ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সালমানের যত শত্রু

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০২:৫৬ পিএম
সালমানের যত শত্রু

বলিউডে সালমানের অনেক বন্ধু ও শুভাকাঙ্খি রয়েছে। উদার মানসিকাতার জন্য তাঁর জুড়ি মেলা ভার। আবার বিভিন্ন সময়ে অনেক তারকা তাঁর চক্ষুশূল হয়েছেন। এই যেমন সম্প্রতি ‘ওয়েলকাম টু নিউ ইয়র্ক’ ছবি থেকে অরিজিৎ সিংয়ের গান বাদ দেওয়া নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন সালমান। শুধু অরিজিৎ সিং নয়, দীর্ঘদিন ধরেই ভাইজানের চোখের বালি হয়ে আছেন কয়েকজন তারকা। চলুন তাঁদের দেখে নেয়া যাক-

অরিজিৎ সিং

এই গায়কের সঙ্গে সালমানের শীতল যুদ্ধের সূচনা ২০১৪ সালে। ওই বছরই ‘আশিকি ২’ ছবিতে ‘তুম হি হো’ গানের জন্য পুরস্কার পেয়েছিলেন অরিজিৎ। পুরস্কার নিতে যেতে একটু দেরি হয়েছিল তাঁর। সেজন্য মজার ছলে সালমান বলেছিলেন, ঘুমিয়ে পড়েছিলে নাকি? এর জবাবে অরিজিৎও মজার ছলে বলেন, আপনারা তো ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছিলেন। ব্যাস, এতেই মেজাজ চড়ে যায় সালমানের। তখন অরিজিতের মতো গলা নকল করে সালমান বলেছিলেন, আপনারা যতক্ষণ এ রকম গান গাইতে থাকবেন,আমরা শুয়েই থাকব। সালমান ও অরিজিতের এই লড়াই চার বছরের বেশি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু অরিজিতকে ক্ষমা করেন নি সালমান। তাইতো সম্প্রতি ছবি থেকে তাঁর গান বাতিল করে দেন।

রণবীর কাপুর

তাঁর সঙ্গেও সম্পর্ক ভালো নেই সালমানের। দুজনের শত্রুতার কারণ ক্যাটরিনা কাইফ বলে গুঞ্জন রয়েছে। কিন্তু মতবিরোধের এই বীজ রণবীরের সিনেমায় অভিষেক হওয়ার আগে থেকেই বোনা হয়ে গিয়েছিল। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘সাঁওয়ারিয়া’ ছবি মুক্তি পাওয়ার আগে এক পার্টিতে রণবীরের সঙ্গে দেখা হয় সালমানের। কিন্তু কোনো কারণে দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। প্রকাশ্যেই সালমান হুলুস্থুল ফেলে দিয়েছিলেন। এরপর রণবীর পার্টি ছেড়ে চলে যান। এ ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে একবার রণবীরের বাবা ঋষি কপূর বলেছিলেন, এক গলযোগপূর্ণ তারকার জন্য পুরো ইন্ডাস্ট্রিই নাজেহাল। পরে অবশ্য বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়। সালমান রণবীরের ‘আজব প্রেম কি গজব কাহানি’-তে ক্যামিও চরিত্রে অভিনয়ও করেন। কিন্তু রণবীরের সঙ্গে ক্যাটরিনার ঘনিষ্ঠতা সালমানকে রুষ্ট করে। সালমান ও ক্যাটরিনার মধ্যে এখন ভালো বন্ধুত্ব রয়েছে। কিন্তু রণবীরের সঙ্গে সালমানের সম্পর্কের মেরামতি অধরাই রয়ে গিয়েছে।

বিবেক অবেরয়

সালমানের সঙ্গে ঐশ্বরিয়া রাইয়ের সম্পর্ক যখন ভাঙ্গে, তখন ঐশ্বরিয়ার পাশে দাঁড়ানোর মতো তেমন কেউ ছিলনা। ওই সময় বিবেকের সাহায্য পান ঐশ্বরিয়া। তাঁদের দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। যা একেবারেই পছন্দ হয়নি সালমানের। তিনি বিবেককে ঐশ্বরিয়া থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে বলেন এবং প্রাণে মারার হুমকি পর্যন্ত দিয়ে বসেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। এর পাল্টা জবাবে বিবেক সাংবাদিক সন্মেলন করে সালমানকে প্রকাশ্যে লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ দেন। এরপর অবশ্য ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে বিবেকের। বিবেক বেশ কয়েকবার সালমানের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তাতে কিন্তু মন গলেনি ভাইজানের।

ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন

‘হম দিল দে চুকে সনম’ ছবির সেট থেকে সালমানের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠে তাঁর। সে সময় তাঁদের দুজনের সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ঝড়ও উঠেছিল।  এরপর দুজনের তীব্র বিবাদ শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁদের সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটে।

সরোজ খান

১৯৯৪ সালে ‘আন্দাজ আপনা আপনা’ ছবি থেকে সালমান আমির খানের মতো বন্ধু পেয়েছিলেন। ওই ছবির সেটেই কোরিওগ্রাফার সরোজ খানের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে যান সালমান। স্বয়ং সরোজ একটি সাক্ষাত্কারে অভিযোগ করেছিলেন, সালমান তাঁকে অশ্লীল শব্দে গালাগালি করেছিলেন। সরোজের দাবি, সালমান তাঁকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন,এখন তো আমিরকে বেশি পাত্তা দিচ্ছেন। দেখবেন, একদিন আমি সবচেয়ে বড় তারকা হব এবং তখন আপনার সঙ্গে কাজ করবো না। এরপর থেকে দুজনের আর কখনও একসঙ্গে কাজ করা হয়নি।


বাংলা ইনসাইডার/ এইচপি