ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ১১ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘আমি কোন সুপারস্টার নই, একজন সৃজনশীল লোক মাত্র’

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০১৮ বুধবার, ০৭:৪১ পিএম
‘আমি কোন সুপারস্টার নই, একজন সৃজনশীল লোক মাত্র’

ভারতীয় চলচ্চিত্রের ধারা বদলে দেওয়ার অন্যতম কাণ্ডারি তিনি। পর্দায় চরিত্র নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা চালানোর পাশাপাশি অসংখ্য ব্যাবসাসফল ছবি উপহার দিয়েছেন এই অভিনেতা। সম্প্রতি ‘হিন্দুস্তান টাইমস’ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁর পরবর্তী ছবি ‘থাগস অব হিন্দুস্তান’, চীনে তাঁর জনপ্রিয়তা, ছবির বক্স অফিস সংঘর্ষ এবং পরিবার নিয়ে বিভিন্ন কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ বাংলা ইনসাইডারের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল-

যেখানে ১০০ থেকে ২০০ কোটি রুপি ব্যাবসা করলে একটি ছবিকে বক্স অফিস হিট ধরা হয়; সেখানে আপনার অভিনীত ছবি দঙ্গল এবং সিক্রেট সুপারস্টার প্রায় ২০০০ কোটি রুপি ব্যাবসা করেছে। এছাড়া চীনেও ৭৫০ কোটি রুপি ব্যাবসা করেছে। এমন ঈর্শনীয় সাফল্য কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

চীনে আমি দুর্ঘটনাক্রমে জনপ্রিয়তা পেয়েছি। অনেকেই জানে না, চীনের মানুষ আমাকে চিনতে শুরু করেছে ‘থ্রী ইডিয়টস’ ছবির মাধ্যমে। ওই সময় ছবিটি পাইরেসি হয়ে চীনে পৌঁছেছিল। আমি মনে করি ছবির বিষয়টি চীনের মানুষের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। এরপর তাঁরা ‘পিকে’ এবং ‘সত্যমেভ জয়তি’সহ আমার বিভিন্ন কাজ অনুসরণ করতে লাগলো। যখন ‘দঙ্গল’ সেখানে মুক্তি পেল তখন তো তাঁরা আমার কাজের সঙ্গে আগে থেকেই পরিচিত, তাই ‘দঙ্গল’ একটু বাড়তি সুবিধা পেল। দেখুন, ভারতে ৫ হাজার সিনেমা হলের বিপরীতে চীনে ৪৫ হাজার হল রয়েছে। আর এই ৪৫ হাজারের মধ্যে ‘দঙ্গল’ ১১ হাজার হলে মুক্তি পেয়েছে ভাবা যায়!

ভারত ও চীনের মতো দুটি জনবহুল দেশের ভক্তরা তো আপনাকে গোটা বিশ্বে সুপারস্টার বানিয়ে দিল...

দেখুন, আমি কখনো চিন্তাই করি না আমি একজন সুপারস্টার। আমি সব সময় কাজ নিয়ে ভাবি। মানুষ আমার কাজকে উপভোগ করে এতে আমি সত্যিই অভিভূত হই। আমি মনে প্রাণে একজন সৃজনশীল মানুষ, সুপারস্টার নই। তবে এটা ঠিক যে, এই দুটি দেশে জনপ্রিয় হওয়া মানে ৩ বিলিয়ন মানুষের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া। কারণ পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক মানুষ এই দুটি দেশে বাস করে। যেখানে আমেরিকা ইউরোপ মিলিয়ে প্রায় প্রায় ১৪শ মিলিয়ন মানুষের বসবাস।

চীনে ছবির প্রচারে গিয়ে ভক্তদের নিয়ে কেমন অভিজ্ঞতা হয়েছে?

