এডিটর’স মাইন্ড

মানি ইজ নো প্রবলেম

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ১৯ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

রবিবার সকাল। বাসা থেকে অফিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছি। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস তাই প্রচণ্ড যানজট। গাড়িতে বসে অফিসের টুকটাক কাজ সারছি। এর মধ্যেই আমার এক বন্ধুর ফোন। ধরতেই বলল, ‘দোস্ত খবর শুনছ। কোনো ব্যাংকে বোলে টাকা নাই। আটটা ব্যাংক নাকি দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। আমি তো অল্প কিছু টাকা রাখছি ব্যাংকে। এখন কী করব?’ বন্ধুর টেলিফোন রাখতে না রাখতেই রংপুর থেকে ফোন করলেন এক আত্মীয়।  বললেন, ‘ব্যাংকে নাকি টাকা নাই। মাত্র কিছু টাকা আছে ব্যাংকে। এটাই তো সারা জীবনের সম্বল। এখন কী করব। অফিসে যেতে যেতে এরকম আরও কয়েকজনের ফোন। সবাই উদ্বিগ্ন, আতঙ্কিত। আমার এক অনুজ একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তাকে ফোন করলাম আসলে ঘটনা কী জানার জন্য। তিনি তো হো হো করে হেসে উঠলেন। বললেন, ‘ভাই আপনিও কি এসব ফেসবুকের গুজবে বিশ্বাস করা শুরু করলেন? এসব ফালতু খবর একটা মহল ছড়াচ্ছে। কোনো ব্যাংকেই তারল্য সংকট নেই। তার কথায় আশ্বস্ত হলাম। তখনই মনে হলো ১৯৭৪ এর কথা। সে সময় একটি স্বনামধন্য পত্রিকায়জাল জড়ানো বাসন্তী ছবি ছাপা হয়েছিল। বলা হয়েছিল বাসন্তীর কোনো কাপড় নেই। লজ্জা নিবারণের জন্য বাসন্তী জালে আব্রু ঢেকেছে। ওই খবর সে সময় হইচই ফেলেছিল। বঙ্গবন্ধু সরকারকে ঘায়েল করার জন্য সে সময়ই বাসন্তীর সাজানো নাটক ব্যবহার করা হয়েছিল।৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর বাসন্তী বাসন্তী করে রাজনীতির মাঠে কত না অসত্য কুৎসিত আপত্তিকর কথাই ছড়ানো হলো।৮১- ১৭ মে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিয়ে দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনাই বাসন্তী নিয়ে মিথ্যাচারের স্বরূপ উন্মোচন করেছিলেন। নিজে গিয়েছিলেন বাসন্তীর বাড়িতে। জানা গেল বাসন্তী একজন প্রতিবন্ধী। ওই ছবি ছিল বানোয়াট। আওয়ামী লীগ সরকার সম্পর্কে জনমনে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টির জন্যই সে সময় বাসন্তীর ওই ছবি বানানো হয়েছিল। বাংলাদেশে অপসাংবাদিকতার ইতিহাস বাসন্তীর ছবি সম্ভবত সেরা দৃষ্টান্ত। বাসন্তীকে নিয়ে যারা সে সময় নোংরা খেলা খেলেছে তারা কেউই বাসন্তীর জন্য কিছুই করেনি। শেখ হাসিনাই বাসন্তীর জন্য ঘর বানিয়ে দিয়েছিলেন।৭৪- ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছিল না। সংবাদপত্রে এক সাজানো ছবিই আওয়ামী লীগের অনেকটা সর্বনাশ করেছিল। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগ। এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন গুজবের ফ্যাক্টরিতে পরিণত হয়েছে। সর্বশেষ গুজব হলো- ব্যাংকে টাকা নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন চোখ রাখলে মনে হবে, বাংলাদেশ বোধহয় দেউলিয়া হওয়ার পথে। সরকার পতনের দিনক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হলো এমন সব গুজব ছড়ানো হচ্ছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এরপর নিয়ে বিরোধী নেতারা বক্তব্য রাখছেন। অবশেষে তা মূল ধারার গণমাধ্যমে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আপনাকে অসত্য তথ্য বিশ্বাস করতে বাধ্য করা হচ্ছে। ব্যাংকে টাকা নেই, গুজব ছড়ানোর আগেই গুজব ছড়ানো হলো আমাদের রিজার্ভে টাকা নেই। বাংলাদেশ দেউলিয়া হওয়ার পথে। ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছিল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রিজার্ভ। এটি আমাদের একটা গর্ব করার বিষয় ছিল। কিন্তু করোনা মহামারি আর বৈশ্বিক সংকটের কারণে রিজার্ভ কমছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের সব দেশেই রিজার্ভ কমছে বৈশ্বিক সংকটের কারণে। একটি দেশে যদি তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো বৈদেশিক মুদ্রা মজুদ থাকে তাহলে সেটাকে নিরাপদ মনে করা হয়। বাংলাদেশে এখন যে নিট রিজার্ভ মজুদ আছে তা দিয়ে চার মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। তাই রিজার্ভ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আছে চীনে। অক্টোবরের শেষে দেশটির রিজার্ভ ছিল ৩০৫২ বিলিয়ন ডলার। অথচ জুলাইয়ে দেশটির রিজার্ভ ছিল হাজার বিলিয়ন ডলার। মাত্র তিন মাসে চীনের রিজার্ভ কমেছে প্রায় হাজার বিলিয়ন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের দিক থেকে প্রথম ১০টি দেশের একটি ভারত। জুনের শেষে ভারতের রিজার্ভ ছিল ৫৯৯ বিলিয়ন ডলার। অক্টোবরের শেষে এসে তা কমে ৫২০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, বিশ্বের সবচেয়ে সম্পদশালী দেশ হিসেবে পরিচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অথচ যুক্তরাষ্ট্র রিজার্ভের দিক থেকে প্রথম ১০টি দেশের মধ্যে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের রিজার্ভ ২৪২ বিলিয়ন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের দিক থেকে যে দেশগুলো সংকটে আছে তার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- ‘বিশ্বে অর্থনৈতিক দিক থেকে সবচেয়ে সংকটে থাকা দেশ শ্রীলঙ্কা। দেশ এখন দেউলিয়া প্রায়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ীশ্রীলঙ্কার পাশাপাশি লেবানন, রাশিয়া, সুরিনাম এবং জাম্বিয়া খেলাপি ঋণের দেশ। অতি সম্প্রতি বেলারুশও খেলাপির তালিকায় নাম লিখিয়েছে। মুহূর্তে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে যে দেশগুলো আছে তার একটি তালিকাও প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। ওই তালিকায় যেসব দেশের নাম রয়েছে সেগুলো হলো- আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, মিসর, এল সালভাদর, ইথিওপিয়া, ঘানা, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, তিউনিশিয়া এবং ইউক্রেন। পাঠক লক্ষ করুন তালিকায় বাংলাদেশ নেই। তাহলে বাংলাদেশকে দেউলিয়া বানানোর প্রাণান্ত চেষ্টা কেন? কিছুদিন আগে আইএমএফ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে গেল। সফরের মধ্যেই গুজব ছড়ানো হলো যে, বাংলাদেশকে আইএমএফ ঋণ দিচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিত গুজবকে লুফে নিলেন কিছু রাজনীতিবিদ। তারা একযোগে বাদ্য বাজাতে শুরু করলেন। এরপর দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যম গুজবকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আদাজল খেয়ে মাঠে নামল। অর্থনীতিবিদ থেকে সদ্য রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া এক দেবদূত যেন আইএমএফের মুখপাত্র হিসেবে আবির্ভূত হলেন। ঘোষণা করলেনবাংলাদেশ ঋণ পাচ্ছে না। তার বক্তব্য যখন ডাহা মিথ্যা প্রমাণ হলো তখন কোনো গণমাধ্যম তাকে জিজ্ঞাসা করল নাআপনি এভাবে অসত্য তথ্য কীভাবে দিলেন সরকারের বিরুদ্ধে অবিরাম মিথ্যাচার করলে আপনি জাতির বিবেক, সাহসী মানুষ। আর সত্য তুলে ধরলেই আপনি সরকারের দালাল। সবাই মিলে যেন বাংলাদেশকে পঙ্গু, বিবর্ণ, দেউলিয়া প্রমাণের বিরামহীন চেষ্টা। কিন্তু কেন? পুঁজিবাদী বিশ্বে বলা হয়, সবকিছুর মূলে বাজার এবং অর্থ। বিদেশে বসে যারা নিরন্তর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে তারা যে বিনে পয়সায় এসব করছে না তা বলাই বাহুল্য। তাদের নিয়মিতভাবে মাসোহারা দিয়ে পোষা হচ্ছে। এখন যে পরিকল্পিত গুজব ছড়ানো হচ্ছে সেগুলোর পেছনেও লোভনীয় অর্থের হাতছানি আছে। বাংলাদেশকে ক্ষতবিক্ষত করতে কেন এত বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে? এর কারণ খুবই সহজ সরল এবং পরিষ্কার। রাজনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যই এসব গুজবকে রীতিমতো শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক লক্ষ্য হলো আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে হটানো। একটি রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতা থেকে হটানোর একমাত্র গণতান্ত্রিক পথ হলো নির্বাচন। সেজন্য জনমত গঠন করতে হয়। ভোটে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেই ক্ষমতাসীন দলকে পরাস্ত করতে হয়। ক্ষমতা থেকে নামাতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে সরকারকে ক্ষমতা থেকে হটাতে এখন ভিন্ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রক্রিয়ার কয়েকটি ধাপ রয়েছে। প্রথম ধাপ, অবিরত সরকারের বিরুদ্ধে অসত্য ভিত্তিহীন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে হবে। এসব অপপ্রচারভাইরাল করতে হবে। দ্বিতীয় ধাপ, অপপ্রচারের সূত্র ধরে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো প্রচারণা করবে। ওই গুজবগুলোকে জায়েজ করবে। তৃতীয় ধাপ, বিরোধী দলের বক্তব্যের সূত্র ধরে মূল ধারার কিছু গণমাধ্যম সংকট, ব্যর্থতা ইত্যাদি নিয়ে ফলাও করে প্রচার করবে। চতুর্থ ধাপ, ক্ষমতার লোভে অস্থির কিছু সুশীল নিয়ে নিয়মিত টকশোতে গিয়ে কথা বলবেন, কলাম লিখবেন। পঞ্চম ধাপ, সবকিছু নিয়ে সরাসরি জনগণের কাছে গিয়ে অসত্য তথ্যগুলো বলা হবে। ষষ্ঠ ধাপ, কিছু কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হবে। সপ্তম ধাপ, দাতা দেশ, সংস্থা এবং পশ্চিমা দেশের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার করে সরকারকে চাপে ফেলা হবে। সাত ধাপ পেরোলেই সাফল্য- এটাই এখন বাংলাদেশের রাজনীতি। চতুর্থ ধাপ পর্যন্ত ঘটনা প্রবাহ দৃশ্যমান। কিন্তু পঞ্চম ধাপের ঘটনাগুলোকে আমরা উপেক্ষা করছি। কদিন আগে সৌদি আরব থেকে এক ব্যক্তি আমাকে ফোন করলেন। আমার লেখা পড়ে মাঝেমধ্যেই তিনি ফোন করেন। অনেক বিষয়ে পরামর্শ দেন। তিনি আমাকে বললেন, এখানে প্রবাসী ভাইদের কাছে বিএনপি-জামায়াতের লোকজন গিয়ে কথা বলছেন। তারা কঠিন পরিশ্রম করে দেশে পরিজনকে সুখে রাখার সংকল্পে দৃঢ় মানুষগুলোকে বিভ্রান্ত করছে।

তিনি বললেন, ‘প্রবাসীদের বলা হচ্ছে- ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠানো নিরাপদ না। আপনার টাকা মার যাবে। আপনি টাকা দেন, আমি হুন্ডি করে দিচ্ছি। তার মতে, সৌদি আরবে এখন হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানোর হিড়িক পড়েছে। টাকা পাঠাতে সময় লাগছে ১০ মিনিট। একজন অভিবাসী ভাইয়ের কাছ থেকে টাকা নিয়েই ওই রাজনৈতিক ব্যক্তি বাংলাদেশে ফোন করছেন। পরিবারের ঠিকানা বাংলাদেশে থাকা ব্যক্তিকে জানিয়ে দিচ্ছেন। বাংলাদেশের ওই ব্যক্তিটি টাকা নিয়ে চলে যাচ্ছেন প্রাপকের বাসায়। ফোনে সৌদি প্রবাসীকে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিচ্ছেন। পরিবারের সদস্য টাকা বুঝে পাওয়ার কথা নিশ্চিত করতেই অপর প্রান্তের কর্মী বলছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। এভাবেই সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চলছেহুন্ডি মিশন। আর কারণেই কাগজ-কলমে প্রবাসী আয় কমছে। টাকা আসছে অবৈধ পথে। শুধু কি বিদেশে? দেশে কী হচ্ছে? রবিবার সোমবার ব্যাংকে টাকা নেই বলে যে গুজব ছড়ানো হলো তার নেপথ্যেও বিএনপি এবং জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। ঢাকার একজন বিএনপির পরিচিত নেতা তার ফেসবুকে লিখলেন- ‘ব্যাংক থেকে লাখ টাকা তুলতে গেলাম। ব্যাংকে টাকা নেই... এভাবে আমি পাঁচজন বিএনপি নেতার ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখলাম। শব্দ আর টাকার অংকের হেরফের আছে কিন্তু মূল বক্তব্য একই। একজন বিএনপি নেতা তার বাড়িতে রীতিমতো কর্মিসভা করে বলেছেন- সবাই ব্যাংকে যাবে, যার যা টাকা আছে তুলে নেবে। এভাবে পরিকল্পিতভাবে ব্যাংকিং খাতকে একটা সংকটে ফেলার চেষ্টা চলছে। তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্বরিত পদক্ষেপের প্রশংসা করতেই হয়। গুজবকে পল্লবিত হতে দেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। দ্রুত প্রেস বিজ্ঞপ্তি এবং সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জনগণকে আশ্বস্ত করছে। এরকম পদক্ষেপ যদি ডলার নিয়ে সরকার কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংক করতে পারত তাহলে দেশের ডলার পরিস্থিতি এত নাজুক হতো না। সেদিন একজন অর্থনীতিবিদ বলছিলেন, ডলার এখন শেয়ার মার্কেটের মতো ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। অনেকে মুনাফার আশায় ডলার কিনে বাসায় রাখছে। এখানেও বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক কূটকৌশল। দুই দলের বিত্তবান নেতা-কর্মীরা বাজার থেকে মুড়িমুড়কি কেনার মতো ডলার কিনে মজুদ রেখেছেন। ওই অর্থনীতিবিদ বলছিলেন, পাসপোর্ট, বিদেশ যাওয়ার টিকিট এবং ভিসা ছাড়া এখন ডলার বিক্রি বন্ধ করা উচিত। একজন ব্যক্তি চাল, ডাল, আদা, লবণের মতো ডলার কিনবেন এটা কী করে হয়? এখন যে প্রবণতা চলছে তাতে বাজারকে স্থিতিশীল করার জন্য যত ডলারই ছাড়া হোক না কেন, সংকট কাটবে না। এখন একটি সংঘবদ্ধ রাজনৈতিক বাহিনী মাঠে নামানো হয়েছে। এদের কাজ হলো খোলাবাজার থেকে ডলার কিনে সংকট সৃষ্টি করা। এটা তাদের জন্য লাভজনক ব্যবসাও বটে। প্রশ্ন হলো, এত বিপুল ডলার কেনার টাকা বিএনপি বা জামায়াতের নেতা-কর্মীরা কোথায় পাচ্ছেন। প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির মহাসমাবেশগুলোর বৈশিষ্ট্যগুলো খানিকটা খতিয়ে দেখা দরকার। সন্দেহ নেই, বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে বিএনপি যে জনসভাগুলো করছে তাতে বিপুল জনসমাগম হচ্ছে। নেতা-কর্মীরা সেখানে যোগ দিচ্ছেন। প্রতিটি সমাবেশের আগে অযাচিতভাবে পরিবহন ধর্মঘটের নাটক করা হচ্ছে। এতে ক্ষমতাসীন দলের লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হচ্ছে। বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপির কর্মীরা দুই-তিন দিন আগেই সমাবেশ হবে যে শহরে সেখানে আসছেন।বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে ফরিদপুরের সমাবেশে কিছু কর্মীর সাক্ষাৎকার দেখছিলাম। সেখানে কর্মীরা বলছেন, তারা তিন দিন আগে সমাবেশে যোগ দিতে এসেছেন। তাদের আসা-যাওয়া, থাকা-খাওয়ার খরচ কে দিচ্ছে? দল দিচ্ছে। আগের দিন সমাবেশস্থলে রীতিমতো পিকনিকের উৎসব। বিরিয়ানি, তেহারি, খিচুড়ি রান্নার লোভনীয় দৃশ্য আমরা প্রত্যক্ষ করছি। সাধারণভাবে হিসাব করলে দেখা যায়, একেকটি সমাবেশে ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। এত টাকা বিএনপি পাচ্ছে কোত্থকে? গত ২৮ জুলাই বিএনপি তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে। এতে দেখা যায়, গত বছর দলটির আয় হয়েছে ৮৪ লাখ ১২ হাজার ৪৪৪ টাকা। দলের সদস্যদের মাসিক চাঁদা, মনোনয়ন ফরম বিক্রি, ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদান এবং এফডিআরের লভ্যাংশ থেকে টাকা আয় হয়েছে বলে হিসাব বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময় দলটির ব্যয় হয়েছে কোটি ৯৮ লাখ ৪৭ হাজার ১৭১ টাকা। কর্মচারীদের বেতন-বোনাস, ক্রোড়পত্র বিল, অফিস খরচসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়েছে বলে বিএনপির দাখিলকৃত হিসাব বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনপির আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী দলটি কোটি ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৭২৭ কোটি টাকার ঋণে জর্জরিত। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হচ্ছে বলে দলটির নেতারা প্রতিদিন গলা ফাটিয়ে বক্তৃতা দেন, সেই দলটির অবস্থাই আসলে শ্রীলঙ্কার মতো। কাগজ-কলমে দায়দেনাগ্রস্ত একটি রাজনৈতিক দল সপ্তাহে ১০-১৫ কোটি টাকা হাওয়ায় উড়াচ্ছে কীভাবে? বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সামরিক একনায়ক জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, ‘মানি ইজ নো প্রবলেম। ক্যান্টনমেন্টে বসে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় জিয়া বিএনপি গঠন করেছিলেন। টাকা দিয়ে অন্য দলের লোক ভাগিয়ে এনেছিলেন। দল গঠনের জন্য ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের হুমকি দিয়ে চাঁদা নিতেন এমন অভিযোগ লিখে গেছেন প্রয়াত বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। আওয়ামী লীগকে নিঃশেষ করতে এবং বিএনপিকে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তিনি বলেছিলেনমানি ইজ নো প্রবলেম। বিএনপির রাজনীতির মূলমন্ত্র এটি। এখন আবারমানি ইজ নো প্রবলেম তত্ত্বের বাস্তব প্রয়োগ দেখছে বাংলাদেশ। টাকা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রায় পুরোটাই দখল করে নিয়েছে বিএনপি-জামায়াত। লবিস্ট নিয়োগ করে সরকারকে চাপে ফেলা হয়েছে। ্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল গত বছর ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে। আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ ডেকেছে বিএনপি। একটু কান পাতলেই বিএনপি নেতাদের চাপা উল্লাসের কথা শোনা যায়। ওই দিন নাকি বাংলাদেশের ওপর আরেকটি বড় নিষেধাজ্ঞা আসছে। নিষেধাজ্ঞা গত বছরের নিষেধাজ্ঞার চেয়েও ভয়ঙ্কর হবে। বাংলাদেশ স্তম্ভিত হবে এমন কথাও শুনি। ১০ ডিসেম্বরের সভা সমাবেশ নিয়ে নয়, আসন্ন নিষেধাজ্ঞা নিয়েই বিএনপি খুশিতে বাকবাকুম করছে। টাকা নাকি কথা বলে। এখন তো তার সত্যতাও দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা এখন বিএনপি নেতাদের ভাষায় কথা বলছেন। সরকারকে হটাতে বিএনপি টাকার বন্যা বইয়ে দিচ্ছে। মানি ইজ নো প্রবলেম। কিন্তু টাকাটা আসছে কোত্থেকে? কদিন আগে শুনলাম আওয়ামী লীগের নেতা বলছেন, ‘ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি হুমকি দিয়ে মোটা অংকের টাকা নিচ্ছে বিএনপি নেতারা। ব্যবসায়ীরা কি নাদান শিশু। তাদের ভয় দেখাল আর কোটি কোটি টাকা বের করে দিলেন। ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে এমন ধারণার সঙ্গে আমি একমত নই। কিছু কিছু ব্যবসায়ী এখন বিএনপিপ্রেমিক হয়ে উঠেছেন। ২০০১ সালের অক্টোবরে নির্বাচনের পরহাওয়া ভবন কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল। এসব ব্যবসায়ী তখন ফুলেফেঁপে উঠেছিলেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তারা প্রায় সবাই রাতারাতি আওয়ামী লীগ হয়ে যান। হাওয়া ভবনের সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে প্রয়াত সৈয়দ আশরাফ যে প্রতিষ্ঠানকে ফ্লাইওভার নির্মাণের অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন; ভোজবাজির মতো সেই ফ্লাইওভার অনুমোদন পান হাওয়া ভবন ঘনিষ্ঠ সেই ব্যবসায়ী। শুধু তাই নয়, রাজকন্যার সঙ্গে অর্ধেক রাজত্বের মতো পায় পাওয়ার প্ল্যান্ট, আরও নানা ব্যবসা। তারা এখন কী করছেন? একসঙ্গে অনেক ব্যাংকের মালিকানা পাওয়া প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ কোথায়? দেশে না বিদেশে? খবর কে রাখে। অনেক ব্যবসায়ী গ্রুপ এখন দিনে আওয়ামী লীগের সমর্থক সেজে পাঁচতারকা হোটেলে মন্ত্রীদের সঙ্গে ফটোসেশন করছেন। রাতে বিএনপির প্রবাসী যুবরাজের জন্য নজরানা পাঠাচ্ছেন। এমন অভিযোগ বিভিন্ন আলোচনাতেই শোনা যায়। গার্মেন্টের নামে ওভার ইন ভয়েসিং করে হাজার কোটি পাচার করে যারা কোটি টাকা অনুদানের চেক নিয়ে গদগদ করতে করতে সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হচ্ছেন, গভীর রাতে তাদের গোপন ফোনে দূর দেশে কার সঙ্গে কথা হয়? আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে বিএনপির মনোরঞ্জনে ব্যস্ত ব্যবসায়ীদের খবর কি সরকার জানে নাব্যবসায়ীদের একটি অংশ এখন দুই নৌকায় পা দিয়ে চলছেন। জ্বালানি সংকটে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে আর্তনাদ করতে করতে বিএনপিকে সচল রাখার জ্বালানিতে সরবরাহ করছেন বেশ কিছু ব্যবসায়ী। এদের সম্পর্কে খোঁজখবর কি নেওয়া হচ্ছে? সরকারকে নয় বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানাতে যারামানি ইজ নো প্রবলেম তত্ত্ব আবার রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করছে তারা রাষ্ট্র এবং জনগণের জন্য ক্ষতিকর।  ধ্বংসের উন্মত্ত রাজনীতিতে অবৈধ টাকার অবাধ প্রবাহ বন্ধ না করলে সামনে পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে বাধ্য।



মন্তব্য করুন


এডিটর’স মাইন্ড

নির্বাচনী সমঝোতা: কূটনীতিক পাড়ায় পাঁচ সমঝোতা প্রস্তাব

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণ মূলক করতে, বিশেষ করে বিএনপিসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সেটি নিশ্চিত করার জন্য কূটনৈতিক পাড়ায় ব্যাপক তোড়জোড় চলছে। কূটনৈতিক মহল দফায় দফায় বৈঠক করছে। অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য তারা বিভিন্ন মহলের সাথে দেনদরবার এবং কথাবার্তা বলছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। এই দাবি বাদ দিয়ে অন্য কোনো প্রস্তাব যদি দেওয়া হয় যেটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য গ্রহণযোগ্য এবং কার্যকর সেটি বিবেচনা করা হবে। এই প্রেক্ষিতেই কূটনৈতিক মহল এখন তত্বাবধায়ক সরকারের বাইরে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে একটি পাঁচ দফা প্রস্তাবনা তৈরি করেছে। এই প্রস্তাবনা নিয়ে তারা নির্বাচন কমিশন, সুশীল সমাজ এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে নানা রকম কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাদ দিয়ে যে পাঁচ দফা প্রস্তাব এখন কূটনীতিকপাড়ায় ঝড় তুলেছে সেই প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে:

১. নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা এবং নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী সরকারি কর্মচারী কর্মকর্তাদের সরাসরি নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসা নিশ্চিত করা। সচিবসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের হাতে নিয়ে আসা।


২. নির্বাচনকালীন সময়ে সেনা মোতায়েন এবং সেনা মোতায়েন তদারকির দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকে প্রদান করা।

৩. প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীরা যারা নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবেন তারা কোন রকম নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় অংশ গ্রহন করতে পারবেন না এমন অঙ্গীকার নিশ্চিত করা।

৪. নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদেরকে আমন্ত্রণ জানানো এবং তাদেরকে পর্যাপ্ত ক্ষমতা প্রদান করা। 

৫. নির্বাচনের আগে সরকার এবং বিরোধী দলের সমন্বয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ এবং সেই সংলাপের মাধ্যমে একটি নির্বাচনী সমঝোতা স্থাপন করা। 


সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে যে, এই বিষয়গুলোতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, একটি সংসদ বহাল রেখে মন্ত্রীদের স্বপদে দায়িত্বে রেখে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। এজন্য তারা সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করার বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে। অবশ্য সে সম্পর্কে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, এটি সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে বলা হচ্ছে যে, তারা যা কিছু করবে সংবিধানের আওতায় করবে। সংবিধানের বাইরে গিয়ে কিছু করার সুযোগ নেই।

তবে কূটনৈতিক মহল মনে করেন যে, নির্বাচন কমিশনকে আরও ক্ষমতাবান করে এবং এই ক্ষমতা বাধাহীনভাবে প্রয়োগ করা নিশ্চিত করলেই অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হতে পারে।

নির্বাচনী সমঝোতা   কূটনীতিক পাড়া   সরকার   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  


মন্তব্য করুন


এডিটর’স মাইন্ড

রেডিমেড প্রার্থী, শর্টকাটে এমপি

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

ডিসেম্বর, ১৯৯০। সবে এরশাদ সরকারের পতন ঘটেছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়েছে। নির্বাচনী হাওয়া বইছে দেশজুড়ে। সঙ্গে তিন জোটের রূপরেখা বাস্তবায়নের তাগিদ।স্বৈরাচারের দালালদের প্রতিহত করার ডাক দিয়েছে সম্মিলিত ছাত্রঐক্য। এর মধ্যেই এক বিকালে দুই সচিব ৩২ নম্বরেবঙ্গবন্ধু ভবনেহাজির হলেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তারা দেখা করতে চান। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী নির্বাচন, তিন জোটের কার্যক্রম ইত্যাদি নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত। তিনি আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ এক নেতাকে দায়িত্ব দিলেন ওই দুই আমলার কথা শুনতে। আমলা মহলে জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী ওই নেতা কেরামত আলী এবং এম কে আনোয়ারের সঙ্গে কথা বললেন। দুই আমলা জানালেন তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। এলাকায় তাদের বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। এখন দরকার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন। আওয়ামী লীগের ওই দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এই দুই আমলার বক্তব্য দলীয় প্রধানকে জানালেন। কিন্তু শেখ হাসিনা তাদের প্রস্তাব নাকচ করে দিলেন। দুটি কারণে শেখ হাসিনা এম কে আনোয়ার এবং কেরামত আলীকে ফিরিয়ে দিলেন। প্রথমত, এই দুজনই এরশাদের দোসর হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত। তিন জোটের রূপরেখায় সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, এরশাদের সহযোগী কাউকে তিন জোটের কোনো দল আশ্রয় দেবে না। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী তিন জোটের রূপরেখার প্রতি সম্মান দেখালেন। দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক সংগঠন। রাজনৈতিক সংগঠনে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তি দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ব্যাপার। রাজনীতিতে মনোনয়ন প্রাপ্তির কোনো শর্টকাট পথ নেই। হুট করে এসে কেউ মনোনয়ন পান না। দুই আমলার জন্য আওয়ামী লীগের দরজা বন্ধ হয়ে গেল। কিন্তু ঘটনাচক্রে সে সময় বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা এসেছিলেন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরেবঙ্গবন্ধু ভবনে তিন জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে। বৈঠক শেষে পেলেন ওই দুই আমলাকে। তাদের আগ্রহের কথা শুনে তাদের নিয়ে গেলেন বিএনপি কার্যালয়ে। বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করালেন। তারা পরদিন সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করলেন। আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিলেন। নির্বাচনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন পেতেও কষ্ট হলো না এম কে আনোয়ার এবং কেরামত আলীর। বিএনপির রেডিমেড প্রার্থী হিসেবে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেন এবং বিজয়ী হলেন।৯১-এর ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি সবাইকে চমকে দিয়ে জাতীয় সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল। জামায়াতের সহযোগিতায় সরকার গঠন করল বিএনপি। এম কে আনোয়ার এবং কেরামত আলী দুজনই বিএনপি সরকারের মন্ত্রীও হলেন। তাদের মধ্যে এম কে আনোয়ার মৃত্যু পর্যন্ত বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শর্টকাটে এমপি এবং মন্ত্রী হওয়ার এটি একটি ক্ল্যাসিক উদাহরণ। আদর্শ চর্চা নেই। রাজনৈতিক চর্চা নেই। দলের প্রতি আনুগত্য নেই। দলের লক্ষ্য এবং আদর্শ সম্পর্কে জানাশোনা নেই। আলাদীনের চেরাগের মতো এক লহমায় এমপি, মন্ত্রী হয়ে গেলেন। এরশাদ জামানায় প্রতাপশালী দুই আমলা রাষ্ট্রের অর্থ খরচ করে এলাকায় উন্নতি করেছিলেন। রেডিমেড প্রার্থীও হয়েছিলেন।৯১ সালের নির্বাচনে এম কে আনোয়ার এবং কেরামত আলীর কেরামতি রাজনীতিরশর্টকাটপথ উন্মোচন করে দেয়। অবশ্য৭৫-এর পর থেকে রাজনীতিতে শর্টকাটে এমপি হওয়ার হিড়িক শুরু হয়। জিয়া বিএনপি গঠন করেন বিভিন্ন দল থেকে ভাড়াটে লোক দিয়ে। এখন এই প্রবণতা সর্বব্যাপী। শর্টকাটে এমপি হওয়ার প্রবণতা যেমন ব্যক্তিদের মধ্যে বাড়ছে তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোরও দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী, পরীক্ষিতদের বাদ দিয়েরেডিমেডপ্রার্থী খোঁজা এখন স্বাভাবিক ব্যাপার।রেডিমেডপ্রার্থী অনেকটাই রেডিমেড জামাকাপড়ের মতো। আপনি দোকানে গেলেন গায়ে চরিয়ে বেরুলেন। আপনি দলে ভেড়ালেন, তিনি টাকার জোরে এমপি হয়ে গেলেন।৯১-এর ফলাফল বিপর্যয়ের পর আওয়ামী লীগ তার প্রার্থী মনোনয়নের রক্ষণশীল অবস্থা থেকে সরে আসে।৯৬-এর নির্বাচন ছিল আওয়ামী লীগের অস্তিত্বের চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আওয়ামী লীগও রেডিমেড এমপি প্রার্থীর খোঁজ শুরু করে। বিএনপি আগে থেকেই রেডিমেড প্রার্থীনির্ভর দল। প্রধান দুটি দল যখন রেডিমেড প্রার্থীর দিকে ঝুঁকতে থাকে, তখন শর্টকাটে এমপি হওয়াটা স্বাভাবিক রাজনৈতিক চর্চা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ব্যবসায়ী, সাবেক আমলা, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা এমনকি আদম ব্যবসায়ী শর্টকাটে এমপি হওয়ার দৌড়ে শরিক হন। শর্টকাটে মনোনয়ন ইচ্ছুকদের জায়গা দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ৯৬ সালের নির্বাচনে প্রয়াত অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, মোজাফফর হোসেন পল্টুুসহ বহু মাঠের রাজনীতিবিদকে মনোনয়নবঞ্চিত করে। শর্টকাটে এমপি হওয়ার ফর্মুলা কী? আপনি বিপুল বিত্তের মালিক হলেন (বৈধ বা অবৈধ পথে) এলাকায় গিয়ে মসজিদ, মাদরাসা বানালেন। মানুষের বিয়েতে, অসুখে দান-খয়রাত করলেন। কোরবানির ঈদে এলাকায় ১০০ গরু কোরবানি দিয়ে সবাইকে চমকে দিলেন। ব্যস, কিছু মানুষ আপনার হয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ, বিএনপির কিছু লোকজন প্রকাশ্যে গোপনে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবে। তাদের আপনি কচকচে নতুন ঘ্রাণযুক্ত টাকা দেবেন। শর্টকাটে এমপি হওয়ার এটাই একমাত্র পথ নয়। আপনি সরকারি কর্মকর্তা। হঠাৎ দেখলেন, এলাকার লোকজন আপনার কাছে আসেন। এলাকায় রাস্তা নেই, ব্রিজ নেই। স্কুল এমপিওভুক্ত করতে হবে। মসজিদের ছাদ ঢালাই করতে হবে। আর এলাকার বেকারদের চাকরির ব্যবস্থা করে দিলে তো আপনাকে নিয়ে ধন্য ধন্য পড়ে যাবে। একজন আমলা যখন সচিব হন, তখন তার বিস্তর ক্ষমতা। আমলে তো সচিবদের ক্ষমতা আকাশ স্পর্শ করেছে। ২০২০ সালে করোনার প্রকোপ শুরু হলে জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয় সচিবদের। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে জেলার সর্বময় ক্ষমতার মালিক হন সচিবরা। এমপি, মন্ত্রীদের পাত্তা নেই। আমলারাই জেলার সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এলাকায় তাদের কদর বাড়ছে। সুবিধাবাদী চাটুকাররা ভিড় জমাচ্ছে। তারা পরামর্শ দিচ্ছেন, আপনি তো সংসদ সদস্যের চেয়ে জ্ঞানী, বিচক্ষণ। আপনি এলাকার এমপি হলে তো এই এলাকাই পাল্টে যেত। জনগণ আপনাকেই চায়। চারপাশে চাটুকার পরিবেষ্টিত আমলারাও খুশিতে গদগদ। ভাবলেন তাই তো। এমপি এলাকায় কী করছেন। রাস্তা বানিয়ে দিলাম আমি। কাবিখার তালিকা তৈরি করছি আমি। আশ্রয়ণের ঘর কারা পাবে তার সিদ্ধান্ত আমার ওপর ন্যস্ত। তিনি হয়ে গেলেন আওয়ামী লীগের চেয়ে বড় আওয়ামী লীগার। শর্টকাটে এমপি হওয়ার খায়েশ তাকে পেয়ে বসল। আগে শর্টকাটে এমপি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে গেছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের সংখ্যা এখন জাতীয় সংসদে ৫০ ভাগের বেশি। এদের বেশির ভাগেরই রাজনীতির অতীত অভিজ্ঞতা নেই। ব্যবসা করছেন। ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে নানা ফাঁকফোকর দিয়ে পরিশোধ করছেন না। আবার ঋণখেলাপিও হচ্ছেন না। তারা এলাকায় নিজস্ব ভাড়াটে বাহিনী তৈরি করেছেন।মাই ম্যানদের দিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যেই আরেক আওয়ামী লীগ বানিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের মধ্যে যারা শর্টকাটে এমপি হয়েছেন বা হওয়ার মিছিলে আছেন, তাদের এক ধরনের ব্যবসায়িকমতলবআছে। এমপি বা মন্ত্রী হলে তার ব্যবসা বাগাতে সুবিধা হবে। সচিবালয়ে দেনদরবার সহজ হবে। ঘাটে ঘাটে ঘুষ দিতে হবে না। টেন্ডার পেতে সুবিধা হবে। কাজেই ব্যবসায়ীদের জন্য নির্বাচন ভালো বিনিয়োগ।৭৫-এর পর থেকে ব্যবসায়ীরা তাই রাজনৈতিক খাতে বিনিয়োগে ব্যাপক উৎসাহী। তাদের টাকার জোয়ারে জাতীয় সংসদে রাজনীতিবিদরা রীতিমতো কোণঠাসা। প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের শর্টকাটে এমপি হওয়ার কারিশমায় মুগ্ধ অনেক উঠতি রাজনীতিবিদও প্রলুব্ধ হয়েছেন। তারা সততা, আদর্শবাদিতা, ত্যাগ ইত্যাদি সেলফে উঠিয়ে রেখেছেন। মনোনয়ন পেতে হলে টাকা লাগবে। নির্বাচন করতে টাকা লাগবে। টাকা বানানোর উপায় কী? টেন্ডার বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য ইত্যাদি। রাজনীতিবিদ পরিচয়ের আড়ালে তারা লুটপাটের মিশনে নামছেন কোমর কষে। টাকা ছাড়া এমপি হওয়া যাবে না। তাই শর্টকাটে এমপি হওয়ার জন্য তারা শর্টকাটে বড়লোক হওয়ার দৌড়ে। এদের সংখ্যাও জাতীয় সংসদে কম না। সে তুলনায় জাতীয় সংসদে আমলাদের উপস্থিতি নগণ্য। নিয়ে আমলা মহলে কারও কারও অন্তহীন দুঃখ। চাকরিতে থাকতে প্রচণ্ড ক্ষমতাবান। চাকরির মেয়াদ শেষ হলেই আমলাদের ছোটাছুটি শুরু হয়। কেউ চেষ্টা করেন বয়স শেষ হওয়ার পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেতে। কেউ চান কোনো কমিশন বা সংস্থার অবসরোত্তর চাকরি। কারও প্রত্যাশা নিদেনপক্ষে কোনো ব্যাংকের চেয়ারম্যান হওয়া। এভাবে আমলারা প্রায় সব প্রতিষ্ঠান এবং পদ দখল করে ফেলেছেন। জাতীয় সংসদ এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এর প্রধান কারণ অবশ্য আমলাদের ব্যর্থতা নয়। এখন যেভাবে বর্ষার বিলের মাছের মতো ক্ষমতার চারপাশে আমলারা কিলবিল করেন, তাতে সংসদ ভবনে প্রবেশ তাদের মোটেও কঠিন কোনো কাজ নয়। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেন আমাদের করিৎকর্মা আমলারা। কিন্তু বাধা হয়ে আছে একটি আইনে। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ১৯৭২। এই আইনের ১২() () ধারায় বলা হয়েছে, ‘তবে শর্ত থাকে যে কোনো ব্যক্তি সদস্য হিসেবে (সংসদ সদস্য) নির্বাচিত হওয়ার বা থাকার যোগ্য হবেন না, যদি-

() তিনি প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের বা প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগে কোনো চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন বা অবসরে গেছেন এবং তার পদত্যাগ এবং অবসরে যাওয়ার পর তিন বছর অতিবাহিত না হয়।বাসি ফুলের যেমন কদর থাকে না, তেমনি অবসরের তিন বছর অতিবাহিত হলে আমলাদেরকৃত্রিম ক্ষমতানিঃশেষ হয়ে যায়। তিন বছর অতিবাহিত হওয়ার পর রাজনীতির মাঠে যারা টিকে থাকেন, তারা নিজস্ব শক্তিতে অস্তিত্ব বজায় রাখেন। সময় তাদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এতে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা আমলা থেকে নেতারা ঝরে পড়েন। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আমলারাই (সামরিক এবং বেসামরিক) ধারাটিকে চ্যালেঞ্জ করতে চাচ্ছেন। গত ১৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার এই ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন করা হয়েছে। রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে, সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের তিন বছর পর সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিধান কেন সংবিধান পরিপন্থী নয়, হাই কোর্ট তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন। বিচারপতি জাফর আহমেদ বিচারপতি মো. বশির উল্লার সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ১২ () () চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম কামাল। কিছু দিন ধরেই আমলাদের পক্ষ থেকে ধারাটি বাতিলের চাপ ছিল। প্রথমে কিছু আমলা ধারাটি বাতিল করার জন্য সরকারকে প্ররোচিত করতে চেষ্টা করে। কিন্তু সরকার এখন পর্যন্ত স্বপ্রণোদিত হয়ে আইন পরিবর্তনের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এর আগেও কয়েকজন আমলা আইনটি বাতিলের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু আদালতে রিট আবেদন করতে হলে আবেদনকারী সংক্ষুব্ধ হতে হবে- এই যুক্তিতে আবেদন আমলে নেয়নি হাই কোর্ট। এখন রিট আবেদনটি আদালতের বিচারাধীন বিষয়। বিচারকগণ স্বীয় বুদ্ধি এবং আইনগত দিক বিচার-বিশ্লেষণ করে সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে এই আইনটির পক্ষে-বিপক্ষে দুই ধরনের যুক্তি আছে। একজন আমলা অবসরে যাওয়ার পর প্রথম এক বছর থাকেন অবসরোত্তর ছুটিতে। সময় তিনি কাজ করেন না বটে কিন্তু বেতন-ভাতাদি ভোগ করেন। পরবর্তী দুই বছরও তার গায়ে ক্ষমতার উত্তাপ লেগে থাকে। নির্বাচনী মাঠে তিনি বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন, এরকম বিবেচনা থেকে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য তিন বছর নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যারা এর পক্ষে তারা মনে করেন, এই বিধান না থাকলে নির্বাচনের মাঠে আমলা প্রার্থীরা বাড়তি সুবিধা পাবেন। রাজনৈতিক দল প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিবেচনা করে নির্বাচনে কারা বেশি দাপট দেখাতে পারবেন। সদ্য অবসরে যাওয়া একজন আমলা নির্বাচন পরিচালনায় মাঠ প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার প্রতি পক্ষপাত দেখাবে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলো আমলাদের মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহী হবে। তারাই হবে সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন রেডিমেড প্রার্থী, যারা শর্টকাটে এমপি হতে পারবে।

আবার এর বিপক্ষের যুক্তিও উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের জন্য আইন সমান। সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।অবসরের পর একজন সরকারি কর্মকর্তা এবং কর্মচারী আর ১০ জন সাধারণ নাগরিকের মতোই। কাজেই তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।

পক্ষে-বিপক্ষে এরকম আরও যুক্তি আছে। কিন্তু আমি মনে করি, আমলা, ব্যবসায়ী, লুটেরা, কালো টাকার মালিকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা না করার সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্গীকার। ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।৭৫-এর পর জিয়া ক্ষমতা দখল করে বলেছিলেন, তিনি রাজনীতিডিফিকাল্টকরে দেবেন। সত্যি সত্যি দেশে রাজনীতি, রাজনীতিবিদদের জন্য কঠিন হয়ে গেছে। সংসদ সদস্য হওয়ার মিছিলে ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছেন সত্যিকারের রাজনীতিবিদরা। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো যে কোনো ধরনের নির্বাচনে জয়ী হতে চায়। আর জয়ী হওয়ার জন্য তারা রেডিমেড প্রার্থী খোঁজে। আবার বিপুল অবৈধ বিত্তকে আরও স্ফীত করতে এবং তাকে নিরাপদ রাখতে শর্টকাটে এমপি হওয়ার মিছিলও বড় হচ্ছে। লক্ষ্মীপুর- আসনের সাবেক এমপি মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম পাপুলের কথা মনে আছে? টাকার জোরে উড়ে এসে এমপি হয়ে গিয়েছিলেন। স্ত্রীকেও টাকা দিয়ে মহিলা কোটায় সংসদ সদস্য বানিয়ে ছিলেন। অনেক পাপুলই এখন নির্বাচন করে দায়মুক্তি অর্জন করতে চায়। পরিস্থিতির মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারাও যদি এমপি হওয়ার প্রতিযোগিতায় নামেন তাহলে সত্যিকারের রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি আরও কঠিন হয়ে যাবে। দেশের জন্য অবদান রাখার অনেক উপায় আছে। যে যেখানে যে অবস্থানে আছেন সেখান থেকেই দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা যায়। একজন ব্যবসায়ী দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবেন। এটাই তার পবিত্র কাজ। কেন তাকে এমপি হতে হবে? একজন সরকারি কর্মকর্তা সততা, নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেই দেশকে এগিয়ে নিতে পারেন। জন্য তার এমপি হওয়ার দরকার নেই। সমাজে প্রত্যেক পেশার নাগরিকের আলাদা আলাদা অবস্থান, ভূমিকা এবং দায়িত্ব আছে। ব্যবসায়ী কিংবা আমলাদের যেমন রাজনীতির মাঠ দখল শুভ লক্ষণ নয়, তেমনি রাজনীতিবিদদেরও ব্যবসায়ী হওয়াটা উচিত নয়। দেশের সবাই যদি এমপি-মন্ত্রী হতে চান, তাহলে ভারসাম্য নষ্ট হবে। যে ভারসাম্যহীতা এখনই লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী রাজনীতিবিদদের কাছে রাজনীতি ফিরিয়ে আনার কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন। একাধিক উপনির্বাচনে তিনি দলের ত্যাগী পরীক্ষিত রাজনীতিবিদদের মনোনয়ন দিয়ে একটি বার্তা দিয়েছেন। সংসদীয় দলের সভাতেও আগামী নির্বাচনে দলের পরীক্ষিতদের সামনে আনার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন। কিন্তু ঝুঁকিবিহীন, গুরুত্বহীন উপনির্বাচনে তিনি এমনটা করতে পারছেন বটে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিপক্ষ যখন রেডিমেড প্রার্থী খুঁজবে, তখন আওয়ামী লীগ কি শর্টকাটে এমপি হতে ইচ্ছুকদের উপেক্ষা করতে পারবে? ২০১৮ নির্বাচনে বিএনপিতে দেখা গেল রেডিমেড প্রার্থীর হিড়িক। এহছানুল হক মিলনের মতো জাতীয়ভাবে পরিচিত নেতাকে বসিয়ে টাকাওয়ালা রেডিমেড প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে বিএনপি তার আসল রাজনীতি প্রকাশ করেছিল। আগামী নির্বাচনে বিএনপিতে যে রেডিমেড প্রার্থীর হিড়িক পড়বে তা সহজেই অনুমান করা যায়। আওয়ামী লীগেও অনেক আসনে পরিবর্তনের তাগিদ আছে। ব্যক্তিরা অগ্রাধিকার পাবেন নাকি শর্টকাটে এমপি বানাতে আওয়ামী লীগও রেডিমেড প্রার্থী খুঁজবে?

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নানা সংশয়ের কথা বলা হয়। বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি না। অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে কি না। কিন্তু আমি মনে করি, আগামী নির্বাচন রাজনীতির জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা। শর্টকাটে রেডিমেড এমপিদের হাতে যেন জাতীয় সংসদ জিম্মি না হয়, সেটি এখন এক বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনীতি রাজনীতিবিদের হাতে থাকবে কি না, তা আগামী নির্বাচনের এক বড় পরীক্ষা।

লেখক : নির্বাহী পরিচালক, পরিপ্রেক্ষিত
poriprekkhit@yahoo.com



মন্তব্য করুন


এডিটর’স মাইন্ড

কোন মিশনে গওহর রিজভী ঢাকায়

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail ড. গওহর রিজভী। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীর ঢাকা আগমন নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। প্রথমে মনে করা হয়েছিল আগামী রাষ্ট্রপতি পদের জন্য তাকে বিবেচনা করা হচ্ছে এজন্যই তাকে ঢাকায় ডেকে নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, ড. গওহর রিজভী রাষ্ট্রপতি হচ্ছে না। বরং প্রধানমন্ত্রী অন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসাইনমেন্টে তাকে ঢাকায় ডেকে পাঠিয়েছে। গওহর রিজভী বাংলা ইনসাইডারকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে ঢাকায় নিয়ে এসেছেন। তবে কেন তিনি ঢাকায় এসেছেন এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য তিনি জানাননি। 

বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ একটি কূটনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগামী নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ করার জন্য একটি প্রচ্ছন্ন চাপ প্রয়োগ করেছে। সর্বশেষ ডোনাল্ড লু এর সফরের পর আওয়ামী লীগ এবং সরকারের পক্ষ থেকে এক ধরনের আত্মতুষ্টি লক্ষ্য করা যায় এবং আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতা অযাচিতভাবে মনগড়া কিছু বক্তব্য দিয়ে ডোনাল্ড লু এর সফর নিয়ে তাদের সাফল্য গাঁথা প্রচার করা শুরু করেন। এর প্রেক্ষিতে  মার্কিন দূতাবাস একটি বিবৃতি দিয়ে ডোনাল্ড লু এর সফর সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করেন। যা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার বক্তব্য সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। একই রকম পরিস্থিতি হয়েছিল জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেটের ঢাকা সফরের সময়। সে সময় মিশেল ব্যাচেলেটের বাংলাদেশ সফর নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই একজন নেতা এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন যা মিশেল ব্যাচেলেট বলেনি। এরকম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কিছু বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি হচ্ছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ কয়েকটি দেশ আগামী নির্বাচন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সহঅবস্থান ঘোষণা করছে। এরকম একটি পরিস্থিতিতে কূটনীতিক অঙ্গন সামাল দেওয়ার জন্যই ড. রিজভীকে ডেকে নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

ঢাকায় এসেই ড. রিজভী ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। বাংলা ইনসাইডারকে তিনি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার তিনি ৪৮ টি বিভিন্ন ধরনের বৈঠক করেছেন। উল্লেখ্য যে, কূটনৈতিক মহলে ড. গওহর রিজভীর একটি ভালো গ্রহণযোগ্যতা এবং সুনাম রয়েছে।  আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই বিশেষজ্ঞ কূটনৈতিক পাড়ায় অত্যন্ত শ্রদ্ধার আসনে আসীন। ২০১৪ নির্বাচনের আগে যে রাজনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছিল তা উত্তোলনের ক্ষেত্রে ড. গওহর রিজভীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সময় তিনি কূটনৈতিক মহলে দফায় দফায় বৈঠক করে তাদেরকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, নির্বাচন একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে। তিনি এটিও বুঝেছিলেন যে, সংবিধান সবার ওপরে এবং এই প্রেক্ষিতে ২০১৪ নির্বাচনকে শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গ্রহণ করে। 

ড. গওহর রিজভীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। দীর্ঘদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তিনি শিক্ষকতা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি প্রভোষ্টের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ডেমোক্র্যাট শিবিরের বিভিন্ন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এবং উপদেষ্টাদের সাথে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এখন যখন বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ককে ঠিকঠাক মতো গুছিয়ে নিতে পারছেন না তখন গওহর রিজভীর ডাক পড়েছে বলে বিভিন্ন মহল মনে করেন। ড. গওহর রিজভীর গ্রহণযোগ্যতা আন্তর্জাতিক সুনাম এবং তার কূটনৈতিক কৌশলকে কাজে লাগানোর জন্য আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গওহর রিজভীকে ঢাকায় এসেছেন বলে জানা গেছে। এখন আগামী দিনে গওহর রিজভী নির্বাচনী কূটনীতি কিভাবে সামাল দেন সেটিই দেখার বিষয়।

ড. গওহর রিজভী   প্রধানমন্ত্রী   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র   নির্বাচন   উপদেষ্টা  


মন্তব্য করুন


এডিটর’স মাইন্ড

বঙ্গভবনের যাবার প্রস্তুতি শুরু ড. মসিউরের

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail ড. মসিউর রহমান। ফাইল ছবি

অন্য কোন অঘটন না ঘটলে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান হতে যাচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গভবনে যাওয়ার প্রস্তুতিও শুরু করেছেন ড. মসিউর রহমান। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে ড. মসিউর রহমানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তার শারীরিক কোন বড় ধরনের সমস্যা নেই বলেই স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্টে জানানো হয়েছে। সাধারণত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবার আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা একটি বাধ্যবাধকতা। কারণে সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হবেন এমন ব্যক্তির শারীরিক সুস্থতা অত্যন্ত জরুরী বিষয়। এর আগেও আর জিল্লুর রহমান যখন রাষ্ট্রপতি হন তখন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তত্ত্বাবধানে জিল্লুর রহমানের পরীক্ষা করা হয়েছিল। আব্দুল হামিদকেও রাষ্ট্রপতি করার আগে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছিল। এবার মসিউর রহমানের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরেই ধারণা করা হচ্ছে তিনি হতে যাচ্ছেন বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দার। 


ড. মসিউর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করা হবে এ ব্যাপারে আরও কিছু সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তিনি তার দাপ্তরিক কাজকর্ম ঘটিয়ে ফেলেছেন, কোন রকম কর্মসূচি তিনি গ্রহণ করছেন না। রাষ্ট্রপতি হবার প্রস্তুতি হিসেবে এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য যে, বর্তমান রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের মেয়াদ আগামী এপ্রিলে শেষ হচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে মেয়াদপূর্তির ৯০ দিনের মধ্যে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। ধারণা করা হচ্ছে যে, মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন শুধুমাত্র একটি মনোনয়নপত্র পড়বে। কারণ জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। ৩৪৩জন জাতীয় সংসদ সদস্যের অধিকাংশ আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচিত। সে কারণে আওয়ামী লীগ যাকে মনোনয়ন দিবে তিনি নতুন রাষ্ট্রপতি হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। 


আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে মনোনয়ন বোর্ডের সভা ডাকবেন। এমন তথ্য আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে। আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে যে, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মনোনয়ন বোর্ডের কমিটি রয়েছে, রয়েছে স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড। কিন্তু রাষ্ট্রপতির কোনো মনোনয়ন বোর্ড নেই। গতবার আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের জন্য প্রেসিডিয়ামের সভা আহ্বান করেছিল। তার আগের বারের সময় (জিল্লুর রহমান) আওয়ামী লীগের সংসদীয় কমিটির বৈঠকের নতুন রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। এবার নতুন রাষ্ট্রপতি কোন প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত করা হবে তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ সভাপতির হাতেই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি যাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে যোগ্য বিবেচনা করবেন তাকেই যে দলের নেতাকর্মীরা রাষ্ট্রপতি হিসেবে মেনে নিবে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। আর এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দ  হলো ড. মসিউর রহমান। সেটিও এখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, ড. মসিউর রহমান রাষ্ট্রপতি হবার বিষয়টি ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় মহলে জানাজানি হয়ে গেছে। আর সেকারণেই এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় ড. মসিউর রহমান।

বঙ্গভবন   রাষ্ট্রপতি   ড. মসিউর রহমান   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


এডিটর’স মাইন্ড

কবির বিন আনোয়ারের কি হলো?

প্রকাশ: ০২:০২ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

গত ৩ জানুয়ারি মাত্র ১৭ দিন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে গেছেন কবির বিন আনোয়ার। সাবেক ছাত্র লীগের নেতা হিসেবে পরিচিত এই দক্ষ সরকারি কর্মকর্তা মাত্র ১৭ দিন মন্ত্রিপরিষদ সচিব থাকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা মুখি আলোচনা হয়েছিলো। যখন তাকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব করা হয়, তখন অনেকেই ধারণা করেছিলো তার চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হবে। কিন্তু বিস্ময়কর ভাবে না বাড়িয়ে মাত্র ১৭ দিনের মাথায় তাকে অবসরে পাঠানো হয়। এরপর নানা রকম গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

কবির বিন আনোয়ারকে অবসরে পাঠানো নিয়ে বিভিন্ন মুখী বক্তব্য পাওয়া যায়। এর দুই দিন পরেই ৫ জানুয়ারি কবির বিন আনোয়ার ধানমন্ডির ৩ নম্বরে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে যান এবং সেখানে আওয়ামী লীগের দুইজন নেতা বিপ্লব বড়ুয়া ও ড. সেলিম মাহমুদ তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। সে কার্যালয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান প্রয়াত এইচ টি ইমামের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয় কবির বিন আনোয়ারকে এবং তিনি এইচ টি ইমামের চেয়ারে বসেন। সে সময়ে বিভিন্ন নেতা কর্মীদেকে তিনি বলেন তাকে নির্বাচনের ব্যাপারে সুস্পষ্ট কিছু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আগের দিন অবশ্যক কবির বিন আনোয়ার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সপরিবারে সাক্ষাৎ করেছিলেন। এবং সেখানে আগামী সংসদ নির্বাচনে কাজ করার জন্য তিনি আগ্রহ ব্যক্ত করেছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার আগ্রহে সায় দিয়েছেন এবং তাকে নির্বাচন পরিচালনার কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

এরপর কবির বিন আনোয়ারকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেখা যায়। সে সময়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েযে প্রয়াত এইচ টি ইমামের জায়গায় তাকে দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীতে বা নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে কবির বিন আনোয়ারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই। বিভিন্ন মহল থেকে বলা হয়েছিলো যে, কবির বিন আনোয়ারকে হয়তো প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হবে। কিন্তু সে ব্যাপারেও এখন পর্যন্ত কোন সুনির্দিষ্ট ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তাহলে কবির বিন আনোয়ারের পরিণতি কি হবে? কি হলো তার?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কবির বিন আনোয়ারের ব্যাপারে কতগুলো সুনির্দিষ্ট আইনগত সমস্যা রয়েছে। প্রথমত, তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা পি আর এল অবসরে আছেন। পি আর এলে থাকা মানে তিনি সরকারের বেতন ভাতা সহ সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করে থাকেন। এই সময় তিনি একজন সরকারি কর্মচারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার কারণে এই সময়ে তাকে কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সরাসরি যুক্ত করা সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে যে, কবির বিন আনোয়ার এখন নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত কিছু দায়িত্ব পালন করছেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায়। কিন্তু আনুষ্ঠানিক ভাবে তিনি কো-চেয়ারম্যান বা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হতে পারবেন না চাকরির বাধ্যবাদকতার কারণে। এজন্য তাকে পি আর এল সমপন্ন করতে হবে এবং সে কাজটি এখন পর্যন্ত করা হয়নি। আবার কোন কোন মহল মনে করছেন যে, গণপ্রতিনিধির আদেশে ১২ এক এর চ ধারা ইতোমধ্যে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে এবং এই ধারাটি যদি শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে যায় তাহলে কবির বিন আনোয়ার আগামী সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের একটি আসন থেকে নির্বাচন করবেন। সিরাজগঞ্জের ওই আসনে বর্তমান এমপি ডাক্তার হাবিবে মিল্লাত নানা কারণে আগামী নির্বাচনে তিনি মননোয়ন পাবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর সে নির্বাচনের জন্য তিনি প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। তবে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোন পদ দেওয়া না হলেও কবির বিন আনোয়ার আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কার্যক্রমের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত আছেন বলেই বিভিন্ন মহল জানিয়েছেন।



মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন