মুসলিম লীগ, পাকিস্তানপন্থি। সবাই না, বড়লোকের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাংলাদেশ চায়নি। এরা এখনো সম্পদশালী। এরা এখনো বাংলাদেশকে নিয়ে নাক সিটকায়। এরাই সুশীল হিসেবে নিজেদের জাহির করে। বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় এরা ব্যথিত। বেদনা লাঘবের জন্য এরা বাংলাদেশ নিয়ে হতাশার বাণী ছড়ায়। আর এদের প্রাতিষ্ঠানিক অভিভাবক হলো বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংক এ পর্যন্ত বাংলাদেশ নিয়ে যত ভবিষ্যদ্বাণী করেছে তা সব ভুল হয়েছে। ১৯৯৬ সালে বিশ্বব্যাংক কৃষিতে ভর্তুকি বন্ধের শর্ত দিয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ মানেননি। তাই এখন বাংলাদেশে খাদ্য সংকট নেই। বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ শুনে বেগম জিয়া আদমজী পাটকল বন্ধ করেছিলেন। এটি ছিল বাংলাদেশের অর্থনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে ভুল এবং বাজে সিদ্ধান্তের একটি। সদ্যস্বাধীন একটি দেশ সম্পর্কে যে ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বব্যাংক ’৭২-এ দিয়েছিল বাস্তবে হয়েছে তার উল্টো। বিশ্বব্যাংক ১৯৭৩-৭৪ সালে বাংলাদেশ সম্পর্কে এক রিপোর্টে বলেছিল, ‘১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে টানা ১৫ বছর পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানে জিডিপি কমতে থাকে। সে সময় মাথাপিছু জাতীয় আয় ছিল ৩১০ থেকে ৩১৪ টাকা। ২০ বছরে বৃদ্ধি পায় মাত্র ১ দশমিক ৩ ভাগ।’ বিশ্বব্যাংক এ হার ধরে প্রক্ষেপণ করেছিল বাংলাদেশের মাথাপিছু জাতীয় আয় দ্বিগুণ হতে ১ হাজার ৫০০ বছর লাগবে। অথচ বাংলাদেশ এখন কোথায়? বাংলাদেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব সূচকে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭২ দশমিক আট বছর। ভারতে গড় আয়ু ৬৮ দশমিক তিন বছর। আর পাকিস্তানে ৬৬ দশমিক চার বছর। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় এখন ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বেশি। দারিদ্র্য হ্রাস, নারী-পুরুষ সমতা ইত্যাদি সব সূচকেই বাংলাদেশ উপমহাদেশে ভালো অবস্থানে আছে। তাহলে ’৭২-এ বাংলাদেশ সম্পর্কে মন্তব্যের জন্য বিশ্বব্যাংকের কি দুঃখ প্রকাশ করা উচিত না? বিশেষ করে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন থেকে সরে আসার পরও যখন বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু তৈরি করল। যখন কানাডার আদালতে প্রমাণিত হলো পদ্মা সেতুতে কোনো দুর্নীতি হয়নি। তখন কি বিশ্বব্যাংকের পন্ডিত অর্থনীতিবিদরা একটুও লজ্জিত নন?

বিশ্বব্যাংক উন্নয়নের জন্য সংগ্রামরত দেশগুলোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শৃঙ্খলে বন্দি রাখার এক প্রকল্প। ঋণের ফাঁদে ফেলে এরা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে উন্নয়ন প্রেসক্রিপশন দেয়। শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন গ্রহণ না করে সাহসী ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পশ্চিমা খবরদারি কমেছে। নানা রকম চাপ কমেছে। বাংলাদেশ তার নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। বাস্তবায়ন করছে। এতেই পশ্চিমা বিশ্ব বেশ নাখোশ। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তাদের সংকোচন এ দেশে তাদের বাজার হ্রাস করেছে। এজন্য তারা এখন নানা ইস্যুতে ব্যাপক উৎসাহী। আগামী নির্বাচন, গণমাধ্যম, মানবাধিকার ইত্যাদি নিয়ে তারা মাতম করছে। এ মাতমে যুক্ত হয়েছেন পশ্চিমাপ্রেমিক দেশি ভদ্রজনেরা। এঁরা এমন একসময় শ্রীলঙ্কা শ্রীলঙ্কা করছেন যখন পদ্মা সেতু জনগণের জন্য প্রস্তুত। জনগণকে ভয় দেখাচ্ছেন কেউ কেউ। কিন্তু পদ্মা সেতু আবারও প্রমাণ করেছে পন্ডিতরা সব সময় ভুল। জনগণ সব সময় সঠিক। বঙ্গবন্ধু যদি পন্ডিত ও সুশীলদের কথা শুনতেন তাহলে এ দেশ স্বাধীন হতো না। আর শেখ হাসিনা যদি পন্ডিত আর সুশীলদের কথা শুনতেন তাহলে বাংলাদেশ আজকের অবস্থানে আসত না। আমাদের সম্মানিত সুধীজনের ভুল ভবিষ্যদ্বাণী থেকে একটি হিন্দি সিনেমার কথা খুব মনে পড়ছে। সম্প্রতি ছবিটা মুক্তি পেয়েছে। ছবির নাম ‘৮৩’। কবির খান নির্মিত এ চলচ্চিত্রটি ১৯৮৩ সালে ভারতের অভাবনীয় ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ের ওপর। ’৮৩-এর ক্রিকেট বিশ্বকাপের আগের বিশ্বকাপগুলোয় ভারত খুবই খারাপ করেছে। শুধু পূর্ব আফ্রিকাকে হারিয়েছে। ’৮৩-এর বিশ্বকাপ খেলতে ভারত যখন যুক্তরাজ্যে গেল, তখন ভারতকে রীতিমতো হাসিতামাশা, অবজ্ঞা, অবহেলা। ২৫ জুন বিশ্বকাপ ফাইনাল। অথচ ভারতীয় দল ফেরার টিকিট করে রেখেছিল ২০ জুন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ভারতীয় দলের সংবাদ সম্মেলনে দু-চার জন মাত্র সাংবাদিক। বিখ্যাত ব্রিটিশ ক্রীড়া সাংবাদিক কপিল দেবকে প্রশ্ন করলেন, এবারের বিশ্বকাপে তোমাদের লক্ষ্য কী? কপিল দেব উত্তর দিলেন, ‘বিশ্বকাপ জয়।’ বিস্ময়ে হতবাক ব্রিটিশ সাংবাদিক। পরে এ নিয়ে ভারতেও বিস্ময়, চাপা কৌতুক। ওই বিশ্বকাপে ভারত একটা করে জয়ী হচ্ছে, বোদ্ধারা বলছেন এটা অঘটন। প্রখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রিঞ্চ তাঁর এক প্রতিবেদনে লিখলেন, ‘ভারত যদি বিশ্বকাপ জেতে তাহলে তিনি তাঁর নিজের লেখা কাগজ খেয়ে ফেলবেন।’ সবাইকে অবাক করে ভারত ’৮৩-এর বিশ্বকাপ জিতে গেল। ভারতেরও খুব কম মানুষ বিশ্বাস করেছিল কপিল দেবের দল বিশ্বকাপ জিতবে। সে জয়ের মহানায়ক ছিলেন কপিল দেব। বিশেষ করে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে বাঁচা-মরার ম্যাচে ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডার যখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছিল তখন স্নানঘর থেকে অপ্রস্তুত কপিল দেব মাঠে নামেন; তখন কেউ ভাবেননি কপিল বিশ্বরেকর্ড করবেন। ওই ম্যাচটা একাই জিতিয়েছিলেন ভারতের অধিনায়ক। ওই ম্যাচ জয়ের পর আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে ভারত। সিনেমায় দেখা যায়, ভারতীয় দূতাবাসের রিসিপশনে শ্রীকান্ত বলছেন, ‘আমাদের পাগল অধিনায়ক বিশ্বকাপ জয় ছাড়া আর কিছুতেই খুশি হবে না।’ সিনেমাটা দেখতে দেখতে আমার কেন জানি বাংলাদেশের কথা মনে হয়। ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো শেখ হাসিনা যখন প্রধানমন্ত্রী হলেন তখন বাংলাদেশ ধুঁকছে। ব্যর্থ রাষ্ট্রের তকমা লাগিয়ে দিয়েছে অনেকে। বিশ্বে মর্যাদাহীন। তুচ্ছতাচ্ছিল্যের এক দেশ। সেখান থেকে গত ১৩ বছরে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে কোথায় নিয়ে গেছেন, তার একটা প্রতীক হলো পদ্মা সেতু। কিন্তু কপিল দেবের মতোই শেখ হাসিনা যেন সন্তুষ্ট নন। বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় রূপান্তরের আগে তিনি কিছুতেই খুশি হবেন না।

তবে ৮৩ চলচ্চিত্রের একদম শেষে ভারতীয় ম্যানেজারের একটি ঘটনার স্মৃতিচারণা আমাকে সবচেয়ে বেশি তাড়িত করেছে। বিশ্বকাপ জয়ের রাতে ভারতীয় ম্যানেজার ক্রীড়া সাংবাদিক ডেভিড ফ্লিঞ্চকে এক চিঠি লিখেছিলেন। চিঠিতে তিনি তাঁকে নিজের লেখা কাগজ খাবার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন। ফ্লিঞ্চ তাঁর ভুল ভবিষ্যদ্বাণী স্বীকার করে লর্ডসে বসে ওয়াইনের সঙ্গে তাঁর লেখা খেয়েছিলেন। আমাদের যেসব পন্ডিত এখন-তখন বাংলাদেশ সম্পর্কে যেসব কথা বলেছিনেন তা ভুল প্রমাণিত হওয়ার পর তাঁরা কি তাঁদের লেখা গলাধঃকরণ করবেন?

লেখক : নির্বাহী পরিচালক, পরিপ্রেক্ষিত।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।

শেখ হাসিনা   বাংলাদেশ   পদ্মা সেতু   বিশ্বকাপ  


মন্তব্য করুন


এডিটর’স মাইন্ড

পদ্মা সেতু: ক্যারিয়ার বদলে দিলো এক আমলার

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ২৫ Jun, ২০২২


Thumbnail

আজ আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হলো। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। খন্দকার আনোয়ার পদ্মা সেতুর কারণেই তার ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছেন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। পদ্মা সেতু নিয়ে ঘটনাপ্রবাহের আগে তিনি অনেকটাই আলোচিত এবং উপেক্ষিত ছিলেন। ১৯৮৩ সালের ব্যাচের কর্মকর্তা খন্দকার আনোয়ার। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এই ব্যাচের সবচেয়ে আলোচিত আমলা ছিলেন নজরুল ইসলাম খান। তিনি প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যখন শেখ হাসিনা বিরোধী দলের নেতা। এ কারণে নজরুল ইসলাম খান অনেক বিপদসংকুল পরিস্থিতির মধ্যে ছিলেন, অনেক কঠিন সময় পার করেছেন। এমনকি তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকার তাকে তার প্রাপ্য গাড়িটিও দেননি। এরকম কষ্ট, নির্যাতন এবং পদোন্নতি বঞ্চিত থাকা অবস্থায় ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে এন আই খান প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত একান্ত সচিব, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এই ব্যাচের সম্পর্কে একটি কথা প্রচলিত ছিল যে, এই ব্যাচকে বলা হতো টিকচিহ্ন ব্যাচ। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ যখন প্রথম উপজেলা ব্যবস্থা চালু করেন তখন উপজেলায় ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য তড়িঘড়ি করে একটি বিসিএস পরীক্ষার আয়োজন করা, যে বিসিএস ব্যাচটি টিকমার্ক দিয়ে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। তখন কথা ছিলো যে, শুধুমাত্র তারা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু পরবর্তীতে এই ব্যাচের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিট করা হয় এবং এই রিটে তারা বিজয়ী হয়ে প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে যুক্ত হয় ৮৩ এর এই ব্যাচটি। এই ব্যাচের অনেক মেধাবী কর্মকর্তা ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে অনেকেই এই ব্যাচ থেকে নানাভাবে আলোচিত হন। আবার এই ব্যাচ থেকেই মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট জালিয়াতি বা বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক ব্যক্তি স্বেচ্ছায় অবসরেও গিয়েছিলেন। এসব আলোচনা-সমালোচনা বিতর্কের উর্ধ্বে ছিলেন খন্দকার আনোয়ার। তিনি নিভৃতে কাজ করতেন। কিন্তু যখন পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয় এবং তৎকালীন যোগাযোগ সচিব মোশারফ হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করা হয়, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, ঠিক সেই সময়ে খন্দকার আনোয়ারকে দেওয়া হয় সেতু বিভাগের দায়িত্বে।

খন্দকার আনোয়ার একজন সৎ, পরিশ্রমী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অনেকেই তাকে কোনো ঘরোনার নয়, কর্ম পাগল একজন ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করতো। কিন্তু সেতু মন্ত্রণালয়ের পান তিনি পদ্মা সেতু নিয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় মধ্যে। এরকম পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়ে তিনি তার ক্যারিয়ারের সেরা সময়টি পার করেন। মূলত তার বিচক্ষণতা, কর্ম তৎপরতা এবং সততার কারণে পদ্মা সেতু নিয়ে নতুন কোনো বিতর্ক হয়নি বলে অনেকে মনে করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন সেই আস্থার প্রতিদান তিনি খুব ভালমতোই দেন। আর এই এটিই তার ক্যারিয়ার বদলে দেয়। পদ্মা সেতুর সাফল্যের কারণেই সেতু বিভাগ থেকে তিনি মন্ত্রিপরিষদ সচিব হন, যদিও আমলাতান্ত্রিক হিসাব-নিকাশে তার মন্ত্রিপরিষদ সচিব হওয়ার কথা ছিল না। মন্ত্রিপরিষদ সচিব হওয়ার পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর আরও আস্থাভাজন হন। এজন্য তিনি দুদফা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন। একজন সৎ, পরিশ্রমী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি পরিচিত। তার সততা, যোগ্যতাই তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। যেটি সম্ভব হয়েছে পদ্মা সেতুর কারণে।

পদ্মা সেতু   মন্ত্রিপরিষদ সচিব   খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম  