এক কথায় অবিশ্বাস্য! অসাধারণ অভিজ্ঞতা! আমদের দেশের দর্শকের সঙ্গে তাঁদের আবেগের জায়গা প্রায় এক। তাঁদের প্রতিক্রিয়া ভারতীয়দের মতই। চীনের সংস্কৃতিতে তারকাদের সঙ্গে সাক্ষাতে উপহার দেওয়ার রীতি রয়েছে। সেখানে প্রচুর উপহার পেয়েছি। সাংহাইয়ে একটি ফিল্ম স্কুল পরিদর্শনে গেলে সেখানকার এক তরুণী আমার ‘পিকে’ চরিত্রের মতো একটি পুতুল নিজ হাতে বানিয়ে আমাকে উপহার দেয়। এটা তাদের কাছ থেকে পাওয়া আমার সেরা উপহার। আমি ওই মেয়েটার নামটি পর্যন্ত জানার সুযোগ পাই নি। যদি তার সঙ্গে আরো একটু কথা বলতে পারতাম...

আপনার পরবর্তী ছবি ‘থাগস অব হিন্দুস্তান’ আগামী দিওয়ালিতে অক্ষয় কুমার ও রজনীকান্ত অভিনীত ছবি ২.০ ছবির সঙ্গে বক্স অফিস সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে.. ছবির একজন অভিনেতা হিসেবে এটা আপনাকে দুশ্চিন্তায় ফেলবে না?

দেখুন, ভারতে মাত্র ৫ হাজার হল রয়েছে। বড় বাজেটের ছবির যেকোনো প্রযোজক চাইবে বেশীরভাগ হলে তাঁর ছবি মুক্তি পাক। বক্স অফিস সংঘর্ষ যেকোনো ছবির জন্য ক্ষতিকর। যতটা সম্ভব এটি এড়িয়ে যাওয়া উচিত। কিন্তু মাঝে মধ্যে হয়ে উঠে না। আগামী ক্রিসমাসে অনেকগুলো ছবি পাইপ লাইনে রয়েছে। এখানে রেশারেশির কিছু নেই। চলচ্চিত্রে আমারা সবাই বন্ধু। যদি আমরা একে অপরকে সাহায্য করি তাহলে সব সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। ছবি ভাল হলে লোকে দেখতে চাইবে নইলে দেখবে না। ‘সিক্রেট সুপারস্টার’ এর সঙ্গে রোহিত শেঠির ‘গোলমাল অ্যাগেইন’ সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। প্রথমদিনের আয় দেখে আমি বুঝলাম তাঁরা আমাদের চেয়ে অনেক ভাল ব্যাবসা করেছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে রোহিতকে ফোন দিয়ে প্রস্তাব দেই যেসব হলগুলো আমার ব্যাবহার করছি না সেগুলো তাঁদেরকে দিয়ে দিতে।

শ্রীদেবীর মৃত্যুতে আপনি অনেক ভেঙ্গে পড়েছিলেন...

আমি শ্রীদেবীর কতটা ভক্ত সেটা বলে বুঝানো যাবে না। সে ছিল আমার পছন্দের তালিকায় ১ নম্বরে। আমি সবে তখন চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেছি, একটি ম্যাগাজিন থেকে প্রস্তাব আসলো শ্রীদেবীর সঙ্গে কাজ করতে। শুটিং করার সময় আমি তাঁর সামনে কতটা ঘাবড়ে গিয়েছিলাম বলে বোঝাতে পারব না। তিনি মুহূর্তেই বুঝতে পেরেছিলেন ছেলেটি প্রেমে পড়ে গেছে। তাঁর মৃত্যু আমাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

আপনার সন্তানরা আপনার কাজের সঙ্গে কতটা জড়িত?

আমার বড় ছেলে জুনায়েদ (২৪) আমার সঙ্গে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করছে। শুধু ছবিতে না, আমার এনজিও ‘পানি ফাউন্ডেশন’ সহ আমি যা করি সব। মেয়ে ইরা (২০) নেদারল্যান্ডসের আট্রেস্ট বিশ্ববদ্যালয়ে চিত্রকলায় পড়ছে। সে খুব ভাল আঁকিয়ে। আমি তাকে লেগে থাকতে বলছি। আর আমার ছয় বছর বয়সী ছোট ছেলে আজাদ আমার সঙ্গেই বেশীরভাগ সময় কাটায়।

 

 

বাংলা ইনসাইডার/এইচপি/এমআরএইচ