মন্তব্য করুন


এডিটর’স মাইন্ড

সব হারিয়ে সব পাওয়ার গল্প

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ২৫ Jun, ২০২২


Thumbnail সব হারিয়ে সব পাওয়ার গল্প

আজ বাংলাদেশের গৌরবের দিন। অহংকারের দিন। বাংলাদেশ যত দিন বেঁচে থাকবে তত দিন ২৫ জুনকে স্মরণ করবে। আত্মমর্যাদা ও সাহসের উন্মোচনের দিন হিসেবে উদ্যাপন করবে। পদ্মা সেতু যতটা না সামষ্টিক অর্জন, তার চেয়ে বেশি শেখ হাসিনার নেতৃত্বের স্বীকৃতি। তাঁর দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মনোবল, জনগণের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক পদ্মা সেতু। একজন নেতা কী অসাধ্য সাধন করতে পারেন তার বড় বিজ্ঞাপন পদ্মা সেতু। প্রশ্ন উঠতেই পারে, পদ্মা সেতু কি শেখ হাসিনার সেরা অর্জন? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের একটু পেছনে ফিরে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবন-দর্শন ও রাজনীতি খানিকটা হলেও বিশ্লেষণ করতে হবে।

দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে আওয়ামী লীগের মতো জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতা শেখ হাসিনা। ২৩ জুন আওয়ামী লীগ ৭৩ বছরে পা রাখল। শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের ৭৩ বছরের আয়ুষ্কালে শেখ হাসিনাই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ৪১ বছর। আওয়ামী লীগের মতো একটি সংগঠনের শুধু প্রধান নেতা হিসেবে নয়, সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবেও শেখ হাসিনা প্রতিষ্ঠিত। আওয়ামী লীগে তাঁর কোনো বিকল্প নেই। এটি যে কোনো রাজনীতিবিদের জন্য অনন্য অর্জন। টানা ৪১ বছর দলের নেতা-কর্মীদের কাছে জনপ্রিয় থাকা কঠিন কাজ। সে কঠিন কাজটিই তিনি করেছেন অবলীলায়। এজন্যও শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে অমরত্ব পাবেন।

তবে আওয়ামী লীগ বা দেশের রাজনীতিতে তাঁর অপরিহার্য হয়ে ওঠার গল্পটা খুব সোজাসাপটা ছিল না। দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে। ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা দেশে ফিরেছিলেন এক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে। সামরিক শাসনের শৃঙ্খলে গণতন্ত্র বন্দি। বুটের তলায় পিষ্ট মানুষের অধিকার। আওয়ামী লীগ বিভক্ত, ক্ষতবিক্ষত। দেশে ফিরেই শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের ডাক দিলেন। মানুষের মুক্তির কথা বললেন। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গড়ে তুললেন গণজাগরণ। শেখ হাসিনা যদি বাংলাদেশে না আসতেন তাহলে বাংলাদেশ হয়তো আরেকটি পাকিস্তান হতো। অথবা ব্যর্থ, পরাজিত এক রাষ্ট্র হিসেবে ধুঁকতে থাকত। দেশে সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা শেখ হাসিনার আরেকটি বড় অর্জন। অং সান সু চি পারেননি। ব্যর্থ হয়েছেন বেনজির ভুট্টো। মিয়ানমারে সু চি সামরিক জান্তার সঙ্গে সমঝোতা করে শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রকেই বলি দিয়েছেন। কিন্তু শেখ হাসিনা সামরিক জান্তাদের বিরুদ্ধে গণজাগরণ সৃষ্টি করেছেন। শেষ পর্যন্ত উর্দিতন্ত্রের কবর দিয়েছেন চিরতরে। একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রধান নেতা হিসেবেও শেখ হাসিনা অবলীলায় ইতিহাসে অমরত্ব পাবেন।

গণতন্ত্রের জন্য একটি শক্তিশালী বিরোধী দল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতাসীন দলকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখার জন্য একটি কার্যকর শক্তিশালী বিরোধী দল জরুরি। ১৯৮৬ ও ’৯১ সালের সংসদে আওয়ামী লীগ ছিল বিরোধী দল। শেখ হাসিনা ছিলেন বিরোধী দলের নেতা। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে ছিল এজন্যই গণতন্ত্রের পথ সুগম হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ কেবল সরকারের সমালোচনা করেনি। বিকল্প পথ দেখিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে সফল বিরোধী দল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ দেখিয়েছে বিরোধী দলের কাজ কী। বিরোধী দলকে কীভাবে রাজনীতি করতে হয়। এজন্য এ দেশের রাজনীতির ইতিহাসে চিরকাল বেঁচে থাকবেন শেখ হাসিনা। দলে-বাইরে নানা প্রতিকূলতা পার হয়ে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ২১ বছর পর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায়। এ সময় তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায়ও এমন কিছু পদক্ষেপ নেন, যার যে কোনো একটির জন্যই তিনি অমরত্ব পেতে পারেন। গঙ্গার পানিচুক্তি ছিল ১৯৯৬-২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সাফল্যের প্রথম পালক। পার্বত্য শান্তির মতো একটি উদ্যোগ অন্য কোনো দেশের সরকারপ্রধান গ্রহণ করলে সেজন্য নিশ্চিত নোবেল শান্তি পুরস্কার পেতেন। কিন্তু পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়েও শেখ হাসিনা ওই অঞ্চলের মানুষের ভালোবাসা ছাড়া কিছুই পাননি। তবে পার্বত্য শান্তিচুক্তির জন্যও শেখ হাসিনা অমরত্ব পাবেন। ’৯৬ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে কল্যাণকামী রাষ্ট্রের অবয়ব দিতে শুরু করেন। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, কমিউনিটি ক্লিনিক, একটি বাড়ি একটি খামার, আশ্রয়ণ ইত্যাদি প্রতিটি উদ্যোগ মানবিক বাংলাদেশ গঠনের একটি করে স্তম্ভ। এ উদ্যোগগুলোর জন্য শেখ হাসিনা চিরকাল বেঁচে থাকবেন। দরিদ্র প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আপন মানুষ হয়ে উঠেছিলেন তিনি এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে। শেখ হাসিনার মতো বাংলাদেশে আর কেউ কি এত দরিদ্রবান্ধব কর্মসূচি নিয়েছিল? এ অর্জনগুলো খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এ সবই হলো আর্থসামাজিক উন্নয়ন। অনেক সময় আর্থসামাজিক উন্নয়ন অবকাঠামো উন্নয়নের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ২০০১ সালে বাংলাদেশে প্রথম শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন শেখ হাসিনা। সে বছর বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসে। শুরু হয় সংখ্যালঘু ও বিরুদ্ধমতের ওপর তান্ডব। ১ অক্টোবর থেকে সারা দেশে জ্বালাও-পোড়াও, হত্যা-সন্ত্রাসের এক ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এ সময় বাংলাদেশ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাহসী এক লড়াকু যোদ্ধাকে দেখে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যেভাবে নিপীড়ন-নির্যাতনের মধ্যে শেখ হাসিনা অটল, দৃঢ়চিত্তে দলের হাল ধরেছেন, নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সেটিও তাঁর বড় এক অর্জন। ২০০১-এর মাস্টারপ্ল্যান ছিল আওয়ামী লীগকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা। আর এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত রূপ ছিল ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা। অলৌকিকভাবে সেদিন বেঁচে যান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। এ ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েও হাল ছাড়েননি শেখ হাসিনা। বরং জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরও সোচ্চার হয়েছেন। এ সাহস আর অকুতোভয় চরিত্রের কারণেই শেখ হাসিনা অমরত্ব পাবেন। সেদিন যদি তিনি ভয় পেয়ে গুটিয়ে যেতেন তাহলে আজকের বাংলাদেশ আমরা পেতাম না। দানবের বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস খুব কম মানুষের থাকে। তার চেয়েও কম মানুষ এ লড়াইয়ে জয়ী হয়। শেখ হাসিনা সে রকমই এক বিরল বিজয়ী যোদ্ধা। ওয়ান-ইলেভেনের সময়টা ছিল বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা। সে পরীক্ষায় জয়ী হয়েছেন মাত্র একজন রাজনীতিবিদ। তাঁর নাম শেখ হাসিনা। এক-এগারো ছিল বাংলাদেশে বিরাজনীতিকরণের সবচেয়ে পরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদি নীলনকশা। সেনাবাহিনীর ঘাড়ে সওয়ার হয়ে সুশীল রাজত্ব কায়েম হয়েছিল বাংলাদেশে। বাংলাদেশের রাজনীতির দৈন্যের করুণ চেহারাটা সে সময় উন্মোচিত হলো। কেউ পালিয়ে গেলেন, কেউ আপস করলেন, কেউ দিগ্ভ্রান্ত, হতবিহ্বল। রুখে দাঁড়ালেন একজন। শেখ হাসিনা। সেদিন যদি নির্বাচনের দাবিতে, দ্রুত জনগণের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য তিনি সোচ্চার না হতেন, তাহলে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হতো অধিকারহীন এক করপোরেট দাসতন্ত্র। এ সময় শেখ হাসিনার ওপর নেমে এসেছিল অত্যাচারের স্টিম রোলার। একের পর এক বানোয়াট মামলা, নির্যাতনে এতটুকু টলাতে পারেনি সাহসী এই রাষ্ট্রনায়ককে। এ সময় দেশের মানুষ দেখেছে ক্লান্তিহীন লড়াকু এক নেতাকে। একাই যুদ্ধ করে হারিয়েছেন ক্ষমতালিপ্সুদের। ফিরিয়ে এনেছেন গণতন্ত্র।

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বর্তমান টানা ১৩ বছরের শাসনামল নিয়েই চর্চা বেশি হয়। অতীতে তাঁর সংগ্রাম, অসম্ভবের বিরুদ্ধে একাকী যুদ্ধ অনেকটাই আড়ালে থেকে যায়। কিন্তু ১৯৮১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ শেখ হাসিনাকে করেছে অনন্য, অসাধারণ, তুলনাহীন। সোনা যেমন পুড়েই খাঁটি হয়, শেখ হাসিনাও ঘাত-প্রতিঘাতেই আজকে রাষ্ট্রনায়ক থেকে বিশ্বনেতা হয়েছেন। এ ১৩ বছরে ১০০ কারণে শেখ হাসিনা অমরত্ব পাবেন। ১০০ কারণে আগামী ১০০ বছরেও বাংলাদেশ শেখ হাসিনার মতো একজন নেতা পাবে না। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার সম্পন্ন করে রায় কার্যকর। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে জাতির কলঙ্ক মোচন। বিডিআর বিদ্রোহ দমন। কোন অর্জনকে খাটো করবেন? সমুদ্রে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠা। ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান। ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মানবিক বিবেচনায় আশ্রয় দান। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণ। প্রায় সব সূচকে ভারত-পাকিস্তানকে পেছনে ফেলা। টানা প্রবৃদ্ধি। কোন অর্থনৈতিক অর্জনকে আপনি উপেক্ষা করবেন?

পদ্মা সেতু নিঃসন্দেহে অনন্য, অসাধারণ এক অর্জন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল কিংবা রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প, একটিও কম? কবে বাংলাদেশ একসঙ্গে এতগুলো স্বপ্ন পূরণের পথে হেঁটেছে।

পদ্মা সেতু ব্যতিক্রম এবং আলাদা মর্যাদায় অন্য কারণে। কেবল একটি নান্দনিক আধুনিক অবকাঠামোর জন্য নয়, পদ্মা সেতু বাংলাদেশকে অপমানের প্রতিশোধ। আমাদের সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক। পদ্মা সেতু সব সময় আমার আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ মনে হয়। বাংলাদেশের দামাল ছেলেরা যেমন প্রায় নিরস্ত্র অবস্থায় যুদ্ধ করে একটা দেশ স্বাধীন করেছে; তেমনি দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রামরত একটা দেশ বিশ্বের অন্যতম চিত্তাকর্ষ এক সেতু বানিয়ে ফেলল নিজের টাকায়। এর পেছনে শক্তিটা কী? শক্তিটা হলো সাহস। এ সাহস তাকে দিয়েছে অফুরন্ত প্রাণশক্তি, সবকিছু জয়ের অদম্য স্পৃহা।

শেখ হাসিনার জীবনের গল্পটা সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়েও রোমাঞ্চকর। মাঝেমধ্যে তা রূপকথার চেয়েও বিস্ময়কর। একজন মানুষ যদি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়, লক্ষ্য অবিচল থাকে, চিন্তা পরিচ্ছন্ন হয় তাহলে যে তিনি বিজয়ী হবেন শেখ হাসিনাই তার প্রমাণ। ’৭৫-এ মানুষটি সব হারিয়েছেন। বাবা, মা, ভাই সবাইকে। এ রকম একজন মানুষের তো উন্মাদ হয়ে যাওয়ার কথা। অথবা হতাশার গহিন অরণ্যে হারিয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু শেখ হাসিনা দেখালেন সব হারিয়েও সব পাওয়া যায়। মনোবল, সততা ও নিষ্ঠা দিয়ে কাজ করলে অসম্ভব শব্দটাকে সহজেই পরাজিত করা যায়। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে জাতির পিতাকে পুনর্বার প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এ দেশে আর কেউ কোনো দিন বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে পারবে না।

’৭৫-এর পর কজন ভেবেছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আবার তাঁর মর্যাদার আসনে বসবেন। কেউ কি ভেবেছিল বাংলাদেশ আবার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের পথে হাঁটবে? ’৮১ সালে যখন শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলেন অসহায়, রিক্ত, সিক্ত অবস্থায় তখন কজন ভেবেছিল তিনি হয়ে উঠবেন বাঙালির কান্ডারি। তার হাত ধরেই বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে পাবে মর্যাদার আসন। ’৯১ সালের নির্বাচনে যখন আওয়ামী লীগ হেরে গেল, তখন শেখ হাসিনার রাজনীতির যবনিকা দেখেছিলেন বেশির ভাগ পন্ডিত। ২০০১-এ আওয়ামী লীগের পরাজয়ের পর আওয়ামী লীগের নেতারাই ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব ভেবেছিলেন। ২০০৭ সালে তো নৌকা থেকে ঝাঁপ দিয়ে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে চেয়েছিলেন হেভিওয়েট নেতারা। কিন্তু শেখ হাসিনা হাল ছাড়েননি। লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি এতটুকু। তিনি আস্থা রেখেছিলেন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের ওপর, কোটি মানুষের ওপর। তাদের নিয়ে লড়াই করে গেছেন সব হারানো মানুষটি। লড়াই করেছেন অসত্যের বিরুদ্ধে, অপশাসনের বিরুদ্ধে, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে। বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথেই তিনি হেঁটেছেন। নতুন পথ বানাতে চাননি। জাতির পিতার ছায়ায় থেকেই নিজেকে বিস্তৃত করেছেন। শেখ হাসিনার গল্পটা তাই সব হারিয়ে সব পাওয়ার গল্প। শুধু শেখ হাসিনার গল্প নয়, বাংলাদেশ পদ্মা সেতুর গল্পটাও যেন একই চিত্রনাট্যের অনুপম বাস্তবায়ন। এক অসম যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশ পায় এক স্বাধীন রাষ্ট্র। জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল এক স্বনির্ভর, আত্মমর্যাদার দেশ। কিন্তু ’৭৫-এ জাতির পিতাকে হারিয়ে বাংলাদেশ যেন সব হারায়। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন স্বাধীনতা, চেয়েছিলেন অর্থনৈতিক মুক্তি। নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ যেন অর্থনৈতিক মুক্তির পতাকা ওড়াল। ’৭৫-এ সব হারানো বাংলাদেশ ২০২২-এ এসে সব পেল। পদ্মা সেতুর গল্পটাও একই রকম। বিপুল আড়ম্বরে এ সেতু নির্মাণের যাত্রা হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের কথিত দুর্নীতির অভিযোগ সব স্বপ্ন লন্ডভন্ড করে দেয়। সব হারায় পদ্মা সেতু প্রকল্প। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পদ্মা সেতু এখন বাংলাদেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন।

পদ্মা সেতু নিঃসন্দেহে শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি। কিন্তু শেখ হাসিনার আসল অর্জন হলো তাঁর রাজনীতি, সাহস ও সততা। এ কারণেই লক্ষ্য অর্জনে পাহাড়সম বাধা তিনি পার হয়ে যান অবলীলায়। সব হারিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এটাই তাঁর সব পাওয়া। রাজনীতির এ দৃঢ় আদর্শের জন্য শেখ হাসিনা অমরত্ব পাবেন। বেঁচে থাকবেন হাজার বছর।

লেখক : নির্বাহী পরিচালক, পরিপ্রেক্ষিত।
Email : poriprekkhit@yahoo.com
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।

পদ্মা সেতু উদ্বোধন   পদ্মা সেতু   উদ্বোধন   শেখ হাসিনা  


মন্তব্য করুন


এডিটর’স মাইন্ড

ফখরুল ৫০০, রিজভী ২০০ টাকা

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ২৩ Jun, ২০২২


Thumbnail

বন্যা নিয়ে বিএনপি'র আহাজারির কমতি নেই। প্রতিদিন বিএনপি সরকারের সমালোচনায় মুখর। সরকার ত্রাণ তৎপরতা ঠিকমতো করতে পারছে না, বন্যার চেয়ে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন নিয়ে সরকার ব্যস্ত এমন সমালোচনা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিনিয়তই করা হচ্ছে। কিন্তু দেশের অন্যতম প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বন্যাদুর্গতদের সাহায্যের জন্য বিএনপি কি করছে? সম্প্রতি বিএনপির নেতারা নিজস্ব উদ্যোগে দূর্গত মানুষকে সহায়তার জন্য অর্থ আহরণ করা শুরু করেছে। দলের নেতাকর্মীদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দলীয় প্রধান কার্যালয়ে যে যেটুকু পারে সেটুকু টাকা যেন জমা দেয়। আর টাকা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত গত তিনদিনে বিএনপি'র কেন্দ্রীয় ত্রাণ তহবিলে টাকা উঠেছে ৩৬ হাজার ৭৫০ টাকা মাত্র। আর এই ত্রাণ তহবিলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দিয়েছেন ৫০০ টাকা আর বিএনপি'র সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দিয়েছেন ২০০ টাকা। স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যই কোনো টাকা জমা দেননি। সবচেয়ে বেশি ৩০০০ টাকা জমা দিয়েছেন একজন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা। বিএনপির নেতারা বলছেন যে, তারা আরও অপেক্ষা করবেন এবং আগামী দুইদিন পর এই টাকা দিয়ে ত্রাণ তৎপরতা শুরু করবেন। 

তবে বিএনপির এই ৩৬ হাজার ৭৫০ টাকা দিয়ে দুর্গত মানুষের জন্য কি ত্রাণ সহায়তা করা হবে, সে নিয়ে বিএনপির মধ্যেই নানারকম কৌতুক শুরু হয়েছে। বিএনপির একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, এ টাকা দিয়ে সবার জন্য ১ বোতল করে পানিও দেওয়া সম্ভব না। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন যে, সরকার অপ্রতুল ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছে এবং দুর্গত মানুষদের জন্য তেমন ত্রাণ দিচ্ছে না। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিএনপি'র পক্ষ থেকে তেমন কোনো ত্রাণ তৎপরতা চোখে পড়েনি। স্থানীয় পর্যায়ে সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু ত্রাণ সহায়তা দিয়েছেন। আরিফুল হক চৌধুরী বিএনপি নেতাদেরকে ত্রাণ সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেও সেই আহ্বানে এখনও সাড়া দেয়নি বিএনপি নেতারা।

বিএনপিতে ধর্নাঢ্য-বিত্তবান ব্যক্তির সংখ্যা কম নয়। বিএনপি নেতাদের মধ্যে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী একজন ধর্নাঢ্য শিল্পপতি। আব্দুল আউয়াল মিন্টুও বিত্তশালী একজন ব্যক্তি। এছাড়াও বিএনপিতে বহু ব্যবসায়ী এবং ধনী লোক আছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাসও একটি ব্যাংকের মালিক এবং পরিবহন ব্যবসায় রয়েছেন। অথচ এত ধনী ব্যক্তি থাকার পরও বিএনপি নিজস্ব উদ্যোগে তহবিল গঠন করতে পারছে না কেন, এটি বিএনপি'র জন্য একটি বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বিএনপি'র একজন কর্মী বলেছেন যে, দলের মহাসচিব যদি ৫০০ টাকা দেন তাহলে অন্য কর্মীরা কি করবেন? আর এর প্রেক্ষিতেই নতুন করে বিএনপি'র মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বন্যা শুরুর এক সপ্তাহ হলেও এখন পর্যন্ত বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির কোনো গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে ত্রাণ তৎপড়তার জন্য সিলেট অঞ্চলে যেতে দেখা যায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে যে, বন্যা নিয়ে কি বিএনপি রাজনীতি করতে চায় নাকি দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায়? 


ফখরুল   রিজভী   বিএনপি   বন্যা   ত্রাণ  


মন্তব্য করুন


এডিটর’স মাইন্ড

ভিলেনরা কি যাবেন পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে?

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ২২ Jun, ২০২২


Thumbnail ভিলেনরা কি যাবেন পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে?

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হচ্ছে আগামী ২৫ জুন। ওই দিন সকাল ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেতুর উদ্বোধন করবেন এই সেতুর স্বপ্নদ্রষ্টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ প্রধানমন্ত্রী গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এই সংবাদ সম্মেলনে দেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়, তবে বাকি সময়টা ছিল পদ্মা সেতু নিয়ে নানারকম আলোচনা। প্রধানমন্ত্রী খোলামেলাভাবে সব প্রশ্নের উত্তর দেন। প্রধানমন্ত্রী এই সময় পদ্মা সেতু নিয়ে বিভিন্ন মহলের বিরোধিতার প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। বিশ্বব্যাংক যখন পদ্মা সেতুতে অর্থায়নে অস্বীকৃতি জানিয়ে সরে আসে, তখন বিভিন্ন বিশিষ্টজনেরা যেসব মন্তব্য করেছিল, সেই সমস্ত মন্তব্যগুলো প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন সংবাদ সম্মেলনে। তিনি কয়েকজন সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরোধীতার কথাও উল্লেখ করেন তার সংবাদ সম্মেলনে। এই সমস্ত ব্যক্তিদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন। এখন প্রশ্ন হলো যে, যারা সেই সময় পদ্মা সেতুর বিরোধিতা করেছিলেন এবং পদ্মা সেতু হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা কি আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাবেন? 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাদের কথা উল্লেখ করেছেন, তাদের মধ্যে প্রথমে নাম ছিল বেগম খালেদা জিয়ার। বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন যে, এই সরকার পদ্মা সেতু কাজ শুরু করছে, কিন্তু এই সরকার তা শেষ করতে পারবে না। বেগম খালেদা জিয়া পদ্মা সেতুর নির্মাণের ক্রটির কথাও উল্লেখ করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া এখন শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাই তার পক্ষে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যাওয়া সম্ভব না বলে তার পারিবারিক সূত্র বলেছে। যদিও পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, বেগম খালেদা জিয়া এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক দাওয়াত পান নাই। যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে দাওয়াত করার ক্ষেত্রে যদি আইনি কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকে, তাহলে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তবে বেগম খালেদা জিয়া যে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না এটা মোটামুটি নিশ্চিত।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস: প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি পদ্মা সেতুর বিরোধিতাকারী হিসেবে যাকে চিহ্নিত করেছেন তিনি হলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদ্মা সেতুর বিরোধিতা করার ক্ষেত্রে কি কি করেছিলেন তার বিবরণও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, একজন ব্যক্তির একটি পদ আঁকড়ে রাখার জন্য দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে থাকার জন্যই তিনি পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাধা দিয়েছিলেন বলে প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাবেন কিনা এ সম্পর্কে যোগাযোগ করা হলে ইউনূস সেন্টারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্য কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকার কারণে তিনি যাবেন না। তবে এ ব্যাপারে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। 

ড. আকবর আলি খান: পদ্মা সেতু নিজ অর্থে করার সমালোচক হিসেবে ড. আকবর আলী খানের একটি বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী আজ সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেছেন। ড. আকবর আলি খানের পারিবারিক সূত্র বলছে, তিনি অসুস্থ এবং পদ্মা সেতু পর্যন্ত যাওয়ার মতো শারীরিক সক্ষমতা তার নেই। এজন্য তিনি পদ্মা সেতুতে যাবেন না। যদিও তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তিনি পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণপত্র পেয়েছেন।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য: সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বিশ্বব্যাংকের সরে যাওয়া এবং নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এটির ফলে অর্থনৈতিক বিপর্যযয়ের কথাও বলেছিলেন। তবে জানা গেছে যে, ড. দেবপ্রিয় পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না। সেতু বিভাগ সূত্র জানা গেছে যে, তাকে ইতোমধ্যে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। 

শাহদীন মালিক: শাহদীন মালিকও পদ্মা সেতুর সমালোচনা করেছিলেন। সেখানে তিনি সুশাসনের অভাবের কথা বলেছিলেন এবং বিশ্বব্যাংককে সরে যাওয়াটাকে দুর্ভাগ্যজনক বলেছিলেন। শাহদীন মালিকেও পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শাহদীন মালিকের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছেন তিনি পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাবেন না। 

অর্থাৎ যারা যারা পদ্মা সেতু হবে না, নিজে অর্থায়নে পদ্মা সেতু করা সম্ভব নয় বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তারা কেউই আসলে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না। তবে এটি কি লজ্জায়, না হতাশায় সেটি অবশ্য জানা যায়নি।

ভিলেন   পদ্মা সেতু   উদ্বোধন   প্রধানমন্ত্রী   শেখ হাসিনা  


মন্তব্য করুন


এডিটর’স মাইন্ড

নির্বাচন কমিশনের মেরুদন্ড ভেঙে গেল কুমিল্লায়

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ১৮ Jun, ২০২২


Thumbnail

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ছিল নতুন নির্বাচন কমিশনের প্রথম পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় শোচনীয়ভাবে ফেল করল কমিশন। শুধু ফেল করেনি, নতুন ইসির কোমর ভেঙে গেছে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত সামান্য ভোটে জয়ী হয়েছেন। দুবারের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু পরাজিত হয়েছেন চারশোর কম ভোটে। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত আরেক প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সারও প্রায় ৩০ হাজার ভোট পেয়েছেন। বিএনপির ভোট বিভক্ত হওয়ার কারণেই যে সাক্কু পরাজিত হয়েছেন, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু যেভাবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হয়েছেন তা ছিল অপ্রয়োজনীয় ও অনাকাঙ্ক্ষিত। কুমিল্লা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী বর্ষীয়ান নেতা আ ক ম বাহাউদ্দিন তাঁর নিজের লোককে জেতাতে অনেক কিছু করেছেন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন। বিরোধীদের হাতে তুলে দিয়েছেন সমালোচনার অস্ত্র। কুমিল্লার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জেতেনি, জিতেছে একজন এমপির ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা। কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ছিল দীর্ঘদিন প্রকাশ্য বিভক্তি। আফজল খান আর বাহাউদ্দিন বিরোধ বহুবার আওয়ামী লীগের বড় ক্ষতি করেছে। প্রথম সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ছিলেন আফজল খান। এ সময় আওয়ামী লীগের অতি উৎসাহী এক গ্রুপ মনিরুল হক সাক্কুকে প্রায় প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছিলেন। আফজলকে হারানোর জন্যই তারা কাছে টেনে নিয়েছিলেন বিএনপির সাক্কুকে। দ্বিতীয় সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছিলেন আফজল খানের মেয়ে আঞ্জুম সুলতানা। দলীয় বিরোধে ধরাশায়ী হন নৌকার প্রার্থী। অর্থাৎ প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে আওয়ামী লীগ নয়, নিজের প্রতিপত্তি ও প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন ১৪ জন। আফজল খানের মৃত্যুর পর বাহাউদ্দিনের প্রভাব বাড়ে কুমিল্লায় এবং আওয়ামী লীগে। এবার মনোনয়ন পান বাহাউদ্দিনের আপন লোক আরফানুল হক রিফাত। রিফাত মনোনয়ন পাওয়ার পরপরই সাক্কুকে ছুড়ে ফেলে দেন বাহাউদ্দিন। ‘মাইম্যান’কে জেতাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। শেষ পর্যন্ত এমপির আপন লোক জিতেছেন বটে, কিন্তু তাতে আওয়ামী লীগের ক্ষতিই হয়েছে। একটি গুরুত্বহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন জিততে গিয়ে আগামী নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য দূরে থাকলেও আওয়ামী লীগ হয়তো জিতত। আর আওয়ামী লীগ হারলেও দেশের রাজনীতির জন্য কোনো ক্ষতিবৃদ্ধি হতো না।

হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছিল বিতর্কের মধ্য দিয়ে। এবারই প্রথম আইনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে। কিন্তু দেশের অন্যতম বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি। রাষ্ট্রপতির সংলাপে যায়নি বিএনপি। সার্চ কমিটিতেও নাম জমা দেয়নি। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ‘এ নির্বাচন কমিশন সরকারের অনুগত এবং আজ্ঞাবহ হবে।’ দলটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আবার রাজনীতির মাঠে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিল নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া বয়কট করে। তাই এক রকম হট সিটেই বসেছিল আউয়াল কমিশন। বাংলাদেশে প্রায় সব নির্বাচন কমিশনেরই ‘বাচাল’ রোগ ছিল। নানা রকম অপ্রাসঙ্গিক, বিতর্কিত ও অনভিপ্রেত কথাবার্তা বলে প্রথমেই নির্বাচন কমিশন সাধারণ মানুষের আস্থায় চির ধরায়। নতুন নির্বাচন কমিশনারও একই পথে হাঁটলেন। শুরুতেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির মতো বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে লড়াই করার পরামর্শ দিলেন। এর পর থেকে তাঁর কথা বলেই চলেছেন। বিএনপির আস্থা অর্জনই তাঁর অতিকথনের প্রধান কারণ- এটা বুঝতে কারও কোনো কষ্ট হচ্ছে না। নিজেকে বিশুদ্ধ নিরপেক্ষ প্রমাণের জন্য ‘এবার রাতে ভোট হবে না’ বলেও জাতিকে গ্যারান্টি দিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কাছে মানুষ কথা নয়, কাজ দেখতে চায়। কাজ দিয়েই একটি কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রমাণিত হয়। নির্বাচন কমিশনের প্রধান কাজ হলো বিভিন্ন পর্যায়ের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন এবং সম্পন্ন করা। হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বে এ কমিশনের প্রথম পরীক্ষা ছিল কুসিক নির্বাচন। নতুন সিইসিও তাঁর প্রথম পরীক্ষায় নিজেকে যোগ্য ও পক্ষপাতহীন করার যুদ্ধে নামলেন। এ নির্বাচনে বিএনপি কাগজে ছিল না, বাস্তবে ছিল। কিছুদিন ধরে বিএনপি স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড় করানোর কৌশল নিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। ধানের শীষ শেলফে তুলে রেখে মগ, ঘড়ি, বদনা ইত্যাদি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন তাঁরা। নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনেও বিএনপি প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। কুমিল্লায় অবশ্য বিএনপির প্রার্থী একজন নন, দুজন। সাবেক মেয়র সাক্কু ছাড়াও বিএনপির আরেক নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সারও শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গেছেন। কাজেই মুখে বিএনপি যতই বলুক এ সরকারের অধীনে তারা নির্বাচনে যাবে না, বাস্তবে ছদ্মবেশে নির্বাচনের মাঠে ভালোভাবেই আছে।

কুসিক নির্বাচনের সময়ও বিএনপি মহাসচিব নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই কথা বলেছেন। জিতলে জনপ্রিয়, হারলে আমরা তো নির্বাচনই করিনি বলা বিএনপির নতুন নির্বাচনী কৌশল এখন আর গোপন নয়। নির্বাচন থেকে তারা দূরে- এটা প্রমাণের জন্য এখন দলটি বহিষ্কার নাটক মঞ্চস্থ করে। নারায়ণগঞ্জে তৈমুর আলম খন্দকারকে প্রথমে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরাজয়ের পর তাঁকে লাল কার্ড দেখিয়ে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। কুমিল্লায়ও সাক্কুকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়। বাদ যাননি কায়সারও। প্রকাশ্যে বহিষ্কার করলেও বিএনপি নেতা-কর্মীরা বিভক্ত হয়ে তাঁদের দুই প্রার্থীর জন্যই কাজ করেছেন। এ রকম পরিস্থিতিতে প্রথম পরীক্ষায় নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের প্রথম মনোযোগ ছিল বিএনপির আস্থা অর্জন। হাবিবুল আউয়াল যত না নির্মোহ এবং নিরপেক্ষভাবে কুমিল্লা নির্বাচন করতে চেয়েছেন তার চেয়ে বেশি বিএনপিকে খুশি করার চেষ্টা করেছেন। একজন ব্যক্তি যখন তাঁর দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কাজ করেন তখনই বিপত্তি বাধে। নির্বাচনের প্রচারণার এক পর্যায়ে সিইসি কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিনকে এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেন। ওই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন বিএনপির (স্বতন্ত্র) প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু। স্থানীয় সরকার নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী মন্ত্রী, সংসদ সদস্যরা প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে পারেন না। এ নিয়ম ভালো না খারাপ তা নিয়ে দীর্ঘ তাত্ত্বিক বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগ গত ১৩ বছরে সব নির্বাচনে এ নিয়মটি মেনে আসছে। এমনকি চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিরা দূরে ছিলেন। হাবিবুল আউয়াল হয়তো ভেবেছিলেন একটা চিঠি দিলেই কুমিল্লার এই আলোচিত নেতা ঢাকায় চলে আসবেন। অতি উৎসাহী নতুন সিইসি কেন এভাবে চিঠি দিয়ে একজন সংসদ সদস্যকে এলাকা ত্যাগ করতে বললেন সেও এক প্রশ্ন। অবশ্য এ প্রশ্নের উত্তরটা ভাবা যায় সহজেই। এটা ছিল কাজী হাবিবুল আউয়ালের ট্রাম্পকার্ড। আ ক ম বাহাউদ্দিন যদি এটা মানতেন তাহলে নতুন নির্বাচন কমিশনের মেরুদন্ড শক্ত হতো। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে কাজী হাবিবুল আউয়ালের ইমেজ বাড়ত। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নয়, নিজেকে গ্রহণযোগ্য করতেই বাহারকে এলাকা ত্যাগের নোটিস পাঠিয়েছিল ইসি। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনার সম্ভবত আওয়ামী লীগ নেতাদের আত্মঘাতী ইতিহাস জানতেন না। আওয়ামী লীগের এ রকম নেতার সংখ্যা কম নয়, যাঁরা দলের প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করতে দলের ক্ষতি করেন। যাঁরা কোন্দল করে দলকে দুর্বল করেন। ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারের জন্য দলের অর্জন ম্লান করেন। এ কুমিল্লায়ই আওয়ামী লীগের রাজনীতি সম্পর্কে চমৎকার এক মন্তব্য করেছিলেন প্রয়াত বিএনপি নেতা কর্নেল (অব.) আকবর হোসেন। তিনি বলেছিলেন, ‘বাহার আর আফজল থাকলে বিএনপির জেতার জন্য কর্মী লাগে না।’

বিএনপি বা অন্য দল আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে যত না কুৎসা ছড়িয়েছে, সমালোচনা করেছে তার চেয়ে বেশি করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা একে অন্যের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ সম্পর্কে কেউ কেউ বলেন, আওয়ামী লীগের শত্রুর দরকার নেই। নিজেরাই নিজেদের সর্বনাশের জন্য যথেষ্ট। বিভিন্ন সময় এটা প্রমাণিত হয়েছে। খুনি মোশতাক এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গরা শুধু নিজেদের স্বার্থের কথা ভেবে জাতির পিতার হত্যা ষড়যন্ত্রে ন্যক্কারজনকভাবে লিপ্ত হয়েছিল। আবদুর রাজ্জাক নিজের আমিত্ব জাহির করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ ভেঙেছিলেন। ড. কামাল দেশ কিংবা আওয়ামী লীগের স্বার্থ চিন্তা করেননি। তাঁর ব্যক্তিস্বার্থে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল আওয়ামী লীগ। ১৯৯১-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপর্যয়ের বড় কারণ ছিল অন্তঃকলহ। সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হারাতে গিয়ে এক নেতা তো নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগকেই হারিয়ে দিয়েছিলেন প্রায়। চাঁদপুরে আওয়ামী লীগ বিতর্কিত হচ্ছে নিজেদের কোন্দলে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ‘মাইম্যান’কে জেতাতে এমপি-নেতারা আওয়ামী লীগকেই ক্ষতবিক্ষত করেছেন। কুমিল্লায় আওয়ামী লীগ দুর্বল হয়েছে দুই নেতার বিরোধে। স্থানীয় এমপি বড় মাত্রার ঝুঁকি নিয়েছেন। কুমিল্লার অধিপতি হতে গিয়ে তিনি আওয়ামী লীগকে সমস্যায় ফেলেছেন। নির্বাচন কমিশনের চিঠি পেয়ে তিনি যদি এলাকা ত্যাগ করতেন তাহলে তাঁর এবং আওয়ামী লীগের ইমেজ বাড়ত। এতে হয়তো আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ভোটও বাড়ত। সাধারণ মানুষ মনে করত আওয়ামী লীগ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু বাহাউদ্দিন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে প্রমাণ করেছেন, ক্ষমতাসীনরা নির্বাচন কমিশনকে থোড়াই কেয়ার করে। নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা নেই। বাহাউদ্দিন যখন কমিশনকে বুড়ো আঙুল দেখালেন তখন কমিশনও ভয় পেয়ে পিছু হটল। বলল, তিনি না গেলে আমাদের কী করার আছে। বাঃ, তাহলে কেন এত হম্বিতম্বি? কেন এভাবে চিঠি দেওয়া? এ ঘটনা প্রমাণ করল কমিশন তার ক্ষমতা প্রয়োগে অক্ষম, অযোগ্য।

আমাদের বিবেচনায় কুমিল্লা সিটি নির্বাচন লেজেগোবরে হয়ে যায় এখানেই। বাহাউদ্দিন এলাকায় থেকে তাঁর কর্মীদের বার্তা দিলেন ‘যে কোনো মূল্যে আমি আমার প্রার্থীকে জেতাতে চাই।’ বাস্তবে হলোও তাই। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পর ভোট গণনায় দেখা গেল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। তারপর মারমুখী সরকারি সমর্থকদের ঝটিকা তান্ডব। অবশেষে ৩৪৩ ভোটে জয়ী ঘোষণা করা হলো আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে। নির্বাচন ঘিরে সারা দিনের সব অর্জন বালুর বাঁধের মতো ভেঙে গেল। কুমিল্লায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিজয়টা কি খুব জরুরি ছিল?

এ নির্বাচনটি হচ্ছে এমন একসময় যখন বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নানামুখী মেরুকরণ চলছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে প্রতিনিয়ত নসিহত দিচ্ছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস বারবার বলছেন, ‘বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চাই।’ কুমিল্লা নির্বাচনের আগে তিনি ছুটে গেছেন নির্বাচন কমিশনে। মুরব্বির আগমনে যেন কমিশন ধন্য হয়েছে। সেখানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচনে যেন জনমতের প্রতিফলন ঘটে। জনগণের পছন্দের ব্যক্তি যেন নির্বাচিত হয়।’ শুধু যুক্তরাষ্ট্র কেন, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে এখন থেকেই খোলামেলা কথাবার্তা বলছে। এসব বলছে কারণ বিএনপি বিরামহীনভাবে তাদের কাছে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিএনপি বর্তমান সরকার এবং এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে দাবি করছে। কুমিল্লার নির্বাচন বিএনপির এ দাবিকে কি নতুন প্রাণশক্তি দিল না? এ নির্বাচনের আকস্মিক ফলাফলের পর আওয়ামী লীগের কারও মুখে হাসি নেই। তারা বলছেন, ক্ষতি হয়ে গেল। আওয়ামী লীগের এক নেতাকে জিজ্ঞেস করলাম, তাহলে কি আওয়ামী লীগের প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত হারলে ভালো হতো? অমনি ওই নেতা বললেন, এসব না করলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী জিততেন। নির্বাচন এবং ইসিকে প্রশ্নবিদ্ধ না করেও যে জয়ী হওয়া যায় নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন ছিল তার প্রমাণ। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হয়েছিলেন একটি অনবদ্য নির্বাচনী কৌশলের মাধ্যমে। ঢাকা থেকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে একটি নির্বাচন পরিচালনা টিম পাঠানো হয়েছিল। যে টিম নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের কোন্দল বন্ধ করেছিল কঠোরভাবে। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগই যে অপ্রতিরোধ্য তা প্রমাণ করেছিল। ওই নেতার কথায় নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনের সঙ্গে কুমিল্লা নির্বাচন মেলালাম। শুধু নারায়ণগঞ্জ কেন, বিভিন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয়ভাবে টিম করে দিয়েছে। সে টিম কাজ করেছে। কুমিল্লায় কেন্দ্রীয় টিম কোথায়? কয়েক জায়গায় ফোন করে জানলাম আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো টিম করেনি। কারণ কী? বাহাউদ্দিন চাননি। তিনি নিজেই সব দায়িত্ব নিয়ে কুমিল্লা দখলের নীলনকশা করেছিলেন। তাঁর অভিলাষ তিনি বাস্তবায়ন করেছেন আওয়ামী লীগের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে। এই নেতাই কিছুদিন আগে কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সঙ্গে প্রায় তর্ক জুড়ে দিয়েছিলেন। আঞ্চলিকতাকে উসকে দিয়ে কুমিল্লাবাসীর কাছে হিরো সাজার চেষ্টা ছিল তাঁর ওই অযাচিত বিতর্কে। প্রধানমন্ত্রী সেদিন চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। কেউ কেউ বাহারকে বাহবা দিয়েছেন। অথচ বাহাউদ্দিনের মতো একজন প্রবীণ নেতা একবারের জন্যও ভাবেননি শেখ হাসিনা না থাকলে বাংলাদেশের কিছুই থাকে না। কুমিল্লা নির্বাচনে আওয়ামী লীগকেও ছোট করা হয়েছে। এর ফলে নির্বাচন কমিশনের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। অনেকেই বলছেন, যে নির্বাচন কমিশন একজন সংসদ সদস্যকেই সামাল দিতে পারে না সে কমিশন জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ সংসদ সদস্যকে সামলাবে কীভাবে? এ প্রশ্নের উত্তর কী দেবেন ব্যক্তিস্বার্থে দলকে প্রশ্নবিদ্ধ করা অর্বাচীন নেতারা?

এ কুমিল্লায়ই রাজনীতি করতেন খুনি মোশতাক, খুনি তাহের উদ্দিন ঠাকুর। ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে এ কুমিল্লায়ই ভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল খুনি মোশতাক। ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আওয়ামী লীগের জয় নিয়ে কোনো সংশয় নেই কারও, কিন্তু কুমিল্লা-৯ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী খুনি মোশতাকের ভরাডুবি হলো। ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রশীদ নামে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে তিনি হারছিলেন। এ সময় হেলিকপ্টারে করে ব্যালট ঢাকায় নিয়ে আসা হলো। খুনি মোশতাককে বিজয়ী ঘোষণা করা হলো। ব্যক্তিস্বার্থে দলকে ব্যবহারের পরিণতি কখনো শুভ হয় না। নিজের স্বার্থে যারা দলকে ব্যবহার করে তারা দলের জন্য ক্ষতিকর।

কুসিক নির্বাচন   নির্বাচন কমিশন   নির্বাচন  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